আগস্ট ১১, ২০১৯ ১২:০০ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: রেডিও তেহরানের প্রাত্যহিক আয়োজন কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আজ ১১ আগস্ট রোববারের কথাবার্তার আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

বাংলাদেশের শিরোনাম

  • ঈদযাত্রা নিয়ে কাদেরের বক্তব্য দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে নিষ্ঠুর রসিকতা: রিজভী -দৈনিক যুগান্তর
  • কাদেরের দুঃখপ্রকাশ -দৈনিক প্রথম আলো
  • ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে আগুন, যাত্রীদের ক্ষোভ, সাংবাদিকের উপর হামলা -দৈনিক মানবজিমন 
  • শেষ দিনেও উপচে পড়া ভিড়, ভোগান্তিতে ঈদযাত্রা -দৈনিক ইত্তেফাক
  • ভারতের শিরোনাম:    
  • শান্তিপূর্ণ’ শ্রীনগরে ফের বিধিনিষেধ আরোপ! লোকজনকে দ্রুত ঘরে ফেরার নির্দেশ, বলছে রিপোর্ট -দৈনিক আনন্দবাজার
  • ছ’দিনে একটাও গুলি চলেনি, কাশ্মীর শান্ত দাবি পুলিশের -দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে যাচ্ছে পাকিস্তান, ভারতকে চাপে রাখতে চীন–জুজু -দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশের কয়েকটি খবরের দিকে নজর দেব।

ঈদ যাত্রায় জনভোগান্তি

শুরুতেই ঈদযাত্রা কেমন হচ্ছে মানুষের সে সম্পর্কিত খবর। শেষ দিনেও উপচে পড়া ভিড়, ভোগান্তিতে ঈদযাত্রা এটি দৈনিক ইত্তেফাকের শিরোনাম। খবরে বলা হয়েছে, য়জনদের সঙ্গে ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ঢাকা ছাড়ছেন হাজার হাজার মানুষ। রবিবার ঈদ যাত্রার শেষ দিনে রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় রয়েছে। ঘন্টার পর রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চ টার্মিনালে বসে থাকতে গিয়ে নারী ও শিশুরা পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। ঈদযাত্রার শেষ দিনেও শিডিউল বিপর্যয়ে পড়েছে ট্রেন।

দৈনিক মানবজমিনের খবরে লেখা হয়েছে, ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে  বিক্ষুদ্ধ যাত্রীরা আগুন দিয়েছে। সেখানে সাংবাদিকের উপর হামলা হয়েছে।

দৈনিক প্রথম আলোর একটি শিরোনাম কাদেরের দুঃখপ্রকাশ। বিস্তারিত খবরে লেখা হয়েছে, মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে ঈদের ছুটিতে ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তির জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

Image Caption

এদিকে দৈনিক যুগান্তরের খবরে লেখা হয়েছে, ঈদযাত্রা নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য দুঃখ-দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে নিষ্ঠুর রসিকতা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, সেতুমন্ত্রী মানুষের দুঃখ-দুর্দশা জানবেন কীভাবে। তিনি তো জনগণের মন্ত্রী নন। রিজভী বলেন, ৪০ টাকার ভাড়ার স্থলে ৪০০ টাকা, ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার ভাড়া আদায় করা হয়েছে ১২০০ টাকা। এটা দেখার কেউ নেই। কোনো কোনো মহাসড়কে ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার যানজট। লঞ্চে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ফেরিঘাটে লম্বা লাইন। সকালের ট্রেন রাতে ছাড়ছে। পরিবার নিয়ে স্টেশন-রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষ। কষ্টের সীমা নেই। অথচ সেতুমন্ত্রী বলছেন, এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও আনন্দঘন।

১০ দিনে ২০ হাজারের বেশি রোগী ভর্তি ডেঙ্গু কেড়ে নিয়েছে ওদের ঈদ-দৈনিক মানবজমিন

সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ

সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপের মধ্যেই আগামীকাল ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হতে যাচ্ছে। রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন অনেকে। ডেঙ্গু এ পর্যন্ত কেড়ে নিয়ে শতাধিক প্রাণ। ছুটি বাতিল করা হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের। ছুটি বাতিল করা হয়েছে সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভার কর্মীদের। এমন অবস্থায় ডেঙ্গুর কারণে ঈদের খুশি নেই অনেক পরিবারে। সরকারি হিসাবে প্রায় ১০ হাজার  ডেঙ্গু রোগীর ঈদ কাটবে হাসপাতালে। চলতি মাসে গড়ে প্রতিদিন আক্রান্ত হয়ে দুই হাজারের বেশি ভর্তি হচ্ছেন। মৃতের সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্কও রয়েছে। ফলে আতঙ্কের মধ্যে মানুষের ঈদের আনন্দ কম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। বহু লোক ঈদ কাটাবে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত স্বজনের সঙ্গে। ডেঙ্গুতে যারা স্বজন হারিয়েছেন তাদের পরিবারে এবার কোনো ঈদের আনন্দ নেই। সবমিলে এবার লাখ লাখ লোক ভয়ংকর এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু জ্বরের কারণে তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটা মাটি হয়ে গেছে!

চামড়ার বাজার নিয়ে শঙ্কা-দৈনিক মানবজমিন

চামড়ার বাজার নিয়ে শঙ্কা

এবার জবাই করা পশুর কাঁচা চামড়া নিয়ে বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র জানায়, গত বছরের অবিক্রীত চামড়া এখনও মজুত রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ পিস। আবার ব্যবসায়ীরা ঈদে ১ কোটি পিস পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন। গত বছর এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ১৫ লাখ পিস। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় অন্তত ২৫ লাখ পিস চামড়া কম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন তারা। এ বছর যুক্ত হবে আরো ১ কোটি ১৮ লাখ পিস চামড়া। সব মিলে কোরবানির মৌসুমে সারা দেশে চামড়ার মজুত দাঁড়াবে ১ কোটি ৭৮ লাখ পিস। যা একসঙ্গে এত চামড়া সংরক্ষণের সক্ষমতা নেই দেশের ট্যানারি শিল্পের।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

শান্তিপূর্ণ’ শ্রীনগরে ফের বিধিনিষেধ আরোপ! লোকজনকে দ্রুত ঘরে ফেরার নির্দেশ, বলছে রিপোর্ট-দৈনিক আনন্দবাজার

জম্মু-কাশ্মীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক, প্রশাসন এই কথা জানানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফের বিধিনিষেধ আরোপ হল উপত্যকায়, এমনই দাবি করা হচ্ছে এনডিটির রিপোর্টে। 

অবরুদ্ধ কাশ্মীর

সামনে ইদ। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নিজের ভাষণে বলেছিলেন, মানুষ যাতে শান্তিপূর্ণ ভাবে ইদ পালন করতে পারে তার জন্য সর্বতো ভাবে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। সেই মতোই ঘন ঘন আসতে থাকে প্রশাসনিক বার্তা। সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি উড়িয়ে দিয়েছিলেন আইজি এসপি পানি। তিনি বলেন, ‘‘কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম উপত্যকায় গুলিচালনার খবর দেখাচ্ছে। কিন্তু, তা সম্পূর্ণ ভুয়ো। এমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি। গত এক সপ্তাহ ধরেই উপত্যকা শান্তিপূর্ণ রয়েছে।”তবে কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের দৈনিক যুগান্তরের একটি শিরোনাম বেশ মর্মান্তিক। সেখানে বলা হয়েছে, কাশ্মীরে মৃতের জন্য শোক করাও যাচ্ছে না! বিধিনিষেধ এতটাই কঠোর যে ইরফান আহমেদ নামে এক ব্যক্তি তার বাবার জানাজায়ও অংশ নিতে পরে নি।তবে সংবাদ প্রতিদিনের একটি খবরের শিরোনাম এরকম,গত ছয়দিনে একটাও গুলি চলেনি, কাশ্মীর শান্ত দাবি পুলিশের।

রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে যাচ্ছে পাকিস্তান, ভারতকে চাপে রাখতে চীন–জুজু-দৈনিক আজকাল

চীনের সমর্থন নিয়ে ভারতের কাশ্মীর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে চেয়েছিল ইসলামাবাদ। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। অর্থাৎ এভাবে প্রকাশ্যে প্রতিবাদে নামতে চায়নি চীন। ইতিমধ্যেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তিন দিনের চীন সফরে গিয়েছেন রবিবার। তারই মধ্যে পাকিস্তান এখন এঁটে উঠতে না পেরে ভারতকে চীনের ভয দেখাবার কৌশল নিয়েছে। 

বিভিন্ন ইসলামিক দেশের কাছ থেকে সাড়া না এবার চীনের জুজু দেখাতে শুরু করল পাকিস্তান। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের প্রতিবাদে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে যাওয়ার হুমকি দিল ইমরান খান সরকার।

কাশ্মীর ইস্যু-ভারতকে সমর্থন রাশিয়ার পাকিস্তানকে চীনের-বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত এ শিরোনামের খবরে লেখা হয়েছে, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। অন্যদিকে রাশিয়া সমর্থন করেছে ভারতকে। তারা বলেছেন, ভারত যা করেছে তা তাদের  সংবিধানের কাঠামোর অধীনে করেছে। শুক্রবার এই দুটি দেশ তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে। চীন বলেছে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধপূর্ণ এই সমস্যা অবশ্যই যথাযথ ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হতে হবে। তা হতে হবে জাতিসংঘ সনদ, নিরাপত্তা পরিষদের রেজ্যুলুশন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১১