ধরপাকড় আতঙ্কে বিএনপিসহ ২০ দলের নেতারা
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১১ অক্টোবর বুধবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের অনলাইন শিরোনাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- ধরপাকড় আতঙ্কে বিএনপিসহ ২০ দলের নেতারা-দৈনিক ইত্তেফাক
- নার্স নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, দায় নিচ্ছে না কেউ-দৈনিক প্রথম আলো
- বর্তমান সরকারের অধীনে ইভিএমে নির্বাচন চায় ওয়ার্কার্স পার্টি--দৈনিক যুগান্তর অনলাইন
- হার্ডলাইনে সরকার-দৈনিক মানবজমিন
- প্রয়োজন নেই, তবুও নতুন কলেজ- দৈনিক সমকাল
- ছিনতাইকারী চক্র ভয়ঙ্কর-দৈনিক ইনকিলাব
ভারতের শিরোনাম:
- নাবালিকা স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সংসর্গ ধর্ষণ –সুপ্রিম কোট-আনন্দবাজার অনলাইন
- বন্দিপোরায় তুমুল সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষ, ২ সেনাসহ নিহত ৪-আনন্দবাজার
- জয় শাহকে নিয়ে বিজেপি’র ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে: যশোবন্ত-দৈনিক আজকাল
- দিল্লির কাছেই পাক পরমাণু ঘাঁটি, চরম উদ্বেগে প্রতিরক্ষামহল-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
ধরপাকড় আতঙ্কে বিএনপিসহ ২০ দলের নেতারা-ইত্তেফাক
অনেকদিন হলো মোটামুটি সুস্থির সময় পার করে আসছে বিএনপি এবং তার স্বগোত্রীয় দলগুলো। ২০১৫ সালের ৯৩ দিনের একটানা আন্দোলনে ব্যর্থতার পর সভা-সেমিনার-গোলটেবিল-প্রেসব্রিফিংয়ের মাধ্যমে চলছে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। ধরপাকড় আতঙ্ক ছিলো না। হঠাৎ সোমবার এবং গতকাল মঙ্গলবার দুদিনে প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী গ্রেফতার হওয়ার পর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বিএনপিসহ ২০ দলীয় নেতাদের মাঝে। অনেক নেতা সতর্কতা অবলম্বন করছেন। কেউ কেউ আবডালে গেছেন। ফলে গতকাল সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা বৈঠক হঠাৎ স্থগিত করা হয়। কোনো কোনো নেতা বৈঠকে আসতে তাদের গ্রেফতার ভীতির কথা জানান। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত দুদিনে বিএনপি এবং তাদের জোটের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিকে যুগান্তরের একটি খবরে লেখা হয়েছে, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। এখানে সরকারের ষড়যন্ত্রের কিছু নেই।
আর মানবজমিনের খবর-হার্ডলাইনে সরকার
হঠাৎ করেই সারা দেশে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আর এ ধরপাকড় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জামায়াতের আমীর, সেক্রেটারিসহ কেন্দ্রীয় ৮ নেতাকে। তাদের ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
বর্তমান সরকারের অধীনে ইভিএমে নির্বাচন চায় ওয়ার্কার্স পার্টি-দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের খবর
বর্তমান সরকারের অধীনেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের চলমান সংলাপের অংশ হিসেবে বুধবার দলটি সংলাপে অংশ নেয়।
সংলাপে দলটির সভাপতি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশার নেতৃত্বে দলটির ১৬ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদল নির্বাচনকে ঘিরে ১২ দফা প্রস্তাব দেয়।
দলটির দেয়া ১২ দফা প্রস্তাবের অন্যতম ছিল- বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব। ওয়ার্কার্স পার্টির মতে, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সংবিধানমতে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে।
নার্স নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, দায় নিচ্ছে না কেউ-প্রথম আলো
সিনিয়র নার্স নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কীভাবে ফাঁস হলো, তা নিয়ে এখনো অন্ধকারে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পর নিজেরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এ বিষয়ে কোনো মামলা করেনি প্রতিষ্ঠানটি। পিএসসি বলছে, এরপর পরীক্ষায় যাতে প্রশ্ন ফাঁস না হয়, সে জন্য কাজ করছে তারা। তবে এই প্রশ্ন ফাঁসের দায় পিএসসি বা সরকারি-সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো দপ্তর নিচ্ছে না।পিএসসি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। কমিটি কবে তদন্ত প্রতিবেদন দেবে, তা-ও জানা যায়নি।
৪০ মন্ত্রণালয়ে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ১৩৬৪ কোটি টাকা-ইত্তেফাক
বকেয়া বিলের জাল থেকে মুক্ত হতে পারছে না দেশের বিদ্যুৎ খাত। বরং দিনে দিনে এ জাল আরো শক্তভাবে বেঁধে ফেলছে সেবা খাতটিকে। বিল খেলাপের বিশাল বোঝা নিয়ে চলছে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সরকারি সংস্থা কোম্পানিগুলো। সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানই সবচেয়ে বেশি বিল বাকি রেখেছে। ৪০টি মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের কাছে বকেয়া বিল বাবদ বিতরণ সংস্থা কোম্পানিগুলো পাবে অন্তত ১ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা।
বিদ্যুৎ বিতরণকারীরা বারবার তাগাদা দিয়েও বিল আদায় করতে পারছে না অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। ফলে বকেয়া অর্থের পরিমাণও বেড়ে চলছে। অনেক প্রতিষ্ঠানকে বহুবার তাগাদা-চিঠি দেওয়ার পর কিছু অর্থ পাওয়া গেলেও বাকি অর্থ কবে নাগাদ পরিশোধ করা হবে তা অনিশ্চিত। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিতরণ সংস্থা-কোম্পানিগুলোর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও গ্রাহকসেবার ওপর। প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজস্ব অর্থায়ন হচ্ছে ধীরগতিতে। অর্থের অভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে দেখা দিয়েছে শম্বুক গতি। আবার কোম্পানি পরিচালনার খরচ উঠাতে গিয়ে বিদ্যুতের দামবৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এটি আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতারও একটি নির্দেশক।
ছিনতাইকারী চক্র ভয়ঙ্কর-দৈনিক ইনকিলাব
ওয়ারীতে সক্রিয় একাধিক গ্রুপ : ডিএমপির সবগুলো থানায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা : ১ মাসে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৫ জন
ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে ছিনতাইকারীচক্র। দিনে দুপুরে তারা প্রকাশ্যে অস্ত্রহাতে ছিনতাই করছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত এমনকি গুলী করে মানুষের নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিচ্ছে। রাজধানীতে অহরহ ঘটছে এরকম ঘটনা। ছিনতাইকারীদের দৌরাত্মে আতঙ্কিত নগরবাসী। গত কয়েকদিনে বেশক’টি বড় ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে ওয়ারীতে। গত রোববার সকালে ওয়ারীর টিকাটুলীর কে এম দাস লেনের বাসা থেকে মাত্র কযেশ’ গজ দুরে ছিনতাইকারীর হাতে খুন হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু তালহা।
দৈনিকটির অন্য একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম-বাড়ছে মাদকাসক্ত বাড়ছে অপরাধ
সন্তানের সামনে স্ত্রীকে হত্যা, ছেলেকে মা-বাবা পুলিশে দিয়েছেন, ইয়াবাসহ ধরা পড়েছে কারারক্ষী, বাসা থেকে মাদকাসক্ত ছেলের লাশ উদ্ধার, ইয়াবা সেবন করিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ
দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সমাজে নানা ধরনের অপরাধ দ্রæত গতিতে বেড়ে যাচ্ছে। পরিবার, স্কুলজীবন, কর্মস্থল কিংবা অবসরজীবন সর্বত্র এখন ইয়াবা নামক মাদকের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। একদিকে মাদকাসক্ত হয়ে যুবক সন্তান মা-বাবার চোখের সামনে মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে, অন্যদিকে মাদকাসক্ত স্বামী সন্তানদের সামনেই নির্মমভাবে হত্যা করছেন স্ত্রীকে। স্কুল-কলেজগামী মেধাবী ছেলে-মেয়েরা মাদকাসক্তের কারণে বিপথগামী হচ্ছে অভিভাবকদের চোখের সামনে। শহর কিংবা অজপাড়া গ্রাম সর্বত্রই মাদকের বিস্তার ও সহজলভ্যতার কারণে দেশে মাদকের এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
প্রয়োজন নেই, তবুও নতুন কলেজ-দৈনিক সমকাল
প্রয়োজন না থাকলেও নতুন নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পাঠদানের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে সারাদেশে। প্রভাবশালীদের তদবিরে ও রাজনৈতিক বিবেচনায় এসব কলেজের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও। শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা মনে করছেন, এসব কলেজের বেশিরভাগই মানসম্পম্ন শিক্ষা দিতে পারছে না। পাবলিক পরীক্ষাগুলোর ফলও একই তথ্য নির্দেশ করছে। গত কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠিত নতুন এসব কলেজে শিক্ষার্থীরাও ভর্তি হতে চাইছে না। কলেজগুলো তাই শিক্ষার্থী সংকটে ধুঁকছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার গত শিক্ষাবর্ষে ১৪৩টি কলেজে পাঠদান বন্ধ করেছে। চলতি বছরেও বন্ধের প্রক্রিয়ায় রয়েছে ২৮০টি কলেজ।
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর
জয় শাহকে নিয়ে বিজেপি’র ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে: যশোবন্ত-দৈনিক আজকাল
অমিত শাহর ছেলে জয় শাহের দুর্নীতি নিয়ে বিজেপি–র অবস্থানে নৈতিক অবনমন ঘটেছে দলের। মনে করেন প্রবীণ বিজেপি নেতা যশোবন্ত সিং। বিজেপি এক সময় দাবি করত তারা ‘ভিন্ন ধারার দল। জয় শাহ কাণ্ডে সেই দাবি বিবর্ণ হয়েছে। নির্দিষ্ট করে জয় শাহ নিয়ে বিজেপি–র ভুলগুলো দেখিয়ে দিয়েছেন যশোবন্ত। সম্প্রতি একটি ওয়েবসাইট দাবি করেছে, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে জয় শাহ’র কোম্পানির সম্পত্তি ১৬ হাজার গুণ বেড়েছে।
দিল্লির কাছেই পাক পরমাণু ঘাঁটি, চরম উদ্বেগে প্রতিরক্ষামহল-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
মার্কিন চাপে বিপাকে পড়লেও পথ পালটায়নি পাকিস্তান। ভারতকে রক্তাক্ত করার চেষ্টায় খামতি রাখছে না পড়শি দেশ। এমনই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ওই রিপোর্ট মোতাবেক, রাজধানী নয়াদিল্লির কাছেই গোপন সুড়ঙ্গ তৈরি করছে পাক সেনা। ওই সুড়ঙ্গে থাকবে পারমাণবিক মিসাইল ও বোমা।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ১৪০টি পরমাণু বোমা তৈরি করে ফেলেছে পাকিস্তান। তবে এতেই ক্ষান্ত না থেকে আরও বোমা বানাচ্ছে ওই দেশ। নিশানায় যথারীতি ভারত। জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালি নামের জায়গায় পরমাণু অস্ত্রঘাঁটি তৈরি করা হচ্ছে। অমৃতসর থেকে ওই জায়গার দুরত্ব প্রায় ৩৫০ কিমি। উদ্বেগজনকভাবে মিয়ানওয়ালি থেকে দিল্লির দুরত্ব মাত্র ৭৫০ কিমি। ফলে সেখান থেকে মিসাইল ছুড়লে মুহূর্তের মধ্যে তা দিল্লিতে আঘাত হানবে।
নাবালিকা স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সংসর্গ ধর্ষণ-আনন্দবাজার, আজকাল,
পনেরো থেকে আঠারো বছর বয়সী নাবালিকা স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ধর্ষণ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। ধর্ষণ আইনে যে ব্যতিক্রমের কথা বলা হয়েছে তা পক্ষপাতমূলক, খামখেয়ালি এবং অবাধ যৌনাচারকে প্রশ্রয় দেয় বলে আদালত মন্তব্য করেছে। বাল্যবিবাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিচারপতি মদন বি লকুর এবং দীপক গুপ্তের বেঞ্চ জানিয়েছে, যে উদ্দেশ্যে সামাজিক ন্যায় সংক্রান্ত আইন আনা হয়েছে তা যথোপযুক্তভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। বুধবারের রায়ের পরে নাবালিকা স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সংসর্গ অপরাধ কিনা তা নিয়ে অস্পষ্টতা কেটে গেল। কারণ, এতদিন পর্যন্ত ধর্ষণ সংক্রান্ত ভারতীয় দণ্ডবিধির যে ৩৭৫ ধারা রয়েছে তার আওতা থেকে বিবাহিত পুরুষদের বাদ দেওয়া হত। ব্যতিক্রমী ২ উপধারায় বলা হয়েছে পুরুষ এবং স্ত্রীর মধ্যে যৌন সংসর্গ হলে এবং স্ত্রীর বয়স ১৫–র কম না হলে তা ধর্ষণ হবে না। বুধবার শীর্ষ আদালত বলেছে, ‘ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার ব্যতিক্রমী ২ উপধারা বলে স্বামীদের সুরক্ষা দেওয়া সংবিধান লঙ্ঘনের সমতুল। তা নাবালিকার মৌলিক অধিকার খর্ব করে।’ আদালত যে বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে কিছু বলছে না তাও জানানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আজকের রায়ের ফলে প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ বালিকা বধু যৌন সংসর্গ নিয়ে অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে আইনি সুরক্ষা পাবেন। বুধবার আদালতে মুখ পুড়েছে কেন্দ্রীয় সরকারেরও। ৩৭৫ এর ২ উপধারাকে সমর্থন করে কেন্দ্রীয় সরকার বলেছিল ভারতে বাল্যবিবাহ কঠিন বাস্তব। এই ধরনের বিয়েকে সুরক্ষা দিতে হবে। বিচারপতি মদন বি লকুরেরে নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রের কাছে জানতে চেয়েছিল ১৮ বছরের নিচে যৌনতা নিয়ে পারষ্পারিক সম্মতিকে সমর্থন করে সংসদ কিভাবে ছাড় দেওয়ার পক্ষে যেতে পারে। আদালত স্পষ্ট করেই জানিয়েছিল, বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে তারা কিছু মন্তব্য করবে না। তবে ১৮–র নিচে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে ‘সবদিক’ বিচার করা হবে। তখনই দণ্ডবিধির ব্যতিক্রম নিয়ে কেন্দ্রের মতামত জানতে চায় আদালত। কেন্দ্রের পক্ষে আইনজীবী যুক্তিদেন এই ছাড় তুলে নিলে বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে অভিযোগের দরজা খুলে যাবে, ভারতে যার অস্তিত্ব নেই। জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষায় (এনএফএইচএস) দেখা গিয়েছে, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী বিবাহিত মহিলাদের বিয়ে হয়েছিল ১৮ বছরের নিচে।
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১১