দেশে এমন জালিয়াতি কখনো দেখা যায়নি
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ৩ জুন সোমবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম
- এবারের ঈদ সবচেয়ে বেদনাদায়ক: রিজভী-দৈনিক যুগান্তর
- দেশে এমন জালিয়াতি কখনো দেখা যায়নি-দৈনিক প্রথম আলো
- যানজট মুক্ত মহাসড়ক, স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন মানুষ-দৈনিক ইত্তেফাক
- সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৮-দৈনিক মানবজমিন
- ওভাল যেন এক টুকরো বাংলাদেশ, টাইগারদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ রমিজ রাজা-দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- দেশ জুড়ে সমালোচনার জের, হিন্দি বাধ্যতামূলক নয়, চাপের মুখে জাতীয় খসড়া নীতিতে সংশোধন-দৈনিক আনন্দবাজার
- রামনামে আপত্তি নেই! বিজেপির বিভাজন নীতি থেকে সাবধান হওয়ার বার্তা মমতার-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- চাপের মুখে ভোলবদল, হিন্দি শিক্ষা হচ্ছে না বাধ্যতামূলক-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব।
কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:
বিশ্লেষণের বাইরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর:
দেশে এমন জালিয়াতি কখনো দেখা যায়নি-দৈনিক প্রথম আলো
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রাজধানীর বাড্ডার অটোমেটেড টেলার মেশিনের (এটিএম) বুথ থেকে টাকা তোলা হলেও এর কোনো রেকর্ড ব্যাংকের সার্ভারে নেই। এমনকি কোনো গ্রাহকের হিসাব থেকেও টাকা কমে যায়নি। এমনটি আর কখনো দেখা যায়নি। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্যাংকটির বাড্ডা বুথের দুটি এটিএম বুথ থেকে দুই বিদেশি নাগরিক বিভিন্ন কার্ড ব্যবহার করে একাধিকবার টাকা উত্তোলন করেন। বুথ থেকে একজন বের হয়ে আবারও টাকা তোলেন। এ সময় বুথে নিরাপত্তাকর্মীরও উপস্থিতি ছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, টাকা উত্তোলনের সময় মাস্ক দিয়ে মুখ ঢাকার চেষ্টা করেছেন তাঁরা, চোখে ছিল সানগ্লাস, মাথায় ছিল টুপি।
অভিনব এ নতুন কৌশলে টাকা চুরির ঘটনা নতুন করে চিন্তার ছাপ ফেলেছে দেশের ব্যাংকারদের মধ্যে। কারণ, এর আগে যতবারই এটিএম থেকে টাকা চুরি হয়েছে, প্রতিবারই গ্রাহকের কার্ডের তথ্য চুরি করে ক্লোন কার্ড তৈরি করেছিলেন জড়িত ব্যক্তিরা। প্রতিবারই গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। এবারের ঘটনায় পুরো এটিএম বুথের নিয়ন্ত্রণ নেন জড়িত বিদেশিরা। কীভাবে তাঁরা বুথ থেকে টাকা চুরি করলেন, তার কোনো কূলকিনারা করতে পারেননি ডাচ্–বাংলা ব্যাংক ও পুলিশ কর্মকর্তারা। এতে দেশের এটিএম সেবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, গত শনিবার সকালে বাড্ডার এটিএম বুথের টাকার হিসাব মেলানোর সময় তিন লাখ টাকা কম হয়। ওই এটিএমের দায়িত্বে ছিলেন ওরনেট গ্রুপের নিরাপত্তাকর্মী। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দুই বিদেশি কর্তৃক টাকা উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এরপর সব এটিএম বুথে নিরাপত্তা বাড়ায় ডাচ্–বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। শনিবার রাতেই খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় ডাচ্–বাংলার এটিএমে টাকা চুরি করতে গেলে দুই বিদেশির একজন ধরা পড়েন। পরে আরও পাঁচজন বিদেশিকে আটক করে পুলিশ।
সতর্ক অন্য ব্যাংকও
এদিকে বিদেশিরা কেবল ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথেই হানা দিয়েছেন কি না, তা জানা যায়নি। তবে এখন অন্য ব্যাংকও তাদের বুথের নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়িয়েছে। একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বাংলাদেশের এটিএম যন্ত্রের ৯০ শতাংশ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এনসিআর করপোরেশনের। ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের ওই এটিএম বুথও ছিল এনসিআর করপোরেশনের। বর্তমানে দেশে ১ কোটি ৬০ লাখ ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড রয়েছে। এটিএম বুথ রয়েছে ১০ হাজার ৫৩৬টি। পয়েন্ট অব সেলস রয়েছে ৪৯ হাজার ৬২টি। দেশের ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে ৫১টি ব্যাংক কার্ড সেবার সঙ্গে যুক্ত।
যানজট মুক্ত মহাসড়ক, স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন মানুষ-দৈনিক ইত্তেফাক
ঈদযাত্রায় সড়ক পথে যানজট না থাকায় রাজধানী থেকে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। সোমবার সকালে উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চলসহ চট্টগ্রাম মহাসড়কে একই অবস্থা দেখা গেছে। এবার ঈদের ছুটিতে সড়কপথে বাড়ি ফেরা মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্নে করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করায় সড়কপথে অন্যান্য বছরের মতো যানজট নেই।
এবারের ঈদ সবচেয়ে বেদনাদায়ক: রিজভী-দৈনিক যুগান্তর
এবারের ঈদ সবচেয়ে বেদনাদায়ক হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।রিজভী বলেন, আর মাত্র একদিন পর পবিত্র ঈদুল ফিতর। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ইতিহাসের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ঈদ হবে এবার।
‘ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলতে চাই- বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক নয়, সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঈদ হবে এবার। কারণ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে অবৈধ ক্ষমতার জোরে কারাবন্দি রাখা হয়েছে।
গণতন্ত্রহীন দেশে অশান্তি, প্রতিহিংসা, হানাহানি ও বিচারহীনতার রাজত্ব কায়েম রাখার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনকে বন্দি রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এ নেতা।
তিনি আরও বলেন, দেশের বেশিরভাগ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঈদের আনন্দ নেই। ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কোটি কোটি কৃষকের ঘরে ঘরে কোনো ঈদ আনন্দ নেই। বেশিরভাগ মানুষের পকেটে টাকা না থাকায় মার্কেটগুলো প্রায় ফাঁকা, বেচাকেনা নেই বলে স্বীকার করেছেন ব্যবসায়ীরা। সুতরাং তাদের মনেও ঈদের আনন্দ নেই।
সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৮-দৈনিক মানবজমনি
সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ১৮ জন নিহত হয়েছে। গতকাল সিরাজগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, বাগেরহাট ও নাটোরে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরো প্রায় অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
দেশ জুড়ে সমালোচনার জের, হিন্দি বাধ্যতামূলক নয়, চাপের মুখে জাতীয় খসড়া নীতিতে সংশোধন-দৈনিক আনন্দবাজার
দেশ জুড়ে সমালোচনার মুখে পড়ে জাতীয় শিক্ষা নীতির খসড়া সংশোধন করল কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে পড়ুয়াদের জন্য হিন্দি আর বাধ্যতামূলক রইল না। বরং শিক্ষাক্ষেত্রে নিজেদের পছন্দ মতো ভাষা বেছে নেওয়া যাবে।
সোমবার সকালে শিক্ষা নীতির খসড়া সংশোধন করে কেন্দ্রীয় সরকার। হিন্দি বাধ্যতামূলক করার বদলে তাতে ‘নমনীয়’ শব্দটি যোগ করা হয়, যার ফলে ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণিতে নিজেদের পছন্দ মতো ভাষা বেছে নিতে পারবে পড়ুয়ারা।
দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ককে কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ব সঁপেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পরেই গত শনিবার কে কস্তুরীরঙ্গনের নেতৃত্বাধীন কমিটি জাতীয় খসড়া শিক্ষা নীতি পেশ করে। সেখানে তিন ভাষার ফর্মুলার প্রস্তাব দেওয়া হয়। যার মধ্যে মাতৃভাষা, ইংরেজির পাশাপাশি বাধ্যতামূলক করা হয় হিন্দি। এই জাতীয় খসড়া শিক্ষানীতি নিয়ে দেশের সর্বত্র, বিশেষ করে দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তাতে শামিল হয় এনডিএ-র শরিক এডিএমকে এবং পিএমকেও।বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ই পলানীস্বামী।প্রতিবাদে সরব হন বাংলার বিশিষ্ট মহলও।
রামনামে আপত্তি নেই! বিজেপির বিভাজন নীতি থেকে সাবধান হওয়ার বার্তা মমতার-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
“জয় সিয়ারাম, জয় রামজি কী, রাম নাম সত্য হ্যায়… এসব ধর্মীয় স্লোগান। এগুলির সঙ্গে ধর্ম এবং সমাজের যোগ রয়েছে। আমরা এই আবেগকে সম্মান করি।” ফেসবুকে এর প্রবক্তা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁর বিরুদ্ধে ক’দিন আগে থেকেই বিরোধীরা অভিযোগ করেছিলেন, ‘জয় শ্রীরাম’ বললেই নাকি রেগে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সাফ জানিয়ে দিলেন, কোনও ধর্মীয় স্লোগানে তাঁর আপত্তি নেই। বরং সব ধর্মের স্লোগানকে তিনি সম্মান করেন। কিন্তু বিজেপি যেভাবে ধর্ম আর রাজনীতিকে মিশিয়ে দিয়ে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে সেই বিভাজনকে রুখতে হবে। একটি ফেসবুক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “আরএসএস যেভাবে জোর করে একটি রাজনৈতিক স্লোগানকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, আমরা তার বিরোধিতা করি।” মমতা এদিন সাফ জানান, “এক শ্রেণির সংবাদমাধ্যমের সাহায্য নিয়ে বিজেপি কর্মীরা ঘৃণার মতাদর্শ ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ভুয়ো ভিডিও, ভুয়ো খবর, ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৩