আগস্ট ৩১, ২০১৮ ১২:০৪ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৩১ আগস্ট শুক্রবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • কারো জন্য নির্বাচনের ট্রেন থেমে থাকবে না : ওবায়দুল কাদের-নয়া দিগন্ত
  • সাতটি বিষয়ে আপত্তি মাহবুব তালুকদারের-দৈনিক প্রথম আলো
  • ইভিএম নিয়ে সরকারের সব পরিকল্পনা ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে-রিজভী-কালেরকণ্ঠ
  • জাতীয় ঐক্যে সরকারের ভেতর ভয় ঢুকে গেছে: মওদুদ-দৈনিক যুগান্তর
  •  ঈদযাত্রায় সড়কে ২৩৭ দুর্ঘটনা, নিহত ২৫৯-দৈনিক মানবজমিন
  • ইভিএমের পক্ষে ইসির গৃহীত পদক্ষেপ সন্দেহজনক॥ ন্যাপ-দৈনিক ইনকিলাব
  • মিথ্যার বেসাতি করে ধরা খেল মিয়ানমার-দৈনিক প্রথম আলো

ভারতের শিরোনাম:

  • ‘দয়ার দান’ নয়, মহার্ঘ ভাতা কর্মীদের আইনি অধিকার, রায় হাইকোর্টের-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
  • জম্মু–কাশ্মীরে ৩৫(‌এ)‌ ধারার শুনানি পিছল সুপ্রিম কোর্ট
  • গেম খেলতে বাধা বাবার, হাতের শিরা কেটে আশঙ্কাজনক মোমোয় আসক্ত কিশোরী
  • শহরে ফিরল ডেঙ্গু আতঙ্ক, মৃত্যু চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়ার

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা‍! এবারে চলুন বাছাই করা কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ:

কারো জন্য নির্বাচনের ট্রেন থেমে থাকবে না : ওবায়দুল কাদের-নয়াদিগন্ত

দৈনিক নয়াদিগন্তের শিরোনামের খবরে বলা হয়েছে,  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কেউ যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, তা হলে নির্বাচনের ট্রেন থেমে থাকবে না। বিএনপি যদি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, আওয়ামী লীগের তাতে কিছু করার নেই।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহারকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ইভিএম ব্যবহার দেশের নির্বাচন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করবে।আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় সিলেট সার্কিট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের ট্রেন কি থেমে থাকবে কোনো একটা দলের জন্য। বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশ নেয়নি, সেটা তাদের ভুল। সে ভুলের মাশুল তারা আজো দিচ্ছেন। সেই ভুলের জন্য যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের অপরাধটা কোথায়?’সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন হয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ফ্রি, ফেয়ার নির্বাচন করেছে। এখন একটা দল নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের একটা ফাঁদ তৈরি করেছিল। সেটা তো সংবিধানের দোষ নয়। সেটা তো যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন, ওই ফাঁদের মধ্যে আটকা পড়ে, সেটা তো তাদের দোষ নয়। ইলেকশনে তো যারা প্রতিদ্বন্দ্বী, তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।’

সাতটি বিষয়ে আপত্তি মাহবুব তালুকদারের

 দৈনিক প্রথম আলোর শিরোনামের খবরে বলা হয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার পক্ষে সাতটি বিষয় তুলে ধরে আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট) জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। গতকাল বৃহস্পতিবার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনীর প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে বসা ইসির বৈঠকে মাহবুব তালুকদার তাঁর আপত্তি জানান। সভা শুরুর আধা ঘণ্টার মধ্যে মাহবুব তালুকদার সভা বর্জন করে বের হয়ে যান। বৈঠকে ইভিএম ব্যবহারে দ্বিমত করে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে মাহবুব তালুকদার আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার বিভিন্ন কারণ তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি যে মূল বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার ভিত্তিতে ইভিএম ব্যবহারের সম্ভাবনা না থাকা, বিনা দরপত্রে কেনা ইভিএমের কারিগরি পরীক্ষায় ঘাটতি, ইভিএম ব্যবহারে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা, ইভিএম ব্যবহার হলে আদালতে মামলার সম্ভাবনা, ইভিএম ব্যবহারে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব, ইভিএম নিয়ে ভোটারদের সন্দেহ ও অনভ্যস্ততা, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে আরও সময়ের প্রয়োজনীয়তা।

ইভিএম নিয়ে সরকারের সব পরিকল্পনা ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে-রিজভী-কালেরকণ্ঠ

দৈনিক কালেরকণ্ঠের শিরোনামের খবরে বলা হয়েছে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এবার জনগণ সরকারের সকল মাস্টারপ্ল্যান ডাস্টবিনে ফেলে দেবে। ভোট নিয়ে অনাচারের পুনরাবৃত্তি জনগণ রুখে দেবে। জনগণের শিলা-কঠিন ঐক্যে ইভিএম নিয়ে সরকারের সব পরিকল্পনা ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে। আজ শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজের নেতৃত্বাধীন কমিশনের ভিন্নমতের পরও সিইসি ইভিএম ব্যবহারে মরিয়া। এটা স্পষ্ট, তিনি আগামী ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। আগামীকাল দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আগামীকাল শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও ভালো জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য আমরা সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আমরা প্রত্যাশা করছি, জনসভায় ব্যাপক জনসমাগম ঘটবে।

জাতীয় ঐক্যে সরকারের ভেতর ভয় ঢুকে গেছে: মওদুদ-দৈনিক যুগান্তর

বর্তমান সরকারের অবসান ঘটানোর জন্য বাংলাদেশের মানুষ আজ প্রস্তুত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য বেড়ে সামনের দিকে যাচ্ছে। এখন সরকারের ভেতর ভয় ঢুকে গেছে। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ইয়ুথ ফোরামের আয়োজনে 'খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, জাতীয় সংকট সমাধানে একমাত্র পথ' শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি মন্তব্য করেন। মওদুদ বলেন, দেশের মধ্যে যারাই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চান, তারা আজ ঐক্যবদ্ধ হওয়া শুরু করেছে। একটি জাতীয় ঐক্য হবে। কারণ আমরা গুম দেখতে চাই না। হত্যা, অপহরণ দেখতে চাই না। তিনি বলেন, যখন কোটা আন্দোলন হল সবাই বলল খুব ভালো। সরকারও বলল ভালো। দু-চার দিন যাওয়ার পর তাদের ওপর সরকার চড়াও হল। গ্রেফতার করা শুরু করল। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনেও একই অবস্থা হল।

ঈদযাত্রায় সড়কে ২৩৭ দুর্ঘটনা, নিহত ২৫৯-দৈনিক মানবজমিন

এবার কোরবানির ঈদের মওসুমে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ২৩৭টি দুর্ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত এবং ৯৬০ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এ তথ্য জানিয়েছে। সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদ যাত্রার শুরুর দিন ১৬ অগাস্ট থেকে ঈদের পর ২৮ অগাস্ট পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই হিসাবে গত রোজার ঈদের চেয়ে কোরবানির ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা কমেছে। সেজন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে কৃতিত্ব দিচ্ছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। মোজাম্মেল বলেন, ঈদুল ফিতরের তুলনায় দুর্ঘটনা ১৪.৪৪ শতাংশ, প্রাণহানি ২৩.৫৯ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ২৪.১১ শতাংশ কমেছে। তবে গতবছরের ঈদুল আজহার তুলনায় নিহত ১৩.৫০ শতাংশ এবং আহত ১১.৬৭ শতাংশ বেড়েছে। গত রোজার ঈদের পর বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ২৭৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩৯ জন নিহত এবং ১২৬৫ জন আহতের তথ্য দিয়েছিল। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আযুবুর রহমান খান ও আইনজীবী জোতির্ময় বড়ুয়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

ইভিএমের পক্ষে ইসির গৃহীত পদক্ষেপ সন্দেহজনক॥ ন্যাপ-দৈনিক ইনকিলাব

আজ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ যাদু মিয়া মিলনায়তনে বাংলাদেশ ন্যাপের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী শফিকুল গানি স্বপনের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০০ আসনে বিশেষ দল বা গোষ্ঠীকে বিশেষ অনৈতিক সুবিধা দিতেই ইভিএমের (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) বিষয়টিকে দ্রুত আরপিওতে সংযোজন করা হচ্ছে ।

ন্যাপ মহাসচিব বলেন, ইসির সঙ্গে সংলাপে যেখানে দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ইভিএমের বিপক্ষে মতামত প্রদান করেছেন সেখানে ইভিএমের পক্ষে ইসির গৃহীত পদক্ষেপ সন্দেহজনক। দেশবাসীর মনে সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে যে, নির্বাচন কমিশন বিশেষ কোনো দল বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দিতেই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

মিথ্যার বেসাতি করে ধরা খেল মিয়ানমার-দৈনিক প্রথম আলো

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সম্প্রতি একটি বই প্রকাশ করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। বইয়ে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছবি ও তথ্য ভুয়া। শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই মিথ্যাচার ধরা পড়েছে।

মিয়ানমারের রাজনীতি ও সেনাবাহিনী: পর্ব ১’ (মিয়ানমার পলিটিকস অ্যান্ড দ্য টাটমাডো: পার্ট ১) শিরোনামের বইটি গত জুলাই মাসে প্রকাশিত হয়। ১১৭ পৃষ্ঠার বইটি প্রকাশ করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বিভাগ।

বইয়ে থাকা সাদা-কালো একটি ছবিতে দেখা যায়, নদীতে ভাসমান দুটি লাশের পাশে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে। দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির হাতে কৃষিকাজে ব্যবহৃত হাতিয়ার। ছবির বিবরণে (ক্যাপশন) লেখা হয়েছে, ‘স্থানীয় ক্ষুদ্র জাতিসত্তার লোকজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে বাঙালিরা।

গত শতকের চল্লিশের দশকে মিয়ানমারে জাতিগত দাঙ্গার বিবরণ বইটির যে অংশে রয়েছে, সেখানে এই ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে। ছবির বরাত দিয়ে বইয়ে বলা হয়েছে, বৌদ্ধধর্মাবলম্বী মানুষজনকে হত্যা করেছে রোহিঙ্গারা। বইয়ে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিয়ানমার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের নিজেদের নাগরিক বলে গণ্য করে না। রোহিঙ্গাদের অবৈধ অভিবাসী মনে করে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ।

ছবিটি যাচাই-বাছাই করে রয়টার্স। যাচাইয়ের পর রয়টার্স দেখতে পায়, ছবিটি আসলে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তোলা। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের একটি চিত্র এই ছবি।

রয়টার্স দেখতে পেয়েছে, বইয়ে ব্যবহৃত তিনটি ছবি ভুয়া। তিনটির মধ্যে দুটি ছবি বাংলাদেশ ও তানজানিয়ায় তোলা। আরেকটি ছবিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গারা সমুদ্রপথে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে প্রবেশ করছে। কিন্তু বাস্তবে অভিবাসীরা মিয়ানমার ছাড়ছিল।

এবার ভারতের কয়েকটি  খবর তুলে ধরছি।

দয়ার দান নয়, মহার্ঘ ভাতা কর্মীদের আইনি অধিকার, রায় হাইকোর্টের-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা -দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা

মহার্ঘ ভাতা ‘সরকারের দয়ার দান নয়, কর্মীদের আইনি অধিকার। স্যাটের রায় খারিজ করে ডিএ মামলায় শুক্রবার এই রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি  দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শেখর ববি শরাফের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। এর ফলে হাইকোর্টে কার্যত রাজ্য সরকারের মুখ পুড়ল বলে মনে করছে আইনজ্ঞ মহল। ডিএ মামলায় স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনালে (স্যাট) শুনানির সময় রাজ্য সরকার জানায়, মহার্ঘ ভাতা সরকারি কর্মীদের আইনসিদ্ধ অধিকার নয়। সরকার ইচ্ছে করলে দিতে পারে, নাও দিতে পারে। অর্থাৎ ডিএ দেওয়া বা না দেওয়া সরকারের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। স্যাট সেই বক্তব্যকেই মান্যতা দেয়।

এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে আইএনটিইউসি অনুমোদিত কর্মী সংগঠন। বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি ববি শরাফের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। সিপিএম এবং বিজেপি-র কর্মী সংগঠনও মামলায় সামিল হয়। এদিন সেই মামলারই রায় ঘোষণা করল আদালত।

জম্মুকাশ্মীরে ৩৫(‌এ)‌ ধারার শুনানি পিছল সুপ্রিম কোর্ট

জম্মু–কাশ্মীরে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫(‌এ)‌ ধারার শুনানি স্থগিত রাখল সুপ্রিম কোর্ট। পরবর্তী শুনানি আগামী বছরের জানুয়ারিতে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, এখন এই মামলার শুনানি চললে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে। উপত্যকায় আগামী তিন মাস ধরে পঞ্চায়েত নির্বাচন চলবে। এই মামলার শুনানি হবে তার পরে। শুক্রবার বিচারপতি এ এম খানউইলকর বলেন, ‘‌রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যখন এমন সঙ্গীন অবস্থা, তখন কীভাবে আমরা কোন যুক্তিতেই বা এই মামলার শুনানিটা শুনতে পারি?’‌‌। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫(‌এ)‌ ধারাটি ১৯৫৪ সালে প্রযোজ্য হয়। এটি রাষ্ট্রপতি আইন। এই আইনের ফলে জম্মু–কাশ্মীরের ‘স্থায়ী বাসিন্দা’ ছাড়া আর কেউ উপত্যকায় জমি অধিগ্রহণ করতে পারবেন না অথবা জমির মালিক হতে পারবেন না। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও মামলার ফল না আসায় অনেকেই হতাশ।

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আধাসামরিক বাহিনীর একটি বড় কোম্পানি আসছে রাজ্যের আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে শীর্ষ আদালতকে অনুরোধ করা হয় যে, এই ধারাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সেই কারণে এই ধারা নিয়ে যেন রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরেই মামলাটির শুনানির নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর ভূস্বর্গের মানুষ বেশ ক্ষেপে গিয়েছেন। তবে আশার আলো ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে মিলতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন।

গেম খেলতে বাধা বাবার, হাতের শিরা কেটে আশঙ্কাজনক মোমোয় আসক্ত কিশোরী

জামুড়িয়াতেও এবার মোমোর থাবা৷ হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করল এক ছাত্রী। ঘটনার তদন্তে নেমেছে সিআইডি প্রতিনিধি দল৷

পরিবারের দাবি, গত দুদিন ধরে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত ছিল বছর চোদ্দোর ওই ছাত্রী৷ মোবাইলটি কেড়ে নিলে ক্ষিপ্র হয়ে ওঠে সে। নিজের বাবাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুনেরও চেষ্টা করে কিশোরী৷ নিজের হাতের শিরা কেটেও আত্মহত্যা চেষ্টা করে৷ গোটা ঘটনাটি পুলিশকে জানায় ওই ছাত্রী৷ পুলিশ ছাত্রীর মোবাইলটি বাজেয়াপ্ত করে। পাশাপাশি ঘটনার খবর পেয়ে কলকাতা থেকে সিআইডির বিশেষ দল পৌঁছায় জামুড়িয়ায়। আপাতত ওই ছাত্রী রানিগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি রয়েছে। সিআইডি আধিকারিকরা নার্সিংহোমেই জিজ্ঞাসাবাদ করে তাকে। যদিও সিআইডি আধিকারিক রাজর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে মোমোর কোনও সংযোগ নেই।

শহরে ফিরল ডেঙ্গু আতঙ্ক, মৃত্যু চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়ার

ফের শহরের ডেঙ্গু আতঙ্ক৷ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল চতুর্থ শ্রেণির এক পড়ুয়ার৷ সল্টলেক পয়েন্ট স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র নারায়ণ শ্রেষ্ঠ৷ বিধাননগর পুরনিগমের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের দত্তাবাদের বাসিন্দা নারায়ণ৷ বেশ কিছুদিন ধরেই জ্বরে ভুগছিল৷ পরিস্থিতি বাড়াবাড়ি হতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ ততক্ষণে সব শেষ৷ চিকিৎসা শুরু আগে গায়ে ধুম জ্বর নিয়ে মৃত্যু হল শহর কলকাতার নামী স্কুলের এই পড়ুয়ার৷ হাসপাতালের তরফে ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গু উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভুগছিল নারায়ণ৷ ওষুধ খেলে সাময়িক পরিস্থিতি আয়ত্বে আনার চেষ্টাও করা হয়৷ ওষুধের মাধ্যমে জ্বর কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এনে স্কুলে পরীক্ষাও দেয় চতুর্থ শ্রেণির ওই পড়ুয়া৷ কিন্তু, বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছে যায় মঙ্গলবার৷ স্কুল থেকে ফেরার পথে অচৈতন্য হয়ে পড়ে নারায়ণ৷ দাঁতে দাঁতও লেগে যায়৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে৷ ইএম বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি শুরু হয় চিকিৎসা৷ কিন্তু, অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকে৷ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, ওই ছাত্রের প্লেটলেট ৪ হাজারের নিচে নেমে গিয়েছে৷ ধীরে ধীরে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাজ করা বন্ধও করে দেয় নারায়ণের৷ পরে মাল্টি অর্গান ফেলিওরের কারণে মৃত্যু হয় তার৷ মৃত ওই ছাত্রের ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গু উল্লেখ করা হয় বলে জানা গিয়েছে৷#

পার্সটুডে/বাবুল আখতার/৩১