আগস্ট ২৯, ২০১৬ ১২:১১ Asia/Dhaka

বন্ধুরা, চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জনে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশিদ এবং সহকর্মী আকতার জাহান। আশাকরি আপনারা পরিবার পরিজন এবং পাড়া-প্রতিবেশীদের নিয়ে ভালোই আছেন। আজকের আসরের শুরুতেই আমরা প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে ছোট্ট দুটি হাদিস শোনাব। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যার কারণে তার প্রতিবেশী কষ্ট পায় সে মুসলমান নয়।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘যে পেটপুরে খেল অথচ তার প্রতিবেশী কোনো ব্যক্তি দারিদ্রের কারণে অনাহারে থাকল সে মুসলমান নয়।’

বেশ গুরুত্বপূর্ণ দুটি হাদিস শুনলাম। আমরা সবাই প্রতিবেশীদের প্রতি সদয় হব এবং তাদের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়াব এ কামনায় নজর দিচ্ছি চিঠিপত্রের দিকে।

আজকের আসরের প্রথম চিঠিটি এসেছে বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার শেখপাড়া থেকে। আর  এটি পাঠিয়েছেন রেডিও তেহরানের শ্রোতা ভাই আবদুর জাব্বার। চিঠির শুরুতেই এ শ্রোতা ভাই রেডিও তেহরানের সব কলাকুশলী এবং পার্সটুডে ডটকমের পাঠক-পাঠিকাদের প্রতি সালাম জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, চোখের সামনেই বদলে যাচ্ছে মিডিয়া। আগে রেডিও এবং টেলিভিশন আলাদা দুই মাধ্যম ছিল। কিন্তু এখন এদের মধ্যে পার্থক্য ঘুচতে বসেছে। তারপর উদাহরণ হিসেবে তিনি পার্সটুডে ডটকমের কথাই তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন:

শুধু খবর পড়া নয়, এখান থেকে খবর শোনাও যায়। আবার ভিডিওসহ খবর দেয়া হয় তাতে দেখাও যায়। দেখা ও শোনার কাজ একই সঙ্গে হচ্ছে একই জায়গা থেকে। এটি যে কেবল বেশ মজার বিষয় তাই না- শেষে হয়ত একদিন দেখব টেলিভিশন চ্যানেল বলে আর কিছু নেই। সবই ওয়েবভিত্তিক হয়ে গেছে!

আমার ধারণা হয়ত সত্যে পরিণত হতেই পারে ভাই। কিংবা সবই পাশাপাশি থাকবে।

এরপর এ ভাই অনুরোধ করেছেন, দ্বীনের নবীর জন্মদিন, দুই পবিত্র ঈদসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান আপনারা ভিডিও করে প্রচার করতে পারেন কিনা? তা হলে আমাদের উপভোগের আনন্দ শতকরা একশ ভাগ বেড়ে যাবে।

প্রস্তাবটি বেশ ভালো। তবে আপাতত কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। যে যাই হোক সুন্দর একটি প্রস্তাব দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভবিষ্যতে আরো চিঠি লিখবেন আশা করছি।  

এবারে হাতে তুলে নিচ্ছি ভারত থেকে আসা একটি চিঠি। পশ্চিমবঙ্গের, উত্তর দিনাজপুরের বাঁশথুপি থেকে এটি পাঠিয়েছেন রেডিও তেহরানের পুরোনো শ্রোতা ভাই ডা. মৌলভি মোহাম্মদ হানিফ। এ ভাই  লিখেছেন, রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠানমালা সৎ এবং ঈমানদার ব্যক্তিদের জন্য অতি কল্যাণকর। রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠানমালার মধ্যে সবচেয়ে ভালো লাগে কুরআনের আলো। এ ছাড়া, পবিত্র কুরআনের কেরাতও অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

ভাই ডা. মৌলভি মোহাম্মদ হানিফ!  সুন্দর একটি চিঠি লেখার জন্য  আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভবিষ্যতে আরো চিঠি দেবেন আশা করছি।

আসরের এ পর্যায়ে রেডিও তেহরানের ওয়েবসাইট এবং ফেসবুকের ফ্যানপেইজের খবরে যেসব মন্তব্য হয়েছে সেদিকে নজর দেব। ‘নিউইয়র্কে গুলিতে বাংলাদেশি ইমাম ও তার সহযোগী নিহত’ শিরোনামের খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ১৪ আগস্ট । এ খবরে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকায় এক বাংলাদেশি ইমাম এবং তার বাংলাদেশি সহযোগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

১৩ আগস্ট ওজোন পার্ক এলাকার আল-ফুরকান জামে মসজিদ থেকে জোহরের নামাজ শেষে হেঁটে বাসায় ফেরার পথে ইমাম ৫৫ বছর বয়সী মাওলানা আলাউদ্দিন আকঞ্জিকে মাথায় গুলি করা হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। একইভাবে গুলিতে মারাত্মক ভাবে আহত হন তার  সহযোগী ৬৪ বছর বয়সী তারা মিয়া। হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান তিনি। আর এ খবরে মন্তব্য করেছেন নিয়মিত মন্তব্যকারী  মহম্মদ ঘোরী শাহ। তিনি লিখেছেন,

ইসলাম বিশ্বে কখনোই ত্রাস সৃষ্টির কাজ করে নি।  বরং মুসলিমরা সন্ত্রাসের স্বীকার। সর্বত্রই তাদের জানমাল যেন অরক্ষিত। কিছুতেই যেন অনেকেই  মুসলমানদের  আর সহ্য করতে পারছে না। আর সমগ্র পৃথিবী টাই সিক্ত হচ্ছে আজ মুসলিমদের রক্তে। অথচ ইসলামের আদর্শ বিশ্বকে সাম্য, শান্তি ও সহিষ্ণুতা প্রদানের চেষ্টা করেই চলছে। তাহলে এই রক্তপাত কিসের ইঙ্গিত? এটা অনুধাবনে দেরী করলে মুসলিমদের জন্য সমূহ বিপদ!!

ধন্যবাদ ভাই ঘোরী শাহ। নিয়মিত মন্তব্য করা অব্যাহত রাখবেন আশা করছি।

এদিকে ‘রুশ বোমারু বিমানের ইরানি ঘাঁটি ব্যবহার: দুঃখ পেয়েছে আমেরিকা’- শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ১৭ আগস্ট।  এ খবরে বলা হয়েছে, সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলার জন্য রুশ বিমানের ইরানি ঘাঁটি ব্যবহার করাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছে আমেরিকা। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মার্ক টোনার ১৬ আগস্ট বলেছেন, এ ঘটনা দুঃখজনক হলেও বিস্ময়কর নয়।

এ খবরে ফেসবুকে রেডিও তেহরানের ফ্যান পেইজে একাধিক মন্তব্য হয়েছে। মো. বকর আলি লিখেছেন অনেক দিন পর একটা খুব সুন্দর পোস্ট পেয়েছি। আল্লাহ ইরানিদের মনের আশা পূরণ করুন।.. এলাহি আমিন। অন্যদিকে আবদুর রহমান আমেরিকাকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, এত কষ্ট কেন?

ভালোই বলেছেন ভাই আবদুর রহমান। সত্যি মার্কিনীদের মনে এত কষ্ট কেন-সে প্রশ্ন আপনার মতো অনেকেরই!

‘ফিলিস্তিনি শিশুদের শিক্ষা-বঞ্চিত করছে ইসরাইল: হামদাল্লাহ’- শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮ আগস্ট। এতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী রামি হামদাল্লাহ ইহুদিবাদী ইসরাইলের সমালোচনা করে বলেছেন, তার দেশের শিশুদেরকে শিক্ষা-বঞ্চিত করছে তেল আবিব। ইসরাইল অধিকৃত জেরুজালেম বা বায়তুল মুকাদ্দাসের উপকণ্ঠে বেদুইন গ্রামে একটি প্রাথমিক স্কুল বন্ধ করা ও ভবনটি ভেঙে দেয়ার জন্য ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ নির্দেশ জারি করার পর হামদাল্লাহ এ কথা বলেছেন।

আর ফেসবুকের ফ্যানপেইজে এ খবরে নিয়ে মন্তব্য করতে যেয়ে রংবেরং’এর ছদ্মনামে একজন লিখেছেন, ইহুদিবাদীদের দুইটি সূত্র  প্রথমত: তারা মুসলমান শিশুদেরকে বড় হয়ে মেধাসম্পন্ন হতে দেবে না, দ্বিতীয়ত: ফিলিস্তিনি মা’ দেরকে বোমা মেরে মেরে ফেলা হবে।

বন্ধুরা, আসরের সময় শেষ হয়ে আসছে। আমরা সবাই সত্যের পথে থাকব এবং ইহুদিবাদ বিরোধী সাহসী সেনা হয়ে উঠব- এ আহ্বান জানিয়ে এবং একটি গান শুনতে শুনতে বিদায় নিই আজকের আসর থেকে। #