অক্টোবর ১৬, ২০১৬ ০৬:২৬ Asia/Dhaka

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৬ অক্টোবর রোববারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। এরপর বাছাইকৃত কিছু খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাংলাদেশ:

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফটকে অ্যাম্বুলেন্স চাপায় দুই নারী ও এক শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এক নারী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গতকাল শনিবার সকাল সোয়া নয়টার দিকে ‘মানব সেবা’ নামের অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের চাপা দিলে এ ঘটনা ঘটে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর আজ ঢাকার অন্তত দু’টি পত্রিকা শীর্ষ শিরোনামের মর্যাদা দিয়েছে। এ খবরে দৈনিক প্রথম আলোর শিরোনাম- ‘এ কেমন অ্যাম্বুলেস সেবা!’। অন্যদিকে দৈনিক মানবজমিনের শিরোনাম- ‘মাতৃগর্ভেও বাঁচতে পারল না শিশুটি।‘’

এ ছাড়া, ঢাকার দৈনিকগুলোতে আরো যেসব খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে সেগুলোর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে-

  • চীনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: অর্থনীতিতে অফুরান সম্ভাবনা
  • 'চীনের প্রেসিডেন্টের সফরই প্রমাণ করে তারা সরকারের পাশে আছে'
  • শি জিনপিং বার্তা দিয়ে গেছেন: বিএনপি
  • বিদেশী এলেই খালেদা জিয়া নালিশ করেন : শেখ হাসিনা
  • চীন-ভারত উভয়ের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখতে হবে: সৈয়দ আশরাফ
  • নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী
  • ষাটোর্ধ্ব কৃষকদের জন্য পেনশন দাবি
  • পিয়াজ-মরিচ মুরগি-সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী

ভারত:

  • ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে ভারত-রাশিয়া ৩৯ হাজার কোটির সামরিক চুক্তি
  • আবার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হতে পারে, ইঙ্গিত সেনার
  • সীমান্ত পেরনো গ্রামে এবার আলো জ্বলল ভারতেরই বিদ্যুতে
  • কবাডি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে দুরমুশ করল ভারত
  • ‘অনাহারে বাংলা’, এ দিকে খাদ্য উৎসব, কার্নিভাল, প্রতিবাদ বামেদের

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

চীনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: অর্থনীতিতে অফুরান সম্ভাবনা- দৈনিক যুগান্তরের শীর্ষ শিরোনাম

চীনের প্রেসিডেন্টের সদ্য সমাপ্ত ঢাকা সফরে বাংলাদেশ কোন খাতে কতটুকু লাভবান হয়েছে তা নিয়ে আজ ঢাকার দৈনিকগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে। রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি অর্থনীতিবিদরা তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। এ সম্পর্কে দৈনিক যুগান্তরের শীর্ষ শিরোনামের খবরে বলা হয়েছে-

বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের নতুন সম্পর্ক অফুরান সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন মাত্রার এ সম্পর্ক শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যে সীমিত থাকবে না। কৌশলগত সম্পর্কের বিস্তৃতি ঘটবে সব ক্ষেত্রে। এজন্য দ্রুত দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। অন্যথায় কাক্সিক্ষত উন্নয়ন আসবে না। তাদের মতে, প্রায় প্রতি বছরই দেশে এডিপি বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছে। সেখানে বিশাল অংকের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন খুব সহজ হবে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিল্প-সাহিত্য, নিরাপত্তা, সবকিছুর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার বিষয় জড়িত। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে আমাদের অনেক কিছু আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল- আমাদের এই অঞ্চলের শান্তি-শৃংখলা রক্ষা। এটা আমাদের অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, আমরা যেমন চীনের সঙ্গে কাজ করছি, আবার আমরা ভারতের সঙ্গেও কাজ করছি। আমাদের সবার সঙ্গেই সম্পর্ক রাখতে হবে। সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘চীন এখন সুপার পাওয়ার। এটা আমাদের মেনে নিতে হবে। আমরা এখন পর্যন্ত দেখছি, তারা গঠনমূলক। এখানে চীনকে নিয়ে আতংকের কিছু নেই।

'চীনের প্রেসিডেন্টের সফরই প্রমাণ করে তারা সরকারের পাশে আছে'- দৈনিক ইত্তেফাক

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, 'চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরই প্রমাণ করে, চীন বর্তমান সরকারের পাশে আছে এবং উন্নয়নের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করবে।'

শনিবার ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় শ্রমিক লীগের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। শ্রমিক লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, 'বেগম খালেদা জিয়া বিদেশিদের কাছে নেতিবাচক কথা বলে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চান। চীনা রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে আসায় যখন আমরা নানা কর্মসূচি পালন করছি, তখন খালেদা জিয়া তার কাছে গিয়ে অভিযোগ করলেন- দেশে নাকি গণতন্ত্র নেই।' অভিযোগটি খালেদা জিয়ার বাতিক বলে মন্তব্য করে হানিফ বলেন, 'বিদেশির কাছে অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই- অভিযোগ করুন জনগণের কাছে। আগেও অভিযোগ করেছেন, কোনো লাভ হয়নি- ভবিষ্যতেও হবে না। যতদিন উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে, ততদিন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকবেন।

শি জিনপিং বার্তা দিয়ে গেছেন- দৈনিক মানবজমিন

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলকে গুরুত্ব না দিয়ে বিএনপি’র সঙ্গে  বৈঠক করাকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একটি ইশারা দাবি করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচিত নয় বলে সংসদের বিরোধী দলকে গুরুত্ব দেননি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এর মাধ্যমে শি জিনপিং বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটা বার্তা ও ইশারা দিয়ে গেছেন। চীন মনে করে সরকার আসে সরকার যায়, তাই জনগণই তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। চীনের প্রেসিডেন্ট এই বার্তা দিয়ে গেছেন, বাংলাদেশের যেকোনো সংকটে তারা জনগণের পাশে থাকবেন।

বিদেশী এলেই খালেদা জিয়া নালিশ করেন : শেখ হাসিনা- দৈনিক নয়াদিগন্ত

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কোনো জায়গা না পেয়ে বিদেশী অতিথি এলেই সেখানে গিয়ে তিনি নালিশ করে আসেন, গণতন্ত্র নাই। গণতন্ত্র বানান করতে জিজ্ঞাস করলে সেটাও পারবে কি না সন্দেহ আছে! গণতন্ত্র আসলে কাকে বলে সেই সংজ্ঞাটা দিতে পারবে কি না সেখানেও আমার সন্দেহ আছে।’

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দেশের বিরাজমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘বারবার এ দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে। দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার আছে বলেই আজকে মানুষ খাদ্যনিরাপত্তা পাচ্ছে, মানুষের জীবনমান উন্নত হচ্ছে, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়েছে, অবকাঠামোর উন্নতি হচ্ছে, এমনকি আমরা নিজের টাকায় পদ্মা সেতুও নির্মাণ করছি।’

চীন-ভারত উভয়ের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখতে হবে: সৈয়দ আশরাফ- দৈনিক সমকাল

দেশের উন্নয়নের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে চীন ও ভারত উভয় দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক রাখার কথা বলেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

শনিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বিদায় জানিয়ে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'আমরা যেমন চীনের সঙ্গে কাজ করছি, আবার ভারতের সঙ্গেও কাজ করছি। সবার সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক রাখতে হবে। একা আমাদের পক্ষে কোনো কিছুই সম্ভব না।'

গত তিন দশকের মধ্যে প্রথম চীনের কোনো প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরে আসেন। তার সফরকালে দুই দেশের 'সর্বাত্মক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার' সম্পর্ককে 'কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার' জায়গায় নিয়ে যেতে সম্মত হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী- দৈনিক নয়াদিগন্ত

শিক্ষমন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশান, বারিধারাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্লাট ভাড়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে। কিন্তু এমনটি আর চলতে দেয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হতে হবে একটি অখ- জমির উপর। কোন আউটার ক্যাম্পাসথাকতে পারবে না।’

শনিবার সিলেটের গোলাপগঞ্জে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী একথা বলেন। নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ই পরিচালনার সব শর্ত মানে না। আর এটা সম্ভবও না। তাই এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য একটা নতুন আইন করা হয়েছে। অনেক বাধার সম্মুখীন হওয়া স্বত্বেও সবার আন্তরিক সহযোগিতায় এই আইন পাশ হয়। তিনি বলেন, অনেকেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনিয়োগ করে ব্যবসায়িক মুনাফার স্বার্থে। এই মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে।

ষাটোর্ধ্ব কৃষকদের জন্য পেনশন দাবি- দৈনিক ইত্তেফাক

বিশ্ব খাদ্য দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা অবিলম্বে কৃষকদের জন্য পেনশন স্কিম চালু করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। তারা বলেন, 'ষাটোর্ধ্ব কৃষকদের জন্য সরকারিভাবে এই পেনশনের ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।'

বক্তারা বলেন, 'বাংলাদেশের কৃষকরা নিজেরা ভর্তুকি দিয়ে এদেশের সকল মানুষের খাদ্যের নিশ্চয়তা বিধান করেছে কিন্তু তাদের নিজেদের জীবনের কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই এখনই ষাটোর্ধ কৃষকদের জন্য সরকারীভাবে পেনশনের ব্যবস্থা করা দরকার।'

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন বারসিক কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত বিশ্ব খাদ্য দিবসের আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে কৃষকরা তাদের জীবন ও সংগ্রামের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। তারা কিভাবে বরেন্দ্র অঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চল বা হাওড় অঞ্চলে সংগ্রাম করছেন তা তুলে ধরেন। তারা তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন আর এ থেকে পরিত্রাণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বাছাই করা কয়েকটি খবর

ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে ভারত-রাশিয়া ৩৯ হাজার কোটির সামরিক চুক্তি- দৈনিক বর্তমান

রাশিয়া-চীন-পাকিস্তান পৃথক অক্ষ নির্মাণের সম্ভাবনাকে সমূলে বিনষ্ট করতে প্রাণপণ চেষ্টা করছে ভারত। অবশেষে এস ৪০০ ট্রায়াম্ফ এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র বা মিসাইল সিস্টেম আসছে ভারতে। রাশিয়ার সঙ্গে আজ ভারতের একঝাঁক বড় মাপের সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তার মধ্যে সর্ববৃহৎ ‘ডিল’ এটাই। ৩৯ হাজার কোটি টাকার এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত পাঁচটি এরকম লং রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম ক্রয় করছে যেগুলি যে কোনও ইনকামিং এয়ারক্রাফট, ফিফথ জেনারেশন ফাইটার জেট, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র পর্যন্ত ধ্বংস করতে পারে ৪০০ কিলোমিটার রেঞ্জের মধ্যে। আজ গোয়ায় ব্রিকস সম্মেলনের শুরুর দিনেই পৃথক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার বিশ্বখ্যাত কামোভ কে এ হেলিকপ্টার এদেশে নির্মাণেরও চুক্তি হয়েছে। ২০০টি রাশিয়ান হেলিকপ্টার ভারতে তৈরি হবে। সেই সঙ্গে আজই দু‌ই রাষ্ট্রনায়কের হাতে তামিলনাড়ুর কুদানকুলামের পরমাণু প্ল্যান্টের দ্বিতীয় ইউনিট সবুজ সংকেত পেল।

আবার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হতে পারে, ইঙ্গিত সেনার- দৈনিক আনন্দবাজার

এক বার সার্জিক্যাল স্ট্রাইকেই থেমে থাকবে না ভারত। দরকার হলেই আবার নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে অভিযান হবে। স্পষ্ট জানাল সেনা। সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ফুটেজ প্রকাশ নিয়ে দিন কয়েক রাজনৈতিক তরজা চলার পর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সিদ্ধান্ত নেয় যে সংসদদের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যদেরকে সেনা বিশদে জানাবে, ঠিক কী ভাবে অভিযান হয়েছিল। বিভিন্ন দলের সাংসদদের নিয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠিত হয়। তাই ওই সংসদীয় কমিটিকেই সেনাবাহিনী সার্জিক্যাল স্ট্রাইক সম্পর্কে বিশদ তথ্য দিয়েছে। সেই বৈঠকেই সেনার তরফে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে আবার হবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক।

সেনাবাহিনীর উপপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিপিন রাওয়াত সাংসদদের সামনে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের বিবরণ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রণ রেখার ও পারে বিভিন্ন লঞ্চ প্যাডে বহু জঙ্গি ভারতে অনুপ্রবেশের উদ্দেশে জড়ো হয়েছিল বলে সেনাবাহিনীর কাছে খবর ছিল। সেই খবরের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়। সেনা অভিযানে জঙ্গি পরিকাঠামোর বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাওয়াত সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যদের জানিয়েছেন।

সীমান্ত পেরনো গ্রামে এবার আলো জ্বলল ভারতেরই বিদ্যুতে- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

নামেই তাঁরা ছিলেন ভারতীয়৷ কিন্তু যাবতীয় বিষয়ে সবাই ছিলেন বাংলাদেশের উপরই নির্ভরশীল৷ এমনকী, বাংলাদেশের বিদ্যুতেই ঘরে জ্বলত আলো৷ এত বছরের ছবিটা বদলে গেল এবার৷ প্রতিশ্রুতি মতো নিজেদের রাজ্যের দেওয়া বিদ্যুতেই ঘরে জ্বলল আলো৷ দক্ষিণ দিনাজপুরের কাঁটাতারের ওপারের গ্রাম হাঁড়িপুকুর এখন এপারের আলোতে ঝলমল করছে৷

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলির ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট বরাবর বর্ডার রোড ধরলে মেরেকেটে চার কিলোমিটার দূরে রয়েছে হাঁড়িপুকুর গ্রাম৷ বেড়াহীন দুই দেশের সীমারেখা বোঝাতে রয়েছে ৭০ ফুট অন্তর দেড় ফুটের পিলার৷ অদ্ভুতভাবে দুই দেশের সীমানা নির্ধারণে হাঁড়িপুকুর গ্রামের বহু বাড়ির অর্ধেকটা রয়েছে ভারতে৷ বাকি অর্ধেকটা পড়ে গিয়েছে বাংলাদেশে৷ ফলে দুই দেশের সঙ্গেই গ্রামের ৩০০ পরিবারের ছিল অবাধ যোগাযোগ৷ ভারতীয় হলেও এতদিন গ্রামে নিজেদের দেশের বিদ্যুতের আলো পৌঁছয়নি হাঁড়িপুকুরে৷ ভৌগোলিক অবস্থানের নানা অজুহাত দেখিয়ে বাম সরকার বারবার বিদ্যুতের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছিল৷ অথচ, গ্রামের বাসিন্দাদের অন্যতম দাবিই ছিল বিদ্যুৎ৷ বাংলাদেশের বিদ্যুতেই কোনওক্রমে কাজ চলত৷নির্বাচনের সময় গ্রামে বিদ্যুতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তৃণমূল৷ সেই প্রতিশ্রুতি মেনে ইতিমধ্যেই গ্রামে পৌঁছে গিয়েছে বিদ্যুৎ৷

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৬