আবারও রাজনৈতিক চোরবালিতে নামলেন ট্রাম্প, যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন: ওয়াশিংটন পোস্ট
https://parstoday.ir/bn/news/event-i161190-আবারও_রাজনৈতিক_চোরবালিতে_নামলেন_ট্রাম্প_যেখান_থেকে_বের_হওয়া_কঠিন_ওয়াশিংটন_পোস্ট
পার্সটুডে: ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যত “সমাপ্ত”। এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি ও তাঁর প্রশাসন আবারও এমন এক পরিচিত রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন—একটি অজনপ্রিয় যুদ্ধে জড়িয়ে, যার সমাপ্তি ঘটানো তাঁর পক্ষে সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না, অথচ কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে আর চার মাসেরও কম সময় বাকি।
(last modified 2026-07-09T15:17:20+00:00 )
জুলাই ০৯, ২০২৬ ২১:০৩ Asia/Dhaka
  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

পার্সটুডে: ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যত “সমাপ্ত”। এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি ও তাঁর প্রশাসন আবারও এমন এক পরিচিত রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন—একটি অজনপ্রিয় যুদ্ধে জড়িয়ে, যার সমাপ্তি ঘটানো তাঁর পক্ষে সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না, অথচ কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে আর চার মাসেরও কম সময় বাকি।

মার্কিন দৈনিকটি লিখেছে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হওয়ার পর রিপাবলিকানরা মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কিছুটা আশাবাদী হয়ে উঠেছিল। রিপাবলিকান নেতারা হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে যুদ্ধের কারণে বেড়ে যাওয়া জ্বালানির দাম নভেম্বরের নির্বাচনে তাদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ায় রিপাবলিকানরা এমন এক নির্বাচনের মুখোমুখি, যা এমন একটি যুদ্ধের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যার বিরোধিতা অধিকাংশ ভোটার করেন। অথচ তারা যেমন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারছে না, তেমনি যুদ্ধ শুরু করা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের থেকেও রাজনৈতিকভাবে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেওয়া তাদের পক্ষে সহজ নয়।

সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায় এবং বুধবার আর্থিক বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা যায়।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কংগ্রেসীয় আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনকারী সংগঠন মেইন স্ট্রিট পার্টনারশিপ-এর প্রধান সারা চেম্বারলিন বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা নভেম্বরে রিপাবলিকানদের জন্য নিশ্চিতভাবেই রাজনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি করবে।

তিনি বলেন, রিপাবলিকান ভোটাররা কয়েক মাস ধরে ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়ে উচ্চ জ্বালানি মূল্য মেনে নিয়েছেন। কিন্তু এখন গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের মৌসুম শুরু হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি কমে আসার লক্ষণ নেই।

চেম্বারলিনের ভাষায়, “ভোটারদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জীবনযাত্রার ব্যয়। যদি আবারও জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়, তবে সেটি বড় সমস্যা হবে। রিপাবলিকানদের এখন যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়াকে ট্রাম্পের জন্য একটি বাধ্যতামূলক ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরতে হবে এবং এর দায় ইরানের ওপর চাপানোর চেষ্টা করতে হবে।”

ওয়াশিংটন পোস্ট আরও উল্লেখ করেছে, যুদ্ধ এবং এর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিশেষভাবে ট্রাম্পের জন্য সমস্যাজনক হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক একাধিক জাতীয় জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান-সংক্রান্ত সংকট মোকাবিলায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট।

ফক্স নিউজ পরিচালিত জুন মাসের মাঝামাঝি এক জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের ৫৮ শতাংশ বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করা যুক্তরাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

একই জরিপে ৮৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে ৫৯ শতাংশ একে “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” বলে মত দেন।

রিপাবলিকানদের নীরবতা, ডেমোক্র্যাটদের আক্রমণ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি বাতিল হওয়ার পর রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা মোটামুটি নীরব রয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তারা একদিকে ট্রাম্পকে সমর্থন করা এবং অন্যদিকে নিজেদের নির্বাচনী এলাকার যুদ্ধবিরোধী জনমতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছেন।

তবে কয়েকজন রিপাবলিকান প্রকাশ্যে দলীয় অবস্থান থেকে সরে এসে যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম টমাস ম্যাসি। তিনি মে মাসে যুদ্ধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধে জড়ান এবং পরে ট্রাম্প-সমর্থিত প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে রিপাবলিকান প্রাইমারিতে পরাজিত হন।

বুধবার ম্যাসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মকভাবে লেখেন যে, তিনিও হাসপাতালে ভর্তি সিনেটর মিচ ম্যাককনেলের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ম্যাককনেল নাকি তাঁকে বলেছেন, “ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে হবে, ইসরায়েলকে সহায়তা বন্ধ করতে হবে, আদালতের অনুমতি ছাড়া আমেরিকানদের ওপর নজরদারি বন্ধ করতে হবে, আর আমার প্রাইমারি নির্বাচনের ফল নিয়ে তিনি সত্যিই দুঃখিত।”

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার ঘটনাকে ট্রাম্পের সমালোচনার নতুন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং যুদ্ধকে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের অর্থনৈতিক দুর্ভোগের সঙ্গে যুক্ত করছেন।

গত কয়েক মাস ধরে ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করে আসছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অযৌক্তিকভাবে দেশকে যুদ্ধে জড়িয়েছেন এবং এটিকে বারবার “পছন্দের যুদ্ধ” (War of Choice) বলে আখ্যায়িত করেছেন, যার ফলে সাধারণ আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ড্যান গোল্ডম্যান এক্স-এ লিখেছেন, “খাদ্য, বাসাভাড়া এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ যখন ক্রমাগত বাড়ছে, তখন ট্রাম্পের বেপরোয়া ইরান যুদ্ধের কারণে আমেরিকানদের এখন বিমান ভ্রমণের জন্যও আরও বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। প্রতিশ্রুতি ছিল অনেক, কিন্তু বাস্তবে তিনি শুধু সেই জীবনযাত্রার সংকটকেই আরও গভীর করেছেন, যা সমাধানের অঙ্গীকার করেছিলেন।”

ডেমোক্র্যাটরা একই সঙ্গে কংগ্রেসে ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন’ অনুযায়ী একটি প্রস্তাব পাসের দাবিও নতুন করে তুলেছেন। ওই আইনে বলা হয়েছে, কংগ্রেস নির্দেশ দিলে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া বিদেশে সংঘাতে জড়িত মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে। যদিও উভয় দলের বিভিন্ন প্রেসিডেন্টই অতীতে এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ট্রাম্পের নতুন হুমকি

প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর নতুন মার্কিন হামলার পর তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলতে পারে। তবে একইসঙ্গে তিনি ইরানের নেতাদের কটূক্তি করেন এবং ভবিষ্যৎ আলোচনাকে “সময়ের অপচয়” বলে মন্তব্য করেন।

বুধবার তিনি প্রকাশ্যে ইরানের অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকিও দেন। ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প দাবি করেন:

“এক দিনের মধ্যেই আমরা ইরানের প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দিতে পারি। তাদের সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কারখানা রয়েছে। প্রয়োজন হলে সেগুলোও ধ্বংস করব... এমনকি খার্গ দ্বীপও হয়তো দখল করে নেব!”  #