প্রিয়জন : 'মার্কিন সরকার নিজের স্বার্থে অন্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের অভিনয় করে'
শুরুতেই যথারীতি একটি হাদিস। আমীরুল মু’মিনিন হযরত আলী (আ.) বলেছেন: যে ব্যক্তি পরিণতির কথা চিন্তা করে কাজ করে সেই সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান।
আজকের আসরের প্রথম ইমেইলটি এসেছে বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলা থেকে। সেখানকার কানখরদী গ্রামের ভালবাসি রেডিও শ্রোতা ক্লাব থেকে এটি পাঠিয়েছেন এ ক্লাবের সভাপতি এম জামাল আহমেদ সুবর্ণ। এটি আমাদের হাতে এসেছে ৯ই জানুয়ারি। এ শ্রোতা ভাই জানিয়েছেন, গত সপ্তাহব্যাপী আপনাদের সকল পরিবেশনা শুনলাম ভীষণ ভাল লাগলো আমার। এরপর ২০১৮ সালের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আরো জানতে চেয়েছেন, চলতি বছরে রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠানে কিছু পরিবর্তন হতে পারে কি?
বহলুল: বড়সড় যে কোনো পরিবর্তনের আগেই আমরা ঘোষণা দিয়ে থাকি।
হ্যাঁ সে রকম কোনো ঘোষণা যেহেতু দেয়া হয়নি তাই ধরে নিতে পারেন, বড় মাপের কোনো পরিবর্তন আসছে না। তবে প্রতিনিয়ত নানা ছোট ছোট পরিবর্তন ঘটছে। এই যেমন প্রিয়জনের আসরেই অনেকগুলো পরিবর্তন ঘটেছে। চিঠি লেখার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।এবারে যে চিঠিটি হাতে তুলে নিয়েছি তা এসেছে ভারত থেকে। ছত্তিসগড় রাজ্যের দুর্গ জেলার শিবাজিনগর থেকে এটি পাঠিয়েছেন রেডিও তেহরানের পুরনো শ্রোতা ভাই আনন্দ মোহন বাইন। এ চিঠিটি মে মাসে খামে করে পাঠানো হলেও তা সম্প্রতি আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে।
ভাই বাইন লিখেছেন, রেডিও তেহরানের খবর ও অন্যান্য পরিবেশনা থেকে আমেরিকার কাজকর্মের ওপর অনেক তথ্য জানা গেল। তিনি আরো লিখেছেন, রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান আমাদের খুব ভালো লাগে।
ভাই আনন্দমোহন বাইন,ভারতে পশ্চিমবঙ্গ এবং আসাম রাজ্য থেকে আমাদের কাছে বেশি চিঠি আসে। এই দুই রাজ্যে ভারতের সবচেয়ে বেশি বাংলাভাষী মানুষ বাস করেন। এই দুই রাজ্যের বাইরে থেকে কেউ আমাদেরকে চিঠি লিখলে আমাদের আনন্দটা বেড়ে যায়। চিঠি লেখার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আর হ্যাঁ, ভবিষ্যতে সম্ভব হলে ইমেইল করবেন। তাতে জবাবও দ্রুত পাবেন।
এবারে আর চিঠি নয়। বাংলাদেশের বগুড়া জেলার বড়চাপড়ার পিস রেডিও লিসেনার্স ক্লাবের সভাপতি ডা. মো. শাহিনুর আলম কয়েকদিন আগে চমৎকার একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আর সেটি হলো তিনি পুরোপুরি নিজ উদ্যোগে রেডিও তেহরান নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন। এ নিয়ে আমরা ডা. শাহিনুর আলমের সঙ্গে কথা বলেছি। এখানে সে কথা তুলে ধরা হলো।
প্রথমেই আমরা জানতে চাই, রেডিও তেহরান নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করার ধারণা কিকরে তার মাথায় আসে এবং এ আয়োজনে কেমন সাড়াই বা তিনি পেয়েছেন...
ভাই শাহিনুর আলম এর আগেও আপনি এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন। তা সেটি কি ধরণের ছিল?
বহলুল: এবারের প্রতিযোগিতাকে ঘিরে মজার কোনো ঘটনা ঘটেছে কি?
ডা. শাহিনুর আলম আপনার আন্তরিকতা সত্যিই আমাদের মুগ্ধ করেছে। সময় কম না হলে হয়ত আরো অনেক কথাই শোনা যেত। এখন আপনি কি রেডিও তেহরানের শ্রোতা ভাই বোনদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন?
বাংলাদেশের শ্রোতা বন্ধু ডা মো শাহিনুর আলমের সঙ্গে আমাদের আলাপচারিতা শুনছিলেন এতক্ষণ। ভাই শাহিনুর আলমকে রেডিও তেহরানের পক্ষ থেকে আবারো ধন্যবাদ।
বহলুল: আজ হাতে আর বেশি সময় নেই। তাই নজর দিতে হবে রেডিও তেহরানের ফেসবুক গ্রুপ এবং রেডিও তেহরানের ওয়েবসাইটের খবরে যেসব মন্তব্য হয়েছে সে দিকে।
আমি কিন্তু এজন্য তৈরি হয়েই বসে আছি। রাজ্যসভায় আটকে গেছে ৩ তালাক বিল: কে, কী বলছেন? শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে ৬ জানুয়ারি। এতে বলা হয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার মুসলিম নারীদের সম্মান,সমতা ও ন্যায়বিচার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ-বিষয়ক মন্ত্রী অনন্ত কুমার। রাজ্যসভায় তাৎক্ষণিক তালাক বিল ঝুলে থাকাকে কেন্দ্র করে সংসদ অধিবেশন শেষে তিনি ওই মন্তব্য করেন।
এ খবরে মন্তব্য করেছেন, রেডিও তেহরানের পুরনো শ্রোতা ভাই জাফর পাঠান। তিনি লিখেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারকে বলছি,আপনারা আগে বঞ্চিত হিন্দু নারীদেরকে- পিতা-মাতা ও স্বামীর সম্পদের উপর ভাগ দিয়ে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত করুন। মুসলমানরা কিন্তু নারীদেরকে তা দিচ্ছে ।
বহলুল: ধন্যবাদ ভাই জাফর পাঠান। আমরা কিন্তু ইদানীং আপনার মূল্যবান মতামত থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আগে আপনি আমাদের খবরে প্রায়ই মন্তব্য করতেন কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মনে হয় সেটা কমে গেছে।
ঠিকই বলেছেন বহলুল ভাই। এবারে আরেকটি খবর। আমেরিকার ওপর সামরিক নির্ভরশীলতার অবসান ঘটাবে পাকিস্তান! শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ৯ জানুয়ারি। এ খবরে বলা হয়েছে আমেরিকার ওপর সামরিক নির্ভরশীলতা কমিয়ে পাকিস্তান তার প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম চীন, তুরস্ক, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছ থেকে সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ফেসবুক গ্রুপে এ খবরে অনেক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। এখানে মোহাম্মদ ওমর ফারুকের মন্তব্য তুলে ধরছি। তিনি লিখেছেন, আমেরিকা কখনো কারো বন্ধু হতে পারে না। মার্কিন সরকার নিজের স্বার্থে অন্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের অভিনয় করে। প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তাদের ছুড়ে ফেলতে দ্বিধা করে না আমেরিকা।
বহলুল: একেবারে হক কথা। কাজের বেলা কাজি আর কাজ ফুরোলে পাজি, আরকি! সে যাই হোক, এবারে কিন্তু বিদায় নিতে হবে।
হ্যাঁ বন্ধুরা আসরের সময় শেষ হয়ে এসেছে। বিদায় বেলায় সবার প্রতি আহ্বান থাকবে নিয়মিত চিঠি লিখবেন,ইমেইল পাঠাবেন এবং রেডিও তেহরানের ওয়েবসাইটে নিয়মিত মন্তব্য করবেন।#