পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে ফের বিতর্কে রাশিয়া তার অবস্থান জানালো
ইউরোপের তিনটি প্রভাবশালী দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তারা তা মানছে না। পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও পাঁচটি পর্যায় বা ধাপে পরমাণু সমঝোতার বিভিন্ন ধারা স্থগিত করার পদক্ষেপ নেয়। ফলে ইউরোপ নড়েচড়ে বসে এবং বিরাজমান সমস্যা সমাধানে উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। তারা ইরানকে পরমাণু সমঝোতায় ধরে রাখার জন্য বিশেষ অর্থ সরবরাহ ব্যবস্থা ‘ইন্সটেক্স’ চালু করার প্রতিশ্রুতি দেয়। ইউরোপ পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় ইরানও ‘ইন্সটেক
পরমাণু সমঝোতার একটি গুরুত্বপূর্ণ শরীক দেশ হিসেবে রাশিয়া এ ব্যাপারে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকা এবং পরমাণু সমঝোতা বিষয়ক যৌথ কমিশনের মাধ্যমে বিরাজমান সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যৌথ কমিশনের মাধ্যমে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে যে কোনো বাধা বা অস্পষ্টতা দূর করা উচিত।
প্রকৃতপক্ষে, মস্কো মনে করে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে ইউরোপের সঙ্গে ইরানের বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়া উচিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের ভিত্তিতে। বর্তমান অচলাবস্থায় রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণায় ইউরোপের তিনটি দেশের কর্মকাণ্ডে ইরানের অসন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করেছে। ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর রুশ প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভও পরমাণু সমঝোতা বিষয়ক যৌথ কমিশনের মাধ্যমে সৃষ্ট বিরোধ নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এক টুইট-বার্তায় লিখেছেন, আমরা চাই অন্য শরীক দেশগুলো যেন এমন কোনো কাজ না করে যাতে কষ্টার্জিত পরমাণু সমঝোতা হাত ছাড়া হয়ে যায়।
এদিকে, ইউরোপ পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন তো করছেই না এমনকি তারা আইএইএ’র নির্বাহী বোর্ডে ইরান বিরোধী খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করায় এর প্রতিবাদে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ ইউরোপীয় পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেলের কাছে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি পরমাণু সমঝোতার ৩৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ চুক্তি বাস্তবায়নে ইউরোপের অনীহার বিষয়টি যৌথ কমিশনে উত্থাপনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইরান প্রথম থেকেই পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন করে আসছে অন্যদিকে ইউরোপ প্রতিশ্রুতি মানতে গড়িমসি করছে। তিনি ইরান বিরোধী মিথ্যা প্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পাশ্চাত্যের দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুললেও বাস্তবতা হচ্ছে তারাই পরমাণু সমঝোতা মানছে না। তারা মানছে না বলেই পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও পাঁচ দফায় পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন থেকে সরে এসেছে। আসল কথা হচ্ছে আমেরিকা যেকোনোভাবে পরমাণু সমঝোতাকে ধ্বংস করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইউরোপ মুখে পরমাণু সমঝোতার প্রতি সমর্থন দিলেও বাস্তবে তারা এটিকে টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী নয়। যাইহোক, পরমাণু সমঝোতা নিয়ে যখন ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে তখন এ ব্যাপারে রাশিয়ার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৫