আগস্ট ০৩, ২০১৬ ১৪:৫৯ Asia/Dhaka

বন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে একরাশ প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আপনাদেরই চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন।

অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় আজ আপনাদের সঙ্গে রয়েছি আমরা দু’জন। আমি গাজী আব্দুর রশীদ ও আমি আখতার জাহান। শুরুতেই যথারীতি একটি হাদিস শোনাচ্ছি। ইমাম হাদি (আ.) বলেছেন, ধন-সম্পদ ও শান-শওকতের প্রতি লোভী ব্যক্তি পার্থিব জীবনে কখনো সুখের মুখ দেখতে পায় না।

মূল্যবান একটি হাদিস শুনলাম। এবার চিঠিপত্রের দিকে নজর দিচ্ছি। আসরের প্রথমেই একটি ইমেইল হাতে তুলে নিয়েছি। এটি এসেছে বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার দুর্গাপুরের পুরনো তাহিরপুর গ্রাম থেকে। আর ইমেইলটি পাঠিয়েছেন রেডিও তেহরানের পুরনো ভাই মো: সাইফুল ইসলাম থান্দার।

ক’দিন আগেই তো ভাই থান্দারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হলো। তবে তার এ সাক্ষাৎকারটি এখনো প্রচার করা হয় নি। আগামী কোনো এক আসরে প্রচার করা হবে বলে আশা করছি।রেডিও তেহরানের ফোন পেয়ে অত্যন্ত খুশি হয়ে ইমেইলটি করেছেন ভাই থান্দার। তিনি লিখেছেন, অনেক দিন থেকে আপনাদের নিয়মিত লেখা হয়ে ওঠে না, আমার পেশা গত ও পারিবারিক জীবনের কর্মব্যস্ততার জন্য। অবশ্য সব অনুষ্ঠানও শোনা হয় না, তবে বিশ্ব সংবাদ ও সংবাদ বিশ্লেষনের অনুষ্ঠান দৃষ্টিপাত বলা যায় প্রায় নিয়মিতই শুনি।

সত্যিই জীবনের ব্যস্ততা সবারই বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাও। তাই সময়ে কুলিয়ে ওঠা সম্ভব হয় না। তারপরও অনুরোধ করবো একটু সময় করে যদি মাঝে মধ্যে চিঠি লেখেন তবে সত্যিই আমরা আনন্দিত হবো। এরপর যে চিঠিটি হাতে তুলে নিয়েছি তাও এসেছে বাংলাদেশ থেকে। নওগা জেলার  চৌমহনী আটানি পাড়া গ্রাম থেকে এটি পাঠিয়েছেন ভাই মো. আব্দুল খালেক বিশ্বাস। 

তিনি  লিখেছেন, রেডিও তেহরানকে আমাদের প্রাণের বেতার কেন্দ্র বলে মনে করি। কারণ এ কেন্দ্র থেকে প্রচারিত খবরে বিশ্বের মানুষ বিশেষ করে মুসলামানদের কথা ফুটে ওটে।  এরপর তিনি ভালো লাগার অনুষ্ঠানের যে তালিকা দিয়েছেন তাতে প্রিয়জন, বিশ্ব সংবাদ এবং কথাবার্তার নাম ঠাঁই পেয়েছে।

ভাই খালেক বিশ্বাস চিঠির জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভবিষ্যতে আরো চিঠি দেবেন বলে আশা করছি। এবারে ভারত থেকে আসার একটি চিঠি। আর এটি এসেছে পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার হিজুলি গ্রাম থেকে। এটি লিখেছেন, রেডিও তেহরানের পুরনো ভাই আবু বকর আনসারী।

তিনি লিখেছেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতার কোনো সুফল কিন্তু এখনো ইরান পাচ্ছে না। এসব মোনাফেক হয়ত সরল কথাকে দুর্বলতা বলে মনে করে। তাই এদের সঙ্গে কথা বলার সময় হাতে একটা শক্ত লাঠি রাখা দরকার।

ভাই আনসারি, আপনার চিঠিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বের দ্বিমুখী আচরণের প্রতিকার করার একটি উপায় ফুটে উঠেছে। আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর আচরণে বিশ্বের সাধারণ মানুষ যে কতখানি ক্ষুব্ধ তাও উঠে এসেছে আপনার বক্তব্যে। চিঠির জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আসরের এ পর্বে ওয়েবসাইটের খবরে শ্রোতাবন্ধুরা যেসব মন্তব্য করেছেন সে দিকে নজর দেবো। বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুদের হামলা রুখে দিল ইরান- শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ৩ জুলাই। এ খবরে বলা হয়েছে, ইরানের নৌবাহিনী ইয়েমেনের কাছে বাবুল মান্দাব প্রণালীতে ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুদের একটি বড় হামলা সফলভাবে ব্যর্থ করে দিয়েছে। আর এ খবরে মন্তব্য করেছেন ভাই নাজির আহমেদ। তিনি লিখেছেন, এটাই হলো ইরান, ইসলামি বিপ্লবের প্রকৃত চরিত্রই এটি।

এ দিকে, মিয়ানমারে আবারো বৌদ্ধরা মসজিদ ধ্বংস করেছে শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ২ জুলাই। এ খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে একদল বৌদ্ধ সন্ত্রাসী একটি মসজিদ জ্বালিয়ে দিয়েছে। এইচপাকান্ত শহরের এসব চরমপন্থি বৌদ্ধ শুক্রবার মসজিদে আগুন দেয়। মসজিদে আগুন দেয়ার সময় তাদের হাতে ওয়েল্ডিং স্টিক, ছুরি এবং অন্যান্য অস্ত্র ছিল। রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র ‘দ্যা গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার’ এ খবর দিয়েছে। এ খবরে মন্তব্য করেছে মির রেজা হোসেইন শহীদ। তিনি লিখেছেন, বিশ্ব সম্প্রাদায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসা অতি জরুরি।

এ কথাটা যদি মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলো বুঝতো তবে হয়ত রোহিঙ্গা ভাই-বোনরা একটু স্বস্তির আশ্রয় পেতেন। আশা করবো সবাই এ বিষয়টা নিয়ে ভাববেন। এদিকে লেবাননের হিজবুল্লাহ বলেছে, সিরিয়ায় দায়েশের পরাজয়ের ভয়ে আছে ইসরাইল।

১ জুলাই প্রকাশিত এ খবরে বলা হয়েছে, লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন, সিরিয়ায় উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশ পরাজিত হবে সেই ভয় পাচ্ছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। তিনি আরো বলেন,কয়েকটি আরব দেশের রাজধানীতে বিক্ষোভ হওয়ার কারণেও ইসরাইল ভীত হয়ে পড়েছে। আর এ খবরে মন্তব্য করেছেন মো ঘোরী শাহ।

তিনি লিখেছেন, যদি আরবরা সঙ্ঘবদ্ধ না হতে পারে তাহলে ইসরাইলের সহযোগী একটা জংগী গোষ্টি মধ্যপ্রাচ্যে সব সময় থাকবে। কারণ, এতে ইসরাইল ও আমেরিকার স্বার্থ জড়িত। এ খবরে দ্বিতীয় মন্তব্য করেছেন মরিয়ম আহমেদ। তিনি লিখেছেন,সুন্নি ফিলিস্তিনিদের একমাত্র শুভাকাঙ্ক্ষী হল ইরান। আর সিরিয়া হল ইরানের অন্ধ সহযোগী। আর সব হল ভুয়া। ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের সমর্থন নিছক লোক দেখানো। শুধুমাত্র উহ আহ করেন। আর কিছু নয়।  ফিলিস্তিনকে  সত্যিকার অর্থে কোন দেশ সহায়তা করে? এ প্রশ্নের জবাব,একমাত্র ইরান।

সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ভাই ঘোরি শাহ। এদিকে আসরের সময় ফুরিয়ে এসেছে। এবারে বিদায় নেবো। যারা চিঠি লিখেছেন, ইমেইল করেছেন, মন্তব্য করেছেন তাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ#