এবারো ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে : ওবায়দুল কাদের
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৬ আগস্ট শনিবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষ বহনকারী যানবহনের ভিড়ে মহাসড়কে তীব্র যানজটের খবর দিয়েছে আজকের প্রায় সবগুলো দৈনিক। এছাড়া, কুরবানির পশুর হাটের খবরও পত্রিকাগুলোতে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকার দৈনিকগুলোর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম হচ্ছে:
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- মহাসড়কে তীব্র যানজট- দৈনিক যুগান্তরের শীর্ষ শিরোনাম
- এবারো ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে : কাদের- দৈনিক নয়াদিগন্ত
- কোরবানির পশুর দাম নিয়ে শঙ্কা- দৈনিক যায়যায়দিনের শীর্ষ শিরোনাম
- আবার জ্বলছে রাখাইন- দৈনিক মানবজমিন
- ২০ লাখ শিশু হামের ঝুঁকিতে- দৈনিক প্রথম আলো
- নির্ধারিত সময়ে বোনাস দেয়নি দুই তৃতীয়াংশ গার্মেন্টস- দৈনিক ইত্তেফাক
- রাজনৈতিক প্রতিহিংসা- প্রশাসনের ২৭১ জন কর্মকর্তা ওএসডি- দৈনিক ইনকিলাব
- আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসার শিকার প্রধান বিচারপতি: রিজভী- দৈনিক ইত্তেফাক
ভারতের শিরোনাম:
- চলছে সেনা টহল, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে পাঁচকুলা- দৈনিক আনন্দবাজার
- মমতার সর্বদল বৈঠকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত মোর্চার- দৈনিক বর্তমান
- ব্যর্থতার দায়ে খট্টরের গদি টলমল- দৈনিক আজকাল
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
মহাসড়কে তীব্র যানজট- দৈনিক যুগান্তরের শীর্ষ শিরোনাম
যাত্রী ও কোরবানির পশুবাহী গাড়ির চাপ বৃদ্ধিসহ নানা কারণে মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যানজটে আটকা পড়েন হাজার হাজার যাত্রী, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিক। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৫ কিমি., ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৩০ কিমি. ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট দেখা যায়।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কের সংযোগস্থলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ওই দুই মহাসড়কের উভয় দিকে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর পর্যন্ত চার দিন ধরেই যানজটের কবলে পড়ছেন যাত্রীরা। এছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কোনাবাড়ী-চন্দ্রা এলাকায় যানজট দেখা গেছে। যানজটের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। অপেক্ষা করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ১ ঘণ্টার স্থলে সময় লাগছে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। যানজটে আটকা পড়ে প্রচণ্ড রোদে ও খাবার-পানি সংকটে ৫টি গরু মারা গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এবারো ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে : কাদের- দৈনিক নয়াদিগন্ত
এবারো মানুষের ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ঈদের ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়ক বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, যেকোনো অবস্থায় আমরা ঈদে সড়ক ব্যবহার উপযোগী ও সচল রাখব। এ জন্য পুলিশ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সবার সাথে কথা হয়েছে। তিনি বলেন, বৃষ্টিপাতকে অজুহাত দেখিয়ে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা বিঘ্নিত হবে, এটা আমি বলতে চাই না। বৃষ্টি হলেও চিকিৎসা আছে, বৃষ্টি চলাকালে রাস্তা মেরামতে আমাদের প্রকৌশলীদের মাঠে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কোরবানির পশুর দাম নিয়ে শঙ্কা- দৈনিক যায়যায়দিনের শীর্ষ শিরোনাম
দেশে কোরবানিযোগ্য পর্যাপ্ত পশু থাকলেও বন্যার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বেপারিরা নির্ধারিত সময় তা গৃহস্থ ও খামারিদের কাছ থেকে কিনতে পারেনি। বানের পানিতে টান ধরার পর শেষ সময়ে বেপারিরা গরু-মহিষ-ছাগল সংগ্রহে তাড়াহুড়া করায় কোরবানির পশুর দরদাম কী হবে তা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতারা নানামুখী সংশয়-শঙ্কা ও দোটানায় রয়েছেন।
প্রতিবছর কোরবানির ঈদের ২-৩ সপ্তাহ আগে বেপারিরা গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন বাড়ি ও খামার ঘুরে গরু কিনে তা ঢাকাসহ বড় বাজারগুলোতে বিক্রির উদ্যোগ নিলেও নানা প্রতিবন্ধকতায় এবার এ ছক পুরোপুরিই পাল্টে গেছে। বিশেষ করে গরু মোটাতাজাকরণ ও লালন-পালনের জন্য বিখ্যাত উত্তরাঞ্চলের বন্যাকবলিত ২১ জেলায় সবচেয়ে বেশি হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সেখানকার কোরবানির পশুর ঘাটতি পূরণে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামারি ও গরু ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভরশীল হলেও এবার তাতেও ছোটখাটো বেশকিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজিতে কোরবানির পশুর দরদাম কি হবে তা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতারা নানামুখী সংশয়-শঙ্কা ও দোটানায় রয়েছে।
আবার জ্বলছে রাখাইন- দৈনিক মানবজমিন
আবার আগুন জ্বলছে মিয়ানমারের রাখাইনে। বাড়ির পর বাড়িতে আগুন জ্বলছে। জীবন বাঁচাতে ছুটছে নির্যাতিত, ভাগ্য বিড়ম্বিত রোহিঙ্গা মুসলিমরা। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের আবাসনের প্রতিটি স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে সোনবাহিনী। নিহতদের শোকে বাকরুদ্ধ আত্মীয়-স্বজন। চারদিকে কান্নার শব্দ। স্বজনের লাশ পিছনে ফেলে রুদ্ধশ্বাসে পালাচ্ছে মানুষ। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সর্বশেষ সহিংসতার পর এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জাই ডি পাইন নামের একটি গ্রামে সমবেত হয়েছেন আতঙ্কিত প্রায় ৭০০ রোহিঙ্গা। তাদের একজন বলেছেন, চারদিকে বাড়িতে আগুন। জীবন বাঁচাতে আমরা পালাচ্ছি। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করেন মোহাম্মদ শফি। তিনি বলেছেন, তার এক কাজিন অবস্থান করছেন মিয়ানমারে। তিনি টেলিফোনে বলেছেন, যেদিকে চোখ রাখা যায় সেদিকেই সেনাবাহিনীর উপস্থিতি।
২০ লাখ শিশু হামের ঝুঁকিতে- দৈনিক প্রথম আলো
দেশের প্রায় ২০ লাখ শিশু হাম হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। এর বড় কারণ, টিকা না পাওয়া। আবার নবজাতকেরা হেপাটাইটিস ‘বি’র টিকাও পাচ্ছে দেরিতে। ফলে এই মরণ ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এসবই বাংলাদেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে বড়সড় ফাঁকফোকরের চিত্র।
সম্প্রতি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের হাম হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইপিআই নামে পরিচিত টিকাদান কর্মসূচিটির দুর্বলতা এর বড় কারণ। হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাস থেকে যকৃতের জীবন বিপন্নকারী সংক্রমণ হতে পারে। এর টিকা দেওয়ার কথা জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। কিন্তু বাংলাদেশে এটা দেওয়া হচ্ছে জন্মের ষষ্ঠ সপ্তাহে। হাম ও হেপাটাইটিস-‘বি’ ভাইরাসের কারণে দেশে বছরে কত মানুষের মৃত্যু হয়, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) একাধিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে ইপিআইয়ের আরও কিছু দুর্বলতা ধরা পড়েছে। সাধারণভাবে শতকরা ১০টি শিশু এক বা একাধিক টিকা পায় না। সরকার স্বাস্থ্য খাতের সাফল্য হিসেবে এই কর্মসূচির উদাহরণ দেয়। তবে মোট ৪৩ জেলায় ইপিআইয়ের কোনো না কোনো ঘাটতি আছে। ৯টি জেলার পরিস্থিতি ২০১৪ সালের তুলনায় খারাপ হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে বোনাস দেয়নি দুই তৃতীয়াংশ গার্মেন্টস- দৈনিক ইত্তেফাক
টাইনাস নামে মিরপুরের একটি গার্মেন্টস কারখানায় বেতন-বোনাস নিয়ে সমস্যা চলছিল। কারখানাটি শ্রমিক ও কর্মীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কারখানার মালিককে নিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালায়। গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল। শুধু ওই কারখানা নয়, বেতন-বোনাস ইস্যুতে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর, আশুলিয়া ছাড়াও সাভারের অন্যান্য এলাকা, নারায়ণগঞ্জ, এবং চট্টগ্রামের বেশ কিছু কারখানায় ছোট-বড় সমস্যা রয়েছে। কিছু সমস্যা সমাধান হলেও যুক্ত হচ্ছে নতুন কারখানা।
ঈদুল আজহা’র আগে ২৪ আগস্টের মধ্যে (গত বৃহস্পতিবার) গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের ঈদ বোনাস দিতে সরকারি নির্দেশনা থাকলেও দুই তৃতীয়াংশ গার্মেন্টস কারখানাই বোনাসের অর্থ পরিশোধ করেনি। শিল্পাঞ্চল পুলিশের মহাপরিচালক নওশের আলী ইত্তেফাককে বলেন, এখন পর্যন্ত এক তৃতীয়াংশ কারখানা ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে। গত ১৬ আগস্ট স্বরাষ্ট্র শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মালিক ও শ্রমিক নেতাদের এক বৈঠকে ২৪ আগস্টের মধ্যে গর্মেন্টস শ্রমিকদের বোনাসের অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি ঈদের আগে চলতি মাসের বেতনের ৭৫ শতাংশ পরিশোধের জন্য অনুরোধ করা হয় মালিকপক্ষকে। শ্রমিক নেতারা বলছেন, বাস্তবে এক তৃতীয়াংশ কারখানায়ও এখনো বোনাসের অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা- প্রশাসনের ২৭১ জন কর্মকর্তা ওএসডি- দৈনিক ইনকিলাব
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে প্রশাসনে ২৭১ জন কর্মকর্তা বর্তমানে ওএসডি। এর মধ্যে সচিব একজন, অতিরিক্ত সচিব ৩৫ জন, যুগ্ম-সচিব ৬০ জন, উপ-সচিব ৫৭ জন, সিনিয়র সহকারী সচিব ৫০ জন ও সহকারী সচিব ২৬ জন। এ ছাড়া অন্যান্য ক্যাডারে একই অবস্থা রয়েছে। তবে সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ওএসডি বেশি নাই যা আছে সামান্য। এদিকে অকারণে অনেক ভালো কর্মকর্তাকে ওএসডি করে রাখা হচ্ছে। তাদের দফতর নেই, কাজ নেই, বেতন দেয়া হচ্ছে নিয়মিত। ওএসডি কর্মকর্তাদের পেছনে খরচ কোটি কোটি টাকা।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিভিন্ন জেলায় এডিসি ও ইউএনও দায়িত্ব পাল করা কর্মকর্তারা এখন সচিব থেকে শুরু করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন, আর ওই সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পিএস ও এপিসসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ক্ষমতাবান কর্মকর্তারা ছিলেন তারা বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তাকে ২০০৯ সালের নভেম্বর থেকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে রাখা হয়। প্রায় ১১ বছরের বেশি সময় ধরে তার কোনো কাজ নেই। দফতরও নেই। আবার অনেকই বাধ্যতামূলক অবসর নিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মাঠ প্রশাসনে দায়িত্ব থাকা অনেক কর্মকর্তারা বর্তমান সরকারের সচিব ও সিনিয়র সচিব পদে দায়িত্ব পালন করছে। আর বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব সালেহ আহমেদসহ অনেক কর্মকর্তা ওএসডি আছেন। এ ছাড়া সর্বশেষ ওএসডি করা হয়েছে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো: মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারীকে।
আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসার শিকার প্রধান বিচারপতি: রিজভী- দৈনিক ইত্তেফাক
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে তার আয়-ব্যয়ের তদন্ত শুরু করেছে এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংক। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ও পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে মন্ত্রী-এমপিদের আক্রমণাত্মক বক্তব্যে সব মহলে যখন সমালোচনার ঝড় উঠেছে তখনই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সরকারের প্রতিশোধ গ্রহণের পালা শুরু হয়েছে। তিনি এখন আওয়ামী লীগের কাঠগড়ায়।
শুক্রবার রাজধানীর নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলকে হেনস্তা ও হয়রানি করার জন্য বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নামে দুদক এবং এনবিআরকে ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দায়ের করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করায় এটি আরো স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, সরকার যাদেরকে ‘বিরোধী পক্ষ’ মনে করে তাদের বিরুদ্ধেই দুদক-এনবিআর এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে। রিজভী বলেন, বন্যার পানিতে ভাসছে ঘরবাড়ী, আসবাবপত্র। বানভাসি মানুষ সব হারিয়েছেন। অথচ আওয়ামী লীগের নেতারা ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়েই তাদের ত্রাণ কাজের সমাপ্তি টানছেন। বানভাসি দুঃখী মানুষের প্রতি এটি নির্মম পরিহাস। আর হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের কারণে দেশের ৯০ ভাগ সড়ক-মহাসড়ক এখন খানাখন্দে ভরা। খানাখন্দ ও ভাঙা সড়কে মানুষ কিভাবে এই ঈদে বাড়ি যাবে তা নিয়ে সবাই চিন্তিত।
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর
চলছে সেনা টহল, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে পাঁচকুলা- দৈনিক আনন্দবাজার
পাঁচকুলার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। শুক্রবার রাতে নতুন করে কোনও হিংসা ছড়ায়নি সেখানে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক ডেরা-র সদর দফতর সিরসাতেও। হরিয়ানা রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে যাতে নতুন করে হিংসা ছড়াতে না পারে তার জন্য নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। রাতভর পাঁচকুলায় টহল দিয়েছে সেনা। তবে কার্ফু এখনও জারি রয়েছে। ২ কোম্পানি সেনা এবং ১০ কোম্পানি আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে সেখানে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকার বাসিন্দাদের ঘরে থাকার অনুরোধ করেছে পুলিশ।
ধর্ষণ মামলায় রাম রহিমের বিরুদ্ধে আদালতের রায় শোনার পরই ডেরা ভক্তদের তাণ্ডবে শুক্রবার অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল হরিয়ানার পাঁচকুলা। ডেরা ভক্তদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সরকারি দফতরে আগুন, ভাঙচুর চালায় রাম রহিমের অনুগামীরা। এই ঘটনায় মৃত্যু হয় ৩০ জনের। আহত হন ২৫০ জন।
মমতার সর্বদল বৈঠকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত মোর্চার- দৈনিক বর্তমান
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দিচ্ছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। শুক্রবার মংপুতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মোর্চার সহকারী সাধারণ সম্পাদক বিনয় তামাং। তবে এই বৈঠকে যোগ দেওয়া নিয়ে মোর্চার সঙ্গে গোর্খাল্যান্ড কো-অর্ডিনেশন কমিটির (জেএমসিসি)মতবিরোধ শুরু হয়েছে। পাহাড়ে আন্দোলন পরিচালনার জন্য সব দলের প্রতিনিধিকে নিয়ে মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং এই কমিটি গঠন করেন। এদিন কালিম্পংয়ে জেএমসিসিরও বৈঠক ছিল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই কমিটি সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে শর্ত আরোপ করেছে। তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানালে তবেই তারা বৈঠকে যোগ দেবে।
এদিকে, শান্তি ফেরানোর উদ্যোগের মধ্যে পাহাড়ে বিস্ফোরণের বিরাম নেই। বৃহস্পতিবার রাতে কালিম্পংয়ের পেশক রোডে একটি সেতুর কাছে বিস্ফোরণ হয়। সেতুটি পেশক চা বাগান ও তিস্তা বাজারের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে। সেতুর অবশ্য তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি। কেউ হতাহতও হয়নি। পুলিশের ধারণা, সেতুটি উড়িয়ে দেওয়ারই ছক ছিল। পুলিশ রাতেই অবশ্য পেডং থেকে যুব মোর্চার সভাপতি পালদেন ভুটিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে কালিম্পংয়ে পুলিশ ফাঁড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ব্যর্থতার দায়ে খট্টরের গদি টলমল- দৈনিক আজকাল
চরম প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে এবার গদি যেতে পারে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরের।
গুরমিত রাম রহিম সিং দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সমর্থকেরা যে তাণ্ডব চালাবে, সেই মর্মে আগেভাগেই পাঞ্জাব ও হরিয়ানাকে সতর্ক করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। প্রয়োজনে সেনাও মোতায়েন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। জবাবে দুই রাজ্য সরকারের তরফেই বলা হয়েছিল, প্রয়োজনীয় সবরকমের ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, পাঞ্জাবের কংগ্রেস সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেও হরিয়ানার বিজেপি সরকার ভয়ঙ্করভাবে ব্যর্থ। এবং তিন বছরে এই নিয়ে তৃতীয়বার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত ব্যর্থ হলেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী। আগের দু’বার জাঠ সংরক্ষণ নিয়ে, আর এবার রাম রহিমের ঘটনায়।
অশান্তি শুরু হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সরাসরি জানতে চান হামলার সম্ভাবনা জানা সত্ত্বেও কেন রাজ্য সরকারের এই ব্যর্থতা? খট্টরের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সন্তুষ্ট হননি। তারপরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। রাজনাথ বৈঠক ডাকেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের শীর্ষ কর্তাদের। এরপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকেরা দিল্লিতে বসেই নির্দেশ দিতে শুরু করেন আইন–শৃঙ্খলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হরিয়ানার সরকারি আধিকারিকদের।
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৬