নভেম্বর ১৫, ২০২১ ১২:৪৮ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৫ নভেম্বর সোমবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • ই-পাসপোর্ট করতে গিয়ে তানিয়া শুনলেন, ‘আপনি অন্ধ, সার্টিফিকেট কই?’ -প্রথম আলো
  • করোনা মোকাবেলায় আমাদের সাফল্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে: প্রধানমন্ত্রী-মানবজমিন
  • দেশের মানুষ ভালো আছে, শুধু বিএনপি ভালো নেই: কাদের -ইত্তেফাক
  • ১২ লাখ টাকা ধার দেওয়াই কাল হলো সেই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার-যুগান্তর
  • সীমান্ত হত্যা ন্যক্কারজনক : ভারতীয় হাইকমিশনার-কালের কণ্ঠ

ভারতের শিরোনাম:

  • চিকিৎসায় সমস্যা হলে বিক্ষোভকারীদের দায় নিতে হবে, আরজি কর নিয়ে প্রধান বিচারপতি -আনন্দবাজার পত্রিকা
  • সেনা কনভয়ে জঙ্গি হামলার পর ফের অশান্তির আগুন মণিপুরে, উদ্ধার বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার-সংবাদ প্রতিদিন
  • ঢেলে সাজছে মোদি সরকার, ৮টি দলে ভাগ করা হল মন্ত্রীদের –আজকাল

শ্রোতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার দু'টি খবরের বিশ্লেষণে যাচ্ছি- 

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

১. দেশব্যাপী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে অন্তত ৩৯ জন নিহত হওয়ার খবর পরিবেশেন করেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা। বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

২. ইরানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা চালিয়ে যাবে রাশিয়া। মস্কোর পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা দেয়া হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে- রাশিয়া কেন ইরানকে সামরিক সহযোগিতা দিচ্ছে? মূল লক্ষ্যটা কী?

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর:

ই-পাসপোর্ট করতে গিয়ে তানিয়া শুনলেন, ‘আপনি অন্ধ, সার্টিফিকেট কই?’-প্রথম আলো

‘আমি তানিয়া নূর, জ্ঞান হওয়ার পর থেকে এক চোখে দেখি। সোজা ভাষায় আমি অন্ধ। খুব ছোট বয়সে, দুই বেণি দোলানো ছোট্ট সেই মেয়েটা জানত মানুষ এক চোখে দেখে। বন্ধুরা বলল—না তো সবাই দুই চোখে দেখে। তাহলে আমিই দেখি না!’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তানিয়া নূরের (৩৮) এই স্ট্যাটাসের পরের অংশ তাঁর জন্য আরও কষ্টের, আরও হতাশার। সেই বিবরণে তিনি তাঁর এক চোখের দৃষ্টিশূন্যতার জন্য একটি সরকারি সংস্থার লোকজনের কাছ থেকে চরম অসংবেদনশীল আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন।

তানিয়ার অভিযোগ, ১১ নভেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে ই-পাসপোর্টের জন্য চোখের রেটিনা স্ক্যান করার সময় তাঁর এক চোখের দৃষ্টিহীনতা নিয়ে তিনি রীতিমতো হেনস্তার শিকার হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁকে চিকিৎসকের কাছ থেকে ‘দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী’ হিসেবে প্রমাণপত্র আনতে হয়েছে। কারণ, অধিদপ্তরের কর্মীরা তাঁকে জানিয়েছিলেন, এই সনদ ছাড়া তাঁর ই-পাসপোর্ট আবেদনপত্র নেওয়া হবে না। কিন্তু ই-পাসপোর্টের ফরমে কোথাও উল্লেখ নেই যে প্রতিবন্ধিতা থাকলে তা প্রমাণের সনদ দিতে হবে।

তানিয়া লিখেছেন, তাঁকে শেষমেশ চিকিৎসকের কাছ থেকে অন্ধত্বের প্রমাণ সংগ্রহ করে আনতে হয়েছে। আর জীবনে এই প্রথম তাঁকে এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে কাঁদতে হয়েছে। ঘটনাটির পর থেকে তিনি একধরনের মানসিক বিষাদের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে প্রথম আলোকে তানিয়া বলেন, রেটিনা স্ক্যানে তাঁর এক চোখে কিছু শনাক্ত না হওয়ায় পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মীরা তাঁকে নানা প্রশ্ন করতে থাকেন। অদ্ভুত সব প্রশ্নে তিনি আহত বোধ করেন। এ বিষয়ে তিনি প্রতিবাদ করেন। যুক্তি দেন যে ই-পাসপোর্টের ফরমে প্রতিবন্ধিতা–বিষয়ক তথ্যপ্রমাণ দেওয়ার বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই। তাহলে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমীন প্রথম আলোকে বলেন, কাউকে তাঁর বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্যের কারণে বৈষম্য করা অসাংবিধানিক ও বেআইনি।

দেশের মানুষ ভালো আছে, শুধু বিএনপি ভালো নেই: কাদের-ইত্তেফাক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি আগুন-সন্ত্রাসের মতো মরণঘাতি কর্মসূচির জনক। দেশের মানুষ ভালো আছে, শুধু বিএনপি ভালো নেই। ধ্বংসের রাজনীতির উত্তরাধিকার বহন করছে বিএনপি। সোমবার (১৫ নভেম্বর) বাসভবনে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ হাজার শিক্ষক পদ শূন্য: শিক্ষামন্ত্রী-ইত্তেফাক

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, দেশের ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চার হাজার ১৫০টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। আজ সোমবার (১৫ নভেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।

নির্বাচন আইসিইউতে, গণতন্ত্র লাইফ সাপোর্টে-মানবজমিন

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ যতই ফুরিয়ে আসছে, নির্বাচন ব্যবস্থা ও অবস্থা দেখে ততই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছি। প্রকৃত পক্ষে নির্বাচন এখন আইসিইউতে। এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে গণতন্ত্র এখন লাইফ সাপোর্টে। দেশে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অসহিষ্ণু মনোভাব গণতন্ত্রকে অন্তিম অবস্থায় নিয়ে গেছে। খেলায় যেমন পক্ষ-বিপক্ষের প্রয়োজন হয়, তেমনি একপক্ষীয় কোনো গণতন্ত্র হয় না। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যেকোনো মূল্যে গণতন্ত্রকে আমরা লাইফ সাপোর্ট থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাই। এজন্য দলমতনির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এই সংকট নিরসনে সকল দলের সমঝোতা অপরিহার্য।

বোরবার বিকালে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ‘দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুব তালুকদার বলেন, সংবিধানের বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও সুদীর্ঘ ৫০ বছরে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন প্রণয়ন করা হয়নি। নির্বাচন প্রক্রিয়া সংস্কারের জন্য এই আইন প্রণয়ন অবধারিত হলেও তা যথেষ্ট নয়। এতে নিরপেক্ষভাবে সব রাজনৈতিক দলের স্বার্থ সংরক্ষণ করা আবশ্যক এবং তা সকল দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়া বাঞ্ছনীয়। একপক্ষীয় আইন করে কোনো লাভ হবে না। একপক্ষীয় আইন কেবল একদলীয় শাসনের পথ উন্মুক্ত করে। বিষয়টির যত তাড়াতাড়ি ফয়সালা হয়। ততই মঙ্গল। নইলে দেশব্যাপী নৈরাজ্যের আশঙ্কা আছে।

তিনি বলেন, এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে রক্তাক্ত নির্বাচন বললে অত্যুক্তি হবে না।

তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ে কমিশনার মাহবুব তালুকদারের দেয়া বক্তব্য তথ্যভিত্তিক নয় বলে দাবি করেছেন  নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম। অতীতের উদাহরণ ও পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ নির্বাচিত হলে সেখানে ইসির কিছু করার থাকে না। ইসি কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে কাজ করেছেন বলেই সরকারদলীয় প্রার্থীর বাইরে অনেকেই নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। গতকাল মাহবুব তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ যতই ফুরিয়ে আসছে, ‘নির্বাচন ব্যবস্থা ও অবস্থা দেখে তিনি ততই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। তার মতে, নির্বাচন এখন আইসিইউতে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে গণতন্ত্র এখন লাইফ সাপোর্টে।’ মাহবুব তালুকদারের এমন বক্তব্য কতটুকু বাস্তব- তা জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য তথ্যভিত্তিক মনে হয় না। তিনি যে প্রেক্ষাপটে বক্তব্য রেখেছেন তার কোনো ভিত্তি নেই।

মাহবুব তালুকদার বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন রেখেছেন।

রফিকুল ইসলাম উল্টো প্রশ্ন রাখেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন একটা স্থানীয় নির্বাচন দেখান যেখানে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় একজন প্রার্থীও নির্বাচিত হননি। যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকে তবে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার থাকে না।

নির্বাচন কোনো ইভেন্ট নয়, দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া: প্রতিটি ভোট গণনা দেখতে চায় ইইউ- চার্লস হোয়াইটলি-মানবজমিন

নির্বাচন কোনো অনুষ্ঠান বা ইভেন্ট নয়, বরং নির্বাচন হলো একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। আজ দুপুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস এসোসিয়েশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিয়োজিত ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশনের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি। তিনি এ সময় আরো বলেন, আমরা যারা বাংলাদেশে কাজ করি, তাদের সবারই এখানে স্বার্থ আছে। এখানে আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করছি না। তবে ওই জায়গা থেকে আমরা বাংলাদেশে মনিটরিং করবো। এ দেশটির স্টকহোল্ডার বা অংশীদার হিসেবে দিনশেষে আমরা দেখতে চাই, প্রতিটি ভোটার যে ভোট দিয়েছেন, তা কাউন্ট হয়েছে বা গণনা করা হয়েছে। এ সময় তিনি ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা পাওয়া নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জিএসপি পাওয়া কোনো পিকনিক নয়।

১২ লাখ টাকা ধার দেওয়াই কাল হলো সেই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার-যুগান্তর

রাজধানীতে গম গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আনোয়ার শহীদ হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন করেছে র‌্যাব। 

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মো. জাকির হোসেন ও তার সহযোগী মো. সাইফুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

র‌্যাব জানিয়েছে, পাওনা টাকা চাওয়ায় আনোয়ার শহীদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন জাকির হোসেন। এর পর সাইফুলকে দিয়ে খুন করান তিনি। 

 সোমবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের র্যা বের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সীমান্ত হত্যা ন্যক্কারজনক : ভারতীয় হাইকমিশনার-কালের কণ্ঠ

সীমান্ত হত্যা একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা উল্লেখ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেছেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে চোরাচালান বন্ধ করতে হবে। চোরাচালানের কারণে সীমান্ত হত্যার ঘটনা ঘটছে। তবে আগামীতে সীমান্ত হত্যার মতো ঘটনা যেন না ঘটে সে ব্যাপারে ভারত সরকার সজাগ রয়েছে।

সীমান্তে মানুষ হত্যা-প্রথম আলো

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় অবশেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, সীমান্তে যাতে একজন মানুষও মারা না যায়, সে ব্যাপারে ভারত অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হচ্ছে সীমান্তে হত্যা ঘটছে। তাই আমরা উদ্বিগ্ন। 

 পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই উদ্বেগ ব্যক্তি বা সরকারের উদ্বেগ নয়। এটি দেশের ১৭ কোটি মানুষের উদ্বেগ। সম্প্রতি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ২০১৯ সালে বিএসএফের গুলিতে ৩৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আগের বছরে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৩। চলতি বছরের প্রথম ১০ দিনে বিএসএফের গুলিতে ঠাকুরগাঁওয়ে একজন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে দুজন মারা যান। বিএসএফের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিহতরা চোরাচালানকারী এবং তাঁরা টহলদার জওয়ানদের আক্রমণ করেছিলেন। পাল্টা আক্রমণে তঁারা নিহত হন। বিএসএফের এই ভাষ্য কতটুকু সত্য, তা প্রমাণসাপেক্ষ। ফেলানী নামের কিশোরীটি কাঁটাতার পার হওয়ার সময় বিএসএফের জওয়ানদের হাতে নিহত হয়েছিলেন। এ রকম ঘটনা আরও এন্তার ঘটছে।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি:

চিকিৎসায় সমস্যা হলে বিক্ষোভকারীদের দায় নিতে হবে, আরজি কর নিয়ে প্রধান বিচারপতি-আনন্দবাজার

আরজি কর হাসপাতালে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সতর্ক করল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব বলেন, ‘‘চিকিৎসা পরিষেবা বিঘ্নিত হলে তার দায় নিতে হবে আন্দোলনকারীদের।’’ একই সঙ্গে আদালত জানায়, প্রতিবাদের নামে জঙ্গি আন্দোলন নয়। প্রতিবাদের আন্দোলন চরিত্র হারালে পদক্ষেপ করা হবে। সোমবার আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এই মামলা নিয়ে আদালতের আগের নির্দেশ পালন করতে হবে আন্দোলনকারীদের। তা না হলে ফল ভুগতে হবে তাঁদের। আর রোগীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সে দিকেও নজর রাখতে হবে। আগামী কাল, মঙ্গলবার ফের শুনানি হবে।আরজি কর হাসপাতালে পড়ুয়াদের আন্দোলন নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাই কোর্টে। ওই মামলায় বিচারপতি দেবাংশু বসাকের অবকাশকালীন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, রোগী পরিষেবা ব্যাহত না করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে হবে পড়ুয়াদের। সমস্যা সমাধানে রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিবকে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করতে নির্দেশ দেয় আদালত।

সেনা কনভয়ে জঙ্গি হামলার পর ফের অশান্তির আগুন মণিপুরে, উদ্ধার বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার-সংবাদ প্রতিদিন

দিন কয়েক আগেই মণিপুরে অসম রাইফেলসের কনভয়ে প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে। এবার উত্তর-পূর্বের সেই রাজ্য থেকেই উদ্ধার হল বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার। মাটির তলা থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সম্ভার দেখলে দেখে মনে হতে পারে, কোনও যুদ্ধ লেগেছে। অথবা যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে। সেই অস্ত্রের বহর দেখে চোখ কপালে উঠেছে সেনার। তাঁদের প্রাথমিক ধারণা, বড়সড় হামলার ছক কষেছিল বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। আর তাদের সাহায্য করছিল চীন ।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার মণিপুর পুলিশ এবং অসম রাইফেলসের ফুনড্রেই ব্যাটেলিয়ন যৌথভাবে এই অভিযান চালায়। সেই অভিযানে কাকচিং জেলার ওয়াবআগাই ইয়ানবি হাই স্কুলের সামনে মাটির তলা থেকে মেলে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র।

ঢেলে সাজছে মোদি সরকার, ৮টি দলে ভাগ করা হল মন্ত্রীদের-আজকাল

আরও দক্ষভাবে সরকার চালাতে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতার মিশেল এবং প্রযুক্তির যতটা সম্ভব ফায়দা তোলাই লক্ষ্য। সমগ্র মন্ত্রী পরিষদকেই আটটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। তারাই সমস্তটা দেখভাল করবে। 

৭৭ জন মন্ত্রীকে আটটি দলে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি দল প্রযুক্তি ব্যবহারে ওস্তাদ পেশাদারদের নিয়োগ করবে। প্রত্যেক মন্ত্রীরাও তাঁদের কার্যালয়ে একই রকম পদক্ষেপ নেবেন, যাতে স্বচ্ছতা বাড়ে এবং মোদি সরকারের দক্ষতা বাড়ে। জানা গেছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পাঁচ ঘণ্টা ব্যাপী ‘চিন্তন শিবির’ নামক বৈঠকের অনতিবিলম্বেই। বৈঠকের চেয়ারম্যান ছিলেন স্বয়ং মোদি। সমস্ত বৈঠকেই সবথেকে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে মোদি সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োগ ক্ষমতা বৃদ্ধির। সেই কাজের অংশ হিসেবেই মন্ত্রীদের আটটি দলে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি দলে অন্তত তিনজন তরুণকে নেওয়া হবে যাদের গবেষণা, যোগাযোগ ইত্যাদিতে দখল থাকবে। বয়স্ক এবং যাঁরা অবসর নিতে চলেছেন তাঁদের থেকে নেওয়া হবে পরামর্শ। একটি দলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে একটি পোর্টাল তৈরির যেখানে সমস্ত কাজের খতিয়ান রেকর্ড করা হবে। #   

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৫