এক নজরে ঢাকা ও কোলকাতার পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ সব খবর
প্রিয় পাঠক! সালাম ও শুভেচ্ছা নিন। ২১ মে'র কথাবার্তার আসরে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি নাসির মাহমুদ এবং মুজাহিদুল ইসলাম। প্রথম আলোর একটি শিরোনাম দিয়েই শুরু করা যাক। উপকূলে ‘রোয়ানুর’ আঘাত' এই খবরটি প্রায় সবকটি দৈনিকেরই প্রধান শিরোনাম। প্রথম আলো লিখেছে, উপকূলে আজ শনিবার দুপুরে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’। ‘রোয়ানুর’ প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ে নিহত ৬। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ও বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সন্দ্বীপ ও বাঁশখালী উপজেলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে।
বেড়িবাঁধ ভেঙে কুতুবদিয়ার চারটি, মহেশখালীর তিনটি, টেকনাফের একটি, পেকুয়ার তিনটি ইউনিয়ন লন্ডভন্ড হয়েছে। কক্সবাজারে বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। বরগুনায় দেড় লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে রোয়ানু উপকূল পেরিয়ে যেতে পারে। অধিদপ্তরের পরিচালক সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, মেঘনা মোহনা, নোয়াখালী, কুতুবদিয়া, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, সীতাকুণ্ড উপকূল হয়ে রোয়ানু উত্তর দিকে চলে যাবে। এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামীকাল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আরেকটি শিরোনামে প্রথম আলো জানিয়েছে, উত্তাল সাগরে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে ভাসছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার শিখা’। জাহাজের ক্যাপ্টেন বেতারবার্তা পাঠিয়ে সাহায্য চেয়েছেন। জাহাজটি নিরাপদে সরিয়ে রাখার জন্য নৌবাহিনী ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তা চেয়েছে বিএসসি।*
ইত্তেফাক ত্রাণমন্ত্রীর উদ্ধুতি দিয়ে লিখেছে, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সরকার প্রস্তুত। ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ মোকাবেলায় সরকারের সব প্রস্তুতি আছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। শনিবার মন্ত্রণলায়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।
মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উপকূলীয় ১৪টি জেলার পাঁচ লাখ মানুষকে সাড়ে তিন হাজার আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আরো ২-৩ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেয়া হবে। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কমিটির (সিপিপি) ৫৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ছাড়াও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, রোভার স্কাউট ও আনসার ভিডিপির কর্মী, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী মিলিয়ে এক লাখ স্বেচ্ছাসেবীকে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশি বোলার মুস্তাফিজকে নিয়ে সাবেক দুই ক্রিকেট তারকার উক্তি এসেছে ইত্তেফাকে। বাংলাদেশের বিরল এই প্রতিভাকে খুব সাবধানে, বুঝেসুঝে ব্যবহার করার পরামর্শ দিলেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার রবী শাস্ত্রী।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’য় প্রকাশিত একটি মন্তব্য প্রতিবেদনে তিনি বলেন, মুস্তাফিজুরের আরো যত্ন নেওয়া জরুরি। এ রকম খাঁটি প্রতিভাকে লালন করার জন্য সঠিক লোক চাই। ছেলেটা কিন্তু এখনো শরীর আর মনের দিক থেকে কিশোরই। শরীরটাও তাই পুরোপুরি শক্তপোক্ত হয়ে ওঠেনি। ওর মতো প্রতিভাকে কিন্তু খুব সাবধানে, বুঝে ব্যবহার করতে হবে।
এদিকে এই কাটার মাস্টারকে পরামর্শ দিলে স্পিডস্টার শোয়েব আখতার। শুক্রবার দিল্লির বিপক্ষে ম্যাচের আগে সনি সিক্সে শোয়েব মুস্তাফিজকে কিছু পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, 'এক-দুই ম্যাচ ভালো করতে না পারায় এটা ভাবা ঠিক হবে না যে মুস্তাফিজ এখন খারাপ বোলার। যেহেতু তাকে নিয়ে প্রতিপক্ষ দলগুলো বেশ হোমওয়ার্ক করছে, তাই ভবিষ্যতে মুস্তাফিজকে তার বোলিংয়ে আরও নতুনত্ব আনতে হবে। খেলতে হবে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে।'*
'গণতন্ত্র এখন আইসিইউতে' খন্দকার মোশাররফের এই উক্তিাটকে শিরোনাম করেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন। পত্রিকাটি লিখেছে: দেশের গণতন্ত্র আজ আইসিইউতে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘গণতন্ত্র ও বতর্মান প্রেক্ষাপট’ শীষর্ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামের সঙ্গে গণতন্ত্রের নাম জড়িত। তাই গণতন্ত্রের নাম নেয়ার আগে জিয়াউর রহমানের নাম নিতে হবে। তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা মানুষের ভোট চুরি করে নির্বাচিত হয়েছে। তাই এই সরকার অবৈধ সরকার। গণতন্ত্র আজ ভূলুন্ঠিত মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আজ আইন-শৃঙ্খলা বলতে কিছু নেই। দিন দিন আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি হচ্ছে। এই সরকার জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।*
জাতিসংঘের ব্রিফিংয়ে আবারো বাংলাদেশ' এই শিরোনাম মানব জমিনের। বিস্তারিত খবরে এসেছে, জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আবার উঠে এলো বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। ২০শে মে ওই ব্রিফিং করেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক। তার কাছে একজন সাংবাদিক বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চান। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন কোন রকম আলোচনার উদ্যোগ নেবেন কিনা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে স্টিফেন ডুজারকি বলেন, আপনি যা বলছেন আমি তা শুনেছি। বাংলাদেশ ইস্যুতে আমরা এরই মধ্যে যা বলেছি তার বেশি যোগ করার মতো তথ্য আমার কাছে নেই।*
'দুই বছরের মধ্যে বন্ধ হবে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত’: নয়াদিগন্তের শিরোনাম। আগামী দু বছরের মধ্যেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সিল করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সর্বানন্দ সোনোয়াল। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আসামে পদ্মফুল ফোটানোর অন্যতম মুখ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন। আর শপথ নিয়েই 'অনুপ্রবেশ' রোখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন তিনি। এমনটাই জানিয়েছেন এক সংবাদ সংস্থাকে। ওই সাক্ষাত্কারে সোনোয়াল বলেছেন, সীমান্ত পাকাপাকি সিল করে দেয়ার ব্যাপারে দু বছর সময় দিয়েছিলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। তার মধ্যেই নদী-সংলগ্ন সীমানাসহ গোটা সীমান্তে বেড়া দেয়ার কাজ শেষ করে ফেলার লক্ষ্যে পদক্ষেপ করব আমরা। সোনোয়ালের মুখে ১৯ তারিখ ভোটগণনায় বিপুল জয় পাওয়ার দিনও শোনা গিয়েছিল অনুপ্রবেশ ইস্যু ও তা ঠেকানোর প্রসঙ্গ। আরো একবার অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সুর চড়ালেন আসাম রাজ্যের ভাবী মুখ্যমন্ত্রী।*
কোলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকারশিরোনাম: ফল বেরনোর পরে রাজ্যজুড়ে বিরোধীদের উপর হামলা চলছেই। ভোটের ফল প্রকাশ হতেই রাজ্যের বিভিন্ন অংশে শুরু হয়ে গিয়েছে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হামলার লক্ষ্য বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা। এবং প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভিযোগের আঙুল উঠেছে শাসক দলের দিকে। বিরোধীদের অভিযোগ, জল মেপে নেওয়ার পরেই বিভিন্ন এলাকায় একেবারে রণং দেহি মেজাজে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। আবার কোথাও কোথাও শাসক দলের উপরে বাম সমর্থকরা ঝাঁপিয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনী ফল বেরনোর পরে অবশ্য তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবাইকে শান্ত থাকার পরামর্শই দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “এই জয় মানুষের জয়। ২০ তারিখ থেকেই সারা রাজ্য জুড়ে উৎসব হবে।” কিন্তু তৃণমূল নেত্রীর সেই আহ্বানে যে কোনও কাজ হয়নি, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি তারই প্রমাণ।*
বরদাস্ত করব না নিজের মর্জি মতো চলা, কঠোর বার্তা প্রশাসক মমতার: বিরাট জয় বাড়িয়েছে দায়িত্ব৷ ভবিষ্যতে মানুষের রায়কে আরও বেশি মর্যাদা দিতেই দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই কঠোর হাতে দলের রাশ ধরতে শুরু করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তিনি নবনির্বাচিত বিধায়ক তথা দলের পদাধিকারী ও সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, যেমন খুশি বলা, যেমন খুশি চলা তিনি আর বরদাস্ত করবেন না৷ মানুষ যে রায় দিয়েছে তা অভূতপূর্ব৷ এর পরেও যাঁরা জিততে পারেননি, তাঁদের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে৷ নিজেকে বড় ভাবলে এমনই হয়৷ মণীশ গুপ্ত, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর মতো প্রার্থীদের ক্ষেত্রে অবশ্য নেত্রী সহানুভূতিশীল৷ এক্ষেত্রে অন্য ফ্যাক্টর কাজ করেছে৷এছাড়া যাঁরা দলের প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন অথবা বিরূপ মন্তব্য করে বিরোধীদের খুশি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও মমতা কঠোর৷ রানাঘাট মহকুমায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসন খুইয়েছে তৃণমূল৷ মূলত, এই কারণে সরে যেতে হচ্ছে নদিয়া জেলা সভাধিপতি বাণী রায়কে৷ তাঁর জায়গায় আসছেন দীপক বোস৷ পাশাপাশি দীনেশ ত্রিবেদী, আরাবুল ইসলামের মতো কয়েকজনের আচরণে নেত্রী এতটাই ক্ষুব্ধ যে তিনি বৈঠকে বলছেন, “যুদ্ধের সময় যাঁরা দলের বিরোধিতা করেন, তাঁদের কোনও ক্ষমা নেই৷”
হরিহরপাড়ায় পরিবর্তন নেপথ্যে সেই নিয়ামত: আজকালের শিরোনাম এটি।২০০১–এর বিধানসভা নির্বাচনে অধীর চৌধুরির নির্দল প্রার্থী হিসেবে হরিহরপাড়ায় জয়ী হয়েছিলেন নিয়ামত শেখ। আর ২০১৬–তে তৃণমূলের প্রতীকে অধীর চৌধুরির প্রার্থীকেই হারিয়ে হরিহরপাড়ার দখল নিলেন নিয়ামত শেখ। তবে মাঝে দু–দুবার ভোটে হরিহরপাড়া দখলে ছিল সি পি এমের। হরিহরপাড়ায় এবারে জোট হয়নি। কংগ্রেস, সি পি এম ও তৃণমূল— সব দলেরই প্রার্থী ছিল। এবং বাজারে চাউরও হয়েছিল, সি পি এমের দখলে থাকা হরিহরপাড়ায় বদল হতে পারে। কে পাবে? কংগ্রেস না তৃণমূল? এমন প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসছিল। ভোট গণনার সময়েও দেখা যায়, শুরু থেকেই কংগ্রেস প্রার্থী আলমগির মির এগিয়ে। মোট ১৬ রাউন্ডের অর্ধেক পর্যন্ত আলমগির এগিয়ে যাচ্ছে দেখে, তৃণমূলিরা বলতে থাকেন না, এবারও হল না। কিন্তু তার পরেই চাকা ঘুরে গেল। গণনা শেষে চওড়া হাসি দেখা গেল তৃণমূল প্রার্থী নিয়ামত শেখের।*
পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/২১