তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহালে হাত দিলে হাত পুড়ে যাবে: তোফায়েল
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৮ আগস্ট সোমবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। আজকের প্রায় সব দৈনিকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সহিংসতার খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। সেইসঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশের বন্যা ও মহাসড়কে তীব্র যানজটের খবর। ঢাকার দৈনিকগুলোর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম হচ্ছে:
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- রাখাইন ফের জ্বলছে- দৈনিক যুগান্তরের শীর্ষ শিরোনাম
- ’দিনে সাতশ’র বেশি রোহিঙ্গাকে হত্যা- দৈনিক ইত্তেফাকের শীর্ষ শিরোনাম
- সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণ: সংলাপের আগেই আইনের খসড়া- দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম
- সব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্রীয় কল্যাণ তহবিলের আওতায় আনা হবে : প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক সমকাল
- তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহালে হাত দিলে হাত পুড়ে যাবে: তোফায়েল- দৈনিক মানবজমিন
- ত্রাণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভোট চাওয়া দু:খজনক : নোমান- দৈনিক নয়াদিগন্ত
- থিতিয়ে পড়া নরম মাটির স্তর বাড়াবে উর্বরতা- দৈনিক ইনকিলাব
- মিরপুর টেস্ট: সাকিব-তামিমের পর বোলিংয়ে রোমাঞ্চ- দৈনিক যায়যায়দিন
ভারতের শিরোনাম:
- লালুর সভায় জনসমুদ্র, বিহারের মানুষের মন জিতে নিলেন মমতা- দৈনিক বর্তমান
- বৈঠকের আগে ফের ফতোয়া জারি গুরুঙ্গের- দৈনিক আনন্দবাজার
- সোনার মূর্তি, লুকানো গুপ্তধন! কী নেই ভারতের এইসব মন্দিরে- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- আয়নায় মোড়া প্রাসাদ! যত বৈভব, তত রহস্য- দৈনিক আজকাল
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
রাখাইন ফের জ্বলছে- দৈনিক যুগান্তরের শীর্ষ শিরোনাম

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য ফের জ্বলছে। মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের নিবাস এ অঞ্চলে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধরা ফের তাণ্ডবলীলায় মেতেছে। অবধারিতভাবেই এর শিকার হচ্ছেন নিপীড়িত রোহিঙ্গারা। রাখাইনে গত দু’দিনের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের ৮২ জন রোহিঙ্গা আর ১২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। রোববার মিয়ানমার সরকারই এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এএফপি, রয়টার্স, আলজাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ানের।
রাখাইন রাজ্যের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সহিংসতা বৃদ্ধি পেতে থাকায় সেখান থেকে অন্তত চার হাজার অমুসলিমকে সরিয়ে নেয়ার কথা জানিয়েছে মিয়ানমার সরকার। দেশটির সরকার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, রাখাইনের পুরো উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কয়েকশ’ রোহিঙ্গা বিদ্রোহীর লড়াই শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। সবচেয়ে সহিংস লড়াইয়ের ঘটনাটি ঘটেছে ওই এলাকার সবচেয়ে বড় শহর মংডুর কাছে। রাখাইনের সহিংসতাকবলিত এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবং সহিংসতার বিস্তারিত প্রতিবেদন না পাওয়ায় পরিস্থিতি সম্পর্কে পুরো ধারণা করা কঠিন হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সর্বশেষ হামলাটি এত ব্যাপক ছিল যে, তা নিয়মিত বিদ্রোহীদের হামলা না হয়ে বরং আন্দোলন বা গণঅভ্যুত্থানের রূপ নিয়েছে।
দু’দিনে সাতশ’র বেশি রোহিঙ্গাকে হত্যা- দৈনিক ইত্তেফাকের শীর্ষ শিরোনাম

‘নিথর দেহ পড়ে আছে বাড়ির উঠানে, ধানক্ষেতে। কারো লাশ পড়ে আছে বাড়ির পাশের খাল কিংবা পাহাড়ের পাদদেশে। শতশত মৃতদেহ পড়ে আছে রাস্তায়। বাড়ি পুড়ে ছাই হয়েছে। কেউ কেউ জঙ্গলে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে। সীমান্তে কড়াকড়ি থাকায় এপারেও আসা যাচ্ছেনা। যারা বেঁচে আছে তারা নিহতদের লাশ দাফন করছে। কিন্তু ভাগ্যে জুটছেনা কাফনের কাপড়।’
গত দুইদিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের উত্তরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে এই চিত্র বিরাজ করছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা। তাদের দাবি, রাখাইন প্রদেশে দুইদিনে সাত শতাধিক রোহিঙ্গাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে সেদেশের সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি। গত শুক্রবার রাতে সেখানকার বেশকিছু পুলিশ ফাঁড়িতে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) হামলার পর থেকে রবিবারপর্যন্ত মংডুর উত্তরাঞ্চলের গ্রাম রাথিডং, হাতিপা, খোয়ারিপাড়াসহ বেশকিছু গ্রামে এই হত্যাযজ্ঞ চালায় সেনাবাহিনী ও বিজিপি।
লন্ডনভিত্তিক আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি কো কো লিন ইত্তেফাককে বলেন, আরসার হামলার সাথে সাধারণ রোহিঙ্গাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা একদম অসহায়। আরসার হামলার প্রতিশোধ নিতে মিয়ানমার সৈন্যরা নিরীহ রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা চালাচ্ছে। দুইদিনে সাত’শ রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। এখনো থামেনি হত্যাযজ্ঞ। শনি ও রবিবারও বাংলাদেশ অংশে অপেক্ষা করা রোহিঙ্গাদের উপরও গুলি চালিয়েছে বিজিপি।
সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণ: সংলাপের আগেই আইনের খসড়া- দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার আগেই সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইনের খসড়া চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তা আইনি মতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইনি সংস্কার নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ করছে ইসি। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার সময় এখনো ঠিক হয়নি। কেবল সাংস্কৃতিক মুক্তি জোট নামে একটি দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছে। এর মধ্যেই কমিশন নিজেদের মতো করে আইন সংস্কারের খসড়া তৈরি করছে।
নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বড় দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হলে ইসির সদিচ্ছাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। এতে মনে হবে একাদশ নির্বাচন সামনে রেখে অংশীজনদের সঙ্গে ইসির চলমান সংলাপ লোক দেখানো। তাঁরা বলছেন, একটি হতে পারে ইসি একটি খসড়া দলগুলোকে দিয়ে নিজেদের চিন্তা জানাবে। এর ভিত্তিতে দলগুলো মত দেবে। অথবা দলগুলোর মতামতের পর ইসি খসড়া তৈরি করবে। কিন্তু ইসি কোনোটাই করছে না। তারা তাদের মতো করে এগোচ্ছে।
সব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্রীয় কল্যাণ তহবিলের আওতায় আনা হবে : প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক সমকাল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কর্মক্ষেত্রে নিহত এবং আহত শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতার জন্য সকল প্রস্তুতকারক এবং রপ্তানিকারক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে শ্রম এবং কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কল্যাণ তহবিলের আওতায় আনা হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই সকল গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠানকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় তহবিলের আওতায় আনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছি।’প্রধানমন্ত্রী আজ তার কার্যালয়ে কর্মক্ষেত্রে নিহত ও পঙ্গু শ্রমিকদের পরিবারের সদসদ্যদের মাঝে তৈরি পোশাক শিল্পের তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণের চেক প্রদান কালে একথা বলেন।
পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্রীয় তহবিলের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি মনে করি বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এর সদস্য ছাড়া যে সকল প্রতিষ্ঠান পোশাক রপ্তানি করে, তাদেরকেও কেন্দ্রীয় তহবিলের আওতায় আনতে হবে। রপ্তানি করতে হলে তাদেরকে বিজিএমইএ অথবা বিকেএমইএ’র সদস্য হতে হবে। বিষয়টি পর্যালোচনা করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিচ্ছি।’
তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহালে হাত দিলে হাত পুড়ে যাবে: তোফায়েল- দৈনিক মানবজমিন

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কবর হয়েছে। তাই এখানে কেউ হাত দিতে চাইলে তার হাত পুড়ে যাবে। গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কাতারের রাষ্ট্রদূত আহমেদ মোহামেদ আল দেহিমির সাক্ষাৎ শেষে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধান বিচারপতি ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করেছেন। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার রায় দিলে তা আবারও ফিরবে কি না- এমন প্রশ্নের তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কবর হয়েছে। এখানে কেউ হাত দিতে চাইলে হাত পুড়ে যাবে। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করায় প্রধান বিচারপতিকে চাপ দেওয়া হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রায়ে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণে অনেকে বিব্রত। ফলে রায় নিয়ে দেশে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে তার সুরাহা তিনি নিজেই করতে পারেন।
ত্রাণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভোট চাওয়া দু:খজনক : নোমান- দৈনিক নয়াদিগন্ত

বন্যা দুর্গতদের ত্রাণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নৌকা প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় ত্রাণ কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আবদুল্লাহ আল নোমান। রোববার দুপুরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
নোমান বলেন, সরকার যেখানে ত্রাণ সামগ্রি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার কথা সেখানে সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনসভা করছেন। সেই জনসভায় তিনি মানুষের কাছে ভোট চাইছেন। এটা জাতির জন্য অত্যন্ত দূঃখজনক।অতীতে খালেদা জিয়া ত্রাণ কার্যক্রমে গিয়ে রাজনীতিকে প্রাধান্য দেননি বলে মন্তব্য করেন নোমান।
বিএনপি উত্তরাঞ্চলসহ ২৭টি জেলায় দলীয়ভাবে ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ করছে বলে জানান তিনি।তিনি আরো জানান, আজ সোমবার থেকে বিএনপির পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় কৃষকদের মধ্যে সীমিত আকারে ‘ধানবীজ ও জালা’ প্রদান এবং ‘ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব’ দুর্গত এলাকায় চিকিৎসক টিম প্রেরণ করে মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপনের কর্মসূচি শুরু করবে।বন্যা দুর্গতদের পূর্ণবাসনে সরকারের প্রতি সাত দফা সুপারিশ তুলে ধরেন আবদুল্লাহ আল নোমান।
পলিই কৃষকের ভরসা: থিতিয়ে পড়া নরম মাটির স্তর বাড়াবে উর্বরতা- দৈনিক ইনকিলাব

বন্যার ঘোলা পানি হতে থিতিয়ে পড়া নরম মাটির স্তর, নদীবাহিত এ মৃত্তিকাকে বলা হয় পলি। এই পলি জমির উর্বরতা বাড়ায়। সৃষ্টি করে অধিক ফলনের সম্ভবনা। প্রকৃতি চলে নিজস্ব নিয়মে। বন্যায় দেশের প্রায় ৩৩টি জেলা ভাসিয়ে দিয়েছিল। নদী অববাহিকার ওই জেলাগুলোর বন্যার ঘোলা পানি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। পানি এখন চলে গেছে। কিন্তু রেখে গেছে পলির স্তর। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, পদ্মা, যমুনা, করতোয়া, ঘাঘটসহ প্রায় দুই ডজন নদী অববাহিকায় বালুর ওপর বন্যার ঘোলা পানি ফেলে গেছে পলি। সে পলি সৃষ্টি করেছে শীতকালীন সবজি, রবি শস্য ও আমনে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা। এখন প্রয়োজন শুধু বীজ-চারা।
বন্যা দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর সর্বনাশ করলেও কৃষককের আগামী ফসলের জন্য আশীর্বাদও বটে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবীদ মো. গোলাম মারুফ ইনকিলাবকে বলেন, বন্যায় কৃষকের ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় মাটিতে পলি পড়ায় জমির উর্বরতা বাড়বে। যে সুযোগকে কাজে লাগালে হবে বাম্পার ফলন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. এম এ হাশেম ইনকিলাবকে বলেন, বৃষ্টি-বন্যার নেতিবাচক সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি ইতিবাচক ফল রয়েছে। বন্যায় বড় ধরণের ক্ষতি না হলে এটা আমাদের জন্য আশীর্বাদ।
মিরপুর টেস্ট: সাকিব-তামিমের পর বোলিংয়ে রোমাঞ্চ- দৈনিক যায়যায়দিন

শুরু আর শেষটা মিলে গেল নিদারুণভাবে। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত বুমেরাং দিনের শুরুতেই, চার ওভারেই সাজঘরে তিন ব্যাটসম্যান। পরের সাত ব্যাটসম্যান আউট হলেন ৯৫ রানের ব্যবধানে। এরপরও মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ঝুলিতে ২৬০ রান, সেটা কেবলই সাকিব আল হাসান আর তামিম ইকবালের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কারণেই। দিন শেষে অবশ্য বাংলাদেশের ওই পূজিটাকেও ছোট বলা যাচ্ছে না, ১৮ রান তুলতেই যে ৩ উইকেট খুইয়ে বসেছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। শুরু আর শেষের ব্যাটিং ব্যর্থতায় যে চাপটা চেপে বসেছিল টাইগারদের ঘারে, শেষ বিকালের দারুণ বোলিংয়ে সেই চাপটা অজিদের ঘারে চাপিয়ে দিয়েই মাঠ ছেড়েছে মুশফিকুর রহিমের দল।
অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকে শেষতক টেস্ট খেলার জন্য আনা গেছে বাংলাদেশে। তাই বলে মাঠের লড়াইয়ে দলটিকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এমন আভাস বেশ আগে থেকেই দিয়ে আসছে টাইগাররা। কেউ কেউ তো দুই টেস্টের সিরিজটা ২-০ ব্যবধানে জিতবেন বলেও হুঙ্কার দিয়েছেন। তাদের এমন হুঙ্কারে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন স্টিভেন স্মিথ। মুখে সরাসরি না বললেও জবাবটা মাঠে দেয়ার পণই হয়তো করে রেখেছেন। শেষতক সেটা দিতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে শঙ্কা থাকছে। তবে মিরপুর শেরেবাংলায় সিরিজের প্রথম টেস্টের শুরুটা তার দল করেছিল স্বপ্নের মতো। দিন শেষে তাদের সেই স্বপ্নের সমাধি হয়ে গেছে, এমনটা বলা যাচ্ছে না এখনই। তবে রঙিন স্বপ্নটা যে কিছুটা হলেও ফিকে হয়ে গেছে, সেটা বলে দেয়া যায় হলফ করেই।
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর
লালুর সভায় জনসমুদ্র, বিহারের মানুষের মন জিতে নিলেন মমতা- দৈনিক বর্তমান

‘বাঙ্গাল কি শেরনির’ কথা শোনার জন্য যেন মুখিয়ে ছিল রবিবারের জনসমুদ্র। পাটনার গান্ধী ময়দান। বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে গোটা দেশের ‘মুখ’ হয়ে ওঠা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাটনা তাই ‘স্বাগত’ও জানাল কিছুটা অন্যভাবে, আর পাঁচজন নেতার মতো নয়। যাদবকুলপতি লালুপ্রসাদের ডাকে ‘মহার্যােলি’। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে জনতার পরিচয় করাচ্ছিলেন সভার সঞ্চালক। রবিবার বেলা দেড়টা নাগাদ মমতা যখন সভাস্থলে এলেন, কালো মাথার লহরই তাঁর সঙ্গে পরিচয় সেরে নিল। সভাস্থলজুড়ে শুধু দিদি, দিদি চিৎকার। মঞ্চে তখন বক্তা বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সদ্য প্রাক্তন হওয়া যুবনেতা তেজস্বী যাদব। ভাষণ থামিয়ে পা ছুঁলেন মমতার। আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন লালুপ্রসাদ। মাইক হাতে নিয়ে শুরু করলেন স্লোগান—মমতাদিদি জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ।
বৈঠকের আগে ফের ফতোয়া জারি গুরুঙ্গের- দৈনিক আনন্দবাজার

রাজ্যের সঙ্গে সর্বদল বৈঠকে তাঁকে ডাকা হয়নি। কিন্তু তাঁর দলের অন্য নেতারা যোগ দিচ্ছেন। এই অবস্থায় গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুঙ্গের একটি অডিও বার্তা সামনে এল। সেই অডিও বার্তায় বৈঠকে যোগদানকারী নেতাদের প্রতি রীতিমতো ফতোয়া দেওয়ার সুরে গুরুঙ্গ বলেছেন, ‘‘রাজ্যের বৈঠকে অনেকে যাচ্ছেন। ভাল। তবে গোর্খাল্যান্ড ছাড়া কোনও কথা বলে ফিরলে ওই নেতাদের আর পাহাড়ে উঠতে দেওয়া হবে না।’’
রবিবার পাহাড়ের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এই বার্তায় কণ্ঠস্বরটি গুরুঙ্গের কি না, তা নিয়ে মোর্চার কোনও নেতাই কিছু বলতে চাননি। তবে এই অডিও বার্তাটি একাধিক জল্পনা উস্কে দিয়েছে। প্রথমত, বার্তা শোনার পরে পাহাড়ের একাংশের প্রশ্ন, তা হলে কি মোর্চার অন্দরে ভাঙন বেড়ে গিয়েছে? বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়া নেতাদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে কি সেটাই স্পষ্ট করে দিলেন গুরুঙ্গ? দ্বিতীয়ত, পাহাড়ের অনেকেরই দাবি, দল এবং আন্দোলনের রাশ যে ক্রমশ হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, গুরুঙ্গের বার্তায় সেটাও পরিষ্কার।
আয়নায় মোড়া প্রাসাদ! যত বৈভব, তত রহস্য- দৈনিক আজকাল

প্রায় হাজার একর জমির মাঝখানে আয়নায় মোড়া প্রাসাদ। তার নাম ‘বাবা কি গুফা’। দামি আসবাব, সোফা, পর্দায় সাজানো বিলাসবহুল সেই প্রাসাদেই বাস গুরমিত রাম রহিম সিংহের।গুফায় তাঁকে ঘিরে থাকেন ২০০ জনেরও বেশি বাছাই করা শিষ্যা। তাঁদের চুল খোলা। পরনে সাধ্বীদের মতো দুধসাদা পোশাক। এঁরাই রাম রহিমের যত্ন–আত্তি, দেখভাল করেন। এমনই দুই শিষ্যাকে ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বাবা রাম রহিম। এক সময়ে বাবার ‘গুফা’য় অতিথি হওয়া বিহারের সাংবাদিক পুষ্পরাজ জানিয়েছেন, সেখানে আছে মেয়েদের স্কুল ‘পরিলোক’। তার সব পড়ুয়াই সুন্দরী। কারণ, বাবাজি মনে করেন ‘খুবসুরত’ হলেই মেধাবী হয়।
সেই গুফায় প্রবেশাধিকার আছে মাত্র কয়েকজনের। তা–ও আঙুলের ছাপ, চোখের মণির মতো বায়োমেট্রিক তথ্য মিলিয়ে ঢুকতে হয়। ধর্মগুরু হলেও রাম রহিমের পছন্দ শিফনের রঙবেরঙের জামা, বাহারি জুতো। তাঁর জামাকাপড় তৈরির জন্য নিজস্ব ফ্যাশন ডিজাইনার রয়েছেন। রয়েছেন নিজস্ব হেয়ার ড্রেসার। রাম রহিমের কনভয়ে বিলাসবহুল ১০০টি গাড়ি। তার মধ্যে ১৬টি কালো রঙের ফোর্ড ইনডেভার। বাবা প্রাসাদ থেকে বেরোলে সব গাড়ি তাঁবু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। বাবা নিজেই ঠিক করেন, তিনি কোন গাড়িতে উঠবেন। আশ্রমে নিজের ব্যাটারিচালিত গাড়িতেই ঘোরেন তিনি।
সোনার মূর্তি, লুকানো গুপ্তধন! কী নেই ভারতের এইসব মন্দিরে- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

ভারতবর্ষের মতো দেশে মন্দির শুধুই ভগবানের আরাধনাস্থল নয়। দেশের কয়েকটি মন্দিরে লুকানো রয়েছে কোটি কোটি টাকার সোনাদানা, নগদ টাকা। যার হিসাব কেন্দ্রের কাছে বিশেষ নেই। ভক্তরা মন্দিরে এসে ঈশ্বরের কাছে সোনার গহনা, বাঁট, কয়েন-সহ নগদ কীই না দান করেন! কিন্তু বেশিরভাগ মন্দিরই সেই সব দান সামগ্রীর কোনও যথাযথ হিসাব দেখায় না। সোনাদানা লুকিয়ে রাখা হয় কোনও গোপন সিন্দুকে।
সম্প্রতি কেরলের শ্রী পদ্মনাভস্বামী মন্দিরের আরও একটি ভল্ট খোলার প্রক্রিয়া শুরু হতেই এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে শুরু করেছে। আসুন দেখে নেওয়া যাক, ভারতের কয়েকটি ধনীতম মন্দিরে কত সম্পত্তি রয়েছে।
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৮