মে ২২, ২০১৯ ১২:১৩ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ২২ মে বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম

  • ধানক্ষেতে আগুনের ঘটনা তদন্তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ-দৈনিক যুগান্তর
  • প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তন -দৈনিক প্রথম আলো
  • অ্যাপসে মিলছে না টিকিট, ব্যর্থতার দায় নিলেন রেলমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক
  • ‘ঢাকায় ছিনতাইকারী নেই, সকলকে ধরে জেলে পাঠানো হয়েছে’-দৈনিক মানবজমিন
  • প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হওয়ায় বাংলাদেশে অর্থসাহায্য ছাড়ে কংগ্রেসে আপত্তি-দৈনিক নয়া দিগন্ত

ভারতের শিরোনাম:    

  • ফের ধাক্কা খেল বিরোধীরা, গণনায় আগে ভিভিপ্যাট মেলানোর দাবি খারিজ করল কমিশন-দৈনিক আনন্দবাজার
  • ফলাফলের আগে বিরোধীদেরও ‘চৌকিদার’ বানিয়ে ফেললেন মোদি!-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দেখানো পথেই রাত পাহারায় গোটা দেশ-দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। 

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

১. ঢাকায় ছিনতাইকারী নেই, সকলকে ধরে জেলে পাঠানো হয়েছে- কথাটি বলেছেন, ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) আছাদুজ্জামান মিয়া। কী বলবেন এ সম্পর্কে?
২.  উত্তেজনা কমাতে ইরান ও আমেরিকায় প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছে ইরাক। ইরাকের এই উদ্যোগে উত্তেজনা কমবে বলে আপনি মনে করেন?

বিশ্লেষণের বাইরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর

প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তন-দৈনিক প্রথম আলো

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি

প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক (দ্বাদশ) স্তরের শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ইতিমধ্যে শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজ শুরু করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ২০২১ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রমে পাঠ্যবই দেওয়া শুরু হবে। এই পরিবর্তনে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা গুরুত্ব পাবে।

কী পড়ানো হবে, কেন পড়ানো হবে, কে পড়বে, কারা পড়াবেন, কীভাবে পড়াবেন এবং পড়ার ফলে কী হবে, তার বিস্তারিত দিকনির্দেশনা থাকে শিক্ষাক্রমে। সর্বশেষ ২০১২ সালে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা হয়েছিল। প্রায় সাত বছর পর আবারও শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। এর ফলে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন আসবে। তবে জাতীয় শিক্ষানীতিতে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার কথা থাকলেও বিদ্যমান পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ধরেই এই স্তরের শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন করা হচ্ছে।

শিক্ষাক্রমের পরিবর্তনের কাজটি করছে এনসিটিবি। সেখানকার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের প্রক্রিয়া গত বছরের শেষ দিকে শুরু হয়। আর মাধ্যমিক স্তরের (মাদ্রাসাসহ) কাজটি এ বছরের প্রথম দিকে শুরু হয়।

বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে সব মিলিয়ে পাঠ্যবই ৩৩টি এবং মাধ্যমিকে ৭১টি। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী ৪ কোটি ৪০ লাখ।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকের শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট সহযোগিতা করছে। এই স্তরের শিক্ষাক্রম পর্যালোচনার জন্য শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের একদল শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশের ৪৫টি বিদ্যালয়ে টানা তিন মাস কাজ করেন। ইতিমধ্যে প্রাথমিকের শিক্ষাক্রম পর্যালোচনার প্রতিবেদনও তৈরি করা হয়েছে।

অনির্বাচিত সরকারের জন্য মানুষকে মূল্য দিতে হচ্ছে: ড. কামাল-দৈনিক প্রথম আলো

ড. কামাল হোসেন বললেন, অনির্বাচিত সরকারের জন্য জনগণকে মূল্য দিতে হচ্ছে

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন সরকারকে সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ উল্লেখ করেছেন। কামাল হোসেন বলেছেন, অনির্বাচিত সরকারকে বহন করার কারণে মানুষকে মূল্য দিতে হচ্ছে। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরাম আয়োজিত ‘কৃষক-জনতা এক হও, সরকার হটাও—দেশ বাঁচাও’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

কামাল হোসেন বলেন, কৃষক ধান বুনে রেকর্ড ভঙ্গ করে উৎপাদন করেছেন। তার মূল্য পাওয়া তো দূরের কথা, তা না কেনায় তিনি বাধ্য হচ্ছেন পোড়াতে। সরকারের কৃষিনীতি না থাকায় এ সংকটগুলো সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষক যাতে উৎপাদনের জন্য খরচ তুলে আনতে পারেন, তার ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।

অ্যাপসে মিলছে না টিকিট, ব্যর্থতার দায় নিলেন রেলমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক

রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন

অ্যাপসের মাধ্যমে রেলের কাঙ্ক্ষিত টিকিটসেবা দিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। একই সঙ্গে ব্যর্থতার দ্বায়ভার নিজের কাঁধে নিলেন তিনি। বুধবার সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট বিক্রি কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। রেলমন্ত্রী বলেন, ‘অ্যাপসে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সিএনএসের সঙ্গে ২০০৭ সাল থেকে চুক্তি। সিএনএসের ব্যর্থতার দায় আমরা এড়াতে পারি না। অবশ্যই সিএনএসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘অ্যাপসে ৫০ শতাংশ টিকিট দেওয়া হয়েছে। অনেক অভিযোগ করেছেন, যে সেবা পাওয়ার কথা, সেই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। এটা দুঃখজনক। যাতে ভবিষ্যতে বিড়ম্বনা না হয়, ঈদের পর আমরা ব্যবস্থা নেব।’ আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২৭ হাজার অগ্রিম টিকিট দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর অর্ধেক দেওয়া হবে রেল সেবা অ্যাপের মাধ্যমে। কিন্তু রেল সেবা অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট কাটতে পারছেন না টিকিটপ্রত্যাশী যাত্রীরা। অ্যাপের মাধ্যমে সব টিকিট বিক্রি না করা গেলে সেসব টিকিট কাউন্টারে বিক্রি করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

ধানক্ষেতে আগুনের ঘটনা তদন্তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ-দৈনিক যুগান্তর

ধানক্ষেতে আগুন দেয়ার বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষেতে আগুন দেয়ার ঘটনা কেন ঘটেছে তা তদন্ত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বুধবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এর আগে তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাসের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ধানক্ষেতে আগুন দেয়ার ঘটনাগুলো স্যাবোটেজ কিনা, কোনোভাবে এটা সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য কেউ বিষয়টা… কৃষক সংকট উদ্ভব হয়! কিন্তু এভাবে আগুন জ্বালিয়ে ধানক্ষেতে, এসব ঘটনাগুলো বিশেষ বিশেষ জায়গায় ঘটছে কেন, এটা তদন্ত করে জানাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয়ভাবেও আমরা খোঁজ-খবর নেবো।

তিনি আরও বলেন, সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান করতে হবে। একটা সমস্যা হয়েছে, আগুন জ্বালিয়ে, ধান পুড়িয়ে এ সমস্যার সমাধান তো হবে না।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

ফের ধাক্কা খেল বিরোধীরা, গণনায় আগে ভিভিপ্যাট মেলানোর দাবি খারিজ করল কমিশন-দৈনিক আনন্দবাজার

ভারতের বিরোধী জোট কমিশনের কাছ থেকে ধাক্কা খেল

এবার নির্বাচন কমিশনে ধাক্কা খেল বিজেপি বিরোধী ২২টি রাজনৈতিক দলের জোট। আজ ভিভিপ্যাট নিয়ে তাঁদের দাবি খারিজ করে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিল, আগামী কালের ভোটগণনায় কোনও পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।  অর্থাৎ  বিধানসভা প্রতি পাঁচটি বুথের ভিভিপ্যাটের স্লিপ গোনা হবে। এই গণনা হবে ইভিএমে ভোটগণনার পর। গত কালই নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ভিভিপ্যাট নিয়ে নিজেদের দাবির কথা জানিয়ে এসেছিল বিজেপি বিরোধী ২২টি রাজনৈতিক দলের জোট।

সমস্ত ভিভিপ্যাটের কাগজের স্লিপের সঙ্গে ইভিএমের তথ্য মিলিয়ে দেখতে বিরোধীদের দাবি আগেই নাকচ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচন কমিশনের যুক্তি ছিল, সমস্ত কাগজের স্লিপ মিলিয়ে দেখতে হলে নির্বাচনের ফল বেরতে অনেক দেরি হয়ে যাবে। গত কালই এই দাবি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জানিয়ে এসেছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদল।

বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দেখানো পথেই রাত পাহারায় গোটা দেশ-দৈনিক আজকাল

নির্বাচন কমিশনে কড়া পাহারা

বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দেখানো পথেই হাঁটল গোটা দেশ। জাগল সারারাত। দেখল গোটা দেশবাসী। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত এটাই ছিল জাতীয় রাজনীতির চিত্র। বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক আঞ্চলিক দল সারারাত পাহারা দিল ইভিএম রাখা স্ট্রং রুমের বাইরে। নির্বাচন কমিশন বিরোধীদের করা অভিযোগ খারিজ করে দিলেও খামতি রাখতে চায়নি রাজনৈতিক দলগুলি। ইভিএমে যাতে কারচুপি করতে না পারে বিজেপি সেইজন্যই এই পাহারা। 

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই পাহারা দেওয়ার আর্জিই করেছিলেন সকলের কাছে। যা বাস্তবে কার্যকরী হতে দেখা গেল। যদিও ইভিএমে কারচুপি করার অভিযোগ উঠেছিল উত্তরপ্রদেশ থেকেই।

ফলাফলের আগে বিরোধীদেরও ‘চৌকিদার’ বানিয়ে ফেললেন মোদি!-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

‘চৌকিদার চোর হ্যায়’, ‘ম্যায় ভি চৌকিদার’- ভোটের আগে এবং ভোট চলাকালীন এই পরস্পর-বিরোধী দুটি স্লোগান আকছার শোনা যাচ্ছিল। রাহুল গান্ধীর চৌকিদার চোর হ্যায় স্লোগানের পালটা ম্যায় ভি চৌকিদার অভিযান শুরু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভোট মিটেছে, কিন্তু চৌকিদারি যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না দেশবাসীর। এবার বিরোধীদেরও রীতিমতো চৌকিদার বানিয়ে ফেলেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিরোধী নেতা-কর্মীরা স্বেচ্ছাই শুরু করেছেন পাহারাদারির কাজ। বুঝতেই পারছেন কথা হচ্ছে ইভিএম পাহারা দেওয়ার। বিভিন্ন এক্সিট পোলের ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই চোখ কপালে উঠেছে বিরোধী শিবিরের। বুথ ফেরত সমীক্ষার দাবি উড়িয়ে তাদের দাবি, এসবই আসলে ইভিএম কারচুপির চক্রান্ত।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২২