প্রিয়জন : "মার্কিনীদের মতো রক্তচোষাদের কাছ থেকে ইতিবাচক কিছু প্রত্যাশা করা বোকামি"
যথারীতি একটি হাদিস শুনিয়ে আসর শুরু করব আজ। ইমাম রেজা (আ.) বলেছেন: তারাই হচ্ছে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ বান্দা যাদের উপকার করলে কৃতজ্ঞ হয়, ভুল করে ফেললে ক্ষমা চায়, আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিদান পেলে শুকরিয়া জানায়, বিপদে পড়লে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষুব্ধ অবস্থায় ক্ষমা করে।
মূল্যবান হাদিসের এ বাণী আমাদের জীবনে কাজে লাগানোর আশা ব্যক্ত করে চিঠিপত্রের দিকে নজর দিচ্ছি। আজকের আসরের শুরুতেই যে চিঠি হাতে নিয়েছি তা এসেছে ভারত থেকে। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জেমোবিশ্বাস পাড়া থেকে এটি লিখেছেন রেডিও তেহরানের পুরনো শ্রোতা ভাই মোঃ সিরাজউদ্দিন টনাই। তিনি লিখেছেন, আজকাল রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান তেমন ভালো শুনতে পাই না। রেডিও পুরনো হয়ে গেছে; পাশাপাশি আপনাদের প্রচারের শক্তিও হয়ত কমে গেছে।
বহলুল: রেডিও তেহরানের বেতার তরঙ্গের শক্তি কিন্তু আগের মতোই আছে। এই দেখুন না কদিন আগে বাংলাদেশের এক শ্রোতা ভাই অনুষ্ঠান ভালো শুনতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
আপনি কি বগুড়া থেকে ডাঃ শাহিনুর আলম ভাইয়ের পাঠানো ইমেইলের কথা বলছেন? হ্যাঁ, শাহিনুর আলম গত সপ্তাহেই আমাদেরকে জানিয়েছিলেন, তার রেডিও’তে আমাদের অনুষ্ঠান চমৎকার শোনা যায়। তবে হ্যাঁ রেডিও পুরনো হয়ে যাওয়ার কারণে শুনতে অসুবিধা হতেই পারে। এ ছাড়া, আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় বেতার তরঙ্গের শ্রবণ মান ওঠা-নামা করতে পারে। এ সব সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার সহজ উপায় হলো ইন্টারনেটে রেডিও তেহরান শোনা। আমাদের ভাইবোনরা আজকাল ব্যাপকভাবে ইন্টারনেটে রেডিও শুনছেন।
তো ভাই টনাই, চিঠি লেখার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আসরের পরের চিঠিটি এসেছে বাংলাদেশ থেকে। পাবনা জেলার চাটমোহর থেকে এটি লিখেছেন ইকবাল আহমেদ। চিঠি লেখার নানা ঝক্কি ঝামেলার কথা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, এসব সমস্যার কারণে এখন আর চিঠি লেখার বাড়ির কাছ দিয়েও হাঁটি না বা পারতপক্ষে হাঁটতে চাই না। তবে রেডিও তেহরানের জন্য আমাদের আলাদা দরদ থাকায় বহুদিন পর চিঠি লেখার কাজে হাত দিলাম।
বহলুল: বাহ আপনার কথায় শান্তিতে বুক ভরে গেল। এ ভাবেই হয়ত সব শ্রোতা ভাই বোন ভাবেন। তবে ভাবনাকে তারা কাজে পরিণত করেন না। করলে আমাদের চিঠির পরিমাণ অনেক অনেক বেড়ে যেত।
বহলুল ভাই, মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেটের যুগে চিঠি লেখার সংস্কৃতি যখন উঠে যাচ্ছে তখনও আমাদের শ্রোতা ভাইবোনেরা যে কষ্ট করে আমাদের চিঠি লিখে যাচ্ছেন সেজন্য কিন্তু তারা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। সে যাক, ভাই ইকবাল আহমেদ তার চিঠিতে আরো লিখেছেন, খবর নিয়মিত শোনার চেষ্টা করি এরপর শুনতে চাই প্রিয়জন। অন্যান্য অনুষ্ঠান সব সময় শোনা হয় না। তবে শুনতে বসলে আবার ওঠাও হয়না।
আপনি নিয়মিত খবর এবং প্রিয়জনে আমাদের সঙ্গ দেন জেনে ভালো লাগল ভাই ইকবাল। ভবিষ্যতে আরো চিঠি দেবেন বলে আশা করছি। এবারে যে চিঠি হাতে তুলে নিয়েছি তা এসেছে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার মানব-বন্ধন শ্রোতা ক্লাব থেকে। আর এটি লিখেছেন ক্লাবের সভাপতি মোঃ মশিউর রহমান মুন্না।
চিঠির শুরুতেই তিনি জানিয়েছেন রেডিও তেহরান থেকে প্রচারিত বিশ্ব সংবাদ এবং দৃষ্টিপাতের বিষয়গুলো ভালো লাগছে। তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শুনছেন বলেও জানিয়েছেন। ভাই মুন্না আরো লিখেছেন, ইন্টারনেটে রেডিও শুনে মজা পাই না। এই যেমন তাজা মাছ খাওয়ার বদলে টিনজাত মাছ খেলে যেমন হয় তেমন আর কি। তবে রেডিও শোনার সময় সত্যিই কমে গেছে। নানা ব্যস্ততার কারণে রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠানমালা শোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়লেও বিশ্ব সংবাদ ও সংবাদ ভাষ্যের অনুষ্ঠান দৃষ্টিপাত নিয়মিত শুনি।
ভাই মুন্না, ইন্টারনেটে রেডিও তেহরানের পুরনো অনুষ্ঠান জমা থাকে বলে সব সময় যে পুরনো অনুষ্ঠানই শুনতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই। প্রতিদিন বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় যদি আপনি মোবাইল ফোনে রেডিও তেহরান টিউন করেন তাহলে একেবারে গরম গরম তরতাজা খবরগুলো শুনতে পাবেন। তখন আর তাজা মাছকে টিনজাত মাছ বলে মনে হবে না। যাই হোক, ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের সঙ্গে আছেন জেনে ভালো লাগল।
বহলুল: চিঠি লেখার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই মুন্না। ভবিষ্যতে আরো চিঠি লিখবেন আশা করছি।
আসরের এ পর্যায়ে রেডিও তেহরানের ওয়েব সাইট এবং ফেসবুক গ্রুপের খবরে যেসব মন্তব্য হয়েছে সেদিকে নজর দেবো। নিষেধাজ্ঞার জবাবে মার্কিন কূটনীতিক বহিষ্কার ও সম্পদ আটক করল রাশিয়া শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ২৯ জুলাই। ওয়েব সাইটে প্রকাশিত এ খবরে মন্তব্য করেছেন পুরনো পাঠক ভাই মেহেদী হাসান মাসুম। তিনি লিখেছেন, খুব ভালো খবর।
এদিকে ইরানের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে মার্কিন প্রতিক্রিয়া: চাপানো হল নতুন নিষেধাজ্ঞা- শীর্ষক খবরটিও প্রকাশিত হয়েছে ২৯ জুলাই। এ খবরে বলা হয়েছে উপগ্রহ বহনে সক্ষম ইরানি রকেট ‘সিমোরগ' পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের বিরুদ্ধে আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন অর্থ বিভাগ।
ফেসবুকের রেডিও তেহরান গ্রুপে এ খবর বেশ আলোড়ন তুলেছে। পাঠক ভাই আজহার রুবেল লিখেছেন, অবাক হওয়ার কিছু নেই। ওদের মতো রক্তচোষাদের কাছ থেকে ইতিবাচক কিছু প্রত্যাশা করা বোকামি ও অজ্ঞতাও বটে। এ ছাড়া, পাঠক ভাই কাজী আবদুল্লাহ হাছিব লিখেছেন, এগিয়ে যাও ইরান। আর মুর্তজা আহমেদ প্রশ্ন করেছেন, ইরানের সফলতা কবে পাবে বাংলাদেশ?
মন্তব্য করার জন্য আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনাদের সচেতনতা সত্যিই আমাদের মুগ্ধ করেছে। #