জুন ২৬, ২০১৯ ১১:১৬ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ২৬ জুন বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

বাংলাদেশের শিরোনাম

  • প্রস্তাবিত বাজেটে করের বোঝা-বাড়বে এলপি গ্যাসের দাম, চাপে পড়বে ভোক্তা-দৈনিক যুগান্তর
  • মাদক কেনাবেচা কমছেই না-দৈনিক প্রথম আলো
  • সরকারের চ্যালেঞ্জ হলো নদীকে রক্ষা করা : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক
  • দেশের উন্নয়ন এখন বিয়ে বাড়ির এক দিনের আলো জ্বলার মতো : ড. শাহদীন মালিক-দৈনিক নয়া দিগন্ত
  • আইওএম নির্বাচনে ঢাকার জয়-দৈনিক মানবজমিন

ভারতের শিরোনাম:    

  • মোদীর নিশানায় ফের গাঁধী পরিবার, অধীরের প্রশ্ন টেনে আক্রমণ রাহুল-সনিয়াকে-দৈনিক আনন্দবাজার
  • ছড়াচ্ছে জেহাদের জাল, ভারতে গ্রেপ্তার ১৫৫ ইসলামিক স্টেট সমর্থক-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • শিশুমৃত্যুর জন্য দায়ী সরকারি অবহেলা-দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশের কয়েকটি খবরের দিকে নজর দেব।

মাদক কেনাবেচা কমছেই না-দৈনিক প্রথম আলো

মাদকের কেনাবেচা কমছে না

দেশে মাদকদ্রব্যের সেবন ও কেনাবেচা কমছে না। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নথিপত্রে দেখা গেছে, মাদকের উদ্ধার, গ্রেপ্তার ও মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির পরিসংখ্যান প্রমাণ করে দেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে আসা রোগীর সংখ্যাও বিগত ছয় বছরের মধ্যে গত বছর সবচেয়ে বেশি ছিল। চলতি বছরও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আজ দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামালউদ্দীন এ কথা মানতে চাননি। তিনি বলছেন, বেশি উদ্ধার হওয়ার কারণেই এটা মনে হচ্ছে।উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৪ মে ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ শিরোনামে অভিযান শুরু করে র‍্যাব। দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশও। শুধু গত এক বছরে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ৩৮৯ জন, আত্মসমর্পণ করেন শীর্ষস্থানীয় ১০২ মাদক কারবারি।

সরকারের চ্যালেঞ্জ হলো নদীকে রক্ষা করা : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক

নদী রক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ -বললেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জ হলো নদীকে রক্ষা করা। বুধবার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নদীর পানি ও পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন এই কর্মশালার আয়োজন করে। খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের চ্যালেঞ্জ ছিল বিদ্যুতের উন্নয়ন। ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের চ্যালেঞ্জ হলো নদীকে রক্ষা করা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদীকে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছেন। সে গুরুত্ব অনুধাবন করে নদীকে রক্ষায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন যেসব পদক্ষেপ নিবে সেগুলো বাস্তবায়নে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কাজ করবে।’

প্রস্তাবিত বাজেটে করের বোঝা-বাড়বে এলপি গ্যাসের দাম, চাপে পড়বে ভোক্তা-দৈনিক যুগান্তর

এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাবে

প্রস্তাবিত বাজেটে এলপি গ্যাসের ওপর করের বোঝা বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার উৎপাদন পর্যায় মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট, এলপিজি আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ আগাম কর ও সিলিন্ডার তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে ৫ শতাংশ আগাম কর আরোপ করা হয়েছে। ফলে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়বে। এতে চাপে পড়বে ভোক্তা।এদিকে বাজেটে এলপিজি স্টিল সিলিন্ডার আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এতে বাজারে স্টিল সিলিন্ডার কম দামে পাওয়া যাবে। কিন্তু দেশীয় সিলিন্ডার তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে। বিপাকে পড়বেন এলপি গ্যাস সিলিন্ডার উৎপাদনের সঙ্গে জড়িতরা। এলপিজির ওপর এই কর ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

দেশের উন্নয়ন এখন বিয়ে বাড়ির এক দিনের আলো জ্বলার মতো : ড. শাহদীন মালিক-দৈনিক নয়া দিগন্ত

বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক

বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে কোনো দেশই উন্নতি করতে পারে না। উন্নতি করলেও সেই উন্নয়ন টেকসই হয় না। তিনি বলেন, সরকার মুখে উন্নয়ণের কথা বললেও দেশে এখন যে উন্নতি হচ্ছে তা হলো বিয়ে বাড়িতে একদিনের আলো জ্বালানোর মতো। বিয়ে শেষ তো সব শেষ। তিনি বলেন, গত এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে দেশে ৩৭৮ জনকে ক্রসফায়ারের নামে আইনশৃংখলা বাহিনীর লোকজন বিনা বিচারে খুন করেছে। দেশের মানুষকে অধিকারহীন করে রাখা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আজ বুধবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি আয়োজিত ‘নির্যাতন রোধের দায় দায়িত্ব’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি একথা বলেন।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

ছড়াচ্ছে জেহাদের জাল, ভারতে গ্রেপ্তার ১৫৫ ইসলামিক স্টেট সমর্থক-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

ভারতে আইএসআইএলের জাল, গ্রেফতার ১৫৫ জন

ভারতের প্রভাব বিস্তারের আপ্রাণ চেষ্টা করছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট।  এবং অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার ক্ষেত্রে নয়া চ্যালেঞ্জ হিসেবে কিছুটা সফলও হয়েছে জেহাদি সংগঠনটি। বিগত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫৫ জন আইএস সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইরাক ও সিরিয়াই জমি খুইয়ে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে নিজের উপস্থিতি বাড়াতে চাইছে ইসলামিক স্টেট। পকিস্তান ও আফগানিস্তানে অনেক দিন আগেই মজবুত ঘাঁটি তৈরি করে ফেলেছে আইএস। এদেশে তামিলনাড়ু ও কেরলে বিশেষ তৎপর জঙ্গি গোষ্ঠীটি। এর প্রভাব রয়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। এই মর্মে মঙ্গলবার লোকসভাই লিখিতভাবে পরিসংখ্যান পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জি কিষান রেড্ডি।

মোদীর নিশানায় ফের গাঁধী পরিবার, অধীরের প্রশ্ন টেনে আক্রমণ রাহুল-সনিয়াকে-দৈনিক আনন্দবাজার

সোনিয়া রাহুলকে আক্রমণ মোদির

ঠিক প্রধানমন্ত্রী যখন বলা শুরু করলেন, লোকসভায় প্রবেশ করলেন রাহুল গাঁধী। সামনের সারিতে সনিয়া গাঁধীর সঙ্গে বসলেন। বিজেপি শিবির থেকে ‘মোদী-মোদী’ ধ্বনির সঙ্গেই কটূক্তি উড়ে এল রাহুলের দিকে। নিজের দলের নেতাদের মন জানেন মোদী। তাই রাহুলের উদ্দেশে কিছু বাছাই করা শব্দের চিত্রনাট্য আগেই তৈরি ছিল। রাষ্ট্রপতির বক্তৃতার ধন্যবাদ জ্ঞাপন বিতর্কে কংগ্রেসের প্রধান বক্তা ছিলেন অধীর চৌধুরী। যিনি গত কালই বলেছিলেন, কংগ্রেসের সংখ্যা কমলেও উচ্চতা কমানো যাবে না। চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন, এত দিন ‘চোর’ অপবাদ দিয়েও কেন রাহুল-সনিয়াকে জেলে পাঠাতে পারছেন না মোদী-অমিত? সে কথাগুলিই লুফে নিয়ে গোটা গাঁধী পরিবারকে বিঁধলেন মোদী।মোদী আজ বলেন, ‘‘আজ তো ২৫ জুন।’’ বলে থেমে যান। পাশে বসা অধীরকে তখন কিছু জিজ্ঞাসা করছিলেন রাহুল। নজর এড়ায়নি প্রধানমন্ত্রীর। বললেন, ‘‘২৫ জুনের মানে কী, অনেকে তা-ও জানেন না। আশপাশে জিজ্ঞাসা করতে হচ্ছে। ২৫ জুনের রাতে দেশের আত্মাকে দমন করে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল। গোটা দেশকে জেলখানা করা হয়েছিল।… এখন তো আমাদের দোষ দেওয়া হচ্ছে, কাউকে জেলে পাঠাচ্ছি না কেন? এটা জরুরি অবস্থা নয় যে, সরকার কাউকে জেলে পাঠাবে। এ কাজ আদালতের। বদলার ভাবনায় কাজ হওয়া উচিত নয়। আর দেশ আমাদের এত কিছু দিয়েছে, ভুল পথে যাওয়ার দরকারও নেই।’’বিজেপি শিবিরে তখন অট্টহাসি। মোদী আরও একটু রসিকতা জুড়ে বললেন, ‘‘কেউ যদি জামিনে মুক্ত থাকেন, তো সেটা উপভোগ করুন।’

শিশুমৃত্যুর জন্য দায়ী সরকারি অবহেলা-দৈনিক আজকাল

বিহারে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। সারা রাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১৫০ ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ৬০০-রও বেশি শিশু। রাজ্যের ৩৮টি জেলার মধ্যে ১৬টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে অ্যাকিউট এনসেফেলাইটিস সিন্ড্রোম (এইএস)। সব থেকে বেশি মৃত্যু হয়েছে বিহারের মুজফ্‌ফরপুরে। সেখানে এই রোগ ১২৬ জন শিশুর প্রাণ নিয়েছে। এই রোগে মৃত্যু যাতে না হয় সে নিয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করে একটি জনস্বার্থ মামলা শুরু হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, এই রোগ নিরাময়যোগ্য এবং মৃত্যুর ঘটনা ছিল রাজ্য সরকারের নিষ্ক্রিয়তার ফল।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৬