অক্টোবর ১৮, ২০১৬ ১৩:১৪ Asia/Dhaka

বন্ধুরা, আপনাদের অনেক অনেক সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আপনাদেরই চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন। আশা করছি সবাই ভালো আছেন। প্রতি আসরের মতো আজও আলোচনা শুরু করবো একটি হাদিস শুনিয়ে। বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) বলেছেন, পরনিন্দা ও একের কথা অপরের কাছে লাগানো থেকে দূরে থাকুন। কারণ, পরনিন্দা এমন যে, তা রোযাকেও বিনষ্ট করে আর কথা লাগানো কবর আযাবের কারণ হয়।

মূল্যবান হাদিস শুনলাম। এবারে চিঠিপত্র, ইমেইল ও কমেন্টের দিকে দৃষ্টি দেই। আসরের প্রথমেই হাতে উঠে এসেছে একটি ইমেইল। বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার বড়বাড়ির রামদাস গ্রাম থেকে এটি পাঠিয়েছেন মো. আরিফুল ইসলাম আলিফ উদ্দিন।

বহলুল:  আমি কিন্তু গতকালই মেইলটি দেখেছি। এটি একটি চমৎকার মেইল।

বহলুল ভাই আগেই ঘটনা ফাঁস করে দেবেন না। তবে হ্যাঁ স্বীকার করতে কুণ্ঠা নেই যে এটি একটি চমৎকার মেইল। তার কারণ হলো এটি একটি কবিতা। এবারে কবিতাটি পড়ে শোনাচ্ছি।

প্রেম জাগালে

 মন রাঙালে

প্রীতির পরশ দিয়ে

নয়ন জুরে

হৃদয় পুরে

তুমি এলে প্রিয়ে

স্বপ্ন দেখা

ভাগ্য রেখা

বদলে গেল তাই

রাখবো স্মরণ

জীবন মরণ

বুকের মাঠে ঠাঁই

রেডিও তেহরান

তোমাকে।

বহলুল. ভাই আরিফ আপনার কবিতাটা যে অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

হ্যা তবে একই সঙ্গে রেডিও থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠান মালা নিয়ে  মতামত দিলে আমাদের আনন্দ আরো বাড়তো। সে যাই হোক, ভবিষ্যতে আরো চিঠি দেবেন এবং মতামত জানাবেন আশা করছি। এবারে যে চিঠি হাতে তুলে নিয়েছি তা এসেছে ভারত থেকে। পশ্চিমবঙ্গের বাকুরা জেলার পিয়ারডোবার রাজপুর গ্রাম থেকে এটি লিখেছেন ভাই শফিউদ্দিন খান। তিনি লিখেছেন, রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান অনেক দিন ধরেই শুনছি। এতে মনে হয় বিপদ-বাধা ঠেলে বেঁচে থাকার প্রেরণা পাচ্ছি। সত্যি মুসলমানদের সাহস যোগানোর ক্ষেত্রে এর কোনো তুলনা হয় না।

এরপর ভাই শফিউদ্দিন তার ভালো লাগার তালিকায় বিশ্ব সংবাদের নাম লিখে মন্তব্য করেছেন রেডিও তেহরানের কোনো অনুষ্ঠানই খারাপ নয়। রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান ২৪ ঘন্টা প্রচারিত হলে আরো ভালো লাগত বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

বহলুল: অল্প কথায় অনেক কিছু বলার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই। ভবিষ্যতে আরো চিঠি দিবেন আশা করছি।  এবারে আর চিঠিপত্র নয় বরং রেডিও তেহরানের ইন্টারনেট ভিত্তিক তৎপরতার দিকে নজর দেই।

হ্যাঁ আমি তৈরি হয়ে বসে আছি। উরির ঘটনার জের ধরে বিশেষ বিমানপথ স্থাপন করছে ভারত-আফগানিস্তান! শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে, ২৬ সেপ্টেম্বর। এ খবরে বলা হয়েছে, ভারত ও আফগানিস্তান বিশেষ বিমানপথ স্থাপন করবে। পাকিস্তানকে পাশ কাটিয়ে স্থলবেষ্টিত আফগানিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রেডিও তেহরানের ফ্যান পেইজে এ খবর সম্পর্কে কিছু মন্তব্য হয়েছে। ভাই আমিরুল আলম লিখেছেন,

আফগানিস্থানের দিকে তাকালে পাকিস্থানের স্বরুপ উন্মোচন করা যায়। অন্যদিকে আজম গাওসুল লিখেছেন আফগানিস্তান একটা গারবেজ। এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা বিমান রুখে দিল ইরান শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে  ২৫ সেপ্টেম্বর। এ খবরে বলা হয়েছে, ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন গোয়েন্দা বিমান অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছে তেহরান। ইরানের খাতামুল আম্বিয়া বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটির কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফারজাদ ইসমাইলি এ খবর জানিয়েছেন।

এ খবর নিয়ে রেডিও তেহরানের ফেসবুকের ফ্যান পেইজে যে সব মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে তা থেকে বাছাই করে দু’একটা এখানে তুলে ধরছি। ভাই এজাজুল মুনশী লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমা ও জলসীমা দখল করতে হবে। ড্রোন হামলা চলুক আমেরিকার উপর। এরপর তিনি আরো লিখেছেন, বিষয়টা বুঝেছেন? ওরা আজীবন ইরানের উপর ড্রোন হামলা চালাবে, আর আপনারা শুধু প্রতিরোধ করবেন। কেন? এবার পাল্টা ড্রোন হামলা চালাতে হবে।

বহলুল: চমৎকার আকাঙ্ক্ষা ভাই। আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনে নিষ্পেষিত সবাই মিলে একজোট হলে হয়তো এটা করা সম্ভব।

এদিকে ন্যাম সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য: আশা-নিরাশার দোলাচলে বিশ্ব শান্তি- শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ১৯ সেপ্টম্বর। এ খবরে বলা হয়েছে, ভেনিজুয়েলায় সভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তরের মধ্যদিয়ে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন বা ন্যামের ১৭তম শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে। সম্মেলনে দেয়া ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি ন্যামের প্রত্যাশা ও সক্ষমতার বিষয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের কথা উল্লেখ করেছেন। আর এ খবরে মন্তব্য করেছেন মহম্মদ ঘোরী শাহ্

পুরনো এ মন্তব্যকারী লিখেছেন, বিশ্ব যে মারণাস্ত্রের থাবার সম্মুখে এসে পড়েছে এটা জাতিসংঘ উপলব্ধি না করলেও  বিষয়টা যে ন্যামের চেতনায় আঘাত করে এটা একটা ইতিবাচক অনুশীলন। আসলে বিশ্বে শান্তি বিঘ্নকারী দেশের সংখ্যা হাতে গোণা মাত্র। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দিকে তাকালেই তাদেরকে আমরা চিনতে পারব।এই সকল আগ্রাসী দেশই বিশ্বকে কৌশলে ধংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ন্যামভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে চাপিয়ে দিচ্ছে একের পর একটা যুদ্ধ।

এ পাঠক ভাই আরো লিখেছেন, এ যাবত ন্যাম কোন সম্মিলিত প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারল না। কারণটা হচ্ছে পারস্পরিক বিশ্বাসহীনতা এবং চাটুকারিতা। ন্যামের মধ্যে যদি ঐক্যের চেতনার বিকাশ ঘটত, পারস্পরিক বিশ্বাস অর্জিত হতো তাহলে অনেক আগেই সাম্রাজ্যবাদীরা শিক্ষা পেয়ে যেত। এখন শুধু আশা নিয়ে অপেক্ষা ছাড়া আর কিছু করার নেই।

বহলুল: কথাটা বেশ কঠিন তবে এর সত্যতা অস্বীকার করার কোনো অবকাশই নেই। এদিকে আসরের সময় শেষ হয়ে এসেছে।

ঠিকই বলেছেন বহলুল ভাই, হাতে আজ আর সময় নেই। এবার আসর গুটাতে হবে। শ্রোতা ভাই বোনেরা চিঠি লেখা, ইমেইল করা এবং সর্বোপরি দীর্ঘ সময় ধরে অনুষ্ঠান শোনার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

আপনাদের কাছে আমাদের একান্ত কামনা হলো,  চিঠি লেখা ও অনুষ্ঠান সম্পর্কে মতামত দেয়া অব্যাহত রাখবেন। তো শ্রোতাবন্ধুরা,  আগামী আসরে আবারো কথা বলার আশা রেখে আজ গান শুনতে শুনতে এখানেই বিদায় চাইছি।#