আগস্ট ২৬, ২০১৬ ১৬:৫৪ Asia/Dhaka

বন্ধুরা আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করছি আপনাদেরই চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন। আশা করছি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আসরের শুরুতেই যথারীতি একটি হাদিস আপনাদের শোনাবো। ইমাম জাফর সাদেক (আ.) বলেছেন, ওজু করার পর হাত-পা ও মুখ তোয়ালে দিয়ে মুছে ফেললে একটি নেকি পাওয়া যায়। আর না মুছলে পাওয়া যায় ৩০ নেকি।

হাদিসের পর এবার চিঠিপত্রের দিকে নজর দিচ্ছি। আজকের আসরের প্রথমেই যে চিঠিটি তুলে নিয়েছি তা এসেছে ভারত থেকে। পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার হিজুলি দলদলি থেকে এটি পাঠিয়েছেন রেডিও তেহরানের পুরনো শ্রোতা ভাই আবুববকর সিদ্দিক আনসারি।  এ ভাই লিখেছেন, বহু বছর ধরে রেডিও তেহরান শুনছি। তবে এখন নিয়মিত অনুষ্ঠান শোনা হয়ে ওঠে না। এরপর তিনি সকালের অনুষ্ঠান পুন: প্রচারের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তাহলে নিয়মিত অনুষ্ঠান শোনায় সুবিধা হবে।

বহলুল: ভাই আনসারি পুরনো হিসেবে আপনি জানেন এখন রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান নিয়মিত ইন্টারনেটে প্রচার হয়। এ ছাড়া, ইন্টারনেটে পুরনো অনুষ্ঠান দেয়া থাকে।

তাই যদি ইন্টারনেটে অনুষ্ঠান শোনা শুরু করতে পারেন তবে আপনার অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।  এরপর এ ভাই লিখেছেন আমেরিকা শিকারি পাখির চোখে ইরান ও ভারতের দিকে তাকিয়ে আছে। ভারত এবং ইরানের মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধন অনেক দিনের পুরনো। মাঝখানে এ বন্ধনের ক্ষেত্রে খানিটকা ময়লা জমেছিল বলে বোধ হয়। কিন্তু নরেন্দ্র মোদির ইরান সফরের মধ্য দিয়ে সে ময়লা দূর হতে শুরু করেছে।

ভাই আনসারি ঠিকই বলেছেন। আমরাও চাই ইরান ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাক। চিঠি লেখার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভবিষ্যতে আরো চিঠি দেবেন আশা করছি। এবারে বাংলাদেশ থেকে আসা একটি চিঠি।  কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থেকে এ চিঠি পাঠিয়েছেন রেডিও তেহরানের শ্রোতা ভাই মনজুরুল ইসলাম মিন্টু।

চিঠির শুরুতেই তিনি নিজের প্রিয় অনুষ্ঠানমালার একটি তালিকা দিয়েছেন। তার এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে বিশ্ব সংবাদ এবং প্রিয়জন। এর পর তালিকায় রেডিও তেহরান থেকে প্রচারিত স্বাস্থ্যকথা, রংধনু, কোরআনের আলো ও সংবাদ ভাষ্যের অনুষ্ঠান দৃষ্টিপাতের নাম দিয়েছেন।

ভাই মনজুরুল ইসলাম আরো লিখেছেন, আমি আগের একটি চিঠিতে বলেছিলাম রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠানমালায় মানুষকে সুন্দর জীবন গড়ার সহজ উপদেশ দেয়া হয়। একই কথা আজকের চিঠিতেও বলতে চাই।

বহলুল: ভাই মনজুরুল ইসলাম, আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ ভবিষ্যতে আরো চিঠি দিবেন আশা করছি।

আসরের এ পর্যায়ে ভারত থেকে আসা একটি চিঠি। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ছাতুমারা গ্রাম থেকে এটি লিখেছেন রেডিও তেহরানের পুরনো ভাই সাব্বির আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, চিঠি লেখা না লেখা নিয়ে খুবই ঝামেলার মধ্যে আছি। চিঠি লিখতে মন চায় কিন্তু লেখার ঝামেলা অনেক। অথচ ইন্টারনেটও তেমন ব্যবহার করি না যে, ইচ্ছা মতো ইমেইল করবো। তাই রেডিও তেহরানের অনেক অনুষ্ঠান বা শ্রোতাদের বক্তব্য নিয়ে মন্তব্যও দ্রুত করা হয় না। ফলে ওগুলোর আর গুরুত্ব থাকে না। কারণ এরই মধ্যে ঘটনার পট পরিবর্তন হয়ে গেছে। এটা শুধু সমস্যা নয় বরং একটি মনোকষ্ট হয়ে আছে ভাই।

বহলুল: আপনার মনো কষ্টের কারণ বুঝতে পারছি। যদি আপনি কষ্ট স্বীকার করে চিঠি লিখতেন তবে মনের কষ্ট থেকে অনেকাংশে রেহাই পেতেন।

অন্যদিকে আমরাও আপনার মতো পুরনো এক শ্রোতা ভাইয়ের মূল্যবান বক্তব্য জানতে পারতাম। আপনি মনোকষ্ট থেকে রেহাই পান এ কামনা করছি। চিঠি লেখার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই সাব্বির আহমেদ।

বহলুল: এবার ওয়েবসাইটের খবরে শ্রোতা ভাইবোনেরা যে সব মন্তব্য করেছেন সে দিকে নজর দেবো।

নর্থ-সাউথ করিডোর প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করল ইরান,রাশিয়া ও আজারবাইজান শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ৯ আগস্ট। এ খবরে বলা হয়েছে, উত্তর-দক্ষিণ ট্রানজিট করিডোর প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের মধ্যদিয়ে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে শেষ হয়েছে ত্রিদেশীয় সম্মেলন। ঐতিহাসিক এ সম্মেলনে অংশ নেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি,রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ।

ফেসবুকে রেডিও তেহরানের ফ্যানপেইজে এ খবরে কয়েকটা মন্তব্য হয়েছে। ভাই সানারুল ইসলাম লিখেছেন, ভাল  খবর। অন্যদিকে মনির হোসাইন লিখেছেন, চালিয়ে যাও আমরিকার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।

বহলুল: ঠিক বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম পরিবারের ওপর জুলুমের প্রতিবাদে সংখ্যালঘু কমিশনে স্মারকলিপি- শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ৯ আগস্ট। এ খবরের অন্যতম মন্তব্যকারী নন্দি সুফাল। তিনি লিখেছেন, ভালো প্রতিবেদন, এজন্য সাধুবাদ জানাচ্ছি।

এদিকে শাসকগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামকে তাদের উপনিবেশ হিসেবে দেখছে: সন্তু লারমা- শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ৭ আগস্ট। এ খবরে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্তু লারমা অভিযোগ করেছেন, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সই হলেও তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এখনও হয়নি। বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী এখনও পার্বত্য চট্টগ্রামকে তাদের উপনিবেশ হিসেবে দেখছে। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ থেকে আদিবাসীরা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

রেডিও তেহরানের ফ্যান পেইজ এবং ওয়েবসাইটে এ খবরে বেশ কয়েকটি মন্তব্য হয়েছে। এ সব মন্তব্যের প্রত্যেকটিই সন্ত লারমার বিরুদ্ধে গেছে। এ ছাড়া,  যে সব কথা মন্তব্যকারীরা বলেছেন তাও অত্যন্ত কঠোর। মো দুলাল হোসেন তার বক্তব্যে বলেছেন বাংলাদেশি সেনা হত্যার দায়ে সন্তু লারমার বিচার দাবি হওয়া উচিত। এ ছাড়া হলুদ  হিমু  ছদ্মনামের পাঠক এর চেয়ে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন।

বন্ধুরা এবারে আসর গুটানোর পালা। সবাই ভাল থাকবেন এবং রেডিও তেহরানের ওয়েবপেইজের খবরে নিয়মিত মন্তব্য করবেন এ কামনা করে আজ এখানেই বিদায় চাইছি।#