ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৮ ১৯:০১ Asia/Dhaka

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে রায় দেয়া হয়েছে সেটি যথাযথ হয় নি। কাগজপত্র ঘষামাজা করে বানানো হয়েছে এবং যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার সাথে বেগম খালেদা জিয়ার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। রেডিও তেহরানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

তিনি আরো বলেন, এখানে কোনো দুর্নীতি হয় নি, কোনোরকমের তছরুপের ঘটনা ঘটেনি। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা এই মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই করা হয়েছে।

পুরো সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো। এটি গ্রহণ, উপস্থাপনা ও তৈরি করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।

রেডিও তেহরান: জনাব অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য হাইকোর্টে আপিল করা হয়েছে এবং আদালত সে আবেদন গ্রহণ করেছে। আগামী রোববার এ বিষয়ে শুনানি হবে। এ মুহূর্তে অনেকের ভেতরেই এমন প্রশ্ন রয়েছে যে, খালেদা জিয়া জামিন পাবেন কিনা। আপনার কী মনে হয়?
 

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া

অ্যাড. জয়নুল আবেদীন: দেখুন, আমাদের দেশের হাইকোর্টের নিয়মানুসারে ৫ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সাজার মামলায় আদালত জামিনের বিষয়টি বিবেচনা করে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরাফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে এবং পর্যবেক্ষণে অনেকগুলো সাংঘর্ষিক পয়েন্ট রয়েছে। কাজেই আদালতের নিয়মানুসারে আমরা মনে করি আগামী রোববার আদালত খালেদা জিয়াকে জামিন দেবে।

রেডিও তেহরান: জামিন আবেদনের পর দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা নথিপত্র পেয়েছেন দেরিতে এবং পর্যালোচনার জন্য যুক্তিসম্মত সময় পায় নি। এজন্য জামিনের বিষয়টি বাদ দিয়ে শুনানি করার অনুরোধ জানান তারা। খালেদা জিয়ার জামিন আবদনের এই বিরোধিতা কতটা যৌক্তিক?

অ্যাড. জয়নুল আবেদীন: দেখুন, খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আদালত দুদককে একটা সময় দিয়েছে। খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের মধ্যে কি আছে না আছে সে বিষয়ে দুদকের আইনজীবী এরইমধ্যে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। বিভিন্ন টকশোতে তিনি বলেছেন রায় তিনি পুরোপুরি পড়েছেন। তারপরও তাদের একটা সময় নেয়া দরকার সেজন্যেই তারা হয়তো বলেছেন যে জামিন আবেদনের কপিটি দেরিতে পেয়েছেন যে কারণে তাদের সময় দেয়া হোক। আদালত তাদের সময় আবেদন মঞ্জুর করেছে।

রেডিও তেহরান:  যে- জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে সেই মামলার ভিত্তি ও বাস্তবতা নিয়ে বিএনপি নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। বিষয়টিতে আপনার পর্যবক্ষেণ কী?

বেগম খালেদা জিয়া

অ্যাড. জয়নুল আবেদীন: আমার পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, যেহেতু বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এই মামলার আইনজীবী হিসেবে প্রাথমিক অবস্থা থেকেই আমি ছিলাম কাজেই প্রথম থেকেই আমরা বলেছি মামলার মূল নথি ফাইলের সাথে নেই এবং কোনো সাক্ষী-প্রমাণের সাথে এর মূল কাগজপত্র ছিল না। কাগজপত্র ঘষামাজা করে বানানো হয়েছে এবং যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার সাথে বেগম খালেদা জিয়ার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এখানে কোনো দুর্নীতি হয় নি এবং যে টাকা দুর্নীতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে তার চেয়ে অধিক টাকা ব্যাংকে জমা আছে। এখানে কোনোরকমের তছরুপের ঘটনা ঘটেনি। কাজেই বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে রায় দেয়া হয়েছে সেটি যথাযথ হয় নি। ফলে আমরা সর্বোচ্চ আদালতের কাছে জামিনের যে আবেদন করেছি তাতেই আমরা ইনশাআল্লাহ প্রতিকার পাব। আদালত আমাদের আপিল গ্রহণ করেছে এবং নিম্ন আদালতের নথি কল করেছে।

রেডিও তেহরান: খালেদা জিয়ার মামলা ও কারাদণ্ড নিয়ে আরো একটি অভিযোগ করছেন বিএনপি নেতারা। সেটা হচ্ছে-এসব মামলা রাজনৈতিক ও খালেদা জিয়াকে আগামী নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য সরকার এসব মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। কী বলবে আপনি?

ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার

অ্যাড. জয়নুল আবেদীন: জ্বি আমিও সেটাই মনে করি। দেখুন, আমি একজন আইনজীবী ছাড়াও একজন রাজনৈতিক কর্মী ফলে আমি মনে করি বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা এই মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই করা হয়েছে। এই মামলাটি যখন করা হয় তখন এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়। পরে এই সরকার ক্ষমতায় এসে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আবার একটি তদন্ত করে চার্জশিট দিয়েছে এবং তার ওপর ভিত্তি করেই এই বিচার কার্যক্রম হয়েছে। কাজেই আমরা মনে করি পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

রেডিও তেহরান: খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের রায় হওয়ার পর সরকারি দলের বেশিরভাগ নেতা বলেছেন, এর মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আসলে কী তাই?

অ্যাড. জয়নুল আবেদীন: দেখুন, বর্তমান সরকার সব সময়ই একথা বলে থাকেন। এরইমধ্যে যেসব ঘটনা ঘটেছে তার অনেক কিছুই তো আপনারা দেখছেন। ফলে এ প্রসঙ্গে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।


আমরা মনে করি যে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আমরা আপিল করেছি এবং আদালত আমাদের সে আপিল গ্রহণ করেছে। কনভিকশনে যে জরিমানা করা হয়েছে আদালত তা স্থগিত করেছে এবং নথি তলব করা হয়েছে। আগামী রোববার যখন আপিলের পূর্ণাঙ্গ শুনানি তখন খালেদা জিয়ার জামিন হবে বলে আমরা আশা করি।#


পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৩