নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিন-খালেদাকে নাসিম
পাঠক! আমাদের নিয়মিত অনুষ্ঠান কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি। আজ ৬ নভেম্বর রোববারের কথাবার্তার আসরের শুরুতেই বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। এরপর বাছাইকৃত কিছু খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
নাসিরনগরে হামলার ঘটনায় হাইকোর্টে রিট-ইত্তেফাক
নাসিরনগর পুরুষশূন্য তাণ্ডবের নেপথ্যে ফারুক-যুগান্তর
নাসিরনগরের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি বিএনপির- প্রথম আলো
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভাপতি পদে এমপিদের থাকার বিষয়ে কাল আদেশ- নয়া দিগন্ত
নাসিরনগরে হামলার প্রতিবাদে মানবন্ধন: গ্রেপ্তার আরও ৯ জন-মানবজমিন
ক্রিকেটার শাহাদত ও তার স্ত্রী বেকসুর খালাস- কালের কণ্ঠ
'নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিন'-খালেদাকে নাসিম -বাংলাদেশে প্রতিদিন
ভারতের শিরোনাম:
শুধু দিল্লি নয়, দূষণের বিপদসীমা ছাড়িয়েছে দেশের ৯৪টি শহর - সংবাদ প্রতিদিন
পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঋণ আবার দেড় হাজার কোটি -গণশক্তি
আগামী তিনদিন বন্ধ দিল্লির সমস্ত স্কুল -আজকাল
শ্রোতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার বাংলাদেশ ও ভারতের সবচেয়ে আলোচিত কয়েকটি খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রথমে বাংলাদেশ...
নাসিরনগর এখন টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। এ সম্পর্কিত নানা খবর ছাপা হয়েছে আজকের জাতীয় এবং অনলাইন দৈনিকগুলোতে।
নাসিরনগরে হামলার প্রতিবাদে মানবন্ধন: গ্রেপ্তার আরও ৯ জন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার আইনের মাধ্যমে শাস্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা। আজ সকালে উপজেলা পরিষদের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে তারা এ দাবি জানান।এদিকে সন্দেহভাজন আরও ৯ হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নাসিরনগর থানার ওসি আবু জাফর জানান, শনিবার মধ্যরাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দুই মামলায় এ পর্যন্ত মোট ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান ওসি। ফেইসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে ১৫টি মন্দির এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের দেড় শতাধিক ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পরদিন স্থানীয় বারোয়ারি মন্দিরের পুরোহিতসহ দুই ব্যক্তি দুটি মামলা দায়ের করেন। প্রত্যেক মামলায় অজ্ঞাতনামা ১০০০ থেকে ১২০০ জনকে আসামি করা হয়।
এদিকে প্রথম আলো এ সম্পর্কিত খবরের শিরোনাম করেছে-নাসিরনগর প্রশাসনকে কঠোর হতে আহ্বান।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ১৪ দল। সেখানে হামলা রোধে প্রশাসনের যাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁদের দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার দাবিও জানায় তারা।
দৈনিকটির অন্য একটি খবরে বলা হয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে বিএনপি। সরকার জনগণকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে সরকারের পদত্যাগও চেয়েছে দলটি।
আর যুগান্তরের খবরে বলা হয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চাপের মুখে পড়েছে শাসক দল আওয়ামী লীগ। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন স্থিতিশীল ও শান্ত, ঠিক তখন এ ধরনের একটি ঘটনা সামাল দিতে না পারার ব্যর্থতা নিয়ে সরকারি দলের ভেতর-বাইরে নানামুখী সমালোচনা হচ্ছে।
নাসিরনগরে হামলার ঘটনায় হাইকোর্টে রিট-ইত্তেফাক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এই মর্মে রুল জারির নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিট আবেদনে নাসিরনগরসহ সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
রবিবার সকালে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইন ও শালিস কেন্দ্রের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না এ রিট আবেদন দায়ের করেন।
তাণ্ডবের নেপথ্যে ফারুক: আরও ৩৩ জন গ্রেফতার * আবারও এক ঘরে আগুন * এবার মসজিদে রাখা হল মূর্তি-যুগান্তর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে শুক্রবার রাতে বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৩ জনকে। এরপর থেকেই এলাকায় বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। গ্রেফতার এড়াতে বাড়িঘর ছেড়েছেন পুরুষরা।
শুক্রবার ৫ বাড়িতে আগুন দেয়ার পর নাসিরনগরে বাড়ানো হয় নিরাপত্তা। একদিকে আইনশৃংখলা বাহিনীর বজ আঁটুনি, অন্যদিকে গ্রেফতার আতংক- এরই মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় আরেক বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঘটেছে উসকানিমূলক বিপরীত ঘটনাও। এক মসজিদের ভেতরে কে বা কারা রেখে গেছে লক্ষ্মী মূর্তি।
পাঁচ বাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় মামলা হয়েছে। এদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক তার সমর্থক তিন নেতাকে বহিষ্কারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। প্রতিক্রিয়া জানাতে আজ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন তিনি। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোয়াজ্জেম আহমেদের পদত্যাগ চেয়েছে। সেই সঙ্গে তাকেও তদন্তের আওতায় আনার দাবি তুলেছে তারা।
রোববার নাসিরনগরে ১৫ মন্দির ও শতাধিক বাড়িতে তাণ্ডব চালায় দুর্বৃত্তরা। অগ্নিসংযোগ করে। ফেসবুক ঘেঁটে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই দিন উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন হরিণবেড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ফারুক আহমেদ। রসরাজের ফেসবুক আইডিতে ধর্মীয় অবমাননার ব্যঙ্গচিত্র আপলোড হওয়ার পর ফারুকই তা শেয়ার দিয়ে ফেসবুকে প্রতিবাদের ডাক দেন। অনেকেই মনে করেন, ফারুক ওই ব্যঙ্গচিত্র আপলোডের সঙ্গেও যুক্ত। রাজনৈতিক ও স্থানীয় বিলে আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্বে পানি ঘোলা করে ফায়দা লোটার জন্য এমনটি করা হয়েছে। শুক্রবার যে তিন নেতাকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ, ফারুক তাদের একজন।
পুলিশের এক সূত্র জানায়, ভিডিও ফুটেজ দেখে এবং বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শুক্রবার ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে নাসিরনগর থানার ওসি (তদন্ত) শওকত হোসেন বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের ৭ দিনের রিমান্ডে আনার আবেদন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এ নিয়ে ৪৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা অপরাধীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান শুরু করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।’ এক প্রশ্নের উত্তরে ডিআইজি বলেন, পত্র-পত্রিকায় যেসব নেতার নাম এসেছে তাদের ব্যাপারে তদন্ত চলছে। দোষী প্রমাণ হলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, ৭ কার্যদিবসের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার চেষ্টা চলছে।
শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অঞ্জন কুমার দেবের বাড়ির পাটশলার গুদামে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে যান।
হঠাৎ কেন এই হামলা-হিন্দুদের বাড়িঘর মন্দিরে ভাঙচুর আগুনের পেছনে কারা-বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
দেশে হঠাৎ কেন মন্দিরে হামলা— ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের পর একে একে আরও বেশ কয়েকটি জেলার মন্দিরে হামলার ঘটনায় এমন প্রশ্ন এখন সর্বমহলে। দেশের বিশিষ্টজনরা এই হামলাকে উগ্র মৌলবাদীদের কাজ বলে মনে করেন। আবার অনেকেই এ হামলাকে সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের নতুন সংস্করণ বলে মনে করছেন। কেউ কেউ বলছেন, দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। হামলার মাধ্যমে হিন্দু এবং মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আকস্মিক মন্দিরে মন্দিরে হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। তারা এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে প্রায় ১৫টি মন্দির ও ৬০-৭০টি হিন্দু বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটে। গত ৩০ অক্টোবর ইংল্যান্ডকে টেস্ট ম্যাচে হারানোর পর সারা দেশ যখন আনন্দে ভাসছিল, ঠিক তখনই নাসিরনগরের এই মন্দির ভাঙচুরের খবর ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। মন্দির ভাঙচুর এক স্থানেই আর সীমাবদ্ধ থাকেনি। তড়িৎ গতিতে আরও বেশ কয়েকটি জেলায় একই ঘটনা ঘটতে থাকে। হামলাকারীদের বিচার দাবিতে সারা দেশে সোচ্চার হয় মানুষ। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন রাজপথে নামে। সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে তারা। সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগ দেয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তারাও বিচারের দাবিতে সোচ্চার। কিন্তু কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই ঘটনার পাঁচ দিন পর আবারও নাসিরনগরে আগুন দেওয়া হয় হিন্দুদের বাড়িতে। এসব ঘটনা নিয়ে রাজপথে তোপের মুখে পড়েন সরকারদলীয় এক নেতা। পদত্যাগ দাবি করা হয় এক মন্ত্রীর। যোগাযোগ করা হলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ বলেছেন, নাসিরনগরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘুদের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে তা মূলত মৌলবাদী আক্রমণ। বর্তমানে মৌলবাদীরা সাংগঠনিকভাবে দুর্বল। তাই তারা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এমন হামলা করছে। এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে বিশ্বের কাছে যে ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে তা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ করতে মৌলবাদীরা এই হামলা করছে। কেননা উন্নয়নের সঙ্গে নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তারা কালিমা লেপে দিতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলার বিষয়ে প্রশাসনের প্রস্তুত থাকা উচিত ছিল। প্রশাসনের দুর্বল মানসিকতাও এসবের জন্য দায়ী। কেননা প্রশাসন যখন সমাবেশ করার অনুমতি দিল তখন তাদের প্রস্তুতির বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত ছিল। অন্যদিকে স্থানীয় এমপিরাও এসব বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। এ ছাড়া হামলার পেছনে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, ভূমি দখলসহ নানা বিষয়কে পুঁজি করে মৌলবাদীরা এসব করছে। এ ধরনের হামলা প্রতিহত করার বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোরভাবে এসব দমন করতে হবে। স্থানীয় রাজনীতিবিদরাও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে তাদের নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করে কাজে লাগাতে পারেন। এ ছাড়া সাধারণ মানুষ এমন হামলাকে পছন্দ করে না তারাও বন্ধন সৃষ্টি করতে ভূমিকা রাখবে। মানবাধিকার কর্মী ও নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশি কবীর এই হামলার পেছনে উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী জড়িত বলে মনে করেন। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. ছায়েদুল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের হামলা নিয়ে যে ধরনের অপ্রীতিকর বক্তব্য দিয়েছেন তা সহিংসতাকে আরও বেশি উসকে দিয়েছে।
মন্ত্রীসহ জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি : সনাতনী সম্প্র্রদায়ের প্রতি আপত্তিজনক মন্তব্য এবং রহস্যজনক তত্পরতার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রামের নেতারা।
মন্দির ঘটনায় আওয়ামী লীগই জড়িত : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, বাড়িঘর ভাঙচুরসহ অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছে বিএনপি। ওই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নাসিরনগরের ঘটনায় আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় নেতাদের শাস্তি দিয়ে প্রমাণ করেছে, তারাই এর সংগে জড়িত। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নিজেদের স্বরূপ জনসমক্ষে উন্মোচিত করায় ধন্যবাদও জানিয়েছে দলটি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গতকাল সকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর হাফিজউদ্দিন আহমদ (অব.) এই দাবি করেন। সরকার জনগণকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে সরকারের পদত্যাগও চেয়েছেন তিনি। এ সময় বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, আবদুল আউয়াল খান, অ্যাডভোকেট ফাহিমা মুন্নী, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মেজর হাফিজ বলেন, ‘আওয়ামী লী?গের তিন নেতাকে বহিষ্কারের মাধ্যমে বর্বর এ হামলায় কারা জড়িত তা উন্মোচিত হয়েছে। দেশবাসীর কাছে বিষয়টি দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়েছে। আওয়ামী লীগ সেখানে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করে রেখেছে। আমরা চাই, যেসব লোক হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেছে তাদেরও এক?টি তা?লিকা করে তাদের বিচার করা হোক।’ তবে ঘটনায় জড়িতদের স্বরূপ উন্মোচিত করায় বর্তমান ‘অনির্বাচিত’ সরকারকেও ধন্যবাদ জানান বিএনপির এই নেতা।
অনুমতি না পেলেও সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি-ইত্তেফাক
বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৮ নভেম্বর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’ এ কথা উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘এটি জাতীয় দিবস। বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। জনসমাবেশ সফল করতে বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠন পুরোদমে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।’
রিজভী বলেন, ‘৮ নভেম্বরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নেক্কারজনক খেলায় মেতে উঠেছে সরকার। সোহরাওয়ার্দীতে অনুমতি না পাওয়ায় নয়াপল্টনে অনুমতি চেয়েছি। সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের অনুমতি কেন দেয়া হয়নি জানতে পারিনি। নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছি সেটাও মিডিয়ার সামনে দেখিয়েছি। সিল সাপ্পরসহ। তবে পুলিশের ভিভ্রান্তিমূলক কথা জনগণকে হতবাক করেছে।’
তিনি বলেন, ‘৪০ বছর ধরে বিএনপি এ কর্মসূচি পালন করছে। প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার কারণে সরকার এবারই প্রথম বাধা দিচ্ছে। এখনো আশা করি ৮ নভেম্বর অনুমতি পাওয়া যাবে।
নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিন-বাংলাদেশ প্রতিদিন
শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কথার জবাবে আজ রবিবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য
প্রস্তুতির আহবান জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, "আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ভয় পায় না। আওয়ামী লীগ জনগণকে সাথে নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। আওয়ামী লীগ কি ভয় পাওয়ার দল। ভয় আপনাদেরই পেতে হবে। এসব বাদ দিয়ে আগামী নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিন।"
কুনিও হত্যার আসামিদের প্রশিক্ষকসহ ৪ জেএমবি গ্রেফতার-ইত্তেফাক
রংপুরে জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এদের মধ্যে একজন জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যার আসামিদের প্রশিক্ষক।
শনিবার ভোর রাতে রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের শাহাবাজপুরে এসএমবি নামের একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।এসময় তাদের কাছ থেকে একটি দেশি পিস্তল, দুইটি চাপাতি একটি চাইনিজ কুড়াল ও চারটি ককটেল উদ্ধার করা হয়।
ক্রিকেটার শাহাদত ও তার স্ত্রী বেকসুর খালাস-কালের কণ্ঠ
গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় ক্রিকেটার শাহাদত হোসেন এবং তার স্ত্রী জেসমিন জাহানকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তানজিনা ইসমাঈল এ রায় দেন। গৃহকর্মী মাহফুজা আক্তার হ্যাপিকে নির্যাতনের অভিযোগে ওই দুজনের বিরুদ্ধে গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন খন্দকার মোজাম্মেল হক।এর আগে ক্রিকেটার শাহাদত দম্পতির বিরুদ্ধে গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে গৃহকর্মী মাহফুজা আক্তার হ্যাপি বলেছে, তাকে কেউ নির্যাতন করে নাই, বরং সে পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছিল। পরে অন্যদের পরামর্শে সে মামলা করে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভাপতি পদে এমপিদের থাকার বিষয়ে কাল আদেশ-নয়া দিগন্ত
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালন এবং গভর্নিং বডির বিশেষ কমিটির বিধান অবৈধ বলে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে।
আজ রোববার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি শেষে আদেশের জন্য ৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।
শ্রোতাবন্ধুরা ! ভারতের বাংলা দৈনিকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ খবরের অংশ বিশেষ তুলে ধরছি।
পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঋণ আবার দেড় হাজার কোটি-গণশক্তি
বাজার থেকে আবার দেড় হাজার কোটি টাকা ধার নিচ্ছে রাজ্য সরকার।
ছুটির সঙ্গে উৎসবে মাতিয়ে রেখে রাজ্যকে ঋণজালে জড়িয়ে ফেলেছে মমতা ব্যানার্জির সরকার।
গত ১০ই অক্টোবর দেড় হাজার কোটি টাকা ধার করেছিল মমতা ব্যানার্জির সরকার। তার একমাসের মধ্যেই ফের বাজারের কাছে হাত পাততে চলছে রাজ্য সরকার। এবার ৮ই নভেম্বর ফের ধার করছে সরকার। এবারও দেড় হাজার কোটি টাকা।
আগামী তিনদিন বন্ধ দিল্লির সমস্ত স্কুল-আজকাল
বায়ুদূষণে ব্যতিব্যস্ত দিল্লি। রবিবার সকাল থেকে দৃশ্যমানতা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০০ মিটার। তাই আগামী তিনদিন দিল্লির সমস্ত স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিবার মন্ত্রীসভার বৈঠকের পর একথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এছাড়া দূষণের হাত থেকে মুক্তি পেতে চীনের মতো কৃত্রিম বৃষ্টির সাহায্য নেওয়া হতে পারেও বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি প্রয়োজন। পাশাপাশি রাজনীতি না করে সমস্যা মেটাতে কেন্দ্রীয় সরকারকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে বলেছেন তিনি। এদিন যন্তরমন্তরে প্রায় কয়েকশো লোক এমনকী শিশুরাও বায়ুদূষণের মোকাবিলায় সরকার যাতে এগিয়ে আসে, সেজন্য বিক্ষোভ দেখিয়েছে।
শুধু দিল্লি নয়, দূষণের বিপদসীমা ছাড়িয়েছে দেশের ৯৪টি শহর-সংবাদ প্রতিদিন
একা দিল্লি নয়, বিপদের মুখে প্রায় গোটা ভারত৷ এমনটাই জানা গিয়েছে কেন্দ্রীয় দুষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (CPCB) সূত্রে৷ হালফিলে রাজধানী ‘গ্যাস চেম্বার’-এ পরিণত হওয়ায় টনক নড়েছে প্রশাসনের৷ এদিকে দূষণের মাত্রায় বিপজ্জনক অবস্থানের রয়েছে দেশের প্রায় ৯৪টি শহর। সিপিসিবি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১১ সাল থেকে এই ৯৪টি শহরের একটিও দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি৷ বেশ কিছু শহরের নাকি ১৯৯০ সাল থেকে এই অবস্থা৷#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৬