যারা দুই নীতি মানে না তারা হাফ রাজাকার-মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: রেডিও তেহরানের প্রাত্যহিক আয়োজন কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আজ ৬ জুন বৃহষ্পতিবারের কথাবার্তার আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- মে মাসে ১৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা-দৈনিক প্রথম আলো
- বিএনপি-জামায়াতের অপপ্রচারের জবাব দিতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান-দৈনিক ইত্তেফাক
- জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিতর্ক কেন-দৈনিক যুগান্তর
- ‘যারা দুই নীতি মানে না তারা হাফ রাজাকার’মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম-দৈনিক মানবজমিন
- মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য সরকারের মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া দরকার-দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান বাড়াতে নয়া পদক্ষেপ মোদি সরকারের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- রাজনীতি বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটি থেকে বাদ রাজনাথ, অমিত ৮টিতেই-দৈনিক আনন্দবাজার
- টানা তিন বার কমল রেপো রেট, কমতে পারে গাড়ি–বাড়ির ঋণের সুদ-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশের কয়েকটি খবরের দিকে নজর দেব।
বিএনপি-জামায়াতের অপপ্রচারের জবাব দিতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান-দৈনিক ইত্তেফাক
বিএনপি-জামায়াতের অপপ্রচারের জবাব দিতে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে প্রবাসীদের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে এবং দেশবিরোধী মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তাই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উচিৎ হবে, এর সমুচিত জবাব দেওয়া।’আওয়ামী লীগ সরকার আমলে বাংলাদেশে যে অগ্রগতির ধারা শুরু হয়েছে, তা বিশ্বের দরবারে মেলে ধরার জন্যও প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে যারা সফল হবে, তাদেরকে দলের ভেতরে মূল্যায়ন করা হবে।’
‘যারা দুই নীতি মানে না তারা হাফ রাজাকার’মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম-দৈনিক মানবজমিন
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কোনো বিমূর্ত বিষয় নয়। এটা মূর্ত চার রাষ্ট্রীয় মূল নীতিতে তৈরি। এ চার মূল নীতি যারা মানে না তারা রাজাকার। আর যারা দুই নীতি মানে আর দুই নীতি মানে না তারা হাফ রাজাকার। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং জাতীয়তাবাদ এই সবটা মিলে হল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এটার কোনো একটি পেছনে ফেলে আগানোর চিন্তা হল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করা। কাজেই আমাদের ভিশন হবে ‘মুক্তিযুদ্ধ ৭১’ বাস্তবায়ন করা। এটা অগ্রসর হোক এটাই আমরা চাই। তা না হলে বর্তমানে দেশ যেভাবে চলছে সেভাবেই চলবে।
মানবজমিন এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বর্ষিয়ান এ রাজনীতিবিদ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ৯৯ শতাংশ সম্পদের মালিক একভাগ মানুষ। আর বাকী এক শতাংশ সম্পদ ৯৯ শতাংশ মানুষের হাতে। এখন একই দেশের মধ্যে দুটি দেশ হয়ে গেছে। এক শতাংশ কায়েমি স্বার্থবাধী ও লুটেরাদের হাত থেকে ৯৯ শতাংশ মানুষের ন্যায্য হিস্যা আদায় করার জন্য আন্দোলন করতে হবে। সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগ আর বিএনপির অত্যাচারে দেশবাসী এখন বিপর্যস্ত।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য সরকারের মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া দরকার-দৈনিক নয়া দিগন্ত
মানুষের মধ্যে নানা ধরনের ক্ষোভের কারণেই দেশে খুন, গুম ও ধর্ষণের মতো সামাজিক অপরাধ বাড়ছে। তবে পুলিশ দিয়ে, আমলাদের দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে না। এ জন্য প্রয়োজন সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। বিরোধী দলগুলোকে সামগ্রিকভাবে এসব ইস্যু নিয়ে মাঠে নামা উচিত। মানবিক ও ন্যায়ের কারণে খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়ে দিতে হবে। যেহেতু ভোটটি ন্যায্যভাবে হয়নি, সঠিকভাবে হয়নি তাই এই সরকারকে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া দরকার।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিতর্ক কেন-দৈনিক যুগান্তর
অর্থনীতিবিষয়ক কলাম লেখক এম এ খালেক তার এ শিরোনামের নিবন্ধে লিখেছেন, চলতি অর্থবছরে (২০১৮-১৯) জিডিপি প্রবৃদ্ধি কত শতাংশ হতে পারে, তা নিয়ে এক ধরনের বিতর্ক লক্ষ করা যাচ্ছে। একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা বলেছে, কোনো দুর্বিপাক না ঘটলে বাংলাদেশ চলতি অর্থবছরে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।
সেখানে বলা হয়েছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে সরকারিভাবে প্রতিবছর যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়, তার সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীরা যেমন দ্বিমত প্রকাশ করে; তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিবিদদের অনেকেই সরকারের দেয়া তথ্যকে গ্রহণযোগ্য বলে মানতে নারাজ। তারা মনে করছেন, প্রবৃদ্ধির হারকে নানাভাবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হচ্ছে। বলা হয়েছে, প্রবৃদ্ধি যদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করে, তাহলে সেই প্রবৃদ্ধি কখনই টেকসই হতে পারে না। টেকসই এবং কর্মসংস্থানমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি জরুরি। এই বিনিয়োগ আবার আসতে হবে ব্যক্তি খাত থেকে। অভিযোগ রয়েছে, অনেকেই বিনিয়োগের নামে বিভিন্ন সূত্র থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা দেশের বাইরে পাচার করে দিচ্ছে।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের সাধারণ মানুষের আয় এবং ব্যয় করার ক্ষমতা উভয়ই হ্রাস পেয়েছে। আমরা যে হিসাব পাই, তা গড় হিসাব। এই গড় হিসাব দিয়ে কখনই সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষমতা এবং অবস্থা পরিমাপ করা যায় না।
মে মাসে ১৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা-দৈনিক প্রথম আলো
প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড করল বাংলাদেশ। গত মাসে প্রবাসীরা যে পরিমাণ আয় পাঠিয়েছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাসে এত আয় আগে কখনো আসেনি। মে মাসে প্রবাসীদের পাঠানো ১৭৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার আয় দেশে এসেছে। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ১৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আয় এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। প্রবাসী আয় আনায় এরপরই রয়েছে ডাচ্–বাংলা, অগ্রণী ও সোনালী ব্যাংক।সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এটা খুবই ভালো খবর যে এক মাসে এত পরিমাণ আয় এসেছে। ঈদের কারণে প্রবাসীরা আত্মীয়স্বজনকে বেশি হারে টাকা পাঠিয়েছেন। দেশের আমদানি চাহিদা মেটাতে এ আয় ভালো ভূমিকা রাখবে। তবে কত দিন এভাবে আয় আসে, এসব আয় টেকসই হয় কিনা তা সময়েই বলে দেবে।
এবার ভারতের দৈনিকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
রাজনীতি বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটি থেকে বাদ রাজনাথ, অমিত ৮টিতেই-দৈনিক আনন্দবাজার
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পর দু’নম্বর কে, সেই প্রশ্নের জবাব মিলল বুধবার। আরও বেশি শক্তি নিয়ে দ্বিতীয় বার দিল্লির কুর্সিতে বসার পর ‘পুরনো বন্ধু’ অমিত শাহের উপরেই সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সবটুকু ভরসা রাখলেন তাঁর চার দশকের বিশ্বাসভাজনের উপর।
এই প্রথম যিনি ঠাঁই পেলেন কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়, সেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকে ক্যাবিনেটের গুরুত্বপূর্ণ ৮টি কমিটিরই সদস্য করা হয়েছে। বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, নতুন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় তিনিই ‘অমিত পরাক্রমশালী’। ক্যাবিনেটের গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতি বিষয়ক কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন বর্ষীয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। বাদ পড়েছেন আরও একটি উল্লেখযোগ্য কমিটি থেকে।
বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান বাড়াতে নয়া পদক্ষেপ মোদি সরকারের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
তীয় দফায় ক্ষমতায় এসে অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানের উপরেই জোর দিতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদি। কারণ কয়েকদিন আগেই সরকার মেনে নিয়েছে দেশে বেকারত্বের হার ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রথম দফায় বছরে দু’কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা যে পূরণ করা সম্ভব হয়নি, সেকথা উড়িয়ে দিচ্ছে না কেউ। ফলে দ্বিতীয় দফার শুরুতেই মোদির অগ্রাধিকারে বেকারত্ব। প্রথম দফার পাঁচ বছরে আর্থিক বৃদ্ধির হারও সুবিধাজনক ছিল না। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকেও আর্থিক বৃদ্ধির হার কমেছে। আর্থিক বৃদ্ধির হার বাড়াতে না পারলে যে বেকারত্ব সামলানো যাবে না, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে কোনও বিতর্ক নেই। সমস্যার গুরুত্ব বুঝেই মোদি বুধবার গঠন করে দিয়েছেন দুটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন মন্ত্রীদের কমিটি। যারা বিশেষভাবে জোর দেবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপর। দুই কমিটির শীর্ষে মোদি নিজেই থাকছেন। দুই কমিটিতে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন।
টানা তিন বার কমল রেপো রেট, কমতে পারে গাড়ি–বাড়ির ঋণের সুদ-দৈনিক আজকাল
লোকসভা নির্বাচনে বিপুল আসনে জয়লাভ করে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরেছেন নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু তাঁর সরকার কাজ শুরু করার পরেই বেড়েছে গ্যাসের দাম। কমেছে জিডিপি হার। উল্টোদিকে, ৪৫ বছরে বেকারত্ব বৃদ্ধির হার সর্বাধিক হয়েছে। তবে এসবের মাঝেই সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। সরকারের আর্থিকনীতির অনুকূল পদক্ষেপ করে রেপোরেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমাল তারা। এই নিয়ে টানা তিনবার কমল রেপো রেট। যা কিনা গত ৯ বছরে রেকর্ড। ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমায় বর্তমানে রেপোরেট দাঁড়াল ৫.৭৫ শতাংশ। আর এর জেরে গাড়ি–বাড়ির ঋণের সুদ কমবে বলেও মনে করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের আর্থিক সমৃদ্ধি আরও চাঙ্গা করতেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে, রেপোরেট কমায় রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি সুদের হার কমালে গাড়ি–বাড়ি ঋণে ইএমআইও কমতে পারে।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৬