৩ হাজার ১০৭ জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল হয়েছে : মোজাম্মেল হক
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: রেডিও তেহরানের প্রাত্যহিক আয়োজন কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আজ ২৯ জুন শনিবারের কথাবার্তার আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- বিএনপির মুখে বিচারহীনতার কথা শোভা পায় না : ওবায়দুল কাদের-দৈনিক যুগান্তর
- বাংলাদেশ থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ভয়ংকর আমেরিকা অভিযাত্রা-দৈনিক প্রথম আলো
- ৩ হাজার ১০৭ জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল হয়েছে : মোজাম্মেল হক-দৈনিক ইত্তেফাক
- এ রাষ্ট্র ধনীদের, গরীবের স্বার্থ চিন্তা করে না : অধ্যাপক মিজানুর রহমান-দৈনিক নয়া দিগন্ত
- ভয়ঙ্কর আতংকে আজ সারাদেশ কাঁপছে: সেলিমা রহমান-দৈনিক মানবজমিন
ভারতের শিরোনাম:
- ‘যারা দেশের বিভাজন চায়, তাদের ভয় পাওয়াই উচিত’, কাশ্মীর নিয়ে হুঁশিয়ারি অমিতের-দৈনিক আনন্দবাজার
- নিশানায় অমরনাথ যাত্রীরা, জইশের ছক ভেস্তে দিতে তৎপর নিরাপত্তারক্ষীরা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- ডাক্তাররা খুব ভাল কাজ করেন: মমতা-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশের কয়েকটি খবরের দিকে নজর দেব।
রিফাত হত্যা-একজন নয়ন বন্ড যেভাবে তৈরি হয়-এ শিরোনামের নিবন্ধে দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কবি সোহরাব হাসান হোসেন লিখেছেন-
ইংল্যান্ডের কাল্পনিক চরিত্র জেমস বন্ড বাংলাদেশে না থাকলেও এখানে একজন নয়ন বন্ড আছেন। তিনি নিজেই এই উপাধি নিয়েছেন। তাঁর শক্তির উৎস মাদক ও ক্ষমতার রাজনীতি। তিনি এলাকায় মাস্তান হিসেবে পরিচিত ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। নিজেও মাদক সেবন করেন। কিন্তু গতকাল বরগুনার বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এবং পুরোনো পত্রিকা ঘেঁটে আমরা তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়টিও পেয়ে যাই। নয়ন বন্ড কোনো পদে না থাকলেও আত্মীয়তা ও ‘বড় ভাই’ সূত্রে ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।
বরগুনায় রিফাত হত্যার ঘটনা গোটা বাংলাদেশের এক খণ্ডচিত্র তুলে ধরেছে মাত্র। প্রায় সব অপরাধের পেছনে কাজ করে মাদক ও ক্ষমতা। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা প্রায়ই বলেন, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অথচ তারা যে পদে পদে ছাড় পেয়ে যাচ্ছে। পুলিশ চুনোপুঁটিদের পাকড়াও করলেও রাঘববোয়ালেরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাদকসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়, বিচার হয় না। পুলিশের দাবি, ‘আমরা তো ধরছি, কিন্তু আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে এলে কী করার আছে।’ আদালত বলছেন, মামলার দুর্বলতার কারণেই আসামিরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে। মানুষ কার কথা বিশ্বাস করবে?
এই যে সারা দেশে খুনখারাবি বাড়ছে, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তার পেছনে রয়েছে মাদক ও ক্ষমতার রাজনীতি। অনেক ক্ষেত্রে তারা হাত ধরাধরি করে চলছে।
বিএনপির মুখে বিচারহীনতার কথা শোভা পায় না : ওবায়দুল কাদের-দৈনিক যুগান্তর
‘বরগুনায় প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা সরকারের বিচারহীনতার প্রমাণ’- বিএনপির এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশে বিচারহীনতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল বিএনপি। যে দল দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন। যে দলের প্রধান দুর্নীতির কারণে জেলে বন্দি। যে দলের গঠনতন্ত্র দুর্নীতির পক্ষে তৈরি করা হয়েছে, সেই দলের মুখে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কথা শোভা পায় না। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, এখন পর্যন্ত তিনজন আসামি গ্রেফতার হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেফতার করা হবে। যারা অপরাধ করেছে তাদের সবাইকেই বিচারের আওতায় আনা হবে।
দৈনিক যুগান্তরের অন্য একটি খবরের শিরোনামে বলা হয়েছে, আলোচিত হত্যা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী ও সরকারি দলের সাংসদ কামরুল ইসলাম।
দৈনিক মানবজমিনের একটি খবরে লেখা হয়েছে, দু’দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি মূল আসামি: রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার আলোচিত এ ঘটনার দু’দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে হতাশা ব্যক্ত করেছে সচেতন মহল। তবে পুলিশ বলছে হত্যার মূল হোতাদের ধরতে র্যাব ও পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
বাংলাদেশ থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ভয়ংকর আমেরিকা অভিযাত্রা-দৈনিক প্রথম আলো
আমেরিকার স্থলসীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ বাড়ছে। বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিয়ে এসব অভিযাত্রী অনেকেরই স্বপ্নের দেশে আশার পথে স্বপ্নভঙ্গের ঘটনা ঘটছে। অনেকের পানিতে ডুবে মৃত্যু ঘটছে, অনেকেই দালালদের খপ্পরে পড়ে নিগৃহীত হচ্ছেন, নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অনেকে আবার দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে আমেরিকায় এলেও আটকা পড়ছেন নির্জন ডিটেনশন কেন্দ্রে।
এঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি মানুষও আছে। বয়স ১৮ বছরের নিচে—এমন শতাধিক অপ্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি আমেরিকা অভিযাত্রীর বয়স নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে খোদ আমেরিকায়।সাধারণত যাদের বয়স ১৮ বছরের কম, তাদের ফেডারেল সরকার অফিস অব রিফিউজি সেটেলমেন্টের (ওআরএস) হেফাজতে রাখে। ওআরএসের কাজ হচ্ছে অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের দেখাশোনা করা। পরবর্তী সময়ে যেন তারা পরিবারের সঙ্গে মিলিত হতে পারে, তা নিশ্চিত করা। আর যেসব অভিবাসীর বয়স ১৮ বছরের বেশি, তাঁদের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) কারাগারে প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে কারাবন্দী রাখা হয়।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর অভিবাসী কমাতে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমেরিকার ফেডারেল সরকার দাঁত পরীক্ষা এবং হাড়ের এক্স-রে করে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বয়স নির্ধারণ করার চেষ্টা করছে। ফলে, বাংলাদেশ থেকে আসা অনেক অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীর আইসের কারাগারে হস্তান্তর করা হচ্ছে প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে।
৩ হাজার ১০৭ জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল হয়েছে : মোজাম্মেল হক-দৈনিক যুগান্তর
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, এ পর্যন্ত ৩ হাজার ১০৭ জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করা হয়েছে। তিনি আজ শনিবার সংসদে সরকারি দলের নূরুন্নবী চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, এছাড়া গত ১০ বছরে বাদ পড়া মুক্তিযোদ্ধা ক্যাটাগরি অনুযায়ী অর্থাৎ বেসামরিক গেজেট, নারী মুক্তিযোদ্ধা (বীরাঙ্গনা), মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী মেডিকেল টিম, শব্দ সৈনিক, শহীদ এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ ৪ হাজার ১৮৮ মুক্তিযোদ্ধার নাম গেজেটভুক্তির জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।
এ রাষ্ট্র ধনীদের, গরীবের স্বার্থ চিন্তা করে না : অধ্যাপক মিজানুর রহমান-দৈনিক নয়া দিগন্ত
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেছেন, অবস্থান পরিবর্তন ঘটাতে হলে উই নিড এ নিউ বিগিনিং। নতুন একটা যাত্রা শুরু করতে হবে। সেখানে স্বচ্ছতা থাকতে হবে। জবাবদিহিতা থাকতে হবে। থাকতে হবে আইনের শাসন।বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি হয়ে গেছে ধনীদের। গরিবের স্বার্থের কথা এ রাষ্ট্র চিন্তা করে কিছু করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অধ্যাপক মিজানুর রহমান আরো বলেন, এ বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি হয়ে গেছে ধনীদের। গরিবদের স্বার্থের কথা এ রাষ্ট্র চিন্তা করে কিছু করে না। সড়ক পরিবহনের আইন প্রনয়নের ক্ষেত্রেও তা দেখা গেছে। নিজেকে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র মনে করে তাহলে তাকে জনগণের কথা চিন্তা করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। কারণ আমাদের আইন সভায় সব সময় ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ব। তাদের স্বার্থ দেখেই আইন প্রনয়ণ করা হচ্ছে।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
‘যারা দেশের বিভাজন চায়, তাদের ভয় পাওয়াই উচিত’, কাশ্মীর নিয়ে হুঁশিয়ারি অমিতের-দৈনিক আনন্দবাজার
‘ভয় হওয়াই চাই। ভয় থাকা দরকার। বিশেষ করে যারা দেশের বিভাজন চায়, তাদের ভয় পাওয়াই উচিত।’ আজ লোকসভায় দাঁড়িয়ে এই ভাষাতেই হুঁশিয়ারি দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বুঝিয়ে দিলেন কাশ্মীরে সন্ত্রাস দমন অভিযান এখনই থামবে না। বরং প্রয়োজনে দমননীতি বাড়ানো হবে। অমিত শাহের কথায়, ‘‘রোগকে সমূলে নাশ করতে হলে যদি কড়া ওষুধের প্রয়োজন হয়, তা হলে তা দিতে হয়।’’
আজ লোকসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বার বক্তব্য রাখেন অমিত শাহ। বিষয় ছিল জম্মু-কাশ্মীর। সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ আরও ছয় মাসের জন্য বাড়ানোর পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীর সংরক্ষণ আইনের সংশোধন নিয়ে বলেন তিনি। এ নিয়ে বিতর্কে কাশ্মীর সমস্যার জন্য জহওরলাল নেহরুকেই দায়ী করেন শাহ। বির্তকের সময় দেশভাগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কংগ্রেস সাংসদ মণীশ তিওয়ারি। জবাবে অমিত বলেন, দেশভাগ করেছিল কংগ্রেস।
নিশানায় অমরনাথ যাত্রীরা, জইশের ছক ভেস্তে দিতে তৎপর নিরাপত্তারক্ষীরা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
অমরনাথ যাত্রীদের উপর হামলার ছক কষছে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। আগামিকাল রবিবার অমরনাথের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবেন পুণ্যার্থীরা। তার আগেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলির এহেন রিপোর্টে উদ্বেগে প্রশাসন। মজবুত করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সদ্য অমরনাথ যাত্রা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও কাশ্মীর পুলিশের কাছে একটি রিপোর্ট পেশ করেছেন গোয়েন্দারা। সেখানে বলা হয়েছে পুলওয়ামার ধাঁচেই পুণ্যার্থীদের কনভয়ে আত্মঘাতী হামলা করার ছক কষছে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। তারপরই যাত্রাপথে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করতে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করেছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। আধা সামরিক বাহিনীকে সতর্ক করার পাশাপাশি বিশেষভাবে জোর দেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তিগত নজরদারির উপরেও। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের আইজি এমকে সিনহা শুক্রবার বলেছেন, “অমরনাথ যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারিও চালাচ্ছে পুলিশ। সেই সঙ্গে কনভয়ের প্রতিটি গাড়ির সঙ্গে যুক্ত থাকবে ‘রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন ব্যবস্থা।”অমরনাথ যাত্রার দু’টি রুট রয়েছে, একটি বালতাল, অপরটি পহেলগাঁও হয়ে যায়। দু’টি পথই যথেষ্ট বিপজ্জনক।
ডাক্তাররা খুব ভাল কাজ করেন: মমতা-দৈনিক আজকাল
‘ভালবাসা দিয়ে মানুষকে আপন করে নিতে হবে। দূর–দূরান্ত থেকে হাসপাতালগুলিতে মানুষ আসে। একটু মিষ্টি ব্যবহার করলেই তো হয়। আমাদের ডাক্তাররা খুব ভাল কাজ করেন।’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি শুক্রবার বিধানসভায় একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জনসংযোগও বাড়াচ্ছি। কাউন্সেলিংয়েরও ব্যবস্থা হচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গেও রাজ্য সরকার ব্যবস্থা রেখে চলেছে। আমি অনেক আন্দোলনেই গেছি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও যখন আন্দোলন চলছিল আমি গিয়েছিলাম। সংবেদনশীল বিষয়। আমরা সমস্যার সমাধান করি। গোটা বিষয়টি মানবিকভাবে দেখি।’
বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান হাসাপাতালের জুনিয়র ডাক্তারদের হেনস্থার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মুখ্যমন্ত্রী তথ্য দিয়ে বলেন, ‘২০০৮–০৯ সালে গুজরাটে নরেন্দ্র মোদি এসমা জারি করেছিলেন। ১৫০ জন ডাক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।’ রাজস্থান, হরিয়ানা, দিল্লি ও মণিপুরের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘ডাক্তার ও রোগীদের মধ্যে ভালবাসার বিষয় আছে। ভালবেসে অনেক কিছু করা যায়। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানও হয়।’
আবদুল মান্নান জানতে চান, জুনিয়র ডাক্তারদের হেনস্থাকে কেন্দ্র করে এক চরম সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনা বন্ধ করতে সরকার কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে? স্বাস্থ্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘চলতি বছরের ১০ জুন নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে অপ্রীতিকর ঘটনার ফলে জুনিয়র ডাক্তাররা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এই সমস্যার সুস্থ সমাধান হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই ধরনের অবাঞ্ছিত ঘটনা এড়াতে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সুরক্ষা ব্যবস্থা দৃঢ় করার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর, কলকাতা পুলিশ ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ একসঙ্গে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।’#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৯