রায় নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে প্রধানমন্ত্রী: পদত্যাগ করা উচিত ছিল
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২২ আগস্ট মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- রায় নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে প্রধানমন্ত্রী: পদত্যাগ করা উচিত ছিল- দৈনিক যুগান্তর
- প্রধান বিচারপতিকে রাজনীতিতে ডাকলেন আ'লীগ নেতা হানিফ- দৈনিক যায়যায়দিন
- প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সমঝোতা নয়, বিকল্প নিয়েই ভাবছে সরকার- দৈনিক নয়াদিগন্ত
- এক ঘণ্টা রাস্তা বন্ধ: তীব্র যানজট ও বৃষ্টিতে নাকাল নগরবাসী- দৈনিক যায়যায়দিন
- বোরোর পর আমনেও বন্যার ধাক্কা- দৈনিক প্রথম আলো
- সরকারি জরিপ: অধিকাংশ শিক্ষক সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরি করতে পারেন না- দৈনিক ইত্তেফাক
- ঘর নাই খাওন নাই বাঁচমু কি করে?- দৈনিক মানবজমিন
- ভারত-বাংলাদেশ রেল ট্রানজিট প্রস্তাব: চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে চায় ভারত- দৈনিক ইনকিলাব
ভারতের শিরোনাম:
- ডোকলামের সীমান্ত সমস্যা মিটবে, আশা রাজনাথের- দৈনিক আনন্দবাজার
- সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতে মমতার পাশেই কানহাইয়া- দৈনিক আজকাল
- উত্তরবঙ্গের বন্যার জন্য বিহারের দিকে আঙুল মুখ্যমন্ত্রীর-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- পাহাড়ে গ্রেনেড ছুঁড়তে নামানো হচ্ছে যুবকদের- দৈনিক বর্তমান
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
রায় নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে প্রধানমন্ত্রী: পদত্যাগ করা উচিত ছিল- দৈনিক যুগান্তর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণগুলো লেখার আগে বা পরে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগ করা উচিত ছিল। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিভিন্ন অসঙ্গতির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই রায়ে নানা অসঙ্গতি, ভুল এবং স্ববিরোধিতা রয়েছে। একজন বিচারপতির দুর্নীতির তদন্ত করা যাবে না মর্মে দুদককে দেয়া প্রধান বিচারপতির চিঠি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয় দেয়া ও রক্ষা করা প্রধান বিচারপতির কাজ না।
সোমবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সরকারপ্রধান আরও বলেন, সব সহ্য করা যায় কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করলে, আমরা কিছুতেই সহ্য করব না। যে পাকিস্তানকে আমরা যুদ্ধে হারিয়ে বিজয় অর্জন করেছি, তার সঙ্গে তুলনা করা অপমানজনক, এটা এ দেশের জনগণ কিছুতেই সহ্য করবে না। বরং প্রধান বিচারপতির দেখা উচিত কী ধরনের বিচার ব্যবস্থা এ দেশের মানুষ মেনে নেবে।
২০০৪ সালে ২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত হন। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনের বাইরে অস্থায়ীভাবে তৈরি করা বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় আওয়ামী লীগের এবং ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান বিচারপতিকে রাজনীতিতে ডাকলেন আ'লীগ নেতা হানিফ- দৈনিক যায়যায়দিন

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিলের রায়ের সমালোচনার মধ্যে এবার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে সাংবিধানিক পদটি ছেড়ে রাজনীতিতে নামার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা মাহবুব-উল-আলম হানিফ।তিনি বলেছেন, 'একজন বিচারপতি হয়ে বিচারালয়ে বসে এত কথা বলার কী প্রয়োজন আছে? আপনি যদি রাজনীতি করতে চান, বিচারালয় ছেড়ে এসে রাজনীতির মাঠে নামুন, কথা বলুন, জনগণ শুনবে।
'সাংবিধানিক ওই পদে থেকে আপনি রাজনৈতিক কথা বলতে পারেন না। আর বলা মানেই সংবিধানের শপথ ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত হন আপনি।'ষোড়শ সংবিধান বাতিলের রায়ে ক্ষমতাসীনদের ক্ষোভ-বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে আদালতের রায় মেনে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সরে যাওয়ার কথা বলেছিলেন প্রধান বিচারপতি।তার প্রতিক্রিয়ায় সোমবার ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের সামনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির আলোচনা সভায় ওই কথা বলেন হানিফ।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'আমরা দেখলাম গতকাল আপনি একটা কথা বলেছেন... আপনি বলেছেন যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে সুপ্রিম কোর্ট ইয়ে করেছে। ইয়ে করে দিয়েছে মানে? ইয়ে মানেটা কী? মানে অযোগ্য করে দিয়েছে।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সমঝোতা নয়, বিকল্প নিয়েই ভাবছে সরকার- দৈনিক নয়াদিগন্ত

ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায় ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রধান বিচারপতির সাথে সমঝোতার পথ থেকে সরে গিয়ে বিকল্প নিয়েই ভাবছে সরকার। সমঝোতার একাধিক বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর এমন অবস্থানে যাচ্ছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। সে জন্য প্রধান বিচারপতির ‘অসদাচরণ’ ও ‘শপথ ভঙ্গ’ প্রমাণে বেশ কিছু অভিযোগ জোগাড় করছে সরকার। এর মধ্যে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত একজন আসামির পরিবারের সাথে বৈঠক, আবেদনকারীর অনুরোধে আপিল বিভাগের বেঞ্চ পরিবর্তনসহ প্রধান বিচারপতির বিভিন্ন বক্তব্যের অডিও ও ভিডিও সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে সরকারের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্রগুলো জানায়, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায় ও পর্যবেক্ষণে উঠে আসা আদালতের ‘আপত্তিকর’ বক্তব্যগুলো প্রত্যাহারের জন্য নানা মাধ্যমে চেষ্টা করেছে সরকার। সে ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির সাথে সমঝোতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়। তারই অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির সাথে বৈঠকও করেন সরকারের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা। কিন্তু ওই বৈঠকে কোনো ধরনের সমঝোতা না হওয়ায় পর্যবেক্ষণের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের দিকে মনোযোগ দেন তারা। এমন প্রেক্ষাপটে গত রোববার আদালতে শুনানিকালে প্রধান বিচারপতির কিছু মন্তব্য সরকারকে আরো ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। বিশেষ করে ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছেন প্রধান বিচারপতির এমন মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিষয়টি খুব কঠোরভাবে নিয়েছেন। গতকাল সোমবার এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ আর পাকিস্তান এক নয়। যে পাকিস্তানকে আমরা হারিয়েছি তার সাথে আমাকে তুলনা করা হয়েছে। সব সহ্য করতে পারি কিন্তু পাকিস্তানের সাথে তুলনা সহ্য করব না।’
এক ঘণ্টা রাস্তা বন্ধ: তীব্র যানজট ও বৃষ্টিতে নাকাল নগরবাসী- দৈনিক যায়যায়দিন

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার আলোচনা সভায় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সোমবার বিকাল তিনটার পর থেকে ঘণ্টাখানেক রাজধানীর ফার্মগেট, খামারবাড়ি, বিজয় সরণি এলাকার যান চলাচল বন্ধ রাখে আইন-শৃংখলা বাহিনী। এতে রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় নগরবাসীকে।
জানা যায়, সোমবার বিকাল সাড়ে তিনটায় খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটউশনে আওয়ামী লীগের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আলোচনা সভার আয়োজন করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ সময় তীব্র যানজটের পাশাপাশি বৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায় যাত্রীদের। দীর্ঘক্ষণ গাড়িতে বসে না থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাওয়ার পথও বন্ধ হয়ে যায়। আবার অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজেও গাড়িতে উঠতে পারেননি। ভিজে ভিজেই পায়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দেন অনেকে। অন্যদিকে যারা বাসে উঠতে পেরেছেন তাদেরও কম ভোগান্তি পোহাতে হয়নি। ভেবসা গরমের মধ্যে বসে থাকতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন ছাত্রী ও মহিলা যাত্রীরা।
বোরোর পর আমনেও বন্যার ধাক্কা- দৈনিক প্রথম আলো

বোরোর পর এবার আমন ও আউশে বন্যার বড় ধাক্কা লেগেছে। বোরোতে শুধু হাওরের ফসল ডুবে নষ্ট হয়েছিল। আর এবার দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে মাঠের ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ধানের সঙ্গে ডুবেছে সবজিও। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ৪০ জেলায় ৬ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৪ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে এবার প্রতি হেক্টর জমিতে সাড়ে তিন টন চাল উৎপাদন হবে বলে আশা করা হয়েছিল। সেই হিসাবে তলিয়ে যাওয়া জমিতে অন্তত ২৩ লাখ টন চাল হওয়ার কথা ছিল। এর অর্ধেক ধানও নষ্ট হলে এবার আমন ও আউশে কমপক্ষে ১০ লাখ টন চাল পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে বোরো মৌসুমে হাওরে ১০ লাখ টন চাল কম হয়েছিল। তবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে তা ২০ লাখ টন এবং চালকল মালিক সমিতির হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ৪০ লাখ টন।
সরকারি জরিপ: অধিকাংশ শিক্ষক সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরি করতে পারেন না- দৈনিক ইত্তেফাক

সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি প্রণয়নের ৭ বছর চলছে। তবে এখনও এ পদ্ধতি নিয়ে বিপাকে শিক্ষার্থী অভিভাবকরা। শুধু তাই নয়, রীতিমতো শিক্ষকরাও এ পদ্ধতি এখনও আয়ত্ত করতে পারেননি। যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষকরা।
শিক্ষকরা যে এ পদ্ধতি এখনও বুঝছেন না তার প্রমাণ মেলে গত মে মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত সরকারি এক জরিপে। এই জরিপে দেখা যায়, এখনও দেশের ৫২ ভাগ শিক্ষক নিজে স্কুলের পরীক্ষার জন্য প্রশ্ন করতে পারেন না। এর ৩০ ভাগ শিক্ষক অন্য শিক্ষকের সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন করেন। আর বাইরে থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে পরীক্ষা নেন ২২ ভাগ শিক্ষক।
সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বরিশাল এবং ময়মনসিংহে। বরিশালের মাত্র ২০ ভাগ শিক্ষক নিজে প্রশ্ন করতে পারেন। বরিশালের ৫৫ ভাগের বেশি শিক্ষক বাইরে থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেন। বাকি শিক্ষকরা অন্য শিক্ষকের সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন করেন। আর ময়মনসিংহের মাত্র ২৩ ভাগ শিক্ষক প্রশ্ন করতে পারেন। ৪৩ ভাগ শিক্ষক প্রশ্ন করতে অন্য শিক্ষকের সহায়তা নেন। অবশিষ্ট ৩০ ভাগের বেশি শিক্ষক বাইরে থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে পরীক্ষা নেন।
ঘর নাই খাওন নাই বাঁচমু কি করে?- দৈনিক মানবজমিন

দিনের পর দিন কাটছে বাঁধে, আশ্রয়কেন্দ্রে। ঘরহীন, ঘুমহীন। খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তারা। বানের পানি কমছে কিন্তু দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছে না। নতুন করে কিভাবে গড়বেন নিজেদের ঘর। বন্যা কেড়ে নিয়েছে ঘর, ঘরের আসবাবপত্রসহ সর্বস্ব। বিমর্ষ চেহারা নিয়ে সাহায্যের আশায় পথ চেয়ে থাকেন তারা। সরজমিন ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে জামালপুর জেলার বন্যাকবলিত মেলান্দহ ও ইসলামপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
মেলান্দহ উপজেলার ইমামপুরে স্বামীর তৈরি ছোট্ট একটি ঘরে তিন সন্তানকে নিয়ে ভালোই কাটছিল বিধবা ওহিলা বেগমের। গত ১০ দিন আগের সকালে চোখের সামনেই তার সর্বস্ব কেড়ে নেয় বন্যা। ঘরের রান্নার বাসন থেকে আসবাবপত্র ভেসে যায় পানিতে। ঘরটিও ভেঙে পড়ে। বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই বৃদ্ধা।
ভারত-বাংলাদেশ রেল ট্রানজিট প্রস্তাব: চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে চায় ভারত- দৈনিক ইনকিলাব

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিলোনিয়া থেকে ফেনী পর্যন্ত প্রস্তাবিত রেললাইন সংযোগ কাজ শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভারতের অংশে কাজ শুরু করে দিয়েছে ভারত সরকার। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তাবিত রেললাইনের সমীক্ষার জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ অনুমোদন দিয়েছে। গত শুক্রবার ভারতের রাজ্য মহাকরন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা থেকে প্রকাশিত একাধিক দৈনিক পত্রিকা সংবাদ শিরোনাম করেছে।ভারতের বিলোনিয়া প্রেসক্লাবের শিবরাজ চক্রবর্তী নামের এক সাংবাদিক জানান, আগরতা সাব্রুম রেললাইন যাচ্ছে ভারতের বিলোনিয়া হয়ে বাংলাদেশের পরশুরাম হয়ে ফেনী পর্যন্ত। যার দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার। ফেনী পর্যন্ত ভারতীয় অর্থেই রেললাইন স্থাপন হচ্ছে বলে জানিয়েছে ত্রিপুরার শাসক। ভারতের অংশে কাজ শুরু হলেও বাংলাদেশের অংশে কোন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। ভারত-ফেনী সীমান্তে বিলোনিয়া স্থলবন্দরের পর এবার বিলোনিয়ায় রেল ট্রানজিট করতে যাচ্ছে ভারত। সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ আন্তঃদেশীয় রেলওয়ে সংযোগ কমিটির বৈঠকে ফেনী বিলোনিয়া রেল রুটটি সংস্কার ও পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে ভারত এ সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে।
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর
ডোকলামের সীমান্ত সমস্যা মিটবে, আশা রাজনাথের- দৈনিক আনন্দবাজার
ডোকলামে এখনও দু’প্রান্তে সঙ্গিন উঁচিয়ে দু’পক্ষ। তবুও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের দাবি, দ্রুত মিটবে ডোকলামের সীমান্ত সমস্যা। কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, চলতি বছরের শেষে চিনে কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস রয়েছে। সেখানেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। ভারত আশা করছে, বেজিং-এ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই সীমান্ত পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
তবে এই মুহূর্তে অন্তত ভারত-চিনের স্নায়ুযুদ্ধ চরমে। যার জেরে ১৫ অগস্ট লাদাখের প্যাংগং হ্রদের কাছে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে ভারতীয় ও চিনা বাহিনী। ওই ঘটনা নিয়ে তখন কোনও মন্তব্য করেনি বেজিং। কিন্তু আজ চিনা বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, প্যাংগং হ্রদের কাছে ভারতীয় জওয়ানদের সঙ্গে প্রবল লড়াইয়ের ফলে কয়েক জন চিনা জওয়ান আহত হয়েছেন। বেজিংয়ের দাবি, চিনা জওয়ানেরা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর নিজেদের এলাকাতেই টহল দিচ্ছিলেন। ভারতীয় জওয়ানেরাই তাঁদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েন। চিনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র হুয়া চুনইংয়ের বক্তব্য, ‘‘প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় শান্তি বজায় রাখতে দু’দেশের সমঝোতা রয়েছে। এমন ঘটনায় স্থিতাবস্থা নষ্ট হয়। চিন নানা স্তরে এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছে।’’
সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতে মমতার পাশেই কানহাইয়া- দৈনিক আজকাল

বিজেপি–র সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করতে প্রয়োজনে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির হাত শক্তিশালী করতে হবে। সোমবার মেদিনীপুর স্পোর্টস কমপ্লেক্সে সোজাসাপটা বলে দিলেন দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সংসদ সভাপতি কানহাইয়া কুমার। বলেন, ‘স্বাধীনতা আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে বাংলার। সারা দেশে হিংসার আগুন জ্বালিয়ে বিজেপি–র এখন চোখ পড়েছে বংলার ওপর। তাই এখানে বসিরহাট, বাদুড়িয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। আমি একজন বামপন্থী। তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে আমাদের নীতি–আদর্শ না মিললেও, উনি গেরুয়া সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পেরেছেন। আমরা যা চেয়েছিলাম, উনি তা করতে পেরেছেন। বংলায় যেন কোনও দিন বিজেপি–র মতো সাম্প্রদায়িক, দাঙ্গা সৃষ্টিকারী দল তাদের ভিত শক্ত করতে না পারে। আমাদের সকলকে তা সুনিশ্চিত করতে হবে।’ এদিন কানহাইয়া কুমার তাঁর ভাষণে বলেন, বিজেপি সভাপতি ২০১৯ সালে এখান থেকে ২২টি আসনের স্বপ্ন দেখছেন। সেই স্বপ্ন কোনও দিন সফল হবে না। বরং যে দু–একটি আছে, তাও তাঁরা টিকিয়ে রাখতে পারবেন না। ওঁরা ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করছেন। দেশের স্বাধীনতা নিয়ে সঙ্ঘ পরিবার সওদা করেছে। ধর্মান্ধতা, জাতপাতের রাজনীতি, দেশ জুড়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য, লিঙ্গবৈষম্য, ঋণনির্ভর পুঁজিবাদী ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের বন্যার জন্য বিহারের দিকে আঙুল মুখ্যমন্ত্রীর-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতির জন্য ঘুরিয়ে বিহার প্রশাসনের দিকে আঙুল তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। মালদহে বন্যা পরিদর্শনে গিয়ে তাঁর অভিযোগ বিহারের পূর্ণিয়া নদীর বাঁধ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তার ফলে উত্তরবঙ্গের এই অবস্থা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্র সরকার নদী ও জলাধারগুলি নিয়মিত ড্রেজিং না করাতেই বাংলা ডুবছে। রাজ্যে এপর্যন্ত ১৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। উত্তরবঙ্গের প্রায় ১.৫ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। গুজরাটের মতো অন্য রাজ্যগুলিকে সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মহানন্দা-ফুলহারের জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় সোমবার বেলা বাড়তেই বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয় মালদহে। জল ঢুকে পড়ে ওল্ড মালদহ ও ইংলিশবাজার পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে। বাঁধ ভেঙেছে রতুয়ায়। উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এদিন একাধিক ত্রাণ শিবিরে যান।
পাহাড়ে গ্রেনেড ছুঁড়তে নামানো হচ্ছে যুবকদের- দৈনিক বর্তমান

কাশ্মীরসহ বিভিন্ন জায়গায় সেনাবাহিনীর উপর গ্রেনেড ছোঁড়ার জন্য অল্পবয়সিদের ব্যবহার করছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। সেই ‘মডেল’ই পাহাড়ে কার্যকর করতে চাইছে মোর্চা নেতৃত্ব। লক্ষ্য একটাই, কিশোর বা যুবকদের কাজে লাগিয়ে পাহাড়কে দীর্ঘদিন অশান্ত রাখা। গোয়েন্দারা এমনই সব চাঞ্চল্যকর তথ্য পাচ্ছেন। বিশেষ সূত্রে তাঁরা জেনেছেন, মোর্চার শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাই নব্য বাহিনী নামিয়ে ঝিমিয়ে পড়া আন্দোলনে গতি আনতে চাইছে মোর্চা।
আসলে পাহাড়ে একদিকে যেমন ধরপাকড় চলছে, তেমনই বিভিন্ন জায়গার দখল নিয়েছে পুলিশ। মূলত এই দুটি কারণে উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে জঙ্গিদের আসা-যাওয়া কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। নাগাল্যান্ডের জঙ্গি সংগঠন এনএসসিএনের (খাপলাং গোষ্ঠী) যত সদস্য রয়েছে, তা দিয়ে পাহাড়ের সব জায়গায় আন্দোলন চালানো মুশকিল। এই কারণেই স্থানীয় যুবক-কিশোরদের বাছা হয়েছে। গোয়েন্দাদের কাছে খবর, পাহাড়ে আরও পাঁচ থেকে ছ’টি জায়গায় হামলার পরিকল্পনা করেছে তারা।
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২২