সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৬ ১৫:২৯ Asia/Dhaka

বন্ধুরা, সালাম ও শুভেচ্ছা নিন। আশাকরি সবাই ভালো আছেন। আজও একটি হাদিস দিয়ে আসর শুরু করছি। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, সবসময় অজু অবস্থায় থাকুন। আল্লাহ আয়ু বাড়িয়ে দেবেন।

মূল্যবান হাদিস শুনলাম। এবার চিঠিপত্রের দিকে নজর দেই। আসরের প্রথমেই হাতে তুলে নিচ্ছি ভারত থেকে আসা একটি চিঠি। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জেমো বিশ্বাস পাড়া থেকে এটি পাঠিয়েছেন ভাই মুহাম্মদ সিরাজউদ্দিন টনাই। রেডিও তেহরানের অনেক পুরনো এ ভাই তার চিঠিতে লিখেছেন, অনেক বছর ধরে রেডিও তেহরান শুনছি এবং চিঠি লিখছি কিন্তু তারপরও রেডিও তেহরানকে পুরনো মনে হয় না।

হ্যা, ভাই টনাই সম্প্রতি তার কোনো একটি চিঠিতে জানিয়েছিলেন, ১৯৯৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম রেডিও তেহরানে চিঠি লিখেছিলেন তিনি। সত্যিই ভাই, অনেক দিন থেকেই আপনি রেডিও তেহরানের সঙ্গে আছেন।

বহলুল: আমাদের পুরনো শ্রোতাভাইদের অন্যতম হলেন ভাই টনাই যাদের অনুপ্রেরণা আমাদের জন্য কাজ করার টনিক। সে যাই হোক, এরপর তিনি আর কি লিখেছেন?

ভাই টনাই এর চিঠিটি বেশ সংক্ষিপ্ত। তিনি এরপর তার প্রিয় অনুষ্ঠানগুলোর একটি তালিকা দিয়েছেন যার প্রথমেই রয়েছে প্রিয়জনের নাম। এরপর কোরআনের আলো এবং বিশ্ব সংবাদের কথাও লিখেছেন তিনি। তার এ তালিকার শেষে রয়েছে স্বাস্থ্যকথার নাম।

বহলুল: ভাই টনাই, আপনার মতো পুরনো শ্রোতাদের চিঠি পেতে ভালো লাগে। তাই নিয়মিত লিখবেন আশা করছি।

মুর্শিদাবাদের শ্রোতা মুহাম্মদ শিরাজউদ্দিন টনাই’র চিঠির পর এবার এক শ্রোতার সঙ্গে কথা বলবো আমরা। জ্বি ভাই, আপনার নাম বলুন এবং পরিচয় দিন?

জ্বি ভাই হাসানি চট্রগ্রামে আপনি কি করছেন?

বহলুল: তা ভাই হাসানি রেডিও তেহরানের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কি ধরণের সে কথা কি আমাদের বলবেন?

তার মানে হলো আপনি আমাদের ওয়েব সাইট পার্সটুডে ডট কম স্ল্যাশ বিএন ভিজিট করেন এবং ফেসবুকে রেডিও তেহরানের ফ্যান পেইজ বা অফিশিয়াল পেইজের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন- তাই না?

তা ভাই রেডিও তেহরানের ওয়বসাইটটি আপনার কেমন লাগে?

বহলুল: খবর ছাড়া আর কি কি বিষয় দেখার জন্য রেডিও তেহরানের ওয়েবসাইটে  ভিজিট করেন?

ভাই হাসানি আপনি কীভাবে রেডিও তেহরানের ওয়েবসাইট ভিজিটে আগ্রহী হলেন কে কথা কি মনে আছে?

ভাই রুবেল হাসানি, এবারে রেডিও তেহরানের শ্রোতা ভাইবোনদের উদ্দেশে কিছু বলবেন কি?

এতোক্ষণ বাংলাদেশের বন্ধু রুবেল হাসানির সঙ্গে কথা বলছিলাম। এবারে আবার চিঠির দিকে নজর নিচ্ছি।  এ চিঠিটি এসেছে বাংলাদেশের পাবনা জেলার সুজানগরের খারপাড়া থেকে। আর এটি লিখেছেন, এস এম সানাউল্লাহ। তিনি লিখেছেন, রেডিও তেহরানের খবর এবং সংবাদ ভাষ্যের অনুষ্ঠান দৃষ্টিপাত খুবই ভালো লাগে। তাই বলে অন্য অনুষ্ঠানগুলো ভালো লাগে না বলে  ধরে নিলে কিন্তু মনে কষ্ট পাবো। ওগুলোও ভালো লাগে তবে তুলনা করলে কম ভালো লাগে। আর যদি ভিন্ন বেতারের সঙ্গে তুলনা কর যেতো তবে বলতাম, রেডিও তেহরানের সব অনুষ্ঠানই ভালো লাগে।

বহলুল. ভাই সানাউল্লাহ রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান  ভালো লাগার কথা চমৎকার করে বলেছেন যা শুনে আমাদের মন ভরে গেল। ভবিষ্যতে আরো চিঠি দেবেন বলে আশা রাখছি। আসরের এ পর্যায়ে ওয়েবসাইটের খবর, রেডিও তেহরানের ফেসবুকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং ফ্যান পেইজে যে সব মন্তব্য হয়ছে সে দিকে নজর দেবো।

হ্যা, এই দেখুন আমি একেবারে রেডি হয়ে বসে আছি। অসমে মুসলিমদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করার চেষ্টা চলছে: সিদ্দিক আহমেদ- শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ২৩ আগস্ট। এ খবরে বলা হয়েছে, ভারতের অসমে মুসলিমদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করার চেষ্টা চলছে এবং তাদের ওপর অত্যাচার বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী সিদ্দিক আহমেদ।  গুয়াহাটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজেপি মিত্রজোট শাসিত অসম সরকার সম্পর্কে তিনি ওই মন্তব্য করেন।

রেডিও তেহরানের ফ্যান পেইজে এ খবরে প্রথম মন্তব্য করেছেন এম জাফর পারভেজ। তিনি লিখেছেন, ঐখানে মওলানা ভাসানির মতে আরেকজন নেতা দরকার। এ ছাড়া, এ খবরে জুলফিকার আলী লিখেছেন, দ্বিতীয় শ্রেণীর মানসিক রুগীদের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কি আশা করা যায়।

বহলুল: দ্বিতীয় বক্তব্যটি বড়ই কড়া হয়েছে। তবে কঠোর আচরণের শিকার হলেই যে কেবল এ রকম বক্তব্য দিতে মানুষ বাধ্য হয় তা সহজেই অনুমান করা যায়।

এদিকে বিশ্বের ১৩ কোটি মানুষ ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল: জাতিসংঘের তথ্য- শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮ আগস্ট। এ খবরে বলা হয়েছে, নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মানবিক ত্রাণ সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বিশ্বের ১৩ কোটি মানুষ! ১৯ আগস্ট বিশ্ব মানবতা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিক বান কি মুন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন। আর এ খবরে মন্তব্য করেছেন নিয়মিত মন্তব্যকারী ভাই মোহাম্মাদ ঘোরী শাহ্। তিনি লিখেছেন,

১৩ কোটি নয় পরিসংখ্যানটা আসলে হবে এর দ্বিগুণ। এই বিশাল সংখ্যক মানুষ যে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার অভাবে ভুগছে তা নয় বরং এরা বুলেটের সামনে বুক রেখে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। এহেন পরিস্থিতি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে সৃষ্ট নয়, এই অবস্থা তৈরি করেছেন কিছু ক্ষমতাগর্বী, অহংকারী ও সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রনায়ক।

তিনি আরো লিখেছেন, দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর মানুষের রক্ত শোষনের এক নির্লজ্জ পরিকল্পনার কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে মানুষগুলো জীবন বাজী রেখে সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছে। এই অমানবিক পরিস্থিতিতেও নির্বিকার বিশ্ব সমাজ। তাহলে কি ভেবে নিতে হবে ক্ষমতার কাছে নতজানু বিশ্বমানবতা? নাহলে গরজে ওঠার দিন কবে আসবে?

দেখতে দেখতে আজকের আসরের সময়ও ফুরিয়ে এসেছে। শ্রোতাবন্ধুরা সবাই ভালো ও সুস্থ থাকুন এই কামনা করে এখানেই বিদায় চাইছি প্রিয়জনের আসর থেকে।#