আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে গড়িমসি: রাশিয়ার সতর্কবার্তা
আফগানিস্তান বিষয়ক রাশিয়ার বিশেষ প্রতিনিধি জামির কাবুলোভ ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ওয়াশিংটনের অনীহার কারণে এর বিপজ্জনক পরিণতির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ঘোষিত সময়সীমা ১মে শেষ হচ্ছে।
রুশ এই কূটনীতিক আরো বলেন, মার্কিন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পরিণতি শেষ পর্যন্ত কি হবে তা এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না। কাতারের রাজধানী দোহায় আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল তা বাস্তবায়নে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের গড়িমসির প্রতিক্রিয়া আমরা লক্ষ্য করছি যা মোটেই শুভ পরিণতি ডেকে আনবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন গত সপ্তাহে দাবি করেছেন, টেকনিক্যাল কারণে ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা সম্ভব নাও হতে পারে। এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখনো আফগানিস্তান থেকে সেনা সরিয়ে আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি বলেন, দোহা সমঝোতার বিষয়টি তারা পূনর্মূল্যায়ন করবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানে তালেবানের প্রতিনিধিরা গত বছর ফেব্রুয়ারিতে কাতারের রাজধানী দোহায় একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিল যেখানে ওয়াশিংটন পর্যায়ক্রমে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যাতে আফগান শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়া যায়। চুক্তিতে চলতি বছর ১মের মধ্যে সেনা প্রত্যাহারের জন্য চূড়ান্ত সময়সীমা বেধে দেয়া হয়েছিল। তালেবানরা চুক্তি লঙ্ঘন করছে এমন অজুহাতে বাইডেন প্রশাসন শুধু যে প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করছে তাই নয় একইসঙ্গে আফগানিস্তানে আরো দীর্ঘ মেয়াদে মার্কিন সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার পক্ষে কথা বলছে। পেন্টাগন এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে পরামর্শ দিয়ে বলেছে, ১মে থেকে হয় সেনা প্রত্যাহার করতে হবে অথবা পরবর্তী আরো ছয় মাসের জন্য কিংবা অনির্ধারিত সময়ের জন্য সেখানে মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখতে হবে।
আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ওলামা পরিষদের প্রধান মাওলানা খোদাদদ বলেছেন, 'বিদেশিরা কখনোই আফগানিস্তানের স্বার্থে কাজ করেনি এবং তারা চায় না এ দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক। মার্কিনীরা কখনোই আফগানিস্তানে শান্তি চায়নি আর সে কারণে তাদের কাছে কিছু প্রত্যাশা করা ঠিক নয়।'
এদিকে, মার্কিন সরকার সেনা প্রত্যাহারে গড়িমসি করায় ও তারা দোহা চুক্তি লঙ্ঘন করায় তালেবানরা হুমকি দিয়ে বলেছে আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পরও যদি সেনা প্রত্যাহার করা না হয় তাহলে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালানো হবে এবং নজিরবিহীন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়বে। তারা আফগানদের মধ্যে শান্তি আলোচনার জন্য সেদেশ থেকে বিদেশি সেনা বহিষ্কারের শর্ত জুড়ে দিয়েছে। তারপরও বাইডেন সরকার আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না বলেই মনে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি আফগানিস্তানে অন্যতম সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী দেশ রাশিয়াকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আফগানিস্তানে ফের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারেও মস্কো সতর্ক করে দিয়েছে। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩১