জুলাই ১৩, ২০১৭ ০৬:৪৬ Asia/Dhaka

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৩ জুলাই বৃহস্পতিবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছি: প্রধানমন্ত্রী: দৈনিক যুগান্তর
  • পানিতে দিশেহারা নগরবাসী- প্রথম আলোর শীর্ষ শিরোনাম
  • জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে রাজধানীবাসী- ইত্তেফাকের শীর্ষ শিরোনাম
  • ১৩ জেলার মানুষ পানিবন্দি: ত্রাণের জন্য হাহাকার- যুগান্তরের শীর্ষ শিরোনাম
  • বন্যায় বাড়ছে দুর্ভোগ, উত্তরে অবনতি: মানুষের আহাজারি- মানবজমিনের শীর্ষ শিরোনাম
  • ৭০ ভাগ ছাদ বাগানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বিস্তার-দৈনিক ইত্তেফাক
  • অবশেষে লন্ডনে গেলেন ইলিয়াস আলীর স্ত্রী লুনা- দৈনিক সমকাল
  • সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের খুব বেশি টাকা নেই : অর্থমন্ত্রী- দৈনিক নয়াদিগন্ত

ভারতের শিরোনাম:

  • অমরনাথ নিয়ে চুপ চিন ও পাকিস্তান- দৈনিক আনন্দবাজার
  • কাশ্মীরে হামলা চালাতে হিজবুলকে রাসায়নিক অস্ত্র জোগাচ্ছে পাকিস্তান- দৈনিক আজকাল
  • সেনাকে অস্ত্রশস্ত্র কিনতে অনুমোদন- দৈনিক আজকাল

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছি: প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক যুগান্তর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার জীবনে কোনো চাওয়া-পাওয়া কিংবা আকাঙ্ক্ষা নেই। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছি। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য জীবন দিয়ে গেছেন। বাবার আকাঙ্ক্ষা পূরণই আমার লক্ষ্য। শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের জন্য কিছু করার সুযোগ পেয়েছি, মানুষের সেবা করতে পারছি- এটিই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।

পানিতে দিশেহারা নগরবাসী- প্রথম আলোর শীর্ষ শিরোনাম

রাতের ভারী বর্ষণে রাজধানীর অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। সকালে রাস্তায় নেমেই ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীসহ নগরবাসীকে। ছবিটি গতকাল ধানমন্ডি ২৭ নম্বর থেকে তোলা 

উন্নয়নকাজের জন্য রাস্তা কেটে রাখা, সংস্কারের অভাবে সড়কে খানাখন্দ আর পরিকল্পিত নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে জলাবদ্ধতা—এই তিন কারণ রাজধানী ঢাকাকে গতিহীন করে দিয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকাবাসী এই তিনের সমন্বয়ে ভোগান্তির চরম রূপ দেখেছে। গাবতলী থেকে আজিমপুর, মিরপুর থেকে গুলিস্তান কিংবা উত্তরা থেকে যাত্রাবাড়ী—সব পথই হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। রাস্তায় নেমে অসহায় নগরবাসী দিশেহারা বোধ করেছে।

বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল কর্তৃপক্ষ গতকাল সকালে অভিভাবকদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে জানায়, ভারী বৃষ্টির কারণে গতকালের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ।

একই পরিস্থিতি ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলে। তারা খুদে বার্তা পাঠিয়ে গতকালের পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানিয়েছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল কম। কর্মজীবীদের পানিতে হেঁটে, ভেঙে ভেঙে যানবাহনে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। প্রথম আলোর তিনজন প্রতিবেদক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক ঘুরে অনেক বাস-অটোরিকশা বিকল হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেছেন। যাত্রীসহ রিকশা উল্টে যাওয়ার করুণ দৃশ্যও চোখে পড়েছে।

জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে রাজধানীবাসী- ইত্তেফাকের শীর্ষ শিরোনাম

গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নাকাল রাজধানীর লাখ লাখ মানুষ। গলি থেকে রাজপথের অধিকাংশই তলিয়ে গেছে বৃষ্টির পানিতে। বৃষ্টির পানির কারণে অনেক স্থানে যানজটেরও সৃষ্টি হয়। এতে করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রী ও পথচারীদের। অনেক স্থানে ১০ ঘণ্টা পরও বৃষ্টির পানি সরেনি। ফলে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। এতে করে মানুষের দুর্গতি বেড়েছে।

জলাবদ্ধতার জন্য ভুক্তভোগীরা ঢাকা ওয়াসা ও দুই সিটি করপোরেশনকে দায়ী করেছেন। তাদের অভিযোগ, এই তিনটি সংস্থা নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা ব্যয় করলেও জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে নগরবাসীর কিছুতেই যেন মুক্তি মিলছে না। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশন বা ঢাকা ওয়াসার কার্যকর কোনো উদ্যোগও চোখে পড়ছে না।

এই বিপর্যয়ের জন্য অপরিকল্পিত ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নগরীর খালগুলো বেদখল হওয়াকে দায়ী করেছেন নগরবিদরা। এ ছাড়া স্থানীয় লোকজন অতিমাত্রায় খোঁড়াখুঁড়ি, খানাখন্দে ভরা রাস্তা ও ফুটপাতের অব্যবস্থাপনার কথাও উল্লেখ করেছেন। এছাড়া বৃষ্টির পানি সেচের জন্য ঢাকা ওয়াসার প্রায় ২৫০টি পাম্প রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ সময়েই এই পাম্পগুলো অকেজো থাকে। কারণে বৃষ্টির পানি যথাসময়ে অপসারণ করা সম্ভব হয় না। ফলে অতিরিক্ত পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

১৩ জেলার মানুষ পানিবন্দি: ত্রাণের জন্য হাহাকার- যুগান্তরের শীর্ষ শিরোনাম

ত্রাণের জন্য হাহাকারগাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুরের চর এলাকায় পানিতে নেমে ত্রাণের অপেক্ষায় অসহায় বানভাসি মানুষ। -যুগান্তর

বন্যায় দেশের ১৩ জেলার ৪৫টি উপজেলায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি। যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কুশিয়ারা, ধরলা, ঘাঘটসহ ৮ নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধাসহ বন্যার্ত ৯ জেলায় খাবার, সুপেয় পানি ও ওষুধের জন্য হাহাকার চলছে।

এর মধ্যে কয়েকটি জেলায় ৩ থেকে ৫ দিনেও কেউ সরকারি ত্রাণের দেখা পাননি। যেখানে পৌঁছেছে, সেখানেও চাহিদার তুলনায় পরিমাণ অপ্রতুল। সামান্য পরিমাণে ত্রাণের চাল পেলেও তা চারদিক পানিতে ডুবে যাওয়ায় রান্না করার মতো শুকনো স্থান নেই। ফলে অনেকেরই অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে।

ক্ষুধার জ্বালায় অস্থির দুর্গত মানুষ ত্রাণের নৌকা দেখলেই পানি ভেঙে এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু পরিমাণ অল্প হওয়ায় সবার হাতে পৌঁছায় না খাদ্যসামগ্রী। ফলে অনেকেই ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসছেন শূন্য হাতে।

বন্যায় বাড়ছে দুর্ভোগ, উত্তরে অবনতি: মানুষের আহাজারি- মানবজমিনের শীর্ষ শিরোনাম

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর এলাকায় পানিবন্দি মরিয়ম বেগম ভেলায় রান্না করছেন 

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে। প্রধান নদনদীর পানি বাড়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে বন্যার পানিতে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। ত্রাণের জন্য হাহাকার চলছে বানভাসি মানুষের। বন্যাকবলিত এলাকায় পশুখাদ্যেরও সংকট দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র গতকাল জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলের ৮টি নদনদীর ৯০টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৬৩ স্টেশনে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ১২টি স্টেশনে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার যমুনা নদীর বাহাদুরাবাদ স্টেশনে পানি বিপদসীমার ৬৪ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বুধবার ৭৮ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একই নদীর সারিয়াকান্দি স্টেশনে মঙ্গলবার ৪০ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বুধবার প্রবাহিত হয়েছে ৫৫ সে.মি ওপর দিয়ে। এছাড়া মঙ্গলবার যেসব নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল বুধবার সেসব নদীর পানি প্রায় প্রত্যেকটিতেই ৫ থেকে ১৬ সে.মি বৃদ্ধি পেয়েছে। হ্রাস পেয়েছে মাত্র তিনটি পয়েন্টে।

৭০ ভাগ ছাদ বাগানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বিস্তার-দৈনিক ইত্তেফাক

চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণুবাহী এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গতকাল বুধবার ঢাকা দক্ষিণ সিটির নগর ভবনের সেমিনার কক্ষে সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলালের সভাপতিত্বে বস্তি উন্নয়ন বিভাগের উদ্যোগে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় দক্ষিণ সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখ সালাউদ্দিন, প্রধান বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু তালেব মো. মোয়াজ্জেম হোসেনসহ ১৯টি এনজিওর প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা বলেন, রাজধানীর ৭০ ভাগ ছাদ বাগানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশ বিস্তার ঘটছে।

নির্মাণাধীন ভবনের চৌবাচ্চা, পরিত্যক্ত ভবন, গাছের কোটরে, এসি, ফ্রিজ, ফুলের টব, টায়ার, খালি ক্যান, ডাবের খোসায় জমে থাকা পানিতেও এ মশা জন্মায়। এগুলো অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।

অবশেষে লন্ডনে গেলেন ইলিয়াস আলীর স্ত্রী লুনা- দৈনিক সমকাল

ফাইল ছবি

উচ্চ আদালতের আদেশের পর অবশেষে ছেলের স্নাতক সমাপনীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বুধবার লন্ডন গেছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা।

 তিনি এদিন সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ছোট ছেলে লাবিব সারার ও ছোট মেয়ে সাইয়ারা নাওয়ালকে নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেন।

এর আগে গত রোববার ঢাকা বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে লন্ডনে যেতে বাধা দেয়। এর পর হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। জানা গেছে, গত সোমবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ইলিয়াসের স্ত্রীকে বিদেশে যেতে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে আদেশ জারি করেন। ইলিয়াস আলীর বড় ছেলে ব্রিস্টলে ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট অব ইংল্যান্ডে আইনে স্নাতক শেষ করেছেন। ১৪ জুলাই তার স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠান।

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের খুব বেশি টাকা নেই : অর্থমন্ত্রী- দৈনিক নয়াদিগন্ত

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের খুব বেশি টাকা নেই বলে আবারও দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, ‘আমি সংসদে যে স্টেটমেন্ট দিয়েছি, তাতে এটা প্রমাণিত হয়- আমাদের খুব বেশি লোকের টাকা সুইস ব্যাংকে নেই।’

আজ বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশী অর্থ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নো নো কোনো অর্থ বাড়েনি, বরং গত বছরের তুলনায় কমেছে।’

সুইস ব্যাংকের প্রতিনিধিরা ঢাকায় থাকেন এবং বড় বড় ব্যবসায়ীদের ওখানে টাকা রাখার জন্য প্রলুব্ধ করেন দুদক চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমার কাছে এ ধরণের কোনো তথ্য নেই।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর

অমরনাথ নিয়ে চুপ চিন ও পাকিস্তান- দৈনিক আনন্দবাজার

অমরনাথে জঙ্গি হামলার নিন্দায় জ্বালানো হচ্ছে পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছবি। বুধবার ইলাহাবাদে। পিটিআই

অমরনাথ যাত্রীদের উপরে জঙ্গি হামলার নিন্দায় সরব সমস্ত প্রতিবেশী রাষ্ট্র। এমনকী আমেরিকাও। মুখে কুলুপ শুধু দু’টি দেশের। চিন ও পাকিস্তান। হামলার তদন্ত যে পথে এগোচ্ছে তাতে সন্দেহের তির লস্কর-ই-তইবার দিকেই। রাষ্ট্রপুঞ্জ এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও পাকিস্তানে তাদের ডালপালা বেড়েই চলেছে।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা মোটামুটি নিশ্চিত, হামলা চালিয়েছে লস্কর জঙ্গিরাই। যাদের মধ্যে দু’জন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দা। আজ আবার হিজবুল মুজাহিদিন একটি ভিডিও ছড়িয়েছে। তাতে এক জঙ্গিকে ভারতীয় সেনা-আধাসেনার উপরে রাসায়নিক হামলার হুমকি দিতে দেখা গিয়েছে। ভিডিওটিতে সে বলেছে, ‘‘এত দিন আমরা গ্রেনেড লঞ্চার দিয়ে ভারতীয় সেনার উপরে হামলা চালিয়েছি। কিন্তু এ বার বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির লক্ষ্যে রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করব।’’ ওই জঙ্গির দাবি, পাকিস্তানের সাহায্যেই তাদের হাতে রাসায়নিক অস্ত্র আসবে। পাকিস্তানের সবুজ সঙ্কেত পেলেই তা ব্যবহার করা হবে। এবং এই কাজে তাদের সাহায্য করবেন ‘পির সাহেব’ অর্থাৎ লস্কর প্রধান হাফিজ সইদ।

কাশ্মীরে হামলা চালাতে হিজবুলকে রাসায়নিক অস্ত্র জোগাচ্ছে পাকিস্তান- দৈনিক আজকাল

একের পর এক সন্ত্রাসবাদী হামলায় রক্তাক্ত কাশ্মীর উপত্যকা। এমনই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে এমন এক ভয়াবহ তথ্য যা নিয়ে চরম উদ্বেগে সাউথ ব্লক। গোয়েন্দাদের দেওয়া এক গোপন রিপোর্টে জানা গিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী হামলা চালাতে জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনকে মারাত্মক রাসায়নিক অস্ত্রের যোগান দিচ্ছে পাকিস্তান। উপত্যকায় অশান্তি ছড়াতে জেহাদি  সংগঠনটিকে ক্রমাগত মদত জুগিয়ে চলেছে পাকিস্তান, এমন প্রমাণও রয়েছে ভারতের কাছে।

ক্ষমতায় এসেই কাশ্মীর উপত্যকায় জঙ্গি নিকেশে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। সন্ত্রাসের বিষবৃক্ষকে সমূলে ধ্বংস করতে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীকে।

সেনাকে অস্ত্রশস্ত্র কিনতে অনুমোদন- দৈনিক আজকাল

চীনা আগ্রাসন রুখতে সিকিম সীমান্তে সেনাবাহিনী মোতায়েন হয়েছে। এদিকে অমরনাথ পুণ্যার্থীদের ওপর হামলার পর, নতুন করে তেতে উঠেছে কাশ্মীর সীমান্তও। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর লাগাতার অস্ত্রবিরতিচুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছে পাকিস্তানি সেনা। এমন পরিস্থিতিতে যে কোনও মুহূর্তে ১০–১৫ দিন ব্যাপী যুদ্ধ বেঁধে যেতেই পারে। তাই সেনাবাহিনীকে সংক্ষিপ্তকালের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। প্রতিপক্ষের মোকাবিলার জন্য প্রচুর পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র, কল–কব্জা, প্ল্যাটফর্ম এবং গোলা–বারুদ কিনতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গোটা বিষয়টির তদারকির দায়িত্ব বর্তানো হয়েছে সেনাবাহিনীর সহ প্রধানের ওপর। অস্ত্রশস্ত্র ও সাজ সরঞ্জাম কিনতে কোটি কোটি টাকা খরচ পড়বে। কেন্দ্র সরকারই সমস্ত খরচ বহন করবে বলে আশ্বাস মিলেছে। 

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৩