বানভাসিদের মলিন মুখে ঈদের খুশি
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৯ আগস্ট মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিকগুলোতে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে দেশটির সেনাবাহিনীর গণহত্যা এবং রোহিঙ্গা মুসলমানদের দলে দলে অনুপ্রবেশের চেষ্টার খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকার দৈনিকগুলোর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম হচ্ছে:
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- রাখাইনে গণহারে রোহিঙ্গা হত্যা- দৈনিক সমকাল
- ‘মিয়ানমারের সেনারা হিংস্র প্রাণীর চেয়েও জঘন্য’- দৈনিক নয়াদিগন্ত
- রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার আহ্বান খালেদা জিয়ার- দৈনিক যায়যায়দিন
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে দুশ্চিন্তা- দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম
- পাঁচ তারকা হোটেলে কড়া নজরদারি- দৈনিক মানবজমিন
- মহাসড়কে কোনো যানজট নেই: সেতুমন্ত্রী- দৈনিক ইত্তেফাক
- বানভাসিদের মলিন মুখে ঈদের খুশি- দৈনিক সমকাল
- সাকিবময় দিনে অস্বস্তি কেবল সৌম্যতে- দৈনিক ইনকিলাব
ভারতের শিরোনাম:
- ডোকলামে দু’তরফা সেনা প্রত্যাহার, বলল ভারত, অন্য সুর চিনের- দৈনিক আনন্দবাজার
- আগে পাঁচকুলা সামলান, তারপর বাংলা- দৈনিক আজকাল
- ভণ্ড ও ধর্ষক বাবার আসনে এবার মেয়ে হানিপ্রীত!- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- ছাত্ররা রাজনীতি করুক, কিন্তু ক্যাম্পাসের ভিতর নয়: মমতা- দৈনিক বর্তমান
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
রাখাইনে গণহারে রোহিঙ্গা হত্যা- দৈনিক সমকাল

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের গণহারে হত্যা করা হচ্ছে। সেখানে নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার হবে বলে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা দাবি করছে। তারা জানায়, ওই এলাকা রোহিঙ্গাশূন্য করতে জঙ্গি দমনের নামে এটি সেনাবাহিনীর পরিকল্পিত অভিযান।
এদিকে গতকাল সোমবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইনে গত তিন দিনে সহিংসতায় নারী- শিশুসহ ৮শ' রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। মংডু, বুথিডং, রাথেডং এলাকার আট লাখ মানুষের বসতিকে ঘিরে এ অভিযান চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। রোহিঙ্গাদের সমর্থক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তবে এসব এলাকায় গণমাধ্যমকে ঢুকতে না দেওয়ায় এ তথ্য যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। মিয়ানমার সরকার দীর্ঘদিন থেকেই রাখাইন রাজ্যে গণমাধ্যমকে ঢুকতে দিচ্ছে না। সে দেশের সরকারের হিসাবে শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া সেনাবাহিনীর অভিযানে গতকাল পর্যন্ত ১০৪ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। তবে ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন 'বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকে' জানিয়েছে, সেখানে সাম্প্রতিক সহিংসতায় ৫শ' রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। সংগঠনটি জানায়, সেনাদের নির্যাতনে গৃহহীন হয়েছে ৫০ সহস্রাধিক মানুষ। রাখাইনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। সেই বর্বরতা থেকে শিশুরাও রক্ষা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে গৃহহীন রোহিঙ্গারা।
‘মিয়ানমারের সেনারা হিংস্র প্রাণীর চেয়েও জঘন্য’- দৈনিক নয়াদিগন্ত

সীমান্তের জিরো পয়েন্টের কড়া সতর্ক প্রহরায় এপারে (বিজিবি) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ; ওপারে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) মুহুর্মুহু টানা গুলিবর্ষণের শব্দ। আর সীমান্ত এলাকায় হাজার হাজার স্বজন ও সহায়সম্বলহারা আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাদের আর্তনাদ। এদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু, যারা অসহায়ের মতো এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছে। বাড়িঘর, স্বজন, সহায়সম্বল সব হারিয়ে শুধু প্রাণ বাঁচাতেই ছুটছে তারা। যে যে ভাবে পারছে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে এই প্রতিবেদকের নজর কাড়ে দুই মাস বয়সী কন্যাসন্তান কোলে নিয়ে বসে থাকা রশিদা বেগম (২৩) নামে মহিলা।
তিনি প্রায় দশ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছেছেন গত রোববার বিকেলে। ঘন জঙ্গলে হিংস্র প্রাণীর বিপৎসঙ্কুল পরিবেশের তোয়াক্কা না করে বাড়িঘর, স্বজন, সহায়সম্বল সব হারিয়ে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ছুটে এসেছেন। আসার সময় উঁচুনিচু পাহাড় থেকে বার দুয়েক গড়িয়ে পড়লেও হামাগুড়ি দিয়ে আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন। রোববার নাফ নদীর জিরো পয়েন্টে তার সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। হিংস্র প্রাণীতে ভরা ঘন জঙ্গল ভেদ করে রাতদিন হেঁটে বাংলাদেশে কেন ছুটে এসেছেন?
জবাবে রশিদা জানিয়েছেন, ‘পাহাড়ের হিংস্র প্রাণীর চেয়েও বেশি হিংস্র হলো মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তারা আমাদেরকে পাখির মতো গুলি করে মারছে। যাকে যেখানে পাচ্ছে সেখানে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপাচ্ছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধ কেউ বাদ যাচ্ছেন না। যুবকদের পেলে তো কথাই নেই। আমার স্বামী বেঁচে আছেন কি মরে গেছেন তা জানি না।’
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার আহ্বান খালেদা জিয়ার- দৈনিক যায়যায়দিন

মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় অসংখ্য মানুষের নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জীবন ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার এক বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, 'রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় সেদেশের রোহিঙ্গাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে অসংখ্য মানুষ হতাহতের ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এটির নিন্দা জানাচ্ছি। রোহিঙ্গারা বসতবাটি, সহায়-সম্বল হারিয়ে প্রাণভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের সীমান্তগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে। রাখাইন রাজ্যে গ্রামের পর গ্রামে আগুন জ্বলছে। প্রাণভয়ে রোহিঙ্গারা দিকবিদিক ছুটে বেড়াচ্ছে, গহিন অরণ্যে ঢুকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছে। আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাদের ওপরও মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষীবাহিনী অবিরাম গুলিবর্ষণ করে যে নারকীয় পরিবেশ তৈরি করেছে, তা বর্ণনাতীত। গুলিবিদ্ধ গুরুতর আহত রোহিঙ্গা যারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসতে সক্ষম হয়েছে, তাদের অনেকেই হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে এবং কারো কারো মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার এলাকায় রোহিঙ্গা পুরুষ-নারী-শিশুরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য নাফ নদীর বিস্তৃত এলাকাজুড়ে তীরে বসে ভয়ংকর অনিশ্চয়তায় প্রহর গুনছে। এই দৃশ্য অমানবিক, বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক।'
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে দুশ্চিন্তা- দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম

হঠাৎ করেই রাজনীতির ময়দানে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছে। সম্প্রতি প্রধান রাজনৈতিক দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা এ নিয়ে কৌতূহলী বক্তব্য দেয়ায় অনেকে ভাবতে শুরু করেছেন তাহলে কী তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ফিরিয়ে আনতে পর্দার আড়ালে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে (?), বিশেষ করে নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের কারণে এ আলোচনার পালে নতুন করে বাতাস লেগেছে। যা নিয়ে দুশ্চিন্তার ছাপ পড়েছে শাসক দল আওয়ামী লীগে।
ষড়যন্ত্রের তথ্য-তালাশও চলছে। তবে শাসক দল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে এটি আর ফিরে আসবে না। ইতিমধ্যে আইনি কাঠামোতে এর কবর রচিত হয়েছে। অবশ্য মাঠের বিরোধী দল বিএনপি হিসাব কষতে চায় ভিন্নভাবে। কিছুদিন আগেও তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে সরব ছিল। কিন্তু এখন ভেতরে ভেতরে ভিন্ন সুর পরিলক্ষিত হচ্ছে। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের ফর্মুলা থেকে ইউটার্ন নিতে নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ রিভিউ করার চিন্তা করছেন। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে তাদের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। তাই তত্ত্বাবধায়ক বা নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তাও দূর হচ্ছে না।
পাঁচ তারকা হোটেলে কড়া নজরদারি- দৈনিক মানবজমিন

কড়া নজরদারিতে রাখা হচ্ছে ঢাকার পাঁচ তারকা হোটেলের অতিথিদের। এ তালিকায় আছেন দেশি ও বিদেশি অতিথিরা। কখন কে আসছেন, কোথায় যাচ্ছেন, কাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, এসব নিয়ে কাজ করছেন দেশের তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা। এর বাইরেও অতিথিদের ওপর নজর রাখছে আরেকটি শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা। কড়া নজরদারির পাশাপাশি ওইসব অতিথির নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখছেন গোয়েন্দারা। নির্বাচনকে সামনে রেখে এ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান গোয়েন্দারা। আগে প্রতিটি পাঁচ তারকা হোটেলে অন্তত দুইজন গোয়েন্দা কাজ করতেন। বর্তমানে সে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ জন-এ। অনলাইন বুুকিং তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় মোট ৭টি পাঁচ তারকা মানের হোটেল রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- হোটেল ওয়েস্টিন, হোটেল সোনারগাঁও, রেডিসন, সিক্স সিজন, রিজেন্সি, প্লাটিনাম স্যুইট এবং হোটেল লেকশোর। এমন আরো দুটি হোটেলের নির্মাণকাজ চলছে। পাঁচ তারকা হোটেলগুলোতে গোয়েন্দারা কাজ করছেন নিবিড়ভাবে। সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দারা জানান, দু’টি বিষয় সামনে রেখে তারা কাজ করেন।
মহাসড়কে কোনো যানজট নেই: সেতুমন্ত্রী- দৈনিক ইত্তেফাক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বেশিরভাগ সড়ক মেরামত করা হয়েছে। বাকি রাস্তাগুলো আজকের সোমবার মধ্যে যানচলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে।
সোমবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ও ঢাকা সিলেট মহাসড়কের যানজট পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে কোনো যানজট নেই। ফিটনেসবিহীন যানবাহন রাস্তায় চলাচলের সময় বিকল হয়ে মাঝে মধ্যে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তার ত্রুটির কারণে মহাসড়কে কোনো যানজট হচ্ছে না।
তিনি জানান, ঈদের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। সড়কের ত্রুটির কারণে যানজট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে আশা প্রকাশ করেন তিনি পরিবহন মালিক শ্রমিকদের অনুরোধ করেন, ঈদের আগে যেন ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় না নামানো হয়।
বানভাসিদের মলিন মুখে ঈদের খুশি- দৈনিক সমকাল

কোরবানির ঈদের আগে চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপণ্যের বিশালসম্ভার হাতে পেয়ে বানভাসি শতশত মানুষের মলিন মুখে ফুটে ওঠে ঈদের খুশির রেশ! জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের যমুনা নদী-তীরবর্তী চিকাজানী ইউনিয়নের মণ্ডলবাজার এলাকায় সোমবার সকালে এ দৃশ্য দেখা যায়। 'সমকাল সুূদ সমাবেশ' ও 'আল-খায়ের ফাউন্ডেশন' সেখানকার বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণ করে ত্রাণসামগ্রী। বিশাল আকারের ত্রাণের বস্তা পেয়ে সবারই চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক! একাজে সহায়তা করে 'অ্যানিমেশন লিবারেট অর্গানাইজেশন'।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার টাকিমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মাত্র ১২ ঘণ্টার নোটিশে হাজির হয় বন্যাকবলিত দুর্গম এলাকার অন্তত পাঁচশ' পরিবারের সদস্যরা। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ। সুশৃঙ্খলভাবে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানো বন্যার্ত মানুষের হাতে একে একে ত্রাণের বস্তা তুলে দেন 'সমকাল সুহৃদের' সদস্যরা। প্রতিটি বস্তার মধ্যে ছিল ২০ কেজি চাল, দুই কেজি ডাল, এক কেজি তেল, এক কেজি লবণ, এক কেজি পেঁয়াজ, তিন কেজি আলু, এক কেজি মুড়ি, এক ডজন ম্যাচ, এক ডজন মোমবাতি, খাবার স্যালাইনের পাঁচটি প্যাকেট এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট।
সাকিবময় দিনে অস্বস্তি কেবল সৌম্যতে- দৈনিক ইনকিলাব

প্রথম দিন সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আল হাসানের স্বস্তির পেছনে লুকোনো যে অস্বস্তি, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় যে বাধা, সেই স্টিভেন স্মিথ দূর হলো সবার আগে। রেনশ-হ্যান্ডসকমের প্রতিরোধও ভাঙল। উঠতে দেওয়া হলো না মাক্সওয়েল ঝড়। কিন্তু বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দিল অস্ট্রেলিয়ান লেজের ঝাপটা! যে লিড থাকতে পারত একশর বেশি, সেটি তাই শেষ পর্যন্ত নেমে আসল ৪৩ রানে। শেষ ২ উইকেটে অস্ট্রেলিয়া যোগ করল ৭৩ রান। শেষ পর্যন্ত তাদের ইনিংস শেষ হলো সাকিবের আরেক রেকর্ডে। অল আউট হলো তারা ২১৭ রানে। পরিণয় মেনে নিয়ে এই মেঘ এই বৃষ্টির মাঝে ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামতে হলো বাংলাদেশকে। পরিনতি, অকালো হারাতে হলো একটি উইকেট। ৫৩ বল খেলা সৌম্য সরকার ফিরে গেছেন ১৫ রান করেই। বিপদের আঁচ বুঝেই কিনা মুশফিকুর রহিমও ব্যাটিংয়ে পাঠালেন নাইটওয়াচম্যান তাইজুল ইসলামকে। আর কোন বিপদ না ঘটিয়ে তাকে নিয়ে নির্বিঘেœ বাকি সময়টা পার করলেন তামিম ইকবাল। প্রথম ইনিংসে ২৬০ এর সঙ্গে গতকাল ১ উইকেটে ২২ ওভার খেলা বাংলাদেশের ঝুলিতো যোগ হলো ৪৫ রান। লিড গিয়ে ঠেকলো ৮৮ রানে।
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর
ডোকলামে দু’তরফা সেনা প্রত্যাহার, বলল ভারত, অন্য সুর চিনের- দৈনিক আনন্দবাজার

বড়সড় সাফল্য কূটনৈতিক দৌত্যে। ডোকলাম থেকে সেনা সরাতে শুরু করল ভারত এবং চিন দু’পক্ষই। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে কিছুক্ষণ আগে এক বিবৃতিতে এই খবর জানানো হয়েছে। চিন অবশ্য পাল্টা বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বাহিনী প্রত্যাহার করেনি। ভারতই নিজেদের বাহিনী ফিরিয়ে নিয়েছে।
ভারত-ভুটান-চিন ত্রিদেশীয় সীমান্তে জুন মাসের গোড়া থেকেই উত্তেজনা ছিল। জুনের মাঝামাঝি দু’দেশই সীমান্তে বিশাল বাহিনী পাঠিয়ে দেয়। টানা আড়াই মাস দু’দেশের বাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে থাকলেও কূটনৈতিক সংযোগ বজায় রাখা হয়েছিল বলে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে। সেই কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই দু’দেশ সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং সেনা সরানোর বিষয়ে সহমত হয়েছে বলে সোমবার সকালে দাবি করা হয়েছে বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে।
আগে পাঁচকুলা সামলান, তারপর বাংলা- দৈনিক আজকাল

সোমবার গান্ধী মূর্তির নিচে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলে দিলেন, আগে পঁাচকুলা, উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশ সামলাক, তারপর বাংলার দিকে তাকাবে। দার্জিলিঙে যখন গোলমাল হচ্ছিল সেই সময় আমি চার ব্যাটেলিয়ন সেনা চেয়েছিলাম। সময়মতো দেওয়া হয়নি। অথচ হরিয়ানায় বিজেপি–র সরকার, তাই গোলমালের সময় এক কথায় ৪০ ব্যাটেলিয়ন সেনা দিয়ে দিল। মমতা এদিন অভিযোগ করেন, রাজ্যের ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করছে বিজেপি সরকার।
আমরা জানি, সরকার বাই দ্য পিপল ফর দ্য পিপল অফ দ্য পিপল হয়। এখানে দেখছি, বিজেপি বাই দ্য পিপল অফ দ্য পিপল হয়ে গেছে। এরা আমাদের হিন্দু মনে করছে না। ভগবানকেও পার্টির মেম্বারশিপ দিয়ে দিয়েছে। ছাত্র পরিষদের সভার মধ্যে থেকে ছাত্রছাত্রীদের মমতা বলেন, ২০১৯–এ এই বাংলা থেকেই পরিবর্তনের ডাক দিতে হবে। আপনারা নেতৃত্বে থাকবেন। আপনারা যদি না থাকেন, তা হলে আমার কাজ অসম্পূ্র্ণ থেকে যাবে।
ভণ্ড ও ধর্ষক বাবার আসনে এবার মেয়ে হানিপ্রীত!- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

ডেরা সাচা সওদা প্রধান গুরমিত রাম রহিমের ফেলে যাওয়া আসনে কে বসবে? বাবার ভক্তদের মনে উঁকি দিচ্ছে এখন সেই প্রশ্ন। ধর্ষণ কাণ্ডে সোমবার রাম রহিমকে ২০ বছরের সাজা শুনিয়েছে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত। আর এদিনই ডেরা সাচার প্রধান পদে নাম উঠতে শুরু করেছে রাম রহিমের পালক কন্যা হানিপ্রীত ইনসানের। শোনা যাচ্ছে রাম রহিমের আসনে বসতে চলেছেন হানিপ্রীতই।
২০০২ সালে দু’টি ধর্ষণের ঘটনায় গত শুক্রবারই বাবা রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। তখন থেকেই বাবার সর্বক্ষণের সঙ্গী হানিপ্রীত। সোমবারও রাম রহিমকে আদালতে নিয়ে আসার সময় সঙ্গে ছিলেন এই মহিলাই। কিন্তু কে এই হানিপ্রীত? জানা গিয়েছে, প্রিয়াঙ্কা তানেজা ওরফে হানিপ্রীত ইনসান বাবা রাম রহিম সিংয়ের পালিত কন্যা। ২০০৯ সালে তাঁকে দত্তক নেয় গুরমিত। হরিয়ানার ফরিদাবাদের বাসিন্দা ছিলেন হানিপ্রীত। ১৯৯৮ সালে পঞ্চকুলার বিশ্বাস গুপ্তার সঙ্গে বিয়ে হলেও ২০১১ সালে দু’জনের বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে। পরে বিশ্বাস গুপ্তা অভিযোগ আনেন রাম রহিমের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে হানিপ্রীতের। যদিও সেই অভিযোগ দ্রুতই চাপা পড়ে যায়। উলটোদিকে, বিশ্বাস গুপ্তার বিরুদ্ধে পণ নেওয়া এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনেন হানিপ্রীত। এরপরই ডেরা সাচায় থাকতে শুরু করেন হানিপ্রীত।
ছাত্ররা রাজনীতি করুক, কিন্তু ক্যাম্পাসের ভিতর নয়: মমতা- দৈনিক বর্তমান

ছাত্ররা রাজনীতি করুক, কিন্তু কলেজ থাকুক দলীয় রাজনীতিমুক্ত। সোমবার দলের ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে পড়ুয়াদের উদ্দেশে এই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বহিরাগত নির্ভর ক্যাম্পাস রাজনীতির অবসানের লক্ষ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ব্যবস্থার বদলে ছাত্র কাউন্সিল গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারির পর এদিনই প্রথম মুখ খুললেন মমতা। অরাজনৈতিক কাউন্সিল গঠনে যারা অংশ নেবে, তাদের তিনি আগামী পঞ্চায়েত ভোট থেকে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনী যুদ্ধে শামিল হওয়ার ডাক দিয়েছেন।
ছাত্র অবস্থায় কলেজ রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন মমতা। ছাত্র সংসদ দখলের উদ্যোগেই তাঁর রাজনীতিতে প্রবেশ। তাই রাজনীতি খারাপ, এমন কোনও স্বতঃসিদ্ধ সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত নন। এদিন স্মৃতিচারণার ঢঙে মমতা বলেন, রাজনীতি করা নিয়ে আমার মাকে অনেকেই বোঝানোর চেষ্টা করত। বলত, মেয়ে রাজনীতি করলে খারাপ হয়ে যাবে। মা তাঁদের অভয় দিয়ে বলতেন, ছাত্র রাজনীতি করলে কেউ খারাপ হয় না। কিন্তু বাইরে থেকে গিয়ে কলেজে রাজনীতির নামে যে দখলদারি চলছে, তা যে তিনি বদলাতে চান, এদিন সে কথাটাই বুঝিয়ে দিয়েছেন মমতা।
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৯