আত্মগোপনে মুরাদ হাসান: গ্রেপ্তার ও তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবি
সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলা আজ মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) খারিজ করে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক গোলাম ফারুক ।
বিএনপি নেতা তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের অভিযোগে গতকাল সোমবার জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে মুরাদ হাসান ও ভিডিও টকশো উপস্থাপক মুহাম্মদ মহিউদ্দিন হেলাল নাহিদ ওরফে নাহিদ হেলালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, বিদেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে দেশে ফিরে আসা সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের ভাগ্যে এর পর কী ঘটতে পারে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে নানা আলোচনা। তার সংসদ সদস্য পদ শেষ পর্যন্ত থাকবে কিনা, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর শেষ পরিণতি কী হতে পারে- মূলত এসব প্রশ্ন ঘিরেই আলোচনা চলছে সর্বত্র। মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৭টি মামলার আবেদন হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটনের নিম্ন আদালত ও রাজশাহীর আদালত মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।
মুরাদ হাসানকে গ্রেপ্তার ও তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবি
এদিকে, গুরুতর নৈতিক স্খলনের অভিযোগ এনে মুরাদ হাসানকে গ্রেপ্তার ও তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবি জানিয়েছে শ্রমজীবী নারী মৈত্রী। সংগঠনটি বলেছে, চারিত্রিক স্খলনের দায়ে মুরাদ হাসানকে প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছে, সেই একই কারণে তার সংসদ সদস্য পদ থাকারও কোনো সুযোগ নেই। গতকাল শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতি বহ্নিশিখা জামালী ও সাধারণ সম্পাদক রাশিদা বেগম এক বিবৃতিতে আরও বলেন, মুরাদ হাসান যে নারী বিদ্বেষী অশ্লীল আচরণ করেছেন এবং ধর্ষণের হুমকি দিয়েছেন, তাতে বহু আগেই তাকে গ্রেপ্তার ও বিচারের সম্মুখীন করা উচিত ছিল। তা না করে সরকার তাকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দিয়ে আইনের শাসনকেই অস্বীকার করেছে।
মুরাদ হাসান আত্মগোপনে
কানাডা ও আরব-আমিরাতে ঠাঁই না পেয়ে ঢাকায় ফিরে আসা সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বর্তমানে নিরুদ্দেশ। রবিবার রাত থেকেই তার হদিস মিলছে না। নিজের ফোনটিও বন্ধ রেখেছেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেছেন, রবিবার হজরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে মুরাদ হাসান অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল দিয়ে চলে যান অপরিচিত একজনের গাড়িতে করে। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল তিনি তার ধানমন্ডির নিজের বাসায় যাবেন। ওই বাসা তিনি নিজের হাতে কদিন আগেই সাজিয়েছিলেন। তবে তিনি সেখানে যাননি। পরে শোনা যায় তিনি তার এক ভাইয়ের বাসায় উত্তরায় আছেন। সোমবারও সেখানে খোঁজ নেয়া হয়েছে কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। আমাদের ধারণা তিনি আত্মগোপনেই থাকার সিদ্বান্ত নিয়েছেন। ##
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।