রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মধ্যস্থতা চালিয়ে যেতে চায় চীন, আছে সংশয়
-
পত্রপত্রিকার পাতার খবরের গুরুত্বপূর্ণ খবর
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ২৮ আগস্ট বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
বাংলাদেশের শিরোনাম
- রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মধ্যস্থতা চালিয়ে যেতে চায় চীন, আছে সংশয়-দৈনিক প্রথম আলো
- ডিসি ইব্রাহিমের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-দৈনিক যুগান্তর
- প্রকৃত অর্থে বিরোধী দলের অভাবে দশম সংসদ কার্যকর হয়নি: টিআইবি-দৈনিক ইত্তেফাক
- কোরাম সংকটে ক্ষতি ১৬৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা-দৈনিক মানবজমিন
- ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ফের বাড়লেও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর দাবি কমেছে-দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- কাশ্মীর নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে প্রস্তাব পাশ করাতে চাইছে পাকিস্তান-দৈনিক আনন্দবাজার
- আমেরিকার পর রাশিয়া, কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের পাশে মস্কো-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- কাশ্মীর মামলা সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট, শুনানি অক্টোবরে-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।
প্রথমে সংসদ সম্পর্কিত একটি খবর তুলে ধরছি।
প্রকৃত অর্থে বিরোধী দলের অভাবে দশম সংসদ কার্যকর হয়নি: টিআইবি-দৈনিক ইত্তেফাক
খবরটিতে লেখা হয়েছে, প্রকৃত অর্থে বিরোধী দলের অভাবে দশম জাতীয় সংসদ কার্যকর হয়নি। এ কারণে আগের কয়েকটি সংসদের সাথে দশম সংসদের তুলনা করা যায় না। তবে কোরাম সংকট কমেছে।প্রতিবেদনের সার্বিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রধান একটি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ না থাকায় দশম সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়নি। ফলে সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব হয় এবং সংসদীয় কার্যক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণে একচ্ছত্র ক্ষমতার চর্চা বৃদ্ধি পায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্যকর বিরোধী দলের অনুপস্থিতি ও স্পিকারের জোরালো ভূমিকা ঘাটতিসহ নানা কারণে এই সংসদ প্রত্যাশিত পর্যায়ে কার্যকর ছিলো না। এতে আরো বলা হয়, সরকারি দলের নির্বাচনী ইশতেহারে সংসদ কার্যকর করা সংক্রান্ত অঙ্গীকারসমূহের বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঘাটতি লক্ষণীয়। আর মানবজমিনসহ কয়েকটি দৈনিকে এ সম্পর্কে লেখা হয়েছে, দশম জাতীয় সংসদে কোরাম সংকটে ক্ষতি হয়েছে ১৬৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
এডিস মশা ও ডেঙ্গুজ্বর সম্পর্কিত খবরও আজকের প্রায় সব দৈনিকে বিশেষ গুরুত্বসহ পরিবেশিত হয়েছে। এ সম্পর্কে দৈনিক মানবজমিনের শিরোনাম-এডিস মশা নিধনে সারাদেশে ওষুধ ছিটানোর নির্দেশ হাইকোর্টের
বিস্তারিত খবরে লেখা হয়েছে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও এডিস মশা নিধনে ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাপকভাবে ওষুধ ছিটানো ও অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগামী ১৬ই অক্টোবর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেছেন আদালত। দৈনিকটির অন্য এক খবরে লেখা হয়েছে আজ সকালে ময়মনসিংহ ও খুলনায় দুই ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে দৈনিক নয়া দিগন্তের একটি খবরে লেখা হয়েছে-ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ফের বাড়লেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুর রহমানের দাবি তা কমেছে।
এ সম্পর্কে দৈনিক যুগান্তরের একটি খবরে লেখা হয়েছে এডিস মশা নির্মূলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ‘চিরুনি অভিযানে’ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেকের বাসায় মশক নিধন দলকে ঢুকতে না দেয়াটা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে দৈনিক প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম-
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মধ্যস্থতা চালিয়ে যেতে চায় চীন, আছে সংশয়
বিস্তারিত প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে তাদের আস্থার সংকটই প্রধান বাধা। তাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারকে কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে চীন, আসিয়ানের মতো পক্ষগুলোকে অনুরোধ করছে বাংলাদেশ। তবে মিয়ানমারের প্রতি চীনের পক্ষপাত থাকায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের এই চেষ্টা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় আছে।
কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে গিয়ে ২০১৭ সালের নৃশংসতার ঘটনায় জবাবদিহির প্রশ্নে ছাড় দিয়ে কোনো সুফল আসবে না। কারণ, এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কমাতেই চীন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর আন্তর্জাতিক চাপ না থাকলে চীন এতটা সক্রিয় হতো না। তাই আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত আর আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বিচারপ্রক্রিয়ায় সমর্থনের ধারায় বাংলাদেশকে যুক্ত থাকতে হবে।
এবার রাজনৈতিক খবর
আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই: মির্জা ফখরুল-দৈনিক যুগান্তর
বিস্তারিত খবরে লেখা হয়েছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। আর মুহূর্তেই আন্দোলন হয় না, ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হয়, সংগঠন তৈরি করতে হয়। আমরা সেভাবে মানুষকে তৈরির চেষ্টা করছি। আমরা সেভাবেই কাজ করছি।
এদিকে, যুগান্তরের আরেকটি খবরে লেখা হয়েছে,বিএনপি-জামায়াতকে পাকিস্তানের ‘প্রেতাত্মা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসর বিএনপি-জামায়াতকে নির্মূল করেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
কাশ্মীর নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে প্রস্তাব পাশ করাতে চাইছে পাকিস্তান-দৈনিক আনন্দবাজার
ইসলামাবাদের সুরে ওয়াশিংটন সুর মেলায়নি। কোনও সরকারি বিবৃতি দিতে অস্বীকার করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও। তাই কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে এ বার রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার পরিষদ (ইউএনএইচআরসি)-কে দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনার চেষ্টা শুরু করেছে পাকিস্তান।
দৈনিকটির অন্য একটি খবরের শিরোনাম এরকম-কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, মন্তব্য রাহুল গান্ধীর, হিংসার জন্য পাকিস্তানের দিকে আঙুল। এ খবরে লেখা হয়েছে, রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এখানে পাকিস্তান বা অন্য কোনও রাষ্ট্রের নাক গলানোর অবকাশ নেই। তবে সংবিধানের ৩৭০ ও ৬৫-এ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের পদ্ধতি নিয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে কংগ্রেস।
কাশ্মীর মামলা সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট, শুনানি অক্টোবরে-দৈনিক আজকাল
কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ করা নিয়ে কেন্দ্র এবং জম্মু–কাশ্মীর সরকারকে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার সকালে এই নোটিস পাঠিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। কাশ্মীর থেকে বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে যে মামলাগুলি দায়ের করা হয়েছে, সেগুলিকে পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানো হল। এই মামলাগুলোর শুনানি হবে অক্টোবরে। এদিকে জম্মু–কাশ্মীরের জন্য একজন ইন্টারলোকিউটর নিয়োগের দাবি খারিজ হয়ে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।
আমেরিকার পর রাশিয়া, কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের পাশে মস্কো-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
আমেরিকা আগেই সরে গেছে৷ হাত তুলে নিয়েছে রাষ্ট্রসংঘও৷ কিন্তু তালিকাটা শেষ হয়নি৷ কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ ইস্যুতে আরও একবার ধাক্কা খেল পাকিস্তান৷ এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতকে প্যাঁচে ফেলার যে ষড়যন্ত্র করেছিল ইসলামাবাদ, বুধবার তা ভেস্তে দিল রাশিয়া৷ ৩৭০ ধারা বিলুপ্তির বিষয়ে ভারতের পাশে দাঁড়ালেন ভারতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত নিকোলে কুদাশচেভ৷ নয়াদিল্লির সুরে তিনিও সাফ জানালেন, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়৷ আর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে সমস্যাগুলি রয়েছে, তা কথাবার্তার মাধ্যমেই মিটিয়ে নেবে দু’দেশ৷#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৮