চামড়ার কম দাম ব্যবসায়ীদের কারসাজি বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী, খতিয়ে দেখা হচ্ছে-কাদের
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ১৪ আগস্ট বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম
- এবার নিজ শহরে হামলার শিকার ভিপি নূর-দৈনিক যুগান্তর
- চামড়ার দাম নিয়ে সিন্ডিকেটের বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের-দৈনিক ইত্তেফাক
- চামড়ার কম দাম ব্যবসায়ীদের কারসাজি: বাণিজ্যমন্ত্রী-দৈনিক প্রথম আলো
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বাড়িতে দুর্বৃত্তদের হানা, ব্যাপক ভাঙ্গচুর,লুটপাট-দৈনিক মানবজমিন
- কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ দিলে দেশীয় শিল্প হুমকির মুখে পড়বে: বিটিএ-দৈনিক মানবজমিন
ভারতের শিরোনাম:
- ‘ভারত যেন আমাদের সংযমকে দুর্বলতা না ভাবে’, নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দিল পাকিস্তান-দৈনিক আনন্দবাজার
- জলপথে ঢুকতে পারে ‘সমুন্দরি জেহাদি’রা, হাই অ্যালার্ট দেশজুড়ে-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- সমস্ত বিধিনিষেধ মুক্ত জম্মু, কাশ্মীরে এখনও কদিন থাকবে কড়াকড়ি-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার আসরে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।
কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:
১. এবারের কুরবানির ঈদে বাংলাদেশে চামড়ার দাম খুবই কম ছিল এবং সিন্ডিকেটের কারণে গরিব ও এতিমরা তাদের হক বুঝে পেল না বলে বিভিন্ন অঙ্গন থেকে কথা উঠেছে। আপনি কী বলবেন?
২. হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কথিত আন্তর্জাতিক সামরিক জোটে ইসরাইলের অংশগ্রহণ মানবে না ইরাক। একথা বলেছেন ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মাদ আলী আল-হাকিম। ইরাকের এ বক্তেব্যর গুরুত্ব কী?
বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
চামড়ার কম দাম ব্যবসায়ীদের কারসাজি: বাণিজ্যমন্ত্রী-দৈনিক প্রথম আলো
চামড়ার দাম কমে যাওয়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজি আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি । আজ বুধবার রংপুরের শালবন এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। ঈদুল আজহার পরে এবার কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কম দাম নিয়ে ব্যাপক আলোচনার চলে। চামড়ার ব্যবসা সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলেছেন, এবারের দাম স্মরণকালের মধ্যে সর্বনিম্ন। দাম না পেয়ে অনেকেই চামড়া ফেলে দিয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘চামড়া নিয়ে যখনই ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করি তখনই এর বিরুদ্ধাচরণ করা হচ্ছে।’মন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে ট্যানারি মালিক ও চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলো, তা এর কোনো প্রতিফলণ দেখা যাচ্ছে না। দাম একেবারেই কমে গিয়েছে উল্লেখ করে টিপু মুনশী বলেছেন, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণেই সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মন্ত্রী জানান, এ সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কখা বলছেন।
দৈনিকটির অন্য একটি খবরের শিরোনাম-চামড়ার দামে ধস, কার লাভ-কার ক্ষতি?
কোরবানির চামড়া বা বিক্রি করা অর্থ দান করতে হয়। এই দান এতিমখানা, মাদ্রাসা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীই পেয়ে থাকে। কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ীই এ সময় আয় করেন। কিন্তু এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। চামড়ার দাম পেয়ে যাদের উপকৃত হওয়ার কথা তারা এবার তা পাচ্ছেন না। বলা যায় পুরো লাভটাই যাচ্ছে আড়তদার, ব্যবসায়ী আর ট্যানারি মালিকদের পকেটে।
এদিকে, ন্যায্য দাম না পেয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে কোরবানির পশুর ৯০০টি চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
চামড়ার দাম নিয়ে সিন্ডিকেটের বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের-দৈনিক ইত্তেফাক
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, চামড়ার দাম নিয়ে সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যার বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ রেহাই পাবে না।
বুধবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সিন্ডিকেটের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে জানা দরকার। সিন্ডিকেটের একটা ব্যাপার আমাদের দেশে আছে। ফায়দা লোটার জন্য একটা মহল সিন্ডিকেট করে। সে ধরনের কিছু হয়েছে কিনা, সেটা খোঁজ-খবর নিয়ে জানাবো। যার বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ রেহাই পাবে না।’
এবার নিজ শহরে হামলার শিকার ভিপি নূর-দৈনিক যুগান্তর
আবারও হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর। বুধবার বেলা ১১টার দিকে নিজ শহর পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া বাজারে হামলার শিকার হন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বাড়িতে দুর্বৃত্তদের হানা, ব্যাপক ভাঙ্গচুর,লুটপাট-দৈনিক মানবজমিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাতের আঁধারে বুলডোজার দিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুণ আল রশিদের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ও বাড়ির ভেতরের স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। করাত দিয়ে বাড়িরের ভেতরের বড়গাছও কেটে ফেলা হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কয়েক ঘন্টা ধরে এই তান্ডব চালানো হয় শহরের প্রানকেন্দ্রের ওই বাড়িটিতে। সেখানে বর্তমানে মডার্ণ এক্স-রে ও প্যাথলজি ক্লিনিক নামে একটি প্রতিষ্ঠান ভাড়া রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন মালামালও লুট করে নেয়া হয়। এদিকে সকালে এখবর ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জেলা আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র নেতারা। ভীড় জমান সাধারন মানুষও। এনিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে সর্বস্থরের মানুষের মধ্যে।হারুন আল রশিদ সদর আসন থেকে পাঁচ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বিএনপি সরকারের ত্রান ও পূনর্বাসন প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ ছিলেন। তিনি বর্তমানে কানাডা প্রবাসে রয়েছেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- রাত দুইটা থেকে আড়াইটার দিকে প্রায় শতাধিক লোক বুলডোজার নিয়ে ভাঙচুর শুরু করে।
অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ চান মির্জা ফখরুল-দৈনিক প্রথম আলো
বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা চিন্তা করে অবিলম্বে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।ঠাকুরগাঁওয়ে ঈদ উদ্যাপন শেষে আজ বুধবার সকালে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই দাবি করেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, কোরবানি করা পশুর প্রচুর চামড়া লেদার ইন্ডাস্ট্রিজে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে এবার চামড়া ব্যবসায়ীরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দাম না পেয়ে বহু জায়গায় চামড়া মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁদের সময় চামড়া কেনার জন্য ব্যবসায়ীদের ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া হতো। যাঁরা লেদার ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের কাছে চামড়া পৌঁছে দেওয়া হতো। কিন্তু চামড়াশিল্প নিয়ে কোনো ধরনের উদ্যোগ না থাকায় বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তে বলা হচ্ছে, কাঁচা চামড়া রপ্তানি করা হবে। এই সিদ্ধান্তও হয়েছে অনেক দেরিতে। সরকারের সমস্যা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। কোথায় জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হলো, কোন ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি হলো, এটা নিয়ে সরকারের কখনো মাথাব্যথা ছিল না। এখনো নেই। সে কারণে তাদের সিদ্ধান্ত গণবিরোধী হয়। এতে আল্টিমেটলি দেশেরই ক্ষতি হয়।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
‘ভারত যেন আমাদের সংযমকে দুর্বলতা না ভাবে’, নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দিল পাকিস্তান-দৈনিক আনন্দবাজার
জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ ও তাকে দু’ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আগেই রাষ্ট্রপুঞ্জের দ্বারস্থ হয়েছিল পাকিস্তান। সেই আবেদন একেবারেই আমল পায়নি। মরিয়া ইসলামাবাদ গোটা বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য এ বার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদকে চিঠি দিয়ে বিশেষ বৈঠকের অনুরোধ জানাল। চিঠিতে ভারতের প্রতি রয়েছে প্রচ্ছন্ন হুমকিও। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মহম্মদ কুরেশি আবেদনপত্রে লিখেছেন, “আমরা কোনও দ্বন্দ্ব চাই না। কিন্তু ভারত যেন আমাদের সংযমকে দুর্বলতা না ভাবে।”
কুরেশির বক্তব্য, ভারতের ‘ভয়ঙ্কর’ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন তাঁরা। এই অবস্থায় ভারত যদি মনে করে তারা পেশিশক্তি দেখাবে, আত্মরক্ষার স্বার্থে পাকিস্তানও সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করবে।জম্মু-কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে চিনের সমর্থন আদায়ের জন্যে গত শুক্রবারই কুরেশি বেজিংয়ে গিয়ে দেখা করেছিলেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে। কুরেশি দাবি করেছিলেন, জম্মু কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপুঞ্জের দৃষ্টি আকর্ষণের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে চিন। যদিও চিন এই মর্মে একনও কোনও বিবৃতিই দেয়নি। বরং তারা কুরেশিকে জানিয়ে দেয়, দুই প্রতিবেশীর সঙ্গেই সুসম্পর্ক রক্ষায় আগ্রহী তারা। সিমলা চুক্তি ও রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ মেনে সমস্যার সমাধান হোক, এমনটাই চান তারা। এই আবহেই আবেদনপত্রটি তৈরি করেছে পাকিস্তান।
জলপথে ঢুকতে পারে ‘সমুন্দরি জেহাদি’রা, হাই অ্যালার্ট দেশজুড়ে-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে হাই অ্যালার্ট জারি মুম্বই উপকূলে। মুম্বই হামলার ধাঁচে অনেকটা কাসভদের কায়দায় জলপথে সন্ত্রাসবাদী হামলার আশঙ্কায় চূড়ান্ত সতর্কতা নিয়েছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। পাকিস্তান থেকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত এই জঙ্গিরা ‘সমুন্দরি জেহাদি’ নামেই পরিচিত। পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলে কোনওরকম সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলেও তত্ক্ষণাৎ খবর দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে শহরের পুলিশকে। “দেশে উত্তেজনার পরিবেশ থাকায় উপকূল দিয়ে হামলার আশঙ্কা বেড়েছে। সেই জন্য চূড়ান্ত সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে,” এক সরকারি আধিকারিক বলেন।
ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী (ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ড)-র নির্দেশ পেয়ে মুম্বই পুলিশের বন্দর জোনের ডেপুটি কমিশনার রেশমী কারানদিকর জানান, রাতে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে টহলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুম্বইয়ের ৭০টি তীরে যেখানে জাহাজ এসে ঢোকে, সেখানে জোরালো আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে লুকিয়ে কেউ শহরে ঢুকতে না পারে।
সমস্ত বিধিনিষেধ মুক্ত জম্মু, কাশ্মীরে এখনও কদিন থাকবে কড়াকড়ি-দৈনিক আজকাল
জম্মু থেকে সব সরকারি বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হলেও কাশ্মীরে আরও কিছুদিন তা জারি থাকবে। এমনটাই জানা গেল প্রশাসন সূত্রে। জম্মু–কাশ্মীরের পুলিশ আধিকারিক মুনির খান জানিয়েছেন, ‘জম্মু–কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক। গত তিন–চারদিনে সেরকম কোনও বড় ঘটনা ঘটেনি। জম্মু থেকে সরকারি বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাশ্মীরের ক্ষেত্রে এখনই তা করা হচ্ছে না। কয়েকটি জায়গায় সেনাকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এই মুহূর্তে আমাদের লক্ষ্য, উপত্যকায় সুস্থ ভাবে স্বাধীনতা দিবস পালন করা।’
গত ৫ আগস্ট ৩৭০ ধারা বাতিল ও জম্মু–কাশ্মীরকে ভেঙে দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র সরকার। ঠিক তার আগের দিন থেকেই গোটা জম্মু–কাশ্মীরকে সুরক্ষা বেষ্টনীর মধ্যে বেঁধে ফেলা হয়েছিল। প্রায় চল্লিশ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল উপত্যকায়। ফোন, ইন্টারনেট ব্যবস্থাও বন্ধ করা হয়েছিল।বিভিন্ন প্রদেশে জারি হয়েছিল ১৪৪ ধারা। কোনওরকম জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাকে প্রথমে গৃহবন্দী ও পরে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল সেইসময়। ১০ আগস্ট থেকে এই কঠোর ব্যবস্থা একটু একটু করে শিথিল করতে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকার। তারপরেই সরকারের পক্ষ থেকে বুধবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
রাজনৈতিক মামলায় আশানুরূপ তৎপরতা দেখাতে পারে না সিবিআই, মন্তব্য প্রধান বিচারপতির-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
প্রশংসার ছলেও যেন ভর্ৎসনা, আবার ঘুরিয়ে কটাক্ষও বলা যেতে পারে। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ সিবিআই সম্পর্কে যা বললেন, তা নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে বাধ্য। মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে গিয়ে রঞ্জন গগৈ বলেন, ‘‘একগুচ্ছ হাই-প্রোফাইল ও রাজনৈতিক ভাবে স্পর্শকাতর মামলায় সিবিআই আদালতের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারেনি।’’]
মঙ্গলবার ডি পি কোহলি মেমোরিয়াল লেকচার শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “এটা সত্যি যে কিছু হাই-প্রোফাইল এবং কিছু রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মামলায় সিবিআই আদালতের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এবং এটাও সত্যি, যে এই ঘটনা কাকতালীয় হতে পারে না।” প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “আমি মাঝে মাঝে নিজেকেই প্রশ্ন করি কেন এমন হয়? কেন যেসব মামলায় কোনও রাজনৈতিক যোগ থাকে না সেসব মামলার এত দ্রুত সমাধান করে ফেলে সিবিআই?” এর জন্য অবশ্য শুধু সিবিআইকে দোষারোপ করেননি প্রধান বিচারপতি। তাঁর মতে, এটা সিস্টেমের সমস্যা।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৪