এপ্রিল ২৯, ২০২৩ ২২:৩৯ Asia/Dhaka

আমরা প্রায়ই দেখে থাকি নারী ও পুরুষের দাম্পত্য জীবনে দেখা দিচ্ছে নানা সংকট।  বহুকাল একই ছাদের নিচে থাকার পরও দাম্পত্য জীবন হয়ে ওঠছে একঘেয়ে ও অশান্তিময়। 

স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনকে সুন্দর মধুময় করে তোলার প্রধান মাধ্যম হচ্ছে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সুন্দর ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ। বর্তমান যুগে প্রকৃত ধর্ম ও দাম্পত্য শিক্ষার অভাবে বহু দম্পতি দাম্পত্য জীবনে সুখী হ’তে পারছেন না। এ কারণে পৃথিবীর বুকে সুখী দম্পতির সংখ্যা দিনকে দিন কমেই আসছে। ফলে মানুষের মাঝে ক্রমশ: বিয়ে-ভীতির পাশাপাশি বিয়েতে আগ্রহের অভাব বড়ই স্পষ্ট হয়ে দেখা দিচ্ছে।

সুখী ও সুন্দর দাম্পত্য জীবন গঠনে স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল ও শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। বুঝতে হবে একে অপরের সুবিধা ও সমস্যাগুলোকে সমানুভূতি দিয়ে বাস্তবতার আলোকে। স্বামী যদি অসহযোগিতা করেন, স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব পালন না করেন- তাহলে “সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে” এই নীতিবাক্যে আর সুখ আসবে না। 

 ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ির মতে উন্নত ও  সুখী পরিবার গড়ে তুলতে হলে স্বামী-স্ত্রীকে হতে হবে পরস্পরের প্রতি আন্তরিক ও অনুগত এবং পরস্পরের প্রতি গভীর অনুরাগী। তারা পরস্পরের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে চলবেন। তারা সন্তানের প্রতি হবেন দায়িত্বশীল। সন্তানকে আত্মিক ও বস্তুগত দিক থেকে সুস্থ রাখা তাদের দায়িত্ব। সন্তানদেরকে তারা বিশেষ কিছু বিষয় শেখাবেন। কোনো কোনো বিষয়ে তাদের ওপর কড়াকড়ি করতে হবে যাতে তারা কোনো কোনো ক্ষতিকর বিষয় বর্জন করে ও কোনো কোনো ভালো স্বভাব বা গুণে অভ্যস্ত হয়। এ ধরনের পরিবারই দেশে আনতে পারে প্রকৃত সংস্কার। এ ধরনের পরিবারে জন্ম-নেয়া সন্তানরা হবে নানা মহত গুণের অধিকারী। মুক্ত চিন্তা, দায়িত্বশীলতা, মানব-প্রেম ও সাহসিকতাকে কাজে লাগিয়ে তারা সাহসি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন খুব দ্রুত। সমাজের পরিবারগুলো এভাবে গড়ে উঠলে সেই সমাজে আর দুরবস্থা থাকবে না বলে মনে করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে কেবল প্রযুক্তিই যে বদলাচ্ছে তা নয় বদলে যাচ্ছে মানুষের স্বভাব প্রকৃতি এবং বদলে যাচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা। পরিবার ও সমাজকে এই নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপায় জানতে হবে। বর্তমান যুগে ইন্টারনেট মাধ্যমের রয়েছে নানা ভালো বা উপকারী দিক ও নানা ক্ষতিকর বা ধ্বংসাত্মক দিক।

কোনো সমাজ যদি পরিবর্তনের সম্ভাব্য ধাক্কা বা ঢেউগুলোর ধরণ সম্পর্কে আগেই মোটামুটি সামগ্রিক কিছু ধারণা অর্জন করতে পারে তাহলে সেই সমাজ এই পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে মোকাবেলা করার ও তা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও খুব ভালোভাবে অর্জন করতে সক্ষম হবে। ফলে পরিবর্তনের প্রভাব ওই সমাজের জন্য ভয়ানক হয়ে উঠবে না। পরিবারগুলোর জন্যও একই কথা প্রযোজ্য। পরিবারগুলোর জন্য পরিবর্তনের বিষয়ে দূরদর্শিতা, বিচক্ষণতা ও দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য। 

ডিজিটাল গণমাধ্যমগুলোকে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ পরিবারের নতুন সদস্য বলে মনে করেন। সমাজকে গতিশীল রাখতে হলে পরিবারকেও গতিশীল করার স্বার্থে পরিবারের এইসব নতুন সদস্যকেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং নতুন ও পুরাতনের চিন্তাভাবনার দ্বন্দ্বে আনতে হবে সমন্বয় বা ভারসাম্য। 

ডিজিটাল গণমাধ্যমগুলোকে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ পরিবারের নতুন সদস্য বলে মনে করেন

 

ডিজিটাল জগতের নানা সুফল ও কুফলের বিষয়ে পরিবারগুলোকে সচেতন হতে হবে। এ জন্য দায়িত্ব বর্তায় পরিবারের প্রধান তথা বাবা ও মায়ের ওপর সবচেয়ে বেশি। মাথা ব্যথার রোগ সারাতে গিয়ে যেন আমরা মাথা কেটে ফেলারই ব্যবস্থাপত্র না দেই পরিবারের সদস্যদেরকে। ইন্টারনেটের ইতিবাচক দিকগুলো যাতে আমাদের ও আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিভা আর যোগ্যতা বিকাশে ভূমিকা রাখে সেদিকেও বেশ লক্ষ্য রাখতে হবে।  এ মাধ্যমের কেবল ভয়ের দিকগুলো তুলে ধরে পরিবারকে ভীত-সন্ত্রস্ত করা ঠিক হবে না, বরং ইন্টারনেটের অপব্যবহারের পথগুলো বন্ধের জন্য নিয়ন্ত্রণ-ব্যবস্থা রাখতে হবে। অন্য কথায় ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের পথ খোলা রাখা উচিত। 

নারী ও পুরুষের বুদ্ধি, বিবেক, স্বাধীনতা ও যোগ্যতা একই প্রকৃতির। তাই তাদের মধ্যে বৈষম্য করা কখনও ঠিক নয়। পবিত্র কুরআনে এ জন্যই নারী ও পুরুষকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে: আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে বের করেছেন। তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদেরকে কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর দিয়েছেন, যাতে তোমরা অনুগ্রহ স্বীকার কর। 

পারলৌকিক পুরস্কারের ক্ষেত্রেও পবিত্র কুরআনে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা বা ভিন্ন কিছুর ব্যবস্থা দেখা যায় না। সুরা আলে ইমরানের ১৯৫ নম্বর আয়াতের একাংশে বলা হয়েছে: আমি তোমাদের কোন পরিশ্রমকারীর পরিশ্রমই বিনষ্ট করি না, তা সে পুরুষ হোক কিংবা স্ত্রী।

নারী ও পুরুষ কিংবা স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। বরং তারা পরস্পরের পূর্ণতার পরিপূরক। তাই পরিবারকে সুরক্ষার নীড় ও শান্তির নীড় তথা সুখের নীড় হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তাদের উভয়েরই দায়িত্ব রয়েছে।

সংসারকে সুখের নীড় হিসেবে গড়ে তুলতে স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে সংক্ষেপে কয়েকটি টিপস্ মনে রাখুন: স্বামী বা স্ত্রীর বিশ্বাস ভঙ্গ হয় এমন কোনো কাজ করবেন না। স্বামী বা স্ত্রীর ছোট-খাটো দোষ উপেক্ষা করুন। স্বামী বা স্ত্রীর অবর্তমানে তার দোষের কথা অন্যের কাছে প্রকাশ করবেন না। স্বামী বা স্ত্রীকে বাইরের কলুষতা থেকে রক্ষা করুন। স্বামী স্ত্রী হিসেবে পরস্পরকে সম্মান করুন এবং একে অপরের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টি প্রকাশ করুন। প্রয়োজনাতিরিক্ত ভরণ-পোষণ দাবি করা হতে বিরত থাকুন। একান্ত মুহূর্তে সপ্রতিভ থাকুন। যৌথ পরিবার হলে সবার সাথে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করুন। খুটি-নাটি সমস্যার সম্মুখীন হলে স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি ত্যাগী বা উদার হওয়ার চেষ্টা করুন। 

সুখি দাম্পত্য জীবনের সন্ধানে: 

বাহিরের লোকজনের জন্য নয় জীবনসঙ্গীর জন্য নিজেকে সাজান

জীবনসঙ্গীনীর জন্য সুন্দর একটা নাম নির্বাচন করুন

স্ত্রীর গুণের মূল্যায়ন করুন

স্ত্রীর ছোটখাটো ভুলগুলো এড়িয়ে যান

স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসুন

স্ত্রীর কৃতজ্ঞতা আদায় করুন/জীবনসঙ্গীনীকে খুশি করুন

স্ত্রীর সুযোগ-সুবিধার প্রতি লক্ষ্য রাখুন
গৃহস্থালিয় কাজে স্ত্রীকে সহযোগিতা করুন

স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম ও ভদ্রোচিত আচরণ করুন
একান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপনে স্ত্রীর ইচ্ছাকেও প্রাধান্য দিন

স্ত্রীর জন্য সামর্থ্যানুযায়ী ভরণপোষণের ব্যবস্থা করুন #

পার্সটুডে/এমএএইচ/২৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ