মে ৩০, ২০১৬ ১৫:০৪ Asia/Dhaka

বন্ধুরা, সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আপনাদেরই চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। অন্যান্য আসরের মতো আজও একটি হাদিস শোনাবো শুরুতেই।

ইমাম হাসান (আ.) বলেছেন, জেনা বা ব্যাভিচার না করা, ঘর-দরজা ও ঘর থেকে বের হওয়ার রাস্তা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং আসবাবপত্র ধুয়েমুছে রাখার মাধ্যমে অভাব-অনটন দূর হয় এবং সংসারে স্বচ্ছলতা আসে।

আমরা যারা অভাব অনটন থেকে মুক্ত হতে চাই তারা এ হাদিসের আলোকে নিজেদের জীবন পরিচালিত করবো- এই আশা ব্যক্ত করে চিঠিপত্রের দিকে নজর দিচ্ছি। আসরের প্রথমেই বাংলাদেশ থেকে আসা একটি চিঠি।এবারে যে চিঠি হাতে তুলে নিয়েছি তা এসেছে ভারত থেকে। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার দোয়েরপাড়া গ্রাম থেকে এটি পাঠিয়েছেন আশরাফুল ইসলাম।

তার চিঠির শুরুতেই প্রশ্ন রয়েছে। তিনি জানতে চেয়েছেন, ইরানে স্কুল কলেজে কি ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করা যায়?

ইরানে সর্বস্তরে শিক্ষার মাধ্যম ফার্সি। তাই শিশু শ্রেণী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার সর্বস্তরে ফার্সি ভাষায় শিক্ষা দেয়া হয়। তেহরানে কয়েকটি ইংরেজি স্কুল আছে এবং স্বাভাবিকভাবেই এ সব স্কুল তুলনামূলক ভাবে ব্যয়বহুল।

এখানে আরেকটি বিষয় বলে রাখা ভালো আর তাহলো- ইরানি কোনো শিশু ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে লেখাপড়া করতে পারে না। হাতেগোনা ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোতে তেহরানে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের সন্তানেরা পড়াশুনা করে। তবে হ্যা, যেসব ইরানি শিশুর জন্ম বিদেশে হয়েছে এবং সেখানকার ইংরেজি স্কুলে এরইমধ্যে লেখাপড়া করে দেশে ফিরে এসেছে তাদেরকে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে পড়ালেখার সুযোগ দেয়া হয়।

প্রশ্নের পর ভাই আশরাফুল ইসলাম রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে যেগুলো সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে তার একটি তালিকা দিয়েছেন, এ তালিকায় প্রথমেই প্রিয়জনের নামটি রয়েছে। তালিকায় এরপর স্থান করে নিয়েছে, বিশ্বসংবাদ, কোরআনের আলো, রংধনু এবং স্বাস্থ্যকথা।

ভাই আশরাফুল ইসলাম, ভবিষ্যতে আরো চিঠি দেবেন এবং অন্যদেরকে চিঠি লিখতে উৎসাহিত করবেন বলে আশা রাখছি। এবারে হাতে তুলে নিয়েছি বাংলাদেশের একটি চিঠি। দিনাজপুর জেলার বালুবাড়ি থেকে এটি পাঠিয়েছেন মো আবু তালিব। তিনি লিখেছেন, রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠানমালা আমাদের মধ্যে মূল্যবোধ সৃষ্টি করছে। এটাই সবচেয়ে আশার কথা।

ভাই মো আবু তালিব আপনাকে ধন্যবাদ। ভবিষ্যতে আরো চিঠি লিখবেন এবং অনুষ্ঠান সম্পর্কে মতামত দেবেন বলে আশা করছি। বন্ধুরা আসরের এ পর্যায়ে আমরা নজর দেবো ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খবরে পাঠক ভাই বোনেরা যে সব মতামত জানিয়েছেন সেদিকে নজর দেবো।

‘আমেরিকার তাবেদারি করতে গিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে কিছু মুসলিম সরকার’ শিরোনামের খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮ মে। এ খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মুসলিম সরকার এ অঞ্চলে মার্কিন নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করতে গিয়ে নিজেদের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। এ কথা বলেছেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী। তেহরানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আর এ খবরে মন্তব্য করেছেন পার্সটুডের পুরনো মন্তব্যকারী মহম্মদ ঘোরী শাহ। তিনি লিখেছেন, ইতিহাসের আধুনিক যুগটা হল আমেরিকা কর্তৃক মুসলিম গণহত্যার যুগ। স্বভাবতই সাধারণ মুসলিমদের কাছে 'আমেরিকা' নামটা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, তারা নিরুপায় ভাবে একরাশ ঘৃণা বুকে বহন করে চলে। কিন্তু সেই যন্ত্রণাকে বাড়িয়ে তোলে যখন তাদের রাষ্ট্র নায়করা আমেরিকার সঙ্গে শখ্যতা বজায় রাখেন।

এ ভাই আরো লিখেছেন, একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে মার্কিন প্রেমী রাষ্ট্রনায়ক মানেই স্বৈরচারী। মার্কিন ঘনিষ্ঠতা বা মন্ত্রণা তাঁদেরকে স্বৈরচারী করে তোলে। ফলে দেশে নেমে আসে অমানবিক লাঞ্ছনা। ইসলামিক রাষ্ট্রীয় মুল্যবোধ তো দূরের কথা সেই সব রাষ্ট্রনেতা পাশ্চাত্যের পাশবিকতায় গা ভাসান। না হলে ফিলিস্তিনী বালিকাদের এখনো রাস্তায় বুলেট বিদ্ধ হতে হতনা।

চমৎকার মন্তব্য করেছেন ভাই ঘোরি শাহ। পাঠকদের মধ্যে এত সুন্দর সচেতনতা তৈরিতে আমরা যদি সামান্য ভূমিকাও রেখে থাকতে পারি তাহলে নিজেদের ধন্য মনে করছি।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের ইরান সফর নিয়ে একটি ছবির অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে ৩ মে’র পার্সটুডে ডট কমে। আর এতে মন্তব্য করেছেন কে টি ইসলাম তুহিন। দক্ষিণ কোরিয়ার নারী প্রেসিডেন্টের হিজাব আবৃত ছবির প্রতি ইংগিত করে তিনি একটি মন্তব্য করেছেন। লিখেছেন, পুরুষ নারী যেই ইসলামি রাষ্ট্র সফর করুন তাকে ইসলামি সংস্কৃতির অনুগমন করতে হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে দেখুন।

ভাই তুহিন চমৎকার লেগেছে আপনার বক্তব্য। ভবিষ্যতে আরো মন্তব্য করবেন বলে আশা রাখছি। বন্ধুরা আসরের সময় শেষ হয়ে এসেছে এবারে বিদায় নেবো। আগামী আসরে আবারো কথা বলার আশা রইল।#