ব্রিটেনের রাজতন্ত্র এখন রাজপরিবারের ভেতর থেকেই চ্যালেঞ্জের শিকার?
ব্রিটিশ রাজপরিবারে বর্ণবাদের কলঙ্ক! জনমনে আস্থার ধস রাণীর কথায় থামবে কী?
-
প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান অনেক আগেই রাজকীয় খেতাব বর্জন করেছেন
ব্রিটেনের সরকার বিশ্বের নানা দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে বড় বড় কথা ও মোড়লিপনাসুলভ আচরণ করে আসলেও দেশটির রাজপরিবারেরই মানবাধিকার-বিরোধী আসল চরিত্র এবং চেহারা অনেকাংশে ফাঁস হয়েছে।
সম্প্রতি ব্রিটিশ রাজপুত্র প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেল রাজপরিবারের বর্ণবাদী আচরণ সম্পর্কে সিবিএস টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, অনাগত সন্তানের ত্বকের রং কেমন হবে তা নিয়েও রাজপরিবারের সদস্যরা তাকে অপ্রিয় কথা শুনিয়েছেন এবং তিনি আত্মহত্যার চিন্তাও করছিলেন।
মেগান বলেন, রাজতন্ত্রের অভ্যন্তরে বর্ণবাদ রয়েছে। রাজপরিবার-কর্তৃপক্ষ তথা এই পরিবারের সিনিয়র সদস্যরা হ্যারির পরিবারের প্রতি উদাসীন ও মিথ্যাচারে জড়িত এমন অভিযোগ তুলে মেগান বলেছেন, মানসিক সংকটের সময় তাকে সাহায্য করতেও অস্বীকৃতি জানানো হয়, মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয় এমনকি তার অনাগত সন্তানের ত্বকের রং নিয়েও রাজপরিবারে উদ্বেগ ছিল। মেগান বলেন, তাকে বলা হয়েছিল ত্বকের রংয়ের কারণে তার সন্তান আর্চি-কে রাজকীয় খেতাব দেয়া হবে না।
এ অবস্থায় ব্রিটেনের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ মুখ খুলতে বাধ্য হয়ে বলেছেন, হ্যারি ও মোগানের গত কয়েক বছরের সংকটময় অবস্থার ব্যাপারে গোটা রাজপরিবারই অসন্তুষ্ট। তিনি ঘরোয়া পরিসরেই এ সংকট সমাধানের কথা বলেছেন।
এই আধুনিক যুগেও গণতন্ত্রের দাবিদার ব্রিটেনে বিলাসবহুল রাজতন্ত্র কেন থাকবে ও এই বিলাসী রাজপরিবারের পেছনে কেনো দেশটির সরকার ও জনগণের বিপুল অর্থ খরচ করা তথা অপচয় করা হচ্ছে- এসব প্রশ্ন নিয়ে ব্রিটিশ জনগণের একটা বড় অংশের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। ব্রিটেনের রাজপরিবার সেদেশের প্রধান এলিট শ্রেণী হিসেবে সেদেশের রাজনীতিসহ সার্বিক নীতিতে অগণতান্ত্রিক পন্থায় বা গোপনে ব্যাপক হস্তক্ষেপ করে থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এখন এই ব্রিটিশ রাজপরিবারের নানা অনাচার আর অবিচারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন খোদ রাজপরিবারেরই শীর্ষস্থানীয় সদস্য প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান। প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল অনেক আগেই রাজকীয় খেতাব ও দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন এবং তারা আমেরিকায় বসবাস করছেন।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের জীবনী-লেখক পেনি জুনর লিখেছেন: এই রাজপরিবারই আসলে সূচকের ওঠা-নামাসহ শেয়ার বাজারের চেয়েও অনেক বড় এক বাণিজ্য।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া যাখারোভা মেগানের বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেছেন, ব্রিটেনের রাজপরিবারের কর্তৃপক্ষসহ এলিট শাসক শ্রেণী এমনই যে তারা না চাইলে দেশটির সবচেয়ে সুরক্ষিত পরিবারের সদস্যরাও নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন। এটি দেশটির জন্য এক কলঙ্ক এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বা নির্ভরতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ধস।
ব্রিটেনের রাজপরিবারও যে সুনির্দিষ্ট কোনো আদর্শবাদী বা পারিবারিক নীতি মেনে চলে না এখন তা সবার কাছেই স্পষ্ট। ব্রিটেনের রাজতন্ত্র এখন রাজপরিবারের ভেতর থেকেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের শিকার হল। গণমাধ্যমকে অপব্যবহার করে প্রতিবাদী জনমত ও ব্রিটিশ নাগরিকদের মগজ-ধোলাই করাও হয়তো ভবিষ্যতে আর সম্ভব হবে না। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/১০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।