মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা: কাদেরের অভিযোগ
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৪ নভেম্বর বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- নয়াপল্টনে বিএনপির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ-প্রথম আলো
-
একই দৈনিকের আরেকটি খবর- মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা: কাদেরের অভিযোগ
- সরকার পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে:রিজভী অভিযোগ-দৈনিক কালের কণ্ঠ
- রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন স্থগিতের আহ্বান জাতিসংঘের-দৈনিক যুগান্তর
- ষড়যন্ত্র চলছে সবাই সতর্ক থাকুন, বিদ্রোহী হলে আজীবন বহিষ্কার- বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-ইত্তেফাক
- ‘হামলা চালিয়ে পুলিশ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে-ফখরুলের অভিযোগ-মানবজমিন
- সবাইকে সমান সুযোগ দিতে সহ-রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ সিইসির-দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- রোজ নাম বদলাচ্ছে ওরা, বাংলা নিয়ে চুপ কেন, তোপ মমতার-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- নেহেরুর জন্যই চা ওয়ালা আজ প্রধানমন্ত্রী, মোদিকে কটাক্ষ থারুরে-দৈনিক আজকাল
- দাম বিতর্ক বাদ দিয়েই শুনানি রাফাল মামলার: সুপ্রিম কোর্ট-দৈনিক এই সময়
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার আসরে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।
কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:
কথাবার্তার প্রশ্ন (১৪ নভেম্বর)
১. বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিক্রি চলছে। এ পর্যন্ত যা দেখা গেছে তাতে পরিষ্কার যে, এবার প্রার্থীর ভিড় অনেক বেশি। এর কারণ কী?
২. গাজা পরিস্থিতি আবার ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। সেখানে হামাস-ইসরাইল হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। কীভাবে দেখছেন পরিস্থিতিকে?
নয়াপল্টনে বিএনপির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ-প্রথম আলো
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে। এ সময় পুলিশের ছোড়া প্যালেট বুলেটে (ছোড়রা গুলির মতো) কমপক্ষে ১২ জন নেতা-কর্মী হয়েছেন।আজ বুধবার বেলা পৌনে একটার দিকে এই সংঘর্ষ বাধে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।নয়াপল্টনে বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী। ছবি: আবদুস সালাম নয়াপল্টনে বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী। ছবি: আবদুস সালাম বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করতে সরকার এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’
বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা পুলিশের একটি পিকআপসহ দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। সেখানে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শী একজনের ভাষ্য, হঠাৎ করে গোলাগুলির আওয়াজ পাওয়া যায়। এরপরই বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে, সকাল থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল। পুলিশ রাস্তায় তাঁদের দাঁড়াতে দিচ্ছিল না। দুপুর পৌনে একটার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বড় একটি মিছিল নিয়ে ঢাকা-৮ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আসেন। ওই সময় কার্যালয়ের সামনে থেকে তাঁর মিছিল সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। তবে কর্মী-সমর্থকেরা সরে না যাওয়ায় একপর্যায়ে পুলিশের গাড়ি মিছিলের ওপর উঠে যায়। ওই সময় কয়েকজন আহত হন।
এ নিয়ে কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডা হয়। মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থককে লাঠিপেটা করে। পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পুলিশ প্যালেট বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। তবে বিএনপির নেতা, কর্মী ও সমর্থক এত বেশি ছিলেন যে, পুলিশ সেখান থেকে পিছু হটে।
একপর্যায়ে নেতা-কর্মীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। তাঁরা রাস্তায় চলাচল করা অন্যান্য ব্যক্তিগত গাড়িও ভাঙচুর করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানে সংঘর্ষ চলছিল। সংঘর্ষের কারণে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আশপাশের এলাকার সড়কে প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা: কাদেরের অভিযোগ
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেছেন, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছেন। পুলিশের একটি গাড়ি প্রায় পুড়িয়ে দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেয়, তা দেখবে আওয়ামী লীগ।
আজ বুধবার বেলা তিনটায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, এই উসকানি কারা দিল? নির্বাচন পেছানোর জন্য বিএনপি এই উসকানি শুরু করে দিল? তারা কি জানান দিল যে ২০০১, ২০১৪ যেটা করেছে, সেটাই করবে। তিনি বলেন, আজ সেটাই প্রমাণ হয়েছে। বিএনপি নির্বাচন বানচাল করতে চায়। আজ পুলিশের ওপর সাঁড়াশি হামলা করে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়া নেতারা স্বরূপ প্রকাশ করেছেন।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি মিছিলে পুলিশের বাধা দেওয়ার ঘটনায় আজ বুধবার দুপুরে নয়াপল্টন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের অন্তত দুটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হন কয়েকজন।
পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনার কিছু পরই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ধৈর্য ধরতে বলেছেন। বিএনপির আক্রমণের পাল্টা আক্রমণ না করার জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা এ ধরনের অরাজকতা, নাশকতা প্রকাশ্য দিবালোকে করেছেন। এই দুরভিসন্ধির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য কী, তা দেখতে-শুনতে চায় আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, নির্বাচন হবে। এই নির্বাচন জনগণের অনেক প্রত্যাশার নির্বাচন। জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। যদি নির্বাচন বানচাল করার বা নির্বাচন নিয়ে চক্রান্ত করা হয়, তাহলে জনগণই এই চক্রান্ত প্রতিহত করবে। তিনি আরও বলেন, কানাডার আদালত দুবার বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে রায় দিয়েছেন। বিএনপি সন্ত্রাসী দল, নাশকতার দল, বোমা সন্ত্রাসের দল, এই দল নির্বাচন চায় না।
সরকার পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে:রিজভী-দৈনিক কালের কণ্ঠ
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, বিনা উস্কানিতে মনোনয়ন ফরম নিতে আসা নেতাকর্মীদের ওপর সরকার পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সাথে নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষের পরই তাৎক্ষণিক এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী আরো বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে নির্বাচন কমিশন পুলিশ দিয়ে এ হামলা চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আপনাদেরকে শান্ত হতে বলেছেন। আপনারা রাস্তা ছেড়ে ফুটপাতে বসে পড়ুন। এটা তারেক রহমানের নির্দেশ।’
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন স্থগিতের আহ্বান জাতিসংঘের-দৈনিক যুগান্তর
নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল বাশেলেট।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে জানা গেছে, মিশেল বাশেলেট মঙ্গলবার জেনেভা থেকে এক বিবৃতি এ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাখাইনে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হওয়ার আগে তাদের ফেরত পাঠালে এ জনগোষ্ঠীর জীবন ফের ঝুঁকিতে পড়বে।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তির ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার থেকে এ প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা। দুই দেশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম ধাপে ২২৬০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে। প্রতিদিন ১৫০ জন করে ১৫ দিনে প্রথম ধাপের এ প্রত্যাবাসন শেষ হবে। কিন্তু মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরার মত অনুকূল পরিবেশ এখনও সৃষ্টি হয়নি মন্তব্য করে এর আগে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি এবং মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লিও প্রত্যাবাসন স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
মিশেল বাশেলেট তার বিবৃতিতে বলেন, শরণার্থীদের বলপূর্বক ফেরত পাঠানো হলে তা হবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে গত বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও নানা কারণে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত গত ৩০ অক্টোবর ঢাকায় দুই দেশের জয়েন্টওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য মধ্য নভেম্বর সময় ঠিক হয়।
কিন্তু জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার কর্মকর্তা ভোলকার টুর্ক মঙ্গলবার বলেন, রাখাইনে এখনও রোহিঙ্গাদের ফেরার মতো অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। এখনও তাদের নাগরিকত্বের প্রশ্নে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত মিয়ানমার সরকার নেয়নি। সেখানে তাদের চলাফেরার স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।’
বাশেলেট তার বিবৃতিতে কক্সবাজারের ক্যাম্পে থাকা দুই রোহিঙ্গার আত্মহত্যাচেষ্টার কথা জানিয়ে বলেন, আমরা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মুখে দেখছি আতঙ্ক আর ভয়। ইচ্ছার বিরুদ্ধে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তারা।
‘ষড়যন্ত্র চলছে সবাই সতর্ক থাকুন, বিদ্রোহী হলে আজীবন বহিষ্কার-ইত্তেফাক
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের অগ্রগতির ধারা ব্যাহত করতে ষড়যন্ত্র চলছে। তাই সবার সতর্ক থাকতে হবে। কোনো বিশ্বাসঘাতকদের দলে ঠাঁই হবে না। আওয়ামী লীগ চায় দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করতে। আর দেশকে এগিয়ে নিতে বিশ্বাসঘাতকদের প্রয়োজন নেই।’
বুধবার সকালে গণভবনে আগামী নির্বাচনে নৌকা পেতে আগ্রহী ৪ হাজার ২৩ জনের সঙ্গে সাক্ষাত্কালে শেখ হাসিনা আরো বলেন, কেউ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী হলে তাকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হবে। দলীয় সূত্র ইত্তেফাককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘরের শত্রু বিবিশন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দল করতে হলে দলের সিদ্ধান্ত মানতে হবে। যাকে নৌকা প্রতীক দেয়া হবে, সব নেতাকর্মীকে তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন জরিপ রিপোর্ট আমার কাছে। জরিপের ভিত্তিতে মনোনয়ন দেওয়া হবে।
জানা গেছে, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বনামধন্য জরিপ প্রতিষ্ঠান এবং দলের অভিজ্ঞ একাধিক টিমের মাধ্যমে কয়েক দফা মাঠ জরিপ চালিয়ে তিনশ’ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জনপ্রিয়তার বাস্তবচিত্র এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ল্যাপটপে বন্দী। নেতা-এমপি-মন্ত্রীরা যত বড় বড়ই শো-ডাউন করুন না কেন, প্রধানমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিজ নির্বাচনী এলাকায় সর্বশেষ অবস্থা ও বিস্তারিত আমলনামা।
গত টানা ১০ বছরে কোন মন্ত্রী-এমপি বা সম্ভাব্য প্রার্থী নিজ এলাকায় কী করেছেন, জনপ্রিয়তা বেড়েছে নাকি কমেছে, অনিয়ম-দুর্নীতি কিংবা দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে কিনা, এ সকল আমলনামা রয়েছে দলীয় প্রধানের হাতে। তাই সংসদীয় বোর্ডের ধারাবাহিক বৈঠক থেকে সর্বশেষ জরিপসহ সবকিছু বিবেচনা করেই এবার আওয়ামী লীগ একক প্রার্থিতা ঘোষণা করা হবে।
‘হামলা চালিয়ে পুলিশ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে-ফখরুলের অভিযোগ-মানবজমিন
অন্যায়ভাবে দলের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিকালে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের নির্ধারিত বৈঠকে অংশ নেয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, বিএনপি কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা উৎসবমুখর পরিবেশে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করছেন। সেখানে পুলিশ অন্যায়ভাবে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে।
সবাইকে সমান সুযোগ দিতে সহ-রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ সিইসির-দৈনিক নয়া দিগন্ত
সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করার এবং সব দলকে সমান ভাবে সুযোগ দেয়ার জন্য সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা। আজ বুধবার সকালে নির্বাচন কমিশন ভবনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সাথে নির্বাচনী দিক-নির্দেশনা সভায় তিনি এই নির্দেশ দেন।
ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত সচিব মো: মোখলেসুর রহমান। সিইসি বলেন, ভোটকেন্দ্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে সজাগ থাকতে হবে। প্রার্থীর বাড়ির পাশে ভোট কেন্দ্র রাখা যাবে না। আর আচরণবিধি যাতে কোনো ভাবেই লঙ্ঘিত না হয় সে ব্যাপারে কঠোর থাকতে হবে।
এবার ভারতের বিস্তারিত খবর তুলে ধরছি
রোজ নাম বদলাচ্ছে ওরা, বাংলা নিয়ে চুপ কেন, তোপ মমতার-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
পশ্চিমবঙ্গের নাম পাল্টে বাংলা করা নিয়ে এ বার সরাসরি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতাবন্দোপাধ্যায়। রাজ্যের তরফে প্রয়োজনীয় আইনি পদ্ধতি শেষ করা হলেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে কোনও সাড়া মিলছে না। এ ভাবেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ আনলেন মমতা।
ওই বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘‘আমি দেখতে পাচ্ছি, রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে প্রতি দিন দেশের নানা ঐতিহাসিক জায়গার নাম পাল্টে দিচ্ছে বিজেপি। স্বাধীনতার পর অনেক জায়গারই নাম পাল্টানো হয়েছে। উড়িষ্যার নাম পাল্টে হয়েছে ওড়িশা, বম্বে হয়েছে মুম্বই, মাদ্রাজ হয়েছে চেন্নাই, ব্যাঙ্গালোর হয়েছে বেঙ্গালুরু। ভাষা ও রাজ্যের মানুষের অনুভূতির কথা মাথায় রেখেই হয়েছে এই সব পরিবর্তন, যা একেবারেই সঠিক সিদ্ধান্ত।’’
এর পরই মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বঞ্চনার অভিযোগ এনেছেন। তাঁর বক্তব্য, সারা দেশে নাম পরিবর্তনের হিড়িক জারি থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের জন্য পড়ে থাকছে শুধুই বঞ্চনা। প্রথমে পশ্চিমবঙ্গের নাম ইংরেজিতে ‘বেঙ্গল’, হিন্দিতে ‘বঙ্গাল’ এবং বাংলায় ‘বাংলা’ করার কথা ভেবেছিল রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ঐক্যমত্যের ভিত্তিতেই রাজ্যের নাম বদলানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যদিও তিনটি ভাষায় তিন রকম নাম করা সম্ভব নয় বলেই জানায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এর পর নতুন করে ফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় রাজ্য বিধানসভায়।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘‘এর পর তিনটি ভাষাতেই রাজ্যের নাম বাংলা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তা পাঠানো হয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে। যদিও তার পর দীর্ঘদিন অপেক্ষা করা সত্ত্বেও নিশ্চুপ কেন্দ্র। যা নিশ্চিত ভাবেই রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনা। রাজ্যে কোনও অস্তিত্ব না থাকলেও একটি রাজনৈতিক দল পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলানোর সিদ্ধান্তে প্রভাব খাটাতে পারে কি? সাংবিধানিক রীতিনীতি মেনে আমরা ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলেও কেন্দ্র তা হতে দিচ্ছে না। এটা কি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিধি ভঙ্গ করছে না?’’
এই বিবৃতি দিয়ে কেন্দ্রের কাছে যত দ্রুত সম্ভব প্রতিক্রিয়া দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নেহেরুর জন্যই চা ওয়ালা আজ প্রধানমন্ত্রী, মোদিকে কটাক্ষ থারুরে-দৈনিক আজকাল
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর জন্মদিন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে আবার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করলেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা শশী থারুর। এবার বললেন, ‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর জন্যই আজ একজন চা ওয়ালা থেকে প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছেন৷’
বুধবার, ১৪ নভেম্বর সমগ্র দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর জন্মদিবস৷ শিশুদের সঙ্গে ছিল তাঁর আত্মিক সম্পর্ক৷ তাই দিনটি শিশু দিবস হিসাবেও পালিত হয়৷ এই উপলক্ষেই রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রাক্তন এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী৷ সেখানে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর অবদান তুলে ধরেন তিনি৷

দেশের অগ্রগতিতে তাঁর অবদানের কথা সকলকে শোনান কেরলের তিরুঅনন্তপুরমের এই সাংসদ৷ এরপরই নেহেরুকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন ভ্রান্ত তথ্যের বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন শশী থারুর৷ বলেন এসব ‘অবিশ্বাসযোগ্য মিথ্যা।’ নেহেরুকে ভারতমাতার ‘সেরা সন্তান’ বলে সম্বোধন করে, তাঁর বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা প্রচারের কোনও প্রয়োজন নেই বলে দাবি করেন তিনি৷ এই অনুষ্ঠানে মঞ্চেই তিনি কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে৷ কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আজ একজন চা ওয়ালা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তা কেবলমাত্র নেহেরুজির জন্যই সম্ভব হয়েছে৷ তিনি এমন একটা প্রাতিষ্ঠানিক পরিকাঠামো তৈরি করেছেন, যাতে যেকোনও দেশবাসী সবচেয়ে উপরের আসনে বসার স্বপ্ন দেখতে পারেন৷’ এই মন্তব্যের পরই থারুরকে পাল্টা কটাক্ষ করে বিজেপি৷ টুইট করে তাঁরা বলে, ‘…নেহেরুই হল আসল কারণ যার জন্য মনুষ্যত্ব বেঁচে রয়েছে৷ তাই তাঁর অবদানের সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা করবেন না৷
দাম বিতর্ক বাদ দিয়েই শুনানি রাফাল মামলার: সুপ্রিম কোর্ট-দৈনিক এই সময়
রাফাল যুদ্ধ বিমান কেনায় দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা বুধবার টানা পাঁচ ঘন্টার শুনানিতে উত্তপ্ত দেশীয় রাজনীতি। শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি এসকে কৌল এবং বিচারপতি কেএম জোসেফ এর বেঞ্চ জানিয়ে দিল, রাফাল যুদ্ধ বিমান কিনতে ঠিক কত টাকা খরচ হচ্ছে সে বিষয়ে কেন্দ্রের তরফে যতক্ষণ না কোনও সঠিক তথ্য আদালতে পেশ করা হচ্ছে, ততক্ষণ এই বিষয়ে দেশের জনসমক্ষে কোনও রকম প্রশ্ন-উত্তর বা বিতর্ক আদালতে হবে না। একইসঙ্গে এদিন এজি বেনুগোপালকে আদালত জানতে চায়, আদালতে ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে কোনও আধিকারিক উপস্থিত আছেন কী না। যেহেতু বিষয়টি বাযুসেনার সঙ্গে সম্পর্কিত তাই তাদের একজন আধিকারিক থাকাটা প্রয়োজনীয়। সেই মত এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন বায়ুসেনা প্রধান ও বায়ুসেনার সহ-প্রধান।
অন্যদিকে এদিন, রাফাল মামলার শুনানির শুরুতেই সরব হল কেন্দ্রীয় সরকার। শুরুতেই কেন্দ্রের তরফে এজি কে কে বেনুগোপালের প্রশ্ন, রাফাল সম্পর্কিত গোটা বিষয়টিই বিশেষজ্ঞদের বিচার্য, আদালতের নয়। এই বিষয় নিয়ে কি আদালত বিচার করতে পারে? তাঁর দাবি দেশের সংসদকেও যুদ্ধ বিমানের দাম সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়নি। তাহলে কী ভাবে জনসমক্ষে এই চুক্তির দাম প্রকাশ করা যেতে পারে।#
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/১৪
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন