বরাদ্দ থাকলেও ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না প্রত্যন্ত অঞ্চলে- দৈনিক ইত্তেফাক
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৭ আগস্ট বৃহস্পতিবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- ভয়াবহ বন্যা, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা: বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও জনজীবন- দৈনিক যুগান্তর
- বরাদ্দ থাকলেও ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না প্রত্যন্ত অঞ্চলে- দৈনিক ইত্তেফাক
- রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, ছিলেন দুই মন্ত্রী: ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে আলোচনা- দৈনিক প্রথম আলো
- বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন যারা তোলেন তারা কী ইয়াহিয়ার খানের বক্তব্য শোনেননি?-দৈনিক ইত্তেফাক
- পাসপোর্ট জমার সময় শেষ আজ : ভিসা হয়নি ৩৮৯১ হজযাত্রীর- দৈনিক নয়াদিগন্ত
- আওয়ামী লীগ ও জাপার মধ্যে চলছে স্নায়ুযুদ্ধ- দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
- মূল্য সংযোজন বাড়ছে না পোশাক রফতানিতে- দৈনিক সমকাল
- হাওরের বাঁধে দুর্নীতি যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার- দৈনিক যায়যায়দিন
ভারতের শিরোনাম:
- বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ, জলবন্দি বহু, শুরু ভাঙনও- দৈনিক আনন্দবাজার
- ৮০ কিমি পেরিয়ে হাসপাতাল, ধুঁকছে স্বাধীন ভারতের গ্রাম- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- লাদাখে চীনা সেনা, সংঘর্ষ: জল, স্থল, আকাশ বা সাইবার, যে কোনও ক্ষেত্রে বেজিংয়ের মোকাবিলায় ভারত তৈরি- দৈনিক বর্তমান
- সরকারের ৭০০ কোটি লুট! এবার কী বলবেন নীতীশ?- দৈনিক আজকাল
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
ভয়াবহ বন্যা, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা: বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও জনজীবন- দৈনিক যুগান্তর

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে জনজীবনসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। স্থবির হয়ে পড়েছে সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। ব্যাহত হচ্ছে নতুন শিল্পকারখানার অবকাঠামো ও রাস্তাঘাট নির্মাণকাজের স্বাভাবিক গতি। উজানের ঢল ও প্রবল বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে উত্তরাঞ্চলসহ ২২ জেলার ৯৬টি উপজেলা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ। এরই মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে আড়াই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
এছাড়া বন্যা আক্রান্ত এলাকায় রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে পণ্যের আমদানি ও রফতানি কার্যক্রম। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে শিল্পের উৎপাদনেও। এর নেতিবাচক প্রভাব আগস্ট-সেপ্টেম্বরে রফতানি আয়ের ওপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের।
এদিকে চলমান বন্যায় প্রায় তিন লাখ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষি খাত, যা পুরো খাদ্য ব্যবস্থাপনার হিসাব পাল্টে দিয়েছে। আর কোরবানির আগেই ১১ লাখ গবাদি পশুসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে ৪৩ লাখ প্রাণী। এতে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। পানিতে ডুবে, সাপের কামড়ে, চর্মরোগ ও পানিবাহিত নানা রোগে বন্যা আক্রান্ত এলাকায় এ পর্যন্ত ১০৭ জনের মৃত্যু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বরাদ্দ থাকলেও ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না প্রত্যন্ত অঞ্চলে- দৈনিক ইত্তেফাক

উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বন্যার পানিও নামতে শুরু করেছে। তবে এসব জেলার দুর্গম চর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে এখনো ত্রাণ পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জেলা প্রশাসনের দাবি, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি না হওয়া ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছানোর কোনো উপায় না থাকায় ত্রাণ বিতরণ করা যাচ্ছেনা। তবে দিনাজপুরসহ কয়েকটি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্পিডবোটে করে ত্রাণ বিতরণ করছে সেনাবাহিনী। সেটাও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর ত্রাণবিতরণ নিয়ে ডেস্ক রিপোর্ট।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, ছিলেন দুই মন্ত্রী: ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে আলোচনা- দৈনিক প্রথম আলো

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার রাতে এই সাক্ষাৎ হয়। তাঁদের এই সাক্ষাতের পর আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে যোগ দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সেখানে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু কেউ সুনির্দিষ্টভাবে বলেননি।
সাক্ষাৎ শেষে বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে আসার পর ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, রায়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। বন্যা পরিস্থিতি এবং ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ভবনে জঙ্গি হামলার চক্রান্ত নিয়ে আলোচনা করেন বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ষোড়শ সংশোধনী নিয়েও কথাবার্তা হয়েছে। তবে সেই কথাবার্তা কী, সেটা সুনির্দিষ্টভাবে কেউ নিশ্চিত করেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, ষোড়শ সংশোধনী ছাড়াও দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বৈধতা নিয়ে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হওয়া রুল শুনানির জন্য হাইকোর্টে বৃহস্পতিবার দিন ধার্য রয়েছে। এ ছাড়া আগামী সপ্তাহে অধস্তন আদালতের চাকরির শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধিমালা চূড়ান্ত করার বিষয়ে শুনানির জন্য রয়েছে। এসব বিষয় আলোচনায় আসে।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন যারা তোলেন তারা কী ইয়াহিয়ার খানের বক্তব্য শোনেননি?-দৈনিক ইত্তেফাক

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমগ্র জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনী আক্রমণ চালালে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এখন কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেন যে, একজনের নেতৃত্বে নাকি দেশ স্বাধীন হয়নি। তারা কী ইয়াহিয়া খানের বক্তব্যে শুনেননি? ইয়াহিয়া খান তার ভাষণে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেই দায়ী করেছেন। এ কারণে একমাত্র বঙ্গবন্ধুকেই গ্রেফতার করা হয়, ফাঁসির রায় ঘোষণা করে তাকে হত্যা করার চেষ্টাও করা হয়। অন্য কাউকে তো ইয়াহিয়া দোষী বা গ্রেফতার করে ফাঁসির রায় দেননি। যারা বলেন একক নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়নি তাদের ইয়াহিয়ার বক্তব্য শোনার পরামর্শ দেন তিনি।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাত্ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বুধবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘কারো একক নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি’- আদালতের এমন পর্যবেক্ষণের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শুধু নেতৃত্বই দেননি, দেশকে স্বাধীন করার জন্য আওয়ামী লীগ গঠন করেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু সংগ্রাম করেছেন। দলকে সুসংগঠিত করতে মন্ত্রীত্ব ছেড়ে দিয়ে সারাদেশ চষে বেড়িয়েছেন। গোটা বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছেন, তার প্রতিটি নির্দেশ বাঙালি জাতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করেছেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানও তার বক্তব্যে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য একমাত্র জাতির পিতাকেই দায়ী করে গেছেন, অন্য কাউকে নয়।
পাসপোর্ট জমার সময় শেষ আজ : ভিসা হয়নি ৩৮৯১ হজযাত্রীর- দৈনিক নয়াদিগন্ত

এবারো হজ কোটার শতভাগ যাত্রী হজে যেতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার সৌদি দূতাবাসে ভিসার জন্য হজযাত্রীদের পাসপোর্ট জমা দেয়ার শেষ দিন হলেও গতকাল পর্যন্ত ভিসা অনুমোদন হয়েছে এক লাখ ২৩ হাজার ৩০৭ জনের। ফলে শেষ দিনে তিন হাজার ৮৯১ জনকে ভিসার আবেদন করতে হবে। তবে এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার ব্যক্তি চিকুনগুনিয়া, বন্যাসহ বিভিন্ন অসুস্থতাজনিত কারণে হজে যেতে পারবেন না বলে হজ অফিসকে জানিয়েছে।
চলতি বছর বাংলাদেশের মোট হজ কোটা এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এর মধ্যে সরকারিভাবে হজযাত্রী যাবেন চার হাজার ২০০ জন। আর বেসরকারিভাবে যাবেন এক লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ জন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আব্দুল জলিল গতকাল রাতে নয়া দিগন্তকে জানান, গতকাল পর্যন্ত সরকারি কোটার চার হাজার ২০০ জনের মধ্যে চার হাজার ১৫৬ জনের ভিসা অনুমোদন হয়েছে। অর্থাৎ বাকি আছে আর মাত্র ৪৪ জনের।
আর বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া এক লাখ ২২ হাজার হজযাত্রীর মধ্যে ভিসা অনুমোদন হয়েছে এক লাখ ১৯ হাজার ১৫১ জনের। অর্থাৎ এখনো বাকি আছে তিন হাজার ৮৪৭ জনের। ফলে মোট ভিসা হওয়া বাকি আছে তিন হাজার ৮৯১ জনের।
আওয়ামী লীগ ও জাপার মধ্যে চলছে স্নায়ুযুদ্ধ- দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ (১৭৭-শ্যামপুর-কদমতলী) আসন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির (জাপা) মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। আসনটি এবার জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ।
জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবুল হোসেন বাবলা বর্তমানে এ আসনের সংসদ সদস্য। মাঠের বিরোধী দল বিএনপি আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায়। জাতীয় পার্টি চায় জয়ের ধারাবাহিকতা। বিএনপির প্রার্থীদের মিটিং-মিছিল না থাকলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। দলের চার মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। পথসভা, কর্মিসভা এবং জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচির মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের কাছাকাছি থাকছেন তারা। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সানজিদা খানম বিজয়ী হয়েছিলেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে আসনটি ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। সানজিদাকে পরে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য করা হয়। এ আসন থেকে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে মাঠে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সাবেক সহকারী একান্ত সচিব ড. আওলাদ হোসেন। গত নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সঙ্গে তীব্র লড়াই করে পরাজিত হন। আওলাদ হোসেন এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ ও কর্মিসভার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা দূরীকরণে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ড্রেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মতো সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
মূল্য সংযোজন বাড়ছে না পোশাক রফতানিতে- দৈনিক সমকাল

তৈরি পোশাক রফতানিতে স্থানীয় শিল্পের ব্যবহার বা মূল্য সংযোজন বাড়ছে না। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে মূল্য সংযোজন ৭৪ থেকে ৭৬ শতাংশের ঘরে আটকে আছে। তিন বছর ধরে এ হার আরও কমেছে। গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) আগের অর্থবছরের তুলনায় মূল্য সংযোজন কম হয়েছে শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ। মোট মূল্য সংযোজন হয়েছে ৭৫ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।
তৈরি পোশাক খাতের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এ পরিসংখ্যান রয়েছে। তবে এ পরিসংখ্যান নিয়েও সন্দেহ আছে বাণিজ্য বিশ্লেষকদের। তাদের মতে, প্রকৃত মূল্য সংযোজন এত বেশি হওয়ার কথা নয়।
তৈরি পোশাকে মূল্য সংযোজন বলতে বোঝায় রফতানি মূল্য থেকে আমদানি করা কাঁচামালের মূল্য বাদ দিয়ে বাকি যে পরিমাণ স্থানীয়ভাবে জোগান দেওয়া হয়। অর্থাৎ স্থানীয় কাঁচামাল ও সেবাকে মূল্য সংযোজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
হাওরের বাঁধে দুর্নীতি যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার- দৈনিক যায়যায়দিন

হাওরে বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে করা মামলায় এক ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। গ্রেপ্তার খাইরুল হুদা চপল সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক। জেলা শহরের স্টেশন রোডে মেসার্স নূর ট্রেডিং নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় মঙ্গলবার গভীর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে চপল বিমানবন্দরে এসেছিলেন বলে তিনি জানান।
প্রণব কুমার জানান, গ্রেপ্তারের পর বুধবার সকালে আসামি চপলকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেছেন মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ।
এদিকে হাওরের বাঁধ নির্মাণের দুর্নীতিতে যুবলীগ নেতা চপলের 'জড়িত থাকার' নিন্দা জানান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল কবির রিমন। তিনি বলেন, কৃষকের রুটি-রুজি নিয়ে যারা রাজনীতি করে, প্রতিপত্তি বানায়, তাদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। রাজনীতির জন্য এটা কাল অধ্যায়।
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর
বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ, জলবন্দি বহু, শুরু ভাঙনও- দৈনিক আনন্দবাজার

উত্তরবঙ্গ জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় বাঁধে ফাটল ধরেছে। বহু এলাকায় নদীর জল এখনও জাতীয় সড়ক, রেললাইনের উপর দিয়ে বইছে। অনেক জায়গায় মানুষ জলবন্দি। যেখানে জল কমছে, সেখানেও স্বস্তি নেই। তোর্সা, মহানন্দা, ফুলহার, টাঙনের ভাঙনে তলিয়ে গিয়েছে কৃষি জমি থেকে বসত বাড়ি।
বুধবার কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বন্যায় উত্তরবঙ্গে এ পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গেও বন্যায় মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, রাজ্যের অবস্থা নৌকার মতো। নেপাল, ভুটান জল ছাড়লেই জলে ভেসে যাচ্ছে। জল নেমে গেলে কোথায় কতটা ক্ষতি হয়েছে তা নির্ধারণ করা যাবে। অনেক জায়গায় রাস্তা, সেতু ভেঙে গিয়েছে। সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার রাতেই দক্ষিণ দিনাজপুরে চলে যান। কিন্তু তৃণমূল সূত্রেই খবর, বানভাসি মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করেন দলেরই কিছু নেতা। তাই এ দিন সকালেই তাঁকে গঙ্গারামপুরে নিয়ে চলে যাওয়া হয়। পথে তিনি বালুরঘাটের বন্যা দুর্গতদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। তৃণমূল নেতাদের অবশ্য দাবি, যেখানে যেখানে দরকার, সে সব জায়গাতেই গিয়েছেন মন্ত্রী। এ দিন রাতে রাজীববাবু জেলা প্রশাসনকে বালুরঘাটের আরএসপি বিধায়ক বিশ্বনাথ চৌধুরীর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে বলেন।
লাদাখে চীনা সেনা, সংঘর্ষ: জল, স্থল, আকাশ বা সাইবার, যে কোনও ক্ষেত্রে বেজিংয়ের মোকাবিলায় ভারত তৈরি- দৈনিক বর্তমান

একদিকে ডোকা লা নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে শিলিগুড়ির সুকনায় বাড়তি বাহিনী পাঠাল কেন্দ্র, আর অন্যদিকে সীমান্ত পেরিয়ে লাদাখে ঢুকে পড়ল চীনের লালফৌজ। দেশের ৭১তম স্বাধীনতা দিবস ঘিরে এভাবেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভারত-চীন সীমান্ত। আর যার ভরকেন্দ্র হয়ে রইল লাদাখের প্যাংগঙ লেক। সূত্রের খবর, চীনের সেনা সীমান্ত লঙ্ঘন করে এই এলাকায় ঢুকে আসার পর বারবার সতর্ক করা হয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরফ থেকে। কিন্তু তাতে গা করেনি লালফৌজ। এরপরই দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয়ে যায় ইট ছোঁড়া, আর তারপর হাতাহাতি। যদিও গুলি কোনও পক্ষ চালিয়েছে বলে খবর নেই। কেন্দ্রের তরফ থেকে বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের থেকে সরাসরি বিষয়টি স্বীকার না করা হলেও, লাদাখ সীমান্তে যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ দিল্লির দরবারে নেই। ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে ইস্টার্ন এবং নর্দার্ন কমান্ডকে বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।
সরকারের ৭০০ কোটি লুট! এবার কী বলবেন নীতীশ?- দৈনিক আজকাল

দুর্নীতির অভিযোগে লালুর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন নীতীশ। এবার দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ তিনি। তা-ও যখন বিজেপি-র সঙ্গে ছিলেন, সরকারে তখনই হয়েছিল এই ‘ঘোটালা’। অর্থমন্ত্রী ছিলেন বিজেপি-র সুশীল মোদি। ‘সৃজন মহিলা সহযোগ সমিতি’ ভাগলপুরের একটি স্বেচ্ছসেবী সংগঠন। ২০০৭ থেকে জনসেবার আবডালে নিজেদের সেবা করছিলেন সংগঠনে দুই হর্তা-কর্তা অমিত কুমার ও প্রিয়া। ফেব্রুয়ারিতে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অমিতের মা মনোরমা দেবীর মৃত্যুর পর ওঁদের পোয়াবারো হয়। সংগঠনের পাটই গুটিয়ে দেন ওঁরা। যদিও ‘সৃজন মহিলা সহযোগ সমিতি’-র নামে তছরুপ চালিয়ে যান। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ টাকা চলে যাচ্ছিল সৃজনের আমানতে। সেই টাকায় তৈরি হচ্ছিল শপিং মল, শপিং সেন্টার। প্রায় ৭০০ কোটির টাকা জালিয়াতি করে আপাতত গ্রেপ্তার দুজনে! ভাগলপুরের এই দম্পতি অবশ্য একা অতবড় জালিয়াতি করেননি। মদত দিয়েছেন দুই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক— ব্যাঙ্ক অফ বরোদা এবং ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং রাজস্বকর্তারা। জমি অধিগ্রহণ বাবদ বরাদ্দ সরকারের পাঠানো চেকের খবর অমিত কুমার ও প্রিয়ার কাছে পৌঁছে যেত ব্যাঙ্ক মারফত। সেই সব চেকের উল্টোপিঠে ‘সৃজন মহিলা সহযোগ সমিতি’-র অ্যাকাউন্টের চেক নম্বর লিখে দিতেন ওঁরা। টাকা জমা পড়ত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অ্যাকাউন্টে। এবং সেখান থেকে ওঁদের হাতে।
৮০ কিমি পেরিয়ে হাসপাতাল, ধুঁকছে স্বাধীন ভারতের গ্রাম- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

মাস দুয়েক ধরেই টানা বৃষ্টি চলছে মণিপুরের পার্বত্য অঞ্চলে। ক্রমশ ছড়াচ্ছে ম্যালেরিয়া, ডায়েরিয়া, ডেঙ্গু, জাপানি এনসেফালাইটিস। কিন্তু তার মোকাবিলায় কার্যত অসহায় মণিপুরের অন্তত চারটি গ্রাম। কমপক্ষে একত্রিশ হাজার মানুষের বাস এখানে। কিন্তু নেই কোনও হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ডাক্তার অথবা নার্স। প্রায় বিনা চিকিৎসাতেই প্রাণ যায় রোগীর।
জুলাই মাসে এই এলাকার প্রায় ৩৫০ জন বাসিন্দা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের ভর্তি হতে হয় চূড়াচাঁদপুরের জেলা হাসপাতালে। শুনতে স্বাভাবিক লাগলেও, সেই জেলা হাসপাতালে আসতে তাদের পেরোতে হয়েছে ৮০ কিমি পথ। কখনও গাড়িতে, কখনও বা হেঁটে সেই পথ পেরিয়ে তাঁরা হাসপাতালে পৌঁছান। রোগীদের জন্যও যাওয়ার কোনও আলাদা ব্যবস্থা নেই, হাঁটতে হয় তাদেরও। হাসপাতালে পৌঁছলেও, সবসময় যে চিকিৎসা মিলবে, এরকম কোনও গ্যারান্টি নেই কিন্তু। এরপরেও জেলা প্রশাসনের সদর্প ঘোষণা, হেঙ্গলেপ গ্রামে বিনা চিকিৎসায় কোনও মৃত্যুর ঘটনা নেই। হ্যাঁ। হেঙ্গলেপে একটা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। ব্যাস, ওইটুকুই। একজন আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ছিলেন। জুন মাসে তিনিও ইম্ফলে স্থানান্তরিত হয়ে গিয়েছেন। আর তার জায়গায় আসেননি অন্য কোনও চিকিৎসকই।
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৭