আগস্ট ১৯, ২০১৬ ১৬:০১ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক, ১৯ আগস্ট শুক্রবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। আজকের আসরেও যথারীতি বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ খবর সবিস্তারে তুলে ধরা হবে।

ঢাকার দৈনিকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম:

সরকার জঙ্গিবাদকে ‘ব্যবহার’ করতে চায়: ফখরুল/প্রথম আলো

জিডিপির ৩ শতাংশই খেয়ে ফেলছে দুর্নীতি: দুদক চেয়ারম্যান/ইত্তেফাক

খুলনা-কলকাতা রেলপথ চালুর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে : ভারতীয় হাইকমিশনার /কালের কষ্ঠ

আসাম থেকে ত্রিপুরায় জ্বালানি বহনে বাংলাদেশের সড়ক ব্যবহারের অনুমতি: মানব জমিন

মুসলিম বিশ্বের সঙ্কট নিরসনে ওআইসি আলোচনার উদ্যোগ নিতে পারে : শেখ হাসিনা: নয়াদিগন্ত

কোলকাতার দৈনিকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম:

বালুচিস্তান নিয়ে বেপরোয়া হতে গিয়ে মোদী এখন ঘোর কূটনৈতিক প্যাঁচে: আনন্দবাজার পত্রিকা

টাকা দিচ্ছে না মোদি সরকার, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নামই বদলে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী: বর্তমান পত্রিকা

সরকার জঙ্গিবাদকে ‘ব্যবহার’করতে চায়- ফখরুল: প্রথম আলো

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, এটা এখন পরিষ্কার, জঙ্গিবাদকে সরকার নির্মূল করতে চায় না। সরকার জঙ্গিবাদকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করতে চায়। এ জন্য আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে জঙ্গিবাদ ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি সেখানে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ফখরুল বলেন, আজকে জঙ্গিবাদের যে দানব দেশকে গ্রাস করতে চলেছে, সেই জঙ্গিবাদকে সুষ্ঠুভাবে মোকাবিলা না করে শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ফলে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থেকে যাচ্ছে। এই বিষয়গুলোর দ্রুত অবসানকল্পে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ব্যাপারে সবাই ঐকমত্য হয়েছেন।

জিডিপির ৩ শতাংশই খেয়ে ফেলছে দুর্নীতি দুদক চেয়ারম্যানের এই বক্তব্য ইত্তেফাক তুলে ধরে লিখেছে: দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ মনে করেন সর্বগ্রাসী দুর্নীতি দেশের জিডিপি’র ২ থেকে ৩% খেয়ে ফেলছে। এছাড়া সরকারি সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও দুর্নীতির কারণেই মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দুদক একটি কৌশলপত্রের মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে চায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি মিলনায়তনে উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে দুর্নীতি দমন কমিশনের ‘‘খসড়া কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা ২০১৬-২০২১’’ এর ওপর কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

খুলনা-কলকাতা রেলপথ চালুর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে : কালের কণ্ঠ এ মর্মে লিখেছে, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত যশোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্যও এ জেলার গুরুত্ব অনেক বেশি। অসংখ্য মানুষ এ সীমান্ত দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াত করেন। এ জন্য খুলনা-কলকাতা রেলপথ দ্রুত চালুর ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকালে যশোরের রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আসাম থেকে ত্রিপুরায় জ্বালানি বহনে বাংলাদেশের সড়ক ব্যবহারের অনুমতি: মানব জমিন

ভারতীয় জ্বালানি ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের অধীন পাবলিক সেক্টর ইউনিট ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেডের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে বিভাগ একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করেছে। ১৮ই আগস্ট ঢাকায় স্বাক্ষরিত এ সমঝোতাপত্র অনুসারে আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ভারতের আসাম থেকে ত্রিপুরায় পেট্রোলিয়াম বহন করার জন্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাস্তা ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারি বর্ষার ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ আসাম-ত্রিপুরা মহাসড়ক (এনএইচ-৪৪) ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা পেট্রলিয়াম বহনের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে, বাংলাদেশের রাস্তা ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে অনুরোধ পাঠায় দেশটি। ভারত সরকারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব রাস্তা দিয়ে পেট্রোলিয়াম পণ্য বহনের অনুমতি দিয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনায় এ অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পেট্রলিয়াম বহনকারী ট্রাকগুলো মেঘালয়ের ডাউকি থেকে সিলেটের তামাবিল দিয়ে ঢুকবে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাস্তা থেকে চাতলাপুর হয়ে তা ত্রিপুরার কৈলাশ্বর পৌঁছাবে।

মুসলিম বিশ্বের সঙ্কট নিরসনে ওআইসি আলোচনার উদ্যোগ নিতে পারে : শেখ হাসিনা: নয়াদিগন্ত এই শিরোনামে লেখেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্সকে (ওআইসি) সন্ত্রাস দমনে আরো কার্যকরী ভূমিকা রাখতে মুসলিম বিশ্বের বিবাদপূর্ণ দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে সংকট নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাইরের কারো হস্তক্ষেপ ছাড়াই মুসলিম বিশ্বের বিবাদপূর্ণ দলগুলোর সংকট নিরসনে ওআইসি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আজ দুপুরে ওআইসি মহাসচিব ইয়াদ বিন আমিন মাদানি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি একথা বলেন।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের অবহিত করার সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, ‘বাইরের কোনরূপ হস্তক্ষেপ ছাড়াই মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো একত্রিত হয়ে তাদের সংকট নিরসনে আলোচনায় বসতে পারে, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং ওআইসি মহাসচিব পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও মুসলিম বিশ্বের বিবদমান বিভিন্ন সমস্যাবলী নিয়ে আলোচনা করেন।

এবারে কোলকাতার দৈনিকগুলোর দিকে নজর দেওয়া যাক।

বালুচিস্তান নিয়ে বেপরোয়া হতে গিয়ে মোদী এখন ঘোর কূটনৈতিক প্যাঁচে: আনন্দবাজার পত্রিকা। বিস্তারিত খবরে পত্রিকাটি লিখেছে: বালুচিস্তান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কিন্তু এ বার বেশ জেরবার।

১৫ অগস্ট লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর তোলা বালুচ প্রসঙ্গ এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে যে আজ খোদ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রকে স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা দিতে হল। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বললেন, অহেতুক বালুচিস্তান নিয়ে জলঘোলা করা হচ্ছে। বালুচিস্তান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, তা নতুন কোনও নীতি নয়। বালুচিস্তানে ভারতের কোনও আগ্রাসী মনোভাবও নেই। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বালুচিস্তান এবং গিলগিট থেকে বহু সংগ্রামী মানুষের অভিনন্দন বার্তা এসেছে  প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী তা সাধারণ মানুষকে জানিয়েছেন মাত্র। এক কথায়, বালুচিস্তান নিয়ে মোদী সরকার এক কদম এগিয়ে দু’কদম পিছিয়ে এল।

টাকা দিচ্ছে না মোদি সরকার, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নামই বদলে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী: বর্তমান পত্রিকা এই শিরোনামে লিখেছে:

বিভিন্ন প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার টাকার বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে। সেই ভার বইতে হচ্ছে রাজ্য সরকারকে। তাহলে কেন কেন্দ্রের দেওয়া নামে প্রকল্প চলবে? তাই রাজ্য সরকার ঠিক করেছে, কেন্দ্রের প্রকল্পগুলির নাম বদল করা হবে। যেমন, গ্রামীণ এলাকায় রাস্তা তৈরির জন্য প্রথম ইউপিএ সরকার প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (পিএমজিএসওয়াই) প্রকল্প নেয়। যার মধ্যে ৯০ শতাংশ টাকা দিত কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যকে দিতে হত ১০ শতাংশ টাকা। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রকল্পের নাম বদল করেননি, তবে বরাদ্দের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। কেন্দ্র এখন বরাদ্দ করেছে মাত্র ৬০ শতাংশ টাকা। বাকি ৪০ শতাংশ টাকা দিতে হচ্ছে রাজ্যকে। তাই রাজ্য সরকার ঠিক করেছে, ওই প্রকল্পের নাম বদল করে রাখা হবে ‘রাজ্য সড়ক যোজনা।

শুধু এই প্রকল্পেই কেন্দ্র বরাদ্দের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে তা নয়, আরও অনেক প্রকল্পেই বরাদ্দ হ্রাস করেছে। তাই টাকা যখন কম দিচ্ছে, তখন তাদের দেওয়া নাম বয়ে চলব কেন? এই যুক্তিতে নাম বদল করছে রাজ্য সরকার।

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/১৯