বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ, সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ১৫ আগস্ট বৃহষ্পতিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
বাংলাদেশের শিরোনাম
- চার জেলায় সড়কে ঝরল ১৭ প্রাণ -দৈনিক যুগান্তর
- ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে -দৈনিক ইত্তেফাক
- খুনি চক্রকে রক্ষা করেছে জিয়া, এরশাদ ও খালেদা সরকার-দৈনিক প্রথম আলো
- বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ, সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান -দৈনিক
- মানবজমিনময়মনসিংহে নাইট গার্ডকে পিটিয়ে হত্যা করলো ডাকাতরা, -দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- স্বাধীনতা দিবসে বড় চমক মোদীর, তৈরি হল চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ - দৈনিক আনন্দবাজার
- এবার কি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিল! স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে কী ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী? -দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- মোদির স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে উঠে এল ৩৭০ ধারা প্রসঙ্গ -দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।
আজ স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪ তম শাহাদাতবার্ষিকী।
আজ জাতীয় শোক দিবস। এ দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। খবরটি বাংলাদেশের প্রায় সব জাতীয় দৈনিক বিশেষ গুরুত্বসহ প্রকাশিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত খবরে দৈনিক ইত্তেফাকের শিরোনাম এরকম- ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে-দৈনিক ইত্তেফাক। খবরটিতে লেখা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাজাপ্রাপ্ত পালাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ওবায়দুল কাদের।
দুর্ঘটনা সম্পর্কিত খবরে- দৈনিক যুগান্তরের শিরোনাম এরকম যে, চার জেলায় সড়কে ঝরল ১৭ প্রাণ ।
বিস্তারিত খবরে লেখা হয়েছে, ফেনী, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮৪ জন। ঈদুল আজহার চতুর্থ দিন বৃহস্পতিবার এসব দুর্ঘটনা ঘটে।আহতদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ, সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান-দৈনিক মানবজমিন
বাংলাদেশে নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের নির্যাতন বিরোধী ‘কমিটি এগেইনস্ট টর্চার’ (সিএটি বা ক্যাট)। এক্ষেত্রে অভিযোগ যাচাই করতে নিরপেক্ষ তদন্তের সুপারিশ সহ প্রায় ৯০টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে নির্যাতন ও অন্যান্য গুরুত্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কি অগ্রগতি হয়েছে তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে এক বছরের মধ্যে একটি ফলোআপ রিপোর্ট জমা দিতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে ৭টি মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন।সংগঠনগুলো এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য। একই সঙ্গে সমস্যার ভয়াবহতা স্বীকার করে নিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। যৌথ ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৯৮ সালে ‘কনভেনশন এগেইনস্ট টর্চার অ্যান্ড আদার ক্রয়েল, ইনহিউম্যান অর ডিগ্রেডিং ট্রিটমেন্ট অর পানিশমেন্ট’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। তারপর এবারই এ বিষয়ে প্রথম রিভিউ রিপোর্ট জমা দেয়া হয়েছে। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা শেষে ক্যাট গভীর উদ্বেগ জানিয়ে প্রকাশ করেছে ‘কনক্লুডিং অবজার্ভেশনস’।
৭টি মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনের ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, সরকার তার রিপোর্টে যেসব তথ্য দিয়েছে সে অনুযায়ী, ২০১৩ সালে কার্যকর হওয়া টর্চার অ্যান্ড জুডিশিয়াল ডেথ (প্রিভেনশন) অ্যাক্টের অধীনে মাত্র ১৭টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত এগুলোর একটিরও তদন্ত সম্পন্ন হয় নি। ক্যাট নোট দিয়েছে যে, নির্যাতিতরা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা যদি নির্যাতনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে যান তাহলে তাদেরকে হয়রান করা হয়। হুমকি দেয়া হয়। প্রতিশোধ নেয়ার ভয় দেখানো হয়। বিপুল সংখ্যক নির্যাতন, খেয়ালখুশি মতো গ্রেপ্তার, অজ্ঞাত আটক, গুম ও নিরাপত্তা হেফাজতে বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-ের সঙ্গে র্যাবের জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের প্রেক্ষিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ক্যাট। কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো বিধিবিধান মেনে চলছে কিনা তা নজরদারি নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গড়ে উঠেছে ক্যাট।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
স্বাধীনতা দিবসে বড় চমক মোদীর, তৈরি হল চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ-দৈনিক আনন্দবাজার
ভারতের ৭৩তম স্বাধীনতা দিবসে সকালেই বড় চমক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লালকেল্লা থেকে স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী জানালেন, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ নামক একটি নতুন সামরিক পদ তৈরি করতে চলেছে সরকার। এই পদে বহাল ব্যক্তি তিনটি সামরিক বিভাগেরই প্রধান হিসেবে গণ্য হবেন। এই পদটি তৈরি করার জন্য বহু দিন ধরেই সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছিলেন সেনাকর্তারা। সেই পরামর্শ মেনেই এবার তিনটি বিভাগের সমন্বয়সাধনের জন্য এই বিশেষ পদটি তৈরি করল সরকার। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আচ লালকেল্লা থেকে বলেন, ‘‘আমাদের সেনাবাহিনী দেশের গর্ব। সেনাবাহিনীর প্রতিটি শাখার সমন্বয় আরও জোরালো করতে আমি একটি বড় ঘোষণা করতে চাই আজ। ভারতে একজন সিডিএস বা চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ থাকবেন। আমাদের সেনাবাহিনী আরও কার্যকরী হবে এই সিদ্ধান্তের ফলে।
মোদির স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে উঠে এল ৩৭০ ধারা প্রসঙ্গ –দৈনিক আজকাল
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের স্বপ্ন বুঝতে পেরে পদক্ষেপ নিয়েছে তার সরকার। বাতিল করা হয়েছে সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-এ ধারা বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার লাল কেল্লায় দেশটির ৭৩তম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে এ কথা বলেন তিনি। মোদি বলেন, ‘এই সরকার ১০ সপ্তাহও পেরোয়নি, তারই মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পে গতি এসেছে। গত ৭০ বছর ধরে যে কাজ বকেয়া পড়ে রয়েছে, তা সরকারের ৭০ দিনের মধ্যে এনডিএ করে দেখিয়েছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগের সরকারেরা কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নিয়েছে কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। তার কথায়, ‘আমার সরকার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করে না। আমরা সমস্যা ফেলে রাখি না।’
দুর্নীতিতে জড়িতরাই বিজেপিতে যাচ্ছেন’, আক্রমণাত্মক তৃণমূল-দৈনিক আজকাল
যাঁদের কোনও নীতি নেই তাঁরাই দলবদল করছেন। যাঁরা কোনও না কোনও দুর্নীতিতে জড়িত, পুলিস এবং তদন্তের ভয় পাচ্ছেন তাঁরাই এভাবে বিজেপিতে যোগদান করছেন। বুধবার লাভপুরের বিধায়ক মণিরুল ইসলামের বিজেপিতে যোগদানের প্রতিক্রিয়ায় এমনটাই বললেন তৃণমূল নেতা তাপস রায়। এদিন নবান্নে সাংবাদিকদের সামনে দলের হয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তাপস বলেছেন, ‘মানুষের সমর্থন মমতা ব্যানার্জির সঙ্গেই আছে। আমরা ২০২০–২১–এ সেকথা প্রমাণ করব। এধরনের দলবদলে তৃণমূলের কিছু এসে যায় না। ভোটে হারার দায় যেমন কারও উপর বর্তায় না তেমনই জয়ের কৃতিত্বও কারও নয়।
'ভারতে প্রকাশ্যে মুসলিম হত্যা মামলার সব আসামি খালাস'
এ খবরটিতে লেখা হয়েছে, ভারতের রাজস্থানে গরু ব্যবসায়ী পেহলু খানকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যায় ৬ অভিযুক্তকে বেসকুর খালাস করে দিল আদালত। শুক্রবার রাজস্থানের আলোয়ার জেলা আদালত এই রায় দিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আসামির সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত নয়--এমন যুক্তিতে তাদের খালাস দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় ৪০ জনেরও বেশি সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যদানকারীদের মধ্যে পেহলু খানের দুই ছেলেও রয়েছেন। ঘটনার দিন তাঁরা বাবার সঙ্গেই ছিলেন। ২০১৭ সালের ১ এপ্রিল রাজস্থানের দিল্লি-আলওয়ার হাইওয়ের উপর বেহরোর কাছে স্বঘোষিত গোরক্ষকদের হাতে আক্রান্ত হন পেহলু খান। ঘটনার দু'দিন পর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় হরিয়ানার ওই ব্যক্তির। রাজস্থানে উল্টো গরু পাচারের অভিযোগে পেহলু শেখের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করে পুলিশ। একই অভিযোগে পেহলুর দুই ছেলে ইরশাদ ও আরিফের বিরুদ্ধেও চার্জশিট দেয় পুলিশ। ৫, ৮ ও ৯ ধারায় মামলা দায়ের হয়। যদিও পেহলুর পরিবার দাবি করে, গরু পাচারের অভিযোগ ভিত্তিহীন।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৫