আগস্ট ১৩, ২০১৭ ০৫:১৩ Asia/Dhaka

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৩ আগস্ট রোববারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • রায় নিয়ে বিতর্ক সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল: ড. কামাল হোসেন- দৈনিক মানবজমিন
  • ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়: সারা দেশে আ’লীগ-বিএনপির আইনজীবীরা মুখোমুখি- দৈনিক যুগান্তর
  • তিন নেতাকে লন্ডনে ডেকেছেন খালেদা জিয়া- দৈনিক সমকাল
  • বিশ্বের ৪র্থ চাল উৎপাদক বাংলাদেশ এখন বড় আমদানিকারক: ১০ বছর পর বড় সংকট- দৈনিক প্রথম আলো
  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় ভারত- দৈনিক মানবজমিন
  • মৌসুমি বায়ুর প্রভাব: উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দ্বিতীয় বন্যা শুরু- দৈনিক যুগান্তর
  • ভারত আবারো গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দিয়েছে- দৈনিক নয়াদিগন্ত
  • বাজারে নতুন পাট দামে খুশি নয় কৃষক- দৈনিক ইত্তেফাক

ভারতের শিরোনাম:

  • বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন, কোলকাতায় আহ্বান ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের- দৈনিক আনন্দবাজার
  • ডোকলাম ইস্যুতে এবার সরাসরি ভারতের পাশে দাঁড়াল আমেরিকা- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • গুজরাটে সত্যাগ্রহ: সোনিয়ার ডাক অন্য দলকেও

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

রায় নিয়ে বিতর্ক সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল: ড. কামাল হোসেন- দৈনিক মানবজমিন

সংবিধান প্রণেতা ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী ড. কামাল হোসেন মনে করেন, রায় নিয়ে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই। কারণ সংবিধানের ১১১, ১১২ অনুচ্ছেদ সর্বোচ্চ আদালতকে সেই ক্ষমতা দিয়েছে, তারা বিচার-বিশ্লেষণ করে যে রায় দেবেন- তাই চূড়ান্ত। তাছাড়া সর্বোচ্চ আদালতের ৭ জন বিচারকই সর্বসম্মতভাবে এই রায় দিয়েছেন। তা নিয়ে বিতর্ক করা সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল। মানবজমিনকে তিনি বলেন, সংবিধান লঙ্ঘন করার পরিণতি কখনও ভালো হয় না। যদি বুঝতাম যে কেউ ভিন্নমত পোষণ করেছেন, তাহলেও কথা ছিল। এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে যে সভা-সমাবেশ হচ্ছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত, সংবিধানের অবমাননা। এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে রায় পেয়েছি।এ রায়ের মধ্যদিয়ে বিতর্কের অবসান হয়েছে। এ নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করা মোটেও সমীচীন নয়। তিনি বলেন, সমালোচনাকারীরা জাতীয় জাদুঘরে যেতে পারেন, গিয়ে দেখতে পারেন বঙ্গবন্ধু কি লিখে দিয়ে গেছেন? সংবিধানের ৭ম অনুচ্ছেদই হচ্ছে আমাদের রক্ষাকবচ, গাইডলাইন। এতে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ- কেবলই সংবিধানের অধীন এবং কর্তৃত্বে কার্যকর হবে। এরপরেও কেন আমরা বিতর্ক করছি বুঝতে পারি না। পক্ষে গেলে ঠিক আছে, বিপক্ষে গেলে মানি না- এই মনোভাবের অবসান হওয়া জরুরি।

ড. কামাল বলেন, পুরো রায়টি পড়েছি। কোথাও বঙ্গবন্ধুকে খাটো করা হয়নি। তার কোনো অবমূল্যায়ন করা হয়নি। অপব্যাখ্যা দিয়ে বিষয়টিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে। সত্যিকার অর্থেই এটা দুঃখজনক। দেশে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে এমন ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে এই সংবিধান বিশেষজ্ঞ বলেন, রায়ের মধ্যদিয়ে এটা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, যদিও কেউ মানছেন, কেউ মানছেন না। না মানাটা সংবিধান পরিপন্থি, বলতে পারেন বরখেলাপ। সংবিধান মানলে ১১১ অনুচ্ছেদের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায় নিয়ে বিতর্ক করার সুযোগ কোথায়? ১১২ অনুচ্ছেদে বলা আছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানার অন্তর্ভুক্ত সকল নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টকে সহায়তা করবেন।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়: সারা দেশে আ’লীগ-বিএনপির আইনজীবীরা মুখোমুখি- দৈনিক যুগান্তর

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মুখোমুখি অবস্থানে। আজ রোববার এবং আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই পক্ষ পৃথক দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করেছে। প্রতি জেলায় দুই পক্ষের আইনজীবীরা আজ থেকে তিন দিনের এ কর্মসূচি পৃথকভাবে পালন করবেন। এর মধ্য দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায় নিয়ে চলমান বিতর্ক দেশজুড়ে আইনজীবী সমিতিগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল। দুই পক্ষের একই দিনে কর্মসূচিতে আদালত প্রাঙ্গণের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ আইনজীবীরা।

তিন নেতাকে লন্ডনে ডেকেছেন খালেদা জিয়া- দৈনিক সমকাল

আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মকৌশল নির্ধারণে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন লন্ডন সফররত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ জন্য তিন গুরুত্বপূর্ণ নেতা লন্ডন ত্যাগের দু'দিন পর আবারও তাদের ডেকে পাঠিয়েছেন তিনি। আগামী মঙ্গলবার তাদের লন্ডন উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। নেতাদের মধ্যে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। নির্দেশনা পেয়ে তাদের মধ্যে দুই নেতা বাংলাদেশ থেকে এবং অন্যজন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবার লন্ডন ছুটে গেছেন। সূত্র জানায়, দলের প্রভাবশালী নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন। আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তাবিথ আউয়াল বাংলাদেশে চলে আসেন। কিন্তু লন্ডন ত্যাগের দু-তিন দিন পর আবার দ্রুত তাদের লন্ডন ডেকে পাঠান বিএনপি চেয়ারপারসন।

বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা সমকালকে জানান, ১৪ বা ১৫ আগস্ট বিদেশি কারও সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে পারে। বৈঠকে খালেদা জিয়া, দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা তারেক রহমান ছাড়াও সংশ্লিষ্ট আরও দু-তিনজন নেতা থাকা প্রয়োজন। বিগত কয়েক বছর বিএনপির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের জন্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আবদুল আউয়াল মিন্টুর উপস্থিত থাকা জরুরি।

বিশ্বের ৪র্থ চাল উৎপাদক বাংলাদেশ এখন বড় আমদানিকারক: ১০ বছর পর বড় সংকট- দৈনিক প্রথম আলো

বিশ্বের চতুর্থ চাল উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম প্রধান আমদানিকারকে পরিণত হয়েছে। প্রায় ১০ বছর পর নতুন করে চালের সংকটে পড়ে বিশ্বের প্রধান চাল রপ্তানিকারক দেশগুলো থেকে আমদানির চেষ্টা করছে সরকার। বাজার স্থিতিশীল রাখতে চাল আমদানিই এখন সরকারের একমাত্র ভরসা। চার বছর ধরে সরকারি খাতে কোনো চাল আমদানি হয়নি। কিন্তু এ বছর বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে হাওরের ফসল নষ্ট হওয়ার পর চালের সংকট দেখা দেয়। সরকারি পর্যায়ে আমদানির পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে উৎসাহ দিতে শুল্ক কমানো হয় ১৮ শতাংশ। এত সব উদ্যোগের প্রায় দুই মাস হতে চলল। কিন্তু এখনো চালের সংকট থেকে বেরোতে পারেনি বাংলাদেশ।

গত দুই মাসে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৫৭ হাজার টন চাল সরকারি গুদামে এসেছে। তবে চালের সরকারি চাহিদার তুলনায় তা সামান্যই। ১৭ লাখ টন ধারণক্ষমতার সরকারি গুদামে বর্তমানে চাল আছে মাত্র ২ লাখ ৭৩ হাজার টন। এখনো খোলা বাজারে পুরোদমে চাল বিক্রি শুরু করতে পারেনি খাদ্য অধিদপ্তর। অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যক্রমও সীমিত করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় ভারত- দৈনিক মানবজমিন

প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে বের করে দেয়া নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। এ নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কে এস ধাতওয়ালিয়া। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে যথাযথ সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে। ওদিকে বাংলাদেশ সরকারের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে নয়া দিল্লি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়েছে, ভারতের দাবি সেখানে অবৈধভাবে বসবাস করছে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম। শুক্রবার সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, এ সব রোহিঙ্গাকে বের করে দেয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য সরকারগুলোকে টাস্কফোর্স গঠন করতে বলা হয়েছে।

মৌসুমি বায়ুর প্রভাব: উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দ্বিতীয় বন্যা শুরু- দৈনিক যুগান্তর

দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবারও বন্যা শুরু হয়েছে। দেশের ভেতর ও বাইরে ভারি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে গেছে। পাহাড়ি ঢল এবং বৃষ্টির পানি চলে যাচ্ছে নদ-নদীতে। এ কারণেই এই বন্যা পরিস্থিতি। এরই মধ্যে দেশের ১৪টি নদী বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, সুনামগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ কয়েকটি জেলার চর, দ্বীপচর ও নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েকশ’ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতি আগামী এক সপ্তাহ চলতে পারে।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইমেইলে যুগান্তরকে জানান, ‘মেঘনা অববাহিকায় পানি বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা ধেয়ে আসছে। তিস্তা এবং ধরলা নদীর পানি বাড়ছে। আসামে ভারি বৃষ্টির কারণে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা বেসিনেও পানি বাড়ছে। এসব মিলিয়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৌসুমের দ্বিতীয় ধাপের বন্যা শুরু হল।’

ভারত আবারো গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দিয়েছে- দৈনিক নয়াদিগন্ত

ভারত আবারো গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেয়ায় দেশে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এক দিকে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে গত তিন দিনের মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ, অপর দিকে ভারতের গজলডোবো ব্যারাজের সব গেট খুলে দেয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলে নতুন করে আবার বন্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে বন্যার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নীলফামারী সদর ও ডিমলা উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী লালমনিরহাট জেলার দোয়ানিতে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি গত শনিবার সকাল ৬টায় বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার এবং সকাল ৯টায় ২৭ সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ৪০ মিটার) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারাজের সব (৪৪টি) স্লুইস গেট খুলে দেয়া হয়েছে।

বাজারে নতুন পাট দামে খুশি নয় কৃষক- দৈনিক ইত্তেফাক

পশ্চিমের জেলাগুলোর হাট-বাজারে প্রতি মন (৪০ কেজি) পাট ১২’শ টাকা থেকে ১৮’শ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দামেও চাষি খুশি নন। চাষিরা বলছে, এ দামে পাট বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠছে না। হাট-বাজার গুলোতে পাটের আমদানি বাড়ছে। ভরা মৌসুম শুরু হয়ে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার যশোর জেলায় ৩১ হাজার ৪’শ হেক্টরে, ঝিনাইদহ জেলায় ২৪ হাজার ১৭২ হেক্টরে, মাগুরা জেলায় ৪০ হাজার ৪৪০ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২২ হাজার ৭০ হেক্টরে, মেহেরপুর জেলায় ২৫ হাজার ৮৪৫ হেক্টরে ও কুষ্টিয়া জেলায় ৪১ হাজার ৫৩৩ হেক্টরে পাট চাষ হয়েছে। এ অঞ্চল এক সময় পাট চাষের জন্য বিখ্যাত ছিল। গড়ে উঠেছিল পাটের মোকাম। এক সময়ের সোনালী আঁশ কৃষকের গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়ায়। চাষি পাট চাষ ছেড়ে অন্য ফসল চাষে ঝুঁকে। গত ৭-৮ বছর পাটের দাম একটু একটু করে চড়ে। ফলে চাষি ফের পাট চাষে ঝুঁকেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, প্রতি বছর পাট চাষ বাড়ছে। জুলাই মাসের প্রথম থেকে বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করে। ভাল মানের পাট প্রতি মন দু হাজার টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হয়। বর্তমানে দাম একটু কমেছে। চাষিদের কথা পাট চাষে খরচ অনেক বেড়েছে।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন, কোলকাতায় আহ্বান ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের-দৈনিক আনন্দবাজার

নানা ওঠাপড়া সত্ত্বেও ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন খুবই মধুর। এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী ঢাকায় ভারতের হাই-কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। উন্নয়নের জন্য দু’দেশের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি ও আলোচনাই একমাত্র পথ বলে মনে করেন তিনি। এর মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগও রয়েছে। তাঁর বক্তব্য— সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশ যেমন ভারতের পাশেই রয়েছে, তেমনই তিস্তা চুক্তি দ্রুত রূপায়ণে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য দিল্লি ঘরোয়া স্তরে আলোচনা চালাচ্ছে।

দু’দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্কের সম্ভাবনা নিয়ে শুক্রবার হর্ষবর্ধনের সঙ্গে আলোচনার আয়োজন করেছিল ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স। সেখানে বাংলাদেশে লগ্নির সুযোগ ও বাংলাদেশের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতে সহজে পৌঁছনোর সুবিধা ব্যাখ্যা করেন তিনি।

ডোকলাম ইস্যুতে এবার সরাসরি ভারতের পাশে দাঁড়াল আমেরিকা- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

ডোকলাম ইস্যুতে ভারত একজন প্রাপ্তবয়স্কর মতো আচরণ করছে। কিন্তু সিকিম সীমান্তে চিনের আচরণ একজন সদ্য বয়ঃসন্ধিতে পা দিয়েছে এমন কিশোরের মতো। বেজিংয়ের বিরুদ্ধে এই ভাষাতেই তোপ দাগলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের দাবি, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যার সমাধানের বদলে গরমাগরম বক্তব্য পেশ করতেই বেশি উৎসাহী চিন।

গত ৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ডোকলামে ভারত ও চিনের সেনা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে। বন্দুকের নল নিচের দিকে, প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে থাকার এই ভঙ্গিকে বলে ‘নন কমব্যাট মোড’। ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনের সরকারি বাহিনী ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’ বা পিএলএ-র অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ঘাঁটি গেড়েছেন ভারতীয় জওয়ানরা। “১৯৬২-র যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী চিন সীমান্তে যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় পুরোপুরি তৈরি। শত্রুরা কোনও ‘মিস অ্যাডভেঞ্চার’ করার দুঃসাহস দেখালেই তাদের কল্পনাতীত উপযুক্ত জবাব পাবে।”, বেজিংকে সতর্ক করে মন্তব্য করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ জেটলি।

গুজরাটে সত্যাগ্রহ: সোনিয়ার ডাক অন্য দলকেও

দলিতদের ওপর লাগাতার আক্রমণের প্রতিবাদে কংগ্রেসের ডাকা গুজরাটের সত্যাগ্রহে সমমনোভাবাপন্ন বিরোধী দলগুলিকেও যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। পয়লা সেপ্টেম্বর ওই সত্যাগ্রহে উপস্থিত থাকবেন সোনিয়া ও রাহুল গান্ধী উভয়েই। থাকবেন কংগ্রেসের অন্য সব নেতাও। সোনিয়া চাইছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, আরজেডি সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদব ও দেশের অন্যান্য বিরোধী নেতারাও ওই আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশ নিন। না হলে অন্তত তাঁরা নিজেদের প্রতিনিধি পাঠান। আমন্ত্রণ জানানো হবে বিক্ষুব্ধ জেডি (‌ইউ)‌ নেতা শারদ যাদবকেও।

বিজেপি–র অভিযোগ, দলিত–ইস্যুকে সামনে রেখে আসলে গুজরাটে দলের নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে চাইছে কংগ্রেস। তাই গান্ধী থেকে দলিত, সব তাসই খেলতে চাইছে সোনিয়ার দল। কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা অবশ্য এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সুরজেওয়ালা দাবি করেছেন, নির্বাচনী ফায়দা তুলতে কংগ্রেস কখনওই কোনও কর্মসূচি হাতে নেয় না। বিজেপি–র বিরুদ্ধে তাঁর পাল্টা কটাক্ষ, ‘কীভাবে মানুষকে আকাশকুসুম প্রতিশ্রুতি শুনিয়ে ভোটে জিততে হয়, তা জানে বিজেপি।’

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৩