স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না আসা পর্যন্ত বন্যার্তদের পুনর্বাসন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৭ আগস্ট রোববারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- বন্যার্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না আসা পর্যন্ত পুনর্বাসন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক ইনকিলাব
- রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলি- দৈনিক ইত্তেফাক
- ব্যাংকের দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাট: পরিচালনা পর্ষদই ৯০ শতাংশ দায়ী- দৈনিক যুগান্তরের শীর্ষ শিরোনাম
- সরকারের হিসাবেই চালের মজুত ঘাটতি ১০ লাখ টন- দৈনিক প্রথম আলো
- পাল্টে যেতে পারে দলটির কর্মসূচির ধরন: খালেদা জিয়া ফিরলে নতুন পরিকল্পনা- দৈনিক নয়াদিগন্ত
- ওবায়দুল কাদের: বিএনপি ইস্যু খুঁজছে- দৈনিক মানবজমিন
- আশকোনা ক্যাম্পে হজযাত্রীদের বিক্ষোভ: ৬ এজেন্সির বিরুদ্ধে জিডি- দৈনিক যায়যায়দিন
- 'চা-পানি' ছাড়া জিডি হয় না- দৈনিক সমকালের ব্যানার হেডিং
ভারতের শিরোনাম:
- হাইকোর্ট বিঁধল মোদীকেও: ‘উনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী, বিজেপির নন’- দৈনিক আনন্দবাজার
- ফের বিদেশ সফরে রাহুল গান্ধী, থাকবেন না লালুর সমাবেশে- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- এখনও জমেনি পুজোর বাজার, মাস শুরুর আশায় দিন গুনছেন দোকানিরা- দৈনিক বর্তমান
- ডেরা গুন্ডাদের সঙ্গে ছিল একে–৪৭, রাইফেল, পিস্তল!- দৈনিক আজকাল
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
বন্যার্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না আসা পর্যন্ত পুনর্বাসন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক ইনকিলাব

দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই্ সরকারের দায়িত্ব, আমরা তা’ পালন করেছি। সব সময় আওয়ামী লীগ দুর্গত মানুষের পাশে ছিল আছে থাকবে। আগামী ২০৪১ সালে বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তিনি বলেন, নদী মার্তৃক বাংলাদেশে নৌকার প্রয়োজন সব সময় ছিল, আছে থাকবে, নৌকা ছাড়া গতি নাই, তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতার প্রয়োজনেই আগামী নির্বাচনেও নৌকায় ভোট দিতে হবে।
তিনি গতকাল শনিবার বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় স্থানীয় ডিগ্রী কলেজ ময়দানে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। ত্রাণ বিতরণের জন্য সমাবেশটি আয়োজন করা হলেও বিপুল লোক সমাগমের কারণে সেটি একটি বিশাল জনসভায় রুপ নেয়। সমাবেশে শেখ হাসিনা বলেন, ৮১ তে দেশে ফেরার পর থেকেই যখন ক্ষমতায় ছিলামনা তখন থেকেই দেশের সব দুর্যোগেই সব সময় মানুষের পাশে দাঁিড়য়েছি। ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দেখি ভান্ডার শুন্য। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরও একই অবস্থা। আমাদের দক্ষ পরিচালনায় ইতোমধ্যেই বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেলের স্বীকৃতি পেয়েছে। বিদ্যুতের উৎপাদন ১৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছি। এবারের বন্যার শুরু থেকেই ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয় ২৪ ঘন্টার জন্য খোলা রেখেছি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও সেল খোলা হয়েছে। চালের সংকট যাতে না হয় সেজন্য এলসি মার্জিন ২৮ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। প্রয়োজন মেটাতে সরকারিভাবে ১৫ লক্ষ মেঃটন চাল আমদানীর ব্যবস্থা হয়েছে। আগামী ৩ মাসের জন্য ৫০ লাখ দরিদ্র মানুষের জন্য ১০ টাকা কেজিতে চাল বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেখানে একজন সর্বোচ্চ ৩০ কেজি করে চাল কিনতে পারবেন।
রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলি- দৈনিক ইত্তেফাক

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে হতাহতের পর সেখানে কম্বিং অপারেশন শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে রাখাইন ছেড়ে পালাতে শুরু করেছে রোহিঙ্গারা। এদের অনেকেই ভিড় করছে বাংলাদেশ সীমান্তে। এরই মধ্যে গতকাল বাংলাদেশ সীমান্তে আশ্রয় নেওয়া কিছু রোহিঙ্গাকে লক্ষ্য করে মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষীরা গুলি ছুড়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানানোর পর মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) দুঃখ প্রকাশ করেছে। এদিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে গতকাল চিকিত্সাধীন মোহাম্মদ মুছা (২২) নামে এক রোহিঙ্গা মারা গেছেন। মোঃ মোক্তার (২৭) নামে আরেক রোহিঙ্গা চিকিত্সাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও ব্যাপকহারে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টার কারণে ঢাকায় মিয়ানমারের দূতকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা।
গত বছরের অক্টোবরের পর আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। শুক্রবার মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে ৮৯ জন নিহত হয়েছেন। দ্য আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (এআরএসএ) এই হামলার দায় স্বীকার করে আরো হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে। সংঘর্ষের পর থেকে রাখাইনে কম্বিং অপারেশন চলছে। এ কারণে প্রাণভয়ে রাখাইন ছাড়ছে রোহিঙ্গারা।
ব্যাংকের দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাট: পরিচালনা পর্ষদই ৯০ শতাংশ দায়ী- দৈনিক যুগান্তরের শীর্ষ শিরোনাম

ব্যাংকের দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের ঘটনার জন্য ৯০ শতাংশ দায়ী পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ ব্যবস্থাপনা। বেসিক ব্যাংক, হলমার্ক ও বিসমিল্লাহ গ্রুপের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা পর্যালোচনা করলে তা বেরিয়ে আসবে। এসব ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটরিং খুবই দুর্বল।
শনিবার ‘রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের অবস্থা পর্যালোচনা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সেখানে আরও বলা হয়, ব্যাংকের দুর্নীতি বন্ধে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের অডিটের আওতায় আনতে হবে। ব্যাংকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও পরিচালনা পর্ষদকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এ কর্মশালার আয়োজন করে সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমান।
কর্মশালায় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ঐতিহ্য দিয়ে ব্যাংক পরিচালনা চলবে না। কারণ প্রতি বছর মূলধন ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকগুলোকে মোটা অঙ্কের তহবিল দেয়া হয়। এতে সরকারকে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। এই মূলধন ঘাটতির পেছনে দুর্নীতি আছে। এর চেয়ে বেশি আছে ব্যাংকের অপচয়ও। অপচয় কমাতে হবে। তিনি বলেন, ঋণ নিয়ে কোথায় ব্যবহার করা হচ্ছে, তা দেখার বিষয় নয়। প্রতি মাসে কিস্তির টাকা ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে কিনা- সেদিকে নজর রাখতে হবে।
সরকারের হিসাবেই চালের মজুত ঘাটতি ১০ লাখ টন- দৈনিক প্রথম আলো

দেশে এখন খাদ্যের মজুত কম আছে ১০ লাখ মেট্রিক টন। বোরো উৎপাদনও বেশ হ্রাস পেয়েছে। বাজারে চালের দামও বেড়েছে ১৭ শতাংশ। এতে দরিদ্র ও শহরের ভোক্তাদের চাল কেনার খরচ মেটানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
দেশের খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে এই মূল্যায়ন সরকারেরই। প্রকাশ্যে দেশে খাদ্যের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করা হলেও সরকারি নথিতেই খাদ্যের সংকটের কথা এভাবে বলা হয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে সংকট মেটাতে দুস্থদের খাদ্য কর্মসূচি ভিজিএফ খাতের চালের বরাদ্দ ৪ লাখ ২০ টন থেকে কমিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টন করা হয়েছে। আবার বন্যাদুর্গত এলাকার বাইরে ভিজিএফ ও জিআর খাতে ত্রাণ বিতরণ ছাড়া সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সম্প্রতি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির এক বৈঠকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয় বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
পাল্টে যেতে পারে দলটির কর্মসূচির ধরন: খালেদা জিয়া ফিরলে নতুন পরিকল্পনা- দৈনিক নয়াদিগন্ত

লন্ডন থেকে চিকিৎসাশেষে বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে বেশ কিছু নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চিন্তা করছে বিএনপি। সহায়ক সরকারের রূপরেখা তুলে ধরার পাশাপাশি এই ইস্যুতে সরকারের ওপর চাপ তৈরির জন্য কর্মসূচির ধরনও পাল্টে ফেলতে পারে দলটি। বছর দুয়েক ধরে সাদামাটা কর্মসূচিতে থাকা বিএনপি নির্বাচনকে মূল লক্ষ্য ধরে এখন সামনে এগোচ্ছে। আসছে ডিসেম্বর থেকে কিংবা নতুন বছরে সত্যিকারভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে চায় তারা। দলটির সিনিয়র নেতারা বলেছেন, লেভেল প্লেয়িংফিল্ড আদায় করেই তারা একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন। এজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাংগঠনিক কৌশলও প্রয়োগ করা হবে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার কিংবা সহায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। এখন সরকার আপসে এ ব্যাপারে রাজি হলে সহায়ক সরকারের বিষয়ে আমাদের নতুন করে প্রস্তাব দিতে হবে না। তবে এর প্রধান কে হবেন তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, সমঝোতা হতে পারে। এর বাইরে গেলে আমরা বাধ্য হবো আন্দোলনে। যদি আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারি, তাহলে ২০১৪ সালের উদাহরণ আছে। এ ঝুঁকি সরকার আবার নিবে কি না সেটা হচ্ছে বিষয়।
ওবায়দুল কাদের: বিএনপি ইস্যু খুঁজছে- দৈনিক মানবজমিন

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, এবার ভয়াবহ বন্যা এবং প্রবল বর্ষণের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানের সড়কে দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার এ দুরবস্থা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী ওয়াকিবহাল। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে প্রধানমন্ত্রী সচেষ্ট আছেন। সড়ক নিয়ে আমি কারো কোনো অজুহাত শুনতে চাই না। মন্ত্রী বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে যা যা করা প্রয়োজন সবই করতে হবে। এবার ঈদযাত্রায় সড়ক-মহাসড়ক সচল রাখাটাই আমাদের চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ যে কোনো মূল্যে আমাদেরকে সফলভাবে অতিক্রম করতে হবে। আমি সবসময় রাস্তায় আছি, আপনাদেরকেও ২৪ ঘণ্টা রাস্তায় থাকতে হবে। মন্ত্রী গতকাল দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার সংলগ্ন হাইওয়ে ইন হোটেলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা জোনের কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন। এসময় তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের সকল সড়ক-মহাসড়কের খোঁজখবর নেন।
আশকোনা ক্যাম্পে হজযাত্রীদের বিক্ষোভ: ৬ এজেন্সির বিরুদ্ধে জিডি- দৈনিক যায়যায়দিন

আজ রোববার ও আগামীকাল সোমবার সৌদি আরবে ১২টি বিশেষ হজ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বিমানের অনুরোধে সাড়া দিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ শনিবার এ অনুমতি দিয়েছে।শনিবার বিকালে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের উপরাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ বিমানের অনুরোধে সাড়া দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। আগামী দুই দিনে ১২টি বিশেষ হজ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
বিমান ১২টি বিশেষ হজ ফ্লাইট পরিচালনায় অনুমতি পাওয়ায় প্রায় তিন হাজার হজযাত্রীর সৌদি আরবে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।এদিকে হজ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতারণার নানা অভিযোগে আশকোনার হজ ক্যাম্পে বিক্ষোভ মিছিল করছেন হজযাত্রীরা। দুপুর ২টার দিকে ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।
মিছিলে প্রতারক হজ এজেন্সির মালিকদের বিচার ও হজে যাওয়ার নিশ্চয়তার দাবি তোলেন হজযাত্রীরা। তারা জানান, মদিনা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল অ্যাভিয়েশন, আল বালাক, সানজিদ ট্রাভেল, ইকো ট্রাভেলসহ কয়েকটি এজেন্সি যাত্রীর কাছ থেকে টাকা নিয়েও টিকিট দেয়নি। এ বছরের হজযাত্রার শেষ মুহূর্তে শুক্রবার এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতারণার নানা অভিযোগ নিয়ে হজযাত্রীরা জড়ো হন আশকোনার হজ ক্যাম্পে। এজেন্সিকে টাকা দিয়েও হজে যেতে না পারার অনিশ্চয়তায় মুষড়ে পড়েছেন তারা।
'চা-পানি' ছাড়া জিডি হয় না- দৈনিক সমকালের ব্যানার হেডিং

বুধবার, দুপুর ১২টা। বাড্ডা থানা থেকে বের হলেন দুই যুবক। তাদের একজনের হাতে একটি কাগজ, জিডির কপি। থানার চত্বর পেরিয়ে মূল সড়কে ওঠার পর তাদের সঙ্গে কথা হয়। থানায় আসার কারণ জানতে চাইলে একজন জানালেন, জিডি করতে এসেছিলেন। যিনি জিডি করেছেন, তার নাম খোরশেদ আলম রাকিব। পাওনা টাকা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার ঝামেলা তৈরি হয়েছে। প্রতিকার চেয়ে আইনি সহায়তার জন্য থানায় এসেছেন। থানায় কী ধরনের সহায়তা পেলেন? জিডি করতে কি টাকা লেগেছে? এসব প্রশ্নের উত্তরে রাকিবের সহজ স্বীকারোক্তি, 'চা-পানি খাওয়ার জন্য তো কিছু টাকা দেওয়া লাগেই। ২০০ টাকা দিয়েছি।'
শুধু বাড্ডা থানা নয়, রাজধানীর অধিকাংশ থানায় জিডি করার জন্য ভুক্তভোগীদের টাকা দিতে হয়। কয়েকটি থানায় সরেজমিনে ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। জিডি বা সাধারণ ডায়েরি করতে থানায় ঘুষ লেনদেনের টাকা পরিমাণে খুব বেশি না হলেও এতে বাহিনীর ইমেজ নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। জিডি করতে আর্থিক লেনদেন বন্ধের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন পুলিশের নীতিনির্ধারকরা। প্রায়ই এসব বন্ধে দেওয়া হয় কঠোর নির্দেশনা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি মাসুদুর রহমান সমকালকে বলেন, জিডি করার জন্য কোনো পুলিশ সদস্য টাকা নিয়েছেন- এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর
হাইকোর্ট বিঁধল মোদীকেও: ‘উনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী, বিজেপির নন’- দৈনিক আনন্দবাজার

প্রধানমন্ত্রী হওয়া ইস্তক আদালতের এমন তোপের মুখে পড়েননি নরেন্দ্র মোদী। গত কাল হরিয়ানায় ডেরা সচ্চা সৌদার ভক্তদের তাণ্ডবে ৩৬ জনের মৃত্যুর পরে আজ মোদীকে কার্যত তাঁর কর্তব্য স্মরণ করিয়ে দিল পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট। বলল, ‘‘উনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বিজেপির নন।’’
ডেরা-প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিংহ ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে গত কাল অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে হরিয়ানা। আঁচ পড়ে লাগোয়া চার রাজ্যেও। আইন-শৃঙ্খলা সামলানোয় ব্যর্থতার প্রধান অভিযোগ অবশ্য হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরের দিকে। যাঁর প্রশাসনকে বিঁধে হাইকোর্টের কার্যনির্বাহী প্রধান বিচারপতি এস সিংহ শ্যারনের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ আজ বলেছে, রাজনৈতিক ফায়দার কথা ভেবেই উত্তেজনা বাড়তে দিয়েছে খট্টর সরকার। এটা ‘রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ’।
বিরোধীদেরও দাবি, ভোটের কথা ভেবে ইচ্ছে করেই ডেরা-র গুন্ডাবাহিনীর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি রাজ্য। আজ আদালতে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল সত্যপাল জৈন যুক্তি দেন— আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয়। তখন বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, ‘‘হরিয়ানা কি ভারতের মধ্যে পড়ে না? পঞ্জাব ও হরিয়ানার সঙ্গে সৎ-ছেলের মতো আচরণ করা হচ্ছে কেন?’’ এর পরেই প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ওই মন্তব্য করেন তাঁরা। যা শুনে অনেকের মনে হয়েছে, গুজরাত দাঙ্গার সময়ে অনেকটা এ ভাবেই মোদীকে রাজধর্ম পালনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী।
ফের বিদেশ সফরে রাহুল গান্ধী, থাকবেন না লালুর সমাবেশে- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

মাত্র দু’বছর পর লোকসভা নির্বাচন। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে মোদিকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে জোট বেধেছে বিরোধীরা। দেশ জুড়ে একযোগে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফের বিদেশ সফরে যাচ্ছেন কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী। বিদেশ সফরের জন্য রবিবার পাটনা লালুপ্রসাদ যাদবের ‘বিজেপি ভাগাও, দেশ বাঁচাও’ সমাবেশে যোগ দিতে পারবেন না তিনি।
নীতীশ কুমার বিজেপির সঙ্গে জোট করার পর, বিহারে এখন বেকায়দায় পড়েছেন আরজেডি সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদব। বিরোধীদের শক্তি প্রদর্শন করার জন্য রবিবার পাটনার গান্ধী ময়দানে ‘বিজেপি ভাগাও, দেশ বাঁচাও’ সমাবেশের আয়োজন করেছেন তিনি। সমাবেশে সমস্ত বিরোধী দলের নেতাদেরই হাজির করাতে চান লালু। বিএসপি নেত্রী মায়াবতী আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, লালুর সভায় তিনি যাবেন না। সভায় যোগ দিচ্ছে না বামেরাও। এই প্রেক্ষাপটেই টুইট করে সমাবেশে যোগ দিতে না পারায় কথা জানিয়ে দিলেন কংগ্রেস সহ সভাপতি রাহুল গান্ধী। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘ নরওয়ে বিদেশমন্ত্রকের আমন্ত্রণে কয়েক দিনের জন্য অসলো সফরে যাচ্ছি। রাজনীতি ও বাণিজ্যিক নেতৃত্ব ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের সঙ্গে মত বিনিময় হবে।’
ডেরা গুন্ডাদের সঙ্গে ছিল একে–৪৭, রাইফেল, পিস্তল!- দৈনিক আজকাল

ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত, সাজা ঘোষণা সোমবার। কিন্তু শুক্রবার ডেরা–অনুগামীদের তাণ্ডবের পর গুরমিত রাম রহিম সিংকে আর পঁাচকুলায় ফেরত আনা হবে না। তিনি থাকবেন রোহতকের সুনারিয়ার জেলেই, যেখানে এখন আছেন। বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারপতিই সেখানে গিয়ে তঁাকে দণ্ডাদেশ শুনিয়ে আসবেন। বরং রোহতকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার কাজ শুরু হয়েছে। ১০ কোম্পানি আধাসেনা এবং ১৮ কলম সেনা জওয়ান চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সিবিআই বিচারপতি জগদীপ সিংকে রোহতকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করতে হরিয়ানা সরকারকে এদিন নির্দেশ দিয়েছে পাঞ্জাব–হরিয়ানা হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে হরিয়ানার বিজেপি সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করে বলেছে, রাজনৈতিক স্বার্থের কথা ভেবে আপনারা ডেরা–অনুগামীদের সামনে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। এটা ভোটব্যাঙ্কের মুখ চেয়ে রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ।
মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের সরাসরি অভিযোগ, তিনিই আগলে রেখেছিলেন ডেরা সদস্যদের, তাদের রাজনৈতিক মদত জুগিয়েছেন। শুক্রবার হাঙ্গামার পর মুখ্যমন্ত্রী খট্টর ‘বহিরাগত গুন্ডা’দের ঘাড়ে গন্ডগোল বাধানোর দায় চাপিয়েছেন। হাইকোর্টের পাল্টা বক্তব্য, প্রায় দেড় লক্ষ ডেরা সদস্য কী করে পঁাচকুলায় জড়ো হয়েছিলেন? বহিরাগত গুন্ডাদের শনাক্ত করা যদি সম্ভব না–ও হয়, ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও ওই দেড় লাখ লোক কী করে পঁাচকুলায় ঢুকে পড়ল? যদিও গোটা ঘটনার জন্য খট্টর সরকার বলির পঁাঠা করেছে পঁাচকুলার ডেপুটি পুলিস সুপার, আইপিএস অশোক কুমারকে। শনিবারই তঁাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
এখনও জমেনি পুজোর বাজার, মাস শুরুর আশায় দিন গুনছেন দোকানিরা- দৈনিক বর্তমান
ক্যালেন্ডারের হিসাবে আগামী মাসের এই সময়ে শারদোৎসবে মাতোয়ারা আম-বাঙালি। তবে, শহরের বাজার ঘুরে পুজোর সেই আঁচ তেমনভাবে মিলল না। অন্যান্য শনিবারের তুলনায় ভিড় একটু বেশি হলেও তাকে পুজোর কেনাকাটার ভিড় বলতে নারাজ বিক্রেতারা। তাঁদের অনেকেরই বক্তব্য, এবার পুজো আগে এসে পড়ায় বৃষ্টি যে অসুর হয়ে দাঁড়াবে, সেটা তো ধরেই নেওয়া হয়েছিল। তার সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে জিএসটি’র গুঁতো। এখানেই শেষ নয়। মাসের শেষের দিকে পকেটে টান পড়ে সবারই। বাজারে তারও প্রভাব পড়েছে। তবে, এখনই হাল ছাড়তে নারাজ ধর্মতলা কিংবা হাতিবাগানের দোকানিরা। পুজোর মাস খুশির খবর আনবে বলেই আশায় দিন গুনছেন তাঁরা। তবে, তুলনামূলকভাবে এদিন গড়িয়াহাট মার্কেটের ভিড় ছিল বেশি।
শনিবার ঘড়িতে তখন বিকাল চারটে ছুঁই ছুঁই। আকাশে মেঘ জমতে শুরু করেছে। হাতিবাগান মার্কেটে এমনিতেই ভিড় বাড়ে সন্ধ্যার দিকে। তার আগেই বিক্রেতাদের চিন্তায় ফেলে শুরু হল বৃষ্টি। কিছুক্ষণের মধ্যে তা থেমে গেলেও উদ্বেগ কাটল না বাজারের। বিক্রেতাদের অনেকেই জানালেন, বিকালের দিকে বৃষ্টি হলেই সন্ধ্যার বাজারে তার প্রভাব পড়ে। এবারের পুজো এমন সময়ে হচ্ছে, তাতে বৃষ্টি পিছু ছাড়বে না বলেই মনে হচ্ছে। পুজোর বিক্রিবাটা কেমন চলছে? দোকানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাপড় গোছাতে গোছাতে এক কর্মী জানালেন, পুজোর বাজার বলতে যা বোঝায় তা আর কোথায়? তারপর আবার মাসের শেষ। লোকের হাতে টাকাও তো নেই। বোনাসও এখনও দেরি। আগামী মাসের শুরু থেকে পরিস্থিতির বদল হবে বলে মনে হচ্ছে।
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৭