সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৭ ০৬:১৩ Asia/Dhaka

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৯ সেপ্টেম্বর শনিবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। আজও ঢাকার দৈনিকগুলোতে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর গণহত্যা এবং বাংলাদেশ অভিমুখী রোহিঙ্গা ঢল সংক্রান্ত খবর গুরুত্ব পেয়েছে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিকগুলোর কয়েকটি প্রধান প্রধান খবরের শিরোনাম হচ্ছে:

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • রামদা তলোয়ার হাতে টহল দিচ্ছে বৌদ্ধ তরুণরা- দৈনিক সমকাল
  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজনীতি না করার আহ্বান সেতুমন্ত্রীর- দৈনিক ইত্তেফাক
  • জাতিসংঘ: ২,৭০,০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে- দৈনিক মানবজমিন
  • কক্সবাজারের উখিয়া: গাড়ি দেখলেই ত্রাণের আশায় ছুটছে তারা- দৈনিক প্রথম আলো
  • রোহিঙ্গা সংকট: সুচি ব্যর্থ, সেনারা অপরাধী- দৈনিক যুগান্তর
  • সরকারি চাকরিতে দীর্ঘসূত্রতা হতাশ, দিশেহারা প্রার্থীরা- দৈনিক যায়যায়দিন

ভারতের শিরোনাম:

  • বিজেপিতে যেতে হলে এখনই যান: কড়া মমতা- দৈনিক আনন্দবাজার
  • –কে রুখতে কিছু রাজ্যে কং–সঙ্গ নিয়ে বিতর্ক সিপিএমে- দৈনিক আজকাল
  • রাজ্যের নাম তিন ভাষাতেই বাংলা, সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার- দৈনিক বর্তমান
  • ‘বাবা’র ডেরায় কমান্ডোদের ম্যারাথন তল্লাশি, উদ্ধার কয়েকশো সাধ্বীর কঙ্কাল- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

রামদা তলোয়ার হাতে টহল দিচ্ছে বৌদ্ধ তরুণরা- দৈনিক সমকাল

রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমারের নেত্রী নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চি যা-ই বলুন, বাস্তব অবস্থা কিন্তু ভিন্ন। কোনো বিদ্রোহী কিংবা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নয়, স্থানীয় বৌদ্ধ তরুণরাই সেখানকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন চালাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে। তলোয়ার আর রামদা হাতে টহল দিচ্ছে সারাক্ষণ। তাদের সামনে পড়ার ভয়ে রোহিঙ্গারা নিজেদের ভিটেবাড়ি ফেলে পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের এ অসহায় অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন বিবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংবাদদাতা জোনাথন হেড। বৃহস্পতিবার রাখাইন রাজ্য ঘুরে এসে বিবিসির এক প্রতিবেদনে তিনি লিখেছেন, 'আমাদের গাড়ি তখন মংডু জেলার গাউদু যারা গ্রামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। সাধারণত গ্রামের চিহ্ন হিসেবে ধানক্ষেত থাকে। আমাদের পেছনে ধানক্ষেতগুলোর মধ্যে সারিবদ্ধ গাছের ভেতর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পেলাম। আমরা গাড়ি থেকে বের হলাম এবং ধানক্ষেত পেরিয়ে সেখানে যাওয়ার জন্য দৌড় দিলাম। প্রথমেই দেখতে পেলাম গ্রামের ভবনগুলো কেবল জ্বলছে।

গাওদু যারা গ্রামের বাড়িগুলো ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে ছাইয়ে পরিণত হয়ে গেল। মাত্র কিছুক্ষণ আগেই এখানে অগি্নসংযোগ করা হয়েছে। একটু হেঁটে যাওয়ার পর একদল তরুণকে রামদা, তলোয়ার ও গুলতি হাতে চলে যেতে দেখলেন সাংবাদিকরা। তারা তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা ছিল সবাই রাখাইন বৌদ্ধ। তাদের মধ্যে একজন স্বীকার করল, সে গ্রামে অগি্নসংযোগ করেছে এবং পুলিশ তাকে সহযোগিতা করেছে।'

'নির্বাচিত নয় বলেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার নতজানু'- দৈনিক যুগান্তর

জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার বড় গলায় কথা বলতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন ড. খন্দকার  মোশাররফ  হোসেন। শুক্রবার বিকালে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আপনারা  চেয়ে  দেখুন, আজকে আমাদের পার্শ্ববর্তী  দেশ মিয়ানমারে  যে হত্যাযজ্ঞ হচ্ছে,  রোহিঙ্গাদের  যেভাবে হত্যা করা হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার এর প্রতিবাদ করতে পারছে না। কারণ তারা জনগণের নির্বাচিত নয় বলেই তারা বড় গলায় কথা বলতে পারছে না, ভালো করে প্রতিবাদ করতে পারছে না। যদি তারা (সরকার) প্রতিবাদ করতে পারত, ৯০ ভাগ মুসলমানের এ  দেশ হওয়া সত্তে¡ও মিয়ানমারকে মুসলিম হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করার জন্য আমরা কূটনৈতিকভাবে বা অন্যভাবে তাদের বাধ্য করতে পারলাম না। জাতীয়  প্রেস ক্লাব  মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১০ম কারামুক্তির দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভা হয়।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজনীতি না করার আহ্বান সেতুমন্ত্রীর- দৈনিক ইত্তেফাক

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন এবং সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজনীতি না করার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিয়ে আপনারা রাজনীতির নোংরা খেলায় মেতে উঠছেন। আপনাকে আর আপনার দলকে বলবো, রোহিঙ্গাদের নিয়ে ইস্যু সৃষ্টি করে রাজনীতির নোংরা খেলা থেকে বিরত থাকুন।’  

ওবায়দুল কাদের শুক্রবার বিকালে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ছাতিয়ানতলী-মালিবাগান সড়কের পশ্চিম কুসুমপুর এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুর কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।  শেখ হাসিনার সরকার সব দিক থেকেই প্রশংসিত এ কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মায়নামার থেকে রোহিঙ্গা জনস্রোত যেভাবে ধেয়ে আসছে, তা অত্যন্ত মানবিক।   

তিনি বলেন, ‘নাফ নদী দিয়ে নারী ও শিশুরা পাড়ি দিচ্ছে। আমাদের সামর্থ্য সীমিত হলেও তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করতে হবে। সরকার থেকে খাদ্য, ওষুধ ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের দৃষ্টি আনতে কাজ করে যাচ্ছে।’

জাতিসংঘ: ২,৭০,০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে- দৈনিক মানবজমিন

রাখাইনে সহিংসতায় প্রাণ বাঁচাতে গত দুই সপ্তাহে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সীমান্ত অঞ্চলে আরো কিছু অনুপ্রবেশকারী  রোহিঙ্গা দলের সন্ধান পেয়েছে সংস্থাটি। ফলে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের পক্ষ থেকে শরণার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৬৪ হাজার বললেও একদিনের ব্যবধানে তা ২ লাখ ৭০ হাজারে উন্নীত করেছে তারা। শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘের হাই কমিশনারের মুখপাত্র ভিভিয়ান তান এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে, জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপি’কে বলেছেন, রাখাইনে সহিংসতায় ইতিমধ্যেই ১ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। এদের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা মুসলিম। ভিভিয়ান তান বলেন, শরণার্থীর মোট সংখ্যায় গত ২৪ ঘণ্টায় ঠিক কতজন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে তার সঠিক তথ্য প্রতিফলিত হয়নি। সীমান্ত অঞ্চলে আমরা আরো কিছু শরণার্থীর সন্ধান পেয়েছি। পূর্বে যাদের অবস্থান সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। তিনি বলেন, শরণার্থীর এ বিপুল সংখ্যা উদ্বেগজনক। বহুদিন ধরেই বৌদ্ধ-প্রধান মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। সেখানে তাদের কোনো নাগরিকত্ব নেই।

কক্সবাজারের উখিয়া: গাড়ি দেখলেই ত্রাণের আশায় ছুটছে তারা- দৈনিক প্রথম আলো

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের পাশে উখিয়ার কাস্টমস ঘাট এলাকায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের সম্প্রচার উপকেন্দ্র রয়েছে। কক্সবাজার শহর থেকে ৪৭ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। এই কেন্দ্রের বিপরীতে রাবার বাগানে আশ্রয় নিয়েছে কমপক্ষে পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রের মূল ফটকের সামনেও দাঁড়িয়ে ছিল শত শত রোহিঙ্গা। গাড়ি দেখলেই তারা ছুটে যাচ্ছিল ত্রাণের আশায়।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে যারা উখিয়ার কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় পায়নি, তাদের একটি অংশ রাবার বাগানে আশ্রয় নিয়েছে। অনিবন্ধিত শিবির থেকে কেন্দ্রটি তিন কিলোমিটার দূরে।

ত্রাণের আশায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পাগলিরবিল গ্রাম থেকে আসা দিলশাদ বেগম  বলেন, সকাল সাতটা থেকে তিনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন। খিদার জ্বালায় তাঁর দুই শিশুসন্তান কান্নাকাটি করছে। রাতে বৃষ্টিতে ভিজে এক ছেলের জ্বর হয়েছে। কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না।

রোহিঙ্গা সংকট: সুচি ব্যর্থ, সেনারা অপরাধী- দৈনিক যুগান্তর

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর শোচনীয় দুর্দশার ব্যাপারে দেশটির নেত্রী অং সান সুচির দীর্ঘদিনের নীরবতা একটা লজ্জার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। দেশটির বেসামরিক নাগরিক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিধনযজ্ঞ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শামিল। এ অপরাধ দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীই করছে।

এ ব্যাপারে সুচিকে অবশ্যই কথা বলতে হবে। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় বৌদ্ধ অধিবাসীদের সাম্প্রতিক সহিংসতার শিকার হয়ে এরই মধ্যে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এতে শান্তিতে নোবেলজয়ী সুচির নৈতিক পবিত্রতার বাতাবরণ এখন প্রশ্নবিদ্ধ। দলিল-প্রমাণের বিরুদ্ধে গিয়ে মুসলিম সংখ্যালঘু গোষ্ঠীটির নাগরিকত্ব অস্বীকার করছে মিয়ানমার সরকার।

দেশটির সরকারের দাবি, তারা বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী। দশকের পর দশক ধরে বঞ্চনা-লাঞ্ছনার পর রোহিঙ্গা সংকট এখন আরও বাজে রূপ নিয়েছে। মিয়ানমারে তাদের মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় সেবাগুলো থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। বহু আগে থেকেই তাদের এ বঞ্চনা শুরু হয়েছে।

২০১২ সাল থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারপরও এসময়ের মধ্যে সরকারি বাহিনী ও বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদের তিন তিনটি বড় ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছে তারা। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে শুরু হয় আরেকটি সহিংসতা যাতে এখন পর্যন্ত তিন হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু দেশটির নেত্রী সুচি এ ব্যাপারে একেবারেই চোখ বুজে রয়েছেন।

সরকারি চাকরিতে দীর্ঘসূত্রতা হতাশ, দিশেহারা প্রার্থীরা- দৈনিক যায়যায়দিন

চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রথম পছন্দ সরকারি চাকরি হলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে হতাশা। কয়েক ধাপে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুলিশ ভ্যারিফিকেশন, রাষ্ট্রদ্রোহ-দলমতসহ রাজনৈতিক মতাদর্শতা যাচাই, আইনি জটিলতা, নীতিমালা ও বিধিতে ত্রুটি, লবিং-তদবির, আর্থিক লেনদেনসহ নানা জটিলতায় এ কালক্ষেপণের মাত্রা দিন দিন আরও বাড়ছে। আন্দোলন করেও পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না প্রার্থীরা। চাকরিপ্রত্যাশীদের ভাষায়, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে এ সময়ক্ষেপণের কারণে তাদের পারিবারিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে প্রতিনিয়তই হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিসহ সরকারি প্রায় সব চাকরিতেই একই অবস্থা। চাকরি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে চাকরিতে যোগ দেয়া পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে এ সময়ক্ষেপণের মাত্রা পাঁচ বছরেরও বেশি হতে পারে। অথচ পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার দুটি স্তর সম্মান (অনার্স) ও সম্মানোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন হয়ে থাকে। এমনিতেই বাংলাদেশে মাস্টার্স পাস করতে একজন ব্যক্তির বয়স ২৪ থেকে ২৭ বছর পর্যন্ত পার হয়ে যায়।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর

বিজেপিতে যেতে হলে এখনই যান: কড়া মমতা- দৈনিক আনন্দবাজার

তৃণমূলের কিছু লোক যে বিজেপির সঙ্গে তলায় তলায় যোগাযোগ রাখছেন, এমন অভিযোগ তিনি আগেও তুলেছিলেন। শুক্রবার আরও এক ধাপ এগিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে দিলেন, ‘‘যাঁরা বিজেপিতে যেতে চান, চলে যান। দরজা খোলা আছে। সিপিএমে যেতে চাইলেও যেতে পারেন।’’

শুক্রবার তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠকে এটিই ছিল নেত্রীর সব থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা। পঞ্চায়েত ভোটের আগে সংগঠন চাঙ্গা করতে দলীয় কোন্দল দমনেও কড়া হয়েছেন নেত্রী। তাঁর হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে ঝগড়া না মেটালে দল থেকে বের করে দেওয়া হবে। পঞ্চায়েত ভোটের আগে সংগঠন মজবুত করার কাজে নেমে মমতা এ দিন বেশ কিছু নেতার প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বলে তৃণমূল সূত্রের খবর। যেমন, হুগলির জেলা সভাপতি ও মন্ত্রী তপন দাশগুপ্তের কাজে অসন্তুষ্ট নেত্রী তাঁর কাছে জানতে চান, মন্ত্রিত্ব না জেলার দায়িত্ব, কোনটা তিনি সামলাতে পারবেন। দু’টো একসঙ্গে না পারলে কোনও একটা ছেড়ে দেওয়াই ভাল। হুগলিতে সাম্প্রতিক কিছু গোলমালে অসন্তুষ্ট হয়ে জেলার কার্যকরী সভাপতি হিসাবে প্রবীর ঘোষাল ও অসীমা পাত্রের নাম ঘোষণা করেন মমতা। এখন হুগলির পর্যবেক্ষক ফিরহাদ হাকিম। সেই দায়িত্ব অরূপ বিশ্বাস সামলাবেন বলে তৃণমূল নেত্রী জানান।

বিজেপি–কে রুখতে কিছু রাজ্যে কং–সঙ্গ নিয়ে বিতর্ক সিপিএমে- দৈনিক আজকাল

যেখানে কংগ্রেস প্রধান প্রতিপক্ষ নয়, সেই সব রাজ্যে কি সিপিএম কংগ্রেসের থেকে দূরে সরে থেকে বিজেপি–র সঙ্গে লড়তে পারবে?‌ এই প্রশ্ন নিয়ে এখন সিপিএমের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিতর্ক উসকে দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি নিজেই। তিনি বলেছেন, এখন যেহেতু পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে, তাই সেই অনুযায়ী বিশ্লেষণ ও জোট বাঁধার প্রক্রিয়াও বদলাবে।

এর পরই অবশ্য আজ পলিটব্যুরোর তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খসড়া রাজনৈতিক প্রস্তাব তৈরির কাজ সবে শুরু হয়েছে। তার পর যোগ করা হয়েছে, ‘‌গত পার্টি কংগ্রেসের নির্দেশিত পথে কীভাবে বিজেপি–র বিরুদ্ধে লড়ার মূল কাজটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা চূড়ান্ত করা হবে এবং সেই খসড়া প্রস্তাবটি কেন্দ্রীয় কমিটির সামনে রাখা হবে।’‌ ২০১৫ পার্টি কংগ্রেসে বিজেপি ও মোদি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইকে মূল কাজ হিসেবে চিহ্নিত করলেও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বা বোঝাপড়ার পথও বন্ধ করে দিয়েছিল। সে কারণেই দল পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস ও সিপিএমের আসন–সমঝোতাকে পরে দলের লাইনের বিরোধী বলে সমালোচনা করেছিল।

রাজ্যের নাম তিন ভাষাতেই বাংলা, সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার- দৈনিক বর্তমান

রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে বাংলায় ‘বাংলা’, হিন্দিতে ‘বঙ্গাল’, ইংরেজিতে ‘বেঙ্গল’ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই ভাবনা বিধানসভায় বিল আকারে পাশ হয়। বিধানসভায় সর্বসম্মতভাবে তা পাশ হওয়ার পর দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়। বছরখানেক সেই বিল সেখানে পড়ে থাকার পর কেন্দ্রীয় সরকার আপত্তি জানিয়ে রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে জানাল, সব ভাষাতেই একটি নাম রাখতে হবে। শেষ পর্যন্ত তা মেনে নিয়ে শুক্রবার রাজ্য মন্ত্রিসভায় বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি এই তিন ভাষাতেই রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিধানসভায় সংশোধনী আনার পর সেই নাম প্রস্তাব আকারে ফের দিল্লিতে পাঠানো হবে বলে পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান, নামের আদ্যাক্ষর ‘বি’ দিয়ে শুরু হোক। সেই মতো সব ভাষাতে ‘বাংলা’ নামে সহমত পোষণ করে দিল্লির কাছে প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

‘বাবা’র ডেরায় কমান্ডোদের ম্যারাথন তল্লাশি, উদ্ধার কয়েকশো সাধ্বীর কঙ্কাল- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

তার শয্যাসঙ্গিনী হতে রাজি না হলেই সাধ্বীদের গুলি করে খুন করত গুরমিত রাম রহিম সিং। তারপর ঠান্ডা মাথায় দেহগুলি হরিয়ানার সিরসায় নিজের ৮০০ একরের আশ্রমের মাটিতে পুঁতে দিত সে। সন্দেহ এড়াতে সেখানে নিজের হাতে গাছও লাগিয়ে দিত ভণ্ড বাবা। একই পরিণতি হত অবাধ্য ডেরা সাচা কর্মীদেরও। বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলেই জীবন দিয়ে সেই ‘অপরাধ’-এর ফল ভোগ করতে ভক্তদের। শুধু তাই নয় ডেরা পরিচালিত হাসপাতালগুলিতে বেআইনিভাবে অঙ্গ প্রতিস্থাপন হত বলেও জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

শুক্রবার সকালে ডেরার প্রধান আশ্রমে বিপুল সেই সব দেহাবশেষের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। মিলেছে প্রচুর হাড়গোড় আর কঙ্কালও। হরিয়ানা পুলিশের অনুমান, ডেরা থেকে বেশ কয়েকজন সাধ্বীর নিখোঁজ হওয়ার যে খবর পাওয়া গিয়েছিল, তাঁদের হয়তো গুরমিতই খুন করে মাটিতে পুঁতে দিয়েছিল। ‘বাবা’র এই কুকীর্তি ফাঁস হতে পারে আন্দাজ করে বৃহস্পতিবারই ডেরা সাচা সওদা মুখপত্র ‘সচ কাহু’তে লেখা হয়, এই আশ্রমে অনেকের দেহাবশেষ সমাধিস্ত রয়েছে। তার উপরে লাগানো হয়েছে গাছ। কিন্তু কেন এই রীতি? পত্রিকার দাবি, আসলে মৃতদেহ পুড়িয়ে বা দেহাবশেষ গঙ্গায় ভাসিয়ে দিলে পরিবেশ নষ্ট হয়। বাবার তা একেবারেই নাপসন্দ! সেকারণেই এই  নির্দেশ।

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/৯