প্রিয়জন : "ইরান থেকে প্রচারিত রেডিও তেহরানের খবর আমাদের খুবই ভাল লাগে"
বন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে একরাশ প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আপনাদেরই চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন। আশা করছি সবাই ভালো আছেন। প্রথমেই চিঠিপত্র ও ইমেইলের দিকে নজর দিচ্ছি।
আজকের আসরে প্রথমেই একটি ইমেইল হাতে নিয়েছি। এটি কোথা থেকে পাঠানো হয়েছে তা উল্লেখ করা হয় নি। তবে এটি পাঠিয়েছেন রেডিও তেহরানের শ্রোতা ভাই আতিক উল্লাহ। তিনি লিখেছেন, জুলুম-জালিম ও ব্যাভিচারের বিরোধী,সত্য ও ন্যায়পরায়ণ পথের দিক-নির্দেশক এবং বিভেদহীন পৃথিবীর স্বপ্নদ্রষ্টা একমাত্র রাষ্ট্র ইরান। সেই ইরান থেকে প্রচারিত রেডিও তেহরানের খবর আমাদের খুবই ভাল লাগে। আশাকরি ভবিষ্যতে রেডিও তেহরান আরো সুন্দর খবর প্রচার করবে।
বহলুল: ভাই আতিকুল্লাহ, অবশ্যই। রেডিও তেহরান আপনার আশা পূরণে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাবে।
একই সাথে আপনিও চিঠি লেখা অব্যাহত রাখবেন স্বাভাবিকভাবেই এ প্রত্যাশা আমরা করবো, ভাই আতিকউল্লাহ। এবারে ভারত থেকে আসা একটি চিঠি হাতে তুলে নিয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের বাঁশথুপি গ্রাম থেকে এটি লিখেছেন, রেডিও তেহরানের পুরনো শ্রোতা ভাই ডা. মৌলভি মো হানিফ। রেডিও তেহরানের সবাইকে আন্তরিক সালাম দিয়ে বিদগ্ধ এ শ্রোতা ভাই লিখেছেন, শুনেছি তেহরানে প্রচণ্ড গরম পড়ে। আমার চিঠি যখন আপনাদের হাতে পৌঁছাবে তখন কি গরম কাল না শীতকাল চলছে?
না ভাই, এখন গরমকাল নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের মতো ইরানেও এখন শীতকাল চলছে। তবে ইরানে ভারত বা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি শীত পড়ে। প্রচণ্ড শীতে এখানে বরফও পড়ে। অন্যদিকে গরমকালে গরমও পড়ে প্রচণ্ড। অর্থাৎ ইরানে শীত ও গ্রীষ্ম দুটিই বেশ তীব্র। তবে বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে বসন্তকে ইরানের সবচেয়ে সুন্দর ঋতু বলে মনে হবে।
ভাই ডা. আবদুল হামিদের চিঠি এখনো শেষ হয় নি, তিনি আরো লিখেছেন, বাংলাদেশের মানুষ ডাল-ভাত-মাছ খেয়ে অভ্যস্ত। ইরানে কি এ সব পাওয়া যায়?
বহলুল: সত্যি বলতে কি ডাল-ভাত-মাছ পাওয়া যায়। তবে বাংলাদেশের সব মাছ পাওয়া যায় না। বিশেষ করে সুস্বাদু গুড়ামাছ এখানে পাওয়া যায় না।
আর তরিতরকারি বা শাক সবজির মধ্যে আলু, ফুলকপি, বাধাকপি, পালংশাক, গাজর, মিস্টি কুমড়া ও লাউ পাওয়া যায়। ইরানে মসুর ডাল পাওয়া যায়। তবে বাঙালিরা যে পদ্ধতিতে ডাল রান্না করে সে পদ্ধতির সঙ্গে ইরানিরা মোটেও অভ্যস্ত নয়। মাছ খাওয়ার পদ্ধতিতেও রয়েছে বিস্তর তফাত। সে যাই হোক, চিঠি লেখার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভবিষ্যতে আরো চিঠি দেবেন বলে আশা করছি।
ঝিনাইদহের ব্রাদারহুড রেডিও লিসেনার্স ক্লাব থেকে এবারের চিঠিটি লিখেছেন রেডিও তেহরানের পুরনো শ্রোতা ভাই সাজ্জাদ হোসাইন রিজু। তিনি লিখেছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুরই পরিবর্তন হয়। রেডিও তেহরানের প্রধান পরিবর্তন বোধ হয়- শ্রোতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি।
বহলুল: অর্থাৎ যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক প্রসারের মধ্য দিয়ে এটি সম্ভব হয়েছে।
হ্যাঁ, প্রিয়জনের আসরেও হয়ত তার প্রভাব আপনারা লক্ষ্য করেছেন। এখন চিঠিপত্র ও ইমেইলের পাশাপাশি ফেসবুক বা ওয়েবসাইটের খবরে যে সব মন্তব্য হচ্ছে তাও প্রিয়জনের আসরে তুলে আনা হচ্ছে। আর ভাই রিজুর চিঠির সূত্র ধরে এবারে ওয়েবপেইজ এবং ফেসবুকের খবরে পাঠক শ্রোতা ভাই বোনেরা যে সব মন্তব্য করেছেন সেদিকে নজর দেবো। ইরান সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অভিযোগ- শিরোনামের খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ৪ ফেব্রুয়ারি। এ খবরে বলা হয়েছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পরপরই তিনি এ কথা বললেন।
রেডিও তেহরানের ফেসবুক গ্রুপে বহুল আলোচিত খবরগুলোর অন্যতম এটি। এ খবরে মন্তব্য করতে গিয়ে কামাল আহমেদ লিখেছেন, চোরের মায়ের বড় গলা। আর ভুতের মুখে রাম নাম বলেছেন গোলাম মোহাম্মদ। মানসুর ঘোরি লিখেছেন, যারা সারা বিশ্বে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে তাদের চোখে শুধু মুসলিম দেশগুলোই সন্ত্রাসী।
এদিকে সেলিম আল সাইদ আমেরিকার এমন আচরণের কারণ সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, মূলত,ইরানের ঈর্ষণীয় অগ্রগতিই মার্কিনীদের মাথা ব্যথার কারণ। এজন্যই তারা অসংলগ্ন কথবার্তা বলছে। তবে ধ্রুব সত্য এটাই, ইরান বিশ্ব দরবারে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে,আর সেই মস্তক তাদের অন্যায় আবদারের কাছে অনমনীয়।
বহলুল: মানুষ যে বোকা নয় বা ঘুমিয়ে কাটায় না এ কথাই মনে হবে এ সব মন্তব্য পড়ে বা শুনে।
তা যা বলেছেন বহলুল ভাই। এদিকে 'হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহত হতে পারে লাখ লাখ ইসরাইলি' শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ৩ ফেব্রুয়ারি। এ খবরে বলা হয়েছে, দখলদার ইসরাইলের মন্ত্রিসভার এক সামরিক উপদেষ্টা বলেছেন, লেবাননের হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হাইফা বন্দর নগরীতে আঘাত হানলে হামলার প্রথম মুহূর্তেই অন্তত ২০ হাজার ইসরাইলি নিহত এবং লাখ লাখ ইসরাইলি আহত হতে পারে।
রেডিও তেহরানের ফেসবুক গ্রুপে খবরটি যে বেশ আলোড়ন তুলেছে তা বোধহয় সবাই বুঝতে পেরেছেন। এর মধ্যে ভাই মোঃ সাকিব চৌধুরীর বক্তব্যকে প্রতিনিধিত্বশীল মনে হয়েছে। তিনি লিখেছেন, ইহুদিবাদী নাস্তিকদের ধ্বংস করা হোক। আর, ইসলাম প্রিয় ফিলিস্তানকে মুক্তি করে দাও হে আল্লাহ।
বহলুল: বিশ্বের মজলুম মানুষদের অন্তরের দোয়া আপনার মুখ দিয়ে বের হয়েছে ভাই সাকিব। এজন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। এদিকে মনে হয় আসরের সময় শেষ হয়ে এসেছে।
একেবারে সঠিক সময়ে এসে আসর শেষ করার কথা মনে করিয়ে দিলেন বহুলুল ভাই। সত্যি আজ হাতে আর সময় নেই। আসরে এতোক্ষণ সঙ্গ দেয়ার জন্য বন্ধুদের সবাইকে আবারও বুকভরা শুভেচ্ছা জানিয়ে এবার গানে গানে প্রিয়জনের আসর থেকে বিদায় চাইছি।#