জানুয়ারি ১০, ২০২২ ১৩:৫১ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ১০ জানুয়ারি সোমবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

বাংলাদেশের শিরোনাম :

  • ম্যারাথনে যানজট, নাকাল রাজধানীবাসী -ইত্তেফাক
  • ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি-বাড়তি মজুরি খেয়ে ফেলছে মূল্যস্ফীতি-প্রথম আলো
  • সরজমিন- বিমানবন্দর দেশ ছাড়তেও বিড়ম্বনা প্রবাসীদের- মানবজমিন
  • সোনার বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা- কালের কণ্ঠ
  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে না: শিক্ষামন্ত্রী- যুগান্তর

ভারতের শিরোনাম:

  • কার নির্দেশে এলেন না? শুভেন্দু-কাণ্ডে ডিজি এবং মুখ্যসচিবকে প্রশ্ন রাজ্যপালের-আনন্দবাজার পত্রিকা
  • জাতপাতের বিভাজন নাকি সরকার বিরোধী ক্ষোভ, উত্তরপ্রদেশ ভোটে প্রভাব ফেলবে কোন অঙ্ক?-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • মোদির নিরাপত্তায় গাফিলতি!‌ সমস্ত তদন্ত স্থগিত করে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গড়ল শীর্ষ আদালত –আজকাল

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিস্তারিত:

অর্থনীতির খবরে দৈনিক প্রথম আলো লিখেছে, ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি-প্রথম আলো

মুদ্রাস্ফীতি

বাড়তি মজুরি খেয়ে ফেলছে মূল্যস্ফীতি। খবরটিতে লেখা হয়েছে, করোনার কারণে সংকটে থাকা ব্যবসা-বাণিজ্যসহ পুরো অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা করার এই প্রক্রিয়ায় মজুরিও বাড়ে। কিন্তু সেই বাড়তি মজুরির টাকা খেয়ে ফেলছে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি। এখন জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির হার প্রায় সমান হয়ে গেছে। সাধারণত মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির কিছুটা বেশি থাকে। কিন্তু দুই মাস ধরে সেই চিরায়ত প্রবণতায় টান পড়েছে।

দেশে অমিক্রন শনাক্ত বেড়ে ৩০ প্রথম আলোসহ বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত এ খবরে লেখা হয়েছে, দেশে করোনা রোগীর নমুনার জিন বিশ্লেষণে অমিক্রনে সংক্রমিত এই রোগী শনাক্ত হয়েছে।তিন দিনের ব্যবধানে এই সংখ্যা বেড়ে ৩০ হলো। ৩০ জনের সবাই ঢাকার।

ওমিক্রনে উদ্বেগ

গত ১০ ডিসেম্বর দেশে প্রথম অমিক্রন শনাক্ত হয়।দেশে করোনার সংক্রমণ এখন আবারও ঊর্ধ্বমুখী। করোনায় মৃত্যু, নতুন রোগী ও নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার—সবই বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশে নতুন রোগী বেড়েছে ১১৫ শতাংশ। একই সময়ে করোনায় মৃত্যু বেড়েছে ১৫ শতাংশ।

সংক্রমণের এই বৃদ্ধি করোনার নতুন ধরনের কারণে, নাকি অন্য কারণ আছে—তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যাচ্ছে না। তবে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) বলছে, সংক্রমণ আরও বাড়বে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপুমনি

আর যুগান্তরের খবরে লেখা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এখন শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশ টিকা নিয়েছে এবং চলতি মাসের মধ্যে অন্তত এক ডোজ টিকার আওতায় সবাই চলে আসবে। সেই পরিস্থিতিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করব না।’

ইত্তেফাকে পরিবেশিত এক খবরে লেখা হয়েছে ম্যারাথনে যানজট, নাকাল রাজধানীবাসী। বিস্তারিত খবরে বলা হয়েছে, রাজধানীবাসীর নিত্যেদিনের সঙ্গী যানজট। তবে আজ যানজটের মাত্রা অন্যদিনের তুলনায় সীমা ছাড়িয়ে গেছে। জানা গেছে, হাতিরঝিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন-২০২২ আয়োজন করায় যানজটের মাত্রা বেড়েছে। ম্যারাথনের কারণে শুধু হাতিরঝিল বা তার আশেপাশেই নয়, গোটা শহরজুড়ে বইছে সীমাহীন যানজট। যানজট নিয়ে মানুষ খুব ত্যক্ত বিরক্ত হয়েছে। নানাধরনের ক্ষোভ প্রকাশের কথা তুলে ধরা হয়েছে খবরে।

সরজমিন- বিমানবন্দর দেশ ছাড়তেও বিড়ম্বনা প্রবাসীদের-মানবজমিনের এ প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বহুমুখী সংকটে পড়তে হচ্ছে প্রবাসীদের। দেশ ছাড়তে গিয়ে বিমানবন্দরে অসহায় অবস্থা তাদের। রাতে ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার কারণে সারাদিন ফ্লাইট জট, নিম্নমানের খাবার, নিরাপত্তারক্ষীদের দ্বারা স্বজনদের হয়রানি, পিসিআর ল্যাবে ও ইমিগ্রেশনে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বিদেশযাত্রীদের। সাম্প্রতিক সময়ে যে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে তা হচ্ছে- শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই ও কাতারে যাওয়া প্রবাসীরা পেটের পীড়াসহ নানামুখী শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। বিমানবন্দরে এসে নিম্নমানের খাবার খেয়ে তারা এ সমস্যায় পড়ছেন। এতে দেশের শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশেপাশে কোনো মানসম্মত খাবার হোটেল নেই। যেগুলো আছে সেগুলো সর্বত্র নোংরা আর অব্যবস্থাপনায় ভরা।

যে ক’টি ভালো আছে সেগুলোর খাবারের দাম আকাশছোঁয়া। অধিক মূল্য হওয়ার কারণে সেগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য দেশে যাওয়া শ্রমিকরা খেতে যান না। তারা আশেপাশের নিম্নমানের হোটেলের খাবার খান। এ কারণে ওই খাবার খেয়ে অনেক শ্রমিকের পেটের পীড়ার সমস্যা হচ্ছে। কারও কারও কলেরা ও ডায়রিয়া হচ্ছে।

 এবার ভারতের কয়েকটি খবরের বিস্তারিত:

জাতপাতের বিভাজন নাকি সরকার বিরোধী ক্ষোভ, উত্তরপ্রদেশ ভোটে প্রভাব ফেলবে কোন অঙ্ক? এ শিরোনামের খবরে দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন লিখেছে, পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা (Assembly Election 2022) নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। তবে বাকি চারটি রাজ্যের থেকে সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে উত্তরপ্রদেশের ভোটে। গোবলয় রাজনীতিতে দেশের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশের ভোট কার্যত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর, যার প্রভাব থাকে জাতীয় রাজনীতির আঙিনাতেও। বলা হয়ে থাকে, উত্তরপ্রদেশ যার, কেন্দ্রের মসনদও তার।উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের হাত ধরেই ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে যাবে বলে মনে করছেন বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষক। লোকসভার লক্ষ্যেই তৈরি হবে কৌশল।তবে শেষ হাসি কে হাসবে, তা নির্ভর করে রয়েছে উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh Election) রাজনৈতিক কয়েকটি ফ্যাক্টরের উপর। যে দল ফ্যাক্টরগুলিকে ব্যবহারে করে নিজের পালে হাওয়া লাগাতে পারবে, ধরে নেওয়া হবে অযোধ্যার গদিতে বসবে সে-ই।উত্তরপ্রদেশের বুকে চিরকালই ‘জাত ভিত্তিক ভোটব্যাংক’ঘিরে রাজনীতিকে আবর্তিত হতে দেখা গিয়েছে। তবে ঘরানায় সামান্য বদল দেখা যায় ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে। সে বার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড় শুরু করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। উল্লেখ্য, বহু রাজনৈতিক অঙ্ক ওলট-পালট করে দিতেই উত্তরপ্রদেশের বুকে বারাণসী থেকে ভোটে সেবার দাঁড়িয়েছিলেন গুজরাটের ভূমিপুত্র। এমনই মত বহু বিশ্লেষকের। মোদি ছিলেন ভিন রাজ্যের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তবুও উত্তরপ্রদেশের মাটি থেকে তাঁর জয় ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক ঘরানার বড় বদল বলে মনে করা হয়ে থাকে।

এটাও মনে করা হয় যে ২০১৪ সালে প্রথমবার জাতিভিত্তিক রাজনৈতিক অঙ্কের বাইরে বেরিয়ে এসে, উত্তরপ্রদেশ নেতাভিত্তিক রাজনৈতিক সমর্থনের রাস্তায় হাঁটে। পালটাতে থাকে উত্তরপ্রদেশের ‘ভোটিং বিহেভিয়ার’। এরপর উত্তরপ্রদেশে ২০১৭ বিধানসভা ভোট, ২০১৯ লোকসভা ভোট হয়। বিজেপি কার্যত অপ্রতিরোধ্য হয়ে যায় গঙ্গাপাড়ের এই রাজ্যে। ২০১৯ সালে বিজেপি ৫০ শতাংশ আসনে দখল রেখেছিল। তবে ‘মুখ’–এর রাজনীতির একটি সমস্যা আছে, ‘মুখ’-এর জনপ্রিয়তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এদিকে, ভোটের ইস্যুর নিরিখে সাম্প্রতিককালে উত্তরপ্রদেশে একাধিক ফ্যাক্টর এসেছে ও গিয়েছে। তবে, জাতিভিত্তিক ভোট ইস্যু এক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর।এছাড়াও সাম্প্রতিককালে কৃষক অসন্তোষ যোগীগড়ের ভোটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। সেক্ষেত্রে কৃষি আইন ফ্যাক্টর প্রভাব ফেলতে পারে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে। আবার উত্তরপ্রদেশের পূর্বাংশে মোদি ও যোগী ফ্যাক্টর বড় হয়ে দাঁড়াতে পারে। আবার, সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবের মসনদ দখলের স্বপ্ন কতটা পূরণ হবে তা ঠিক করে দিতে পারে উত্তরপ্রদেশের বুন্দেলখন্ড এলাকা। এছাড়াও সার্বিকভাবে উত্তরপ্রদেশের বুকে ধর্মীয় রূপরেখার ইস্যু ভোটে যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে তা বলাই বাহুল্য।

মোদির নিরাপত্তায় গাফিলতি!‌ সমস্ত তদন্ত স্থগিত করে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গড়ল শীর্ষ আদালত- আজকালের এ শিরোনামের খবরে লেখা হয়েছে, পাঞ্জাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিরাপত্তায় গাফিলতির ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গড়ল সুপ্রিম কোর্ট। ওই কমিটির শীর্ষে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টেরই একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। এই অবস্থায় পাঞ্জাব সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তদন্ত স্থগিতের নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। পাঞ্জাব সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিরাপত্তার গাফিলতি হয়েছে, এই অভিযোগে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা হয়। ওই মামলার প্রথম দিনের শুনানিতেই শীর্ষ আদালতকে কেন্দ্র জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার গলদ বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা। এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে লজ্জার মুখে পড়তে হতে পারে ভারতকে। পাঞ্জাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিরাপত্তার গাফিলতিতে ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে পাঞ্জাবের ভাতিণ্ডার সিনিয়র পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নিকে তোপ দাগেন পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং।

উদ্বেগ বাড়াচ্ছে দেশের কোভিড পরিস্থিতি, জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী-সংবাদ প্রতিদিন

বিধিনিষেধ সত্ত্বেও দ্রুত বাড়ছে সংক্রমণ। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জরুরি বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-স্বাস্থ্যমন্ত্রী সহ শীর্ষ নেতৃত্ব। এদিকে, করোনাকালে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। আক্রান্তদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেয়ার বিষয়টি আজ থেকে চালু হয়েছে। এদিকে করোনায় প্রশ্নের মুখে বাজেট অধিবেশনের ভবিষ্যৎ। করোনায় আক্রান্ত হয়েছে সংসদের চারশোর বেশি কর্মী। উদ্বেগের ছায়া পড়েছে রাজনৈতিক মহলে।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/‌১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।