আগামী বছর নির্বাচন কমিশন আইন করার আশ্বাস
বিএনপিকে প্রেসিডেন্টের সাথে সংলাপে বসার পরামর্শ আওয়ামী লীগের
-
ওবায়দুল কাদের
আগামী বছরের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের আশ্বাস দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে কেন এ আইন প্রয়ন করেনি সে প্রশ্নও করেছেন টানা তিন মেয়াদজুড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ (মঙ্গলবার) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন, বিএনপি কখনও নির্বাচন, সংবিধান ও প্রচলিত গণতান্ত্রিক রীতিনীতি বিশ্বাস করে না। অতীতের মতো তারা চায় হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে।’
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি যখন নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চলেছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশের চিহ্নিত রাজনৈতিক অপশক্তি চিরাচরিতভাবে দেশের প্রচলিত গণতান্ত্রিক রীতি ও সংবিধানের বিপরীতে অবস্থান করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার এক ঘৃণ্য অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ “সাদেক আলী-আজিজ মার্কা” নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা ভুলে যায়নি। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনও আলাপ-আলোচনা ব্যতীত সংবিধান ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুসরণ না করেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আজ্ঞাবহ লোক দিয়েই নির্বাচন কমিশন গঠন করেছিল। বাংলাদেশের জনগণ ঘৃণাভরে বিএনপির সেই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলার মানুষ ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলেই ২০১২ ও ২০১৭ সালে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সম্মতভাবে নির্বাচন কমিশন গঠনের অনন্য নজির স্থাপিত হয়।
এবারেও নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি প্রস্তুত করার জন্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সংলাপের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমন্ত্রিত রাজনৈতিক দলগুলোকে এই সংলাপে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি নিরপেক্ষ, শক্তিশালী ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
আওয়ামী লীগ সংবিধান সম্মতভাবে একটি স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগকে সহায়তা প্রদান করতে বদ্ধপরিকর জানিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘রাজনৈতিক দলসমূহ সংবিধান ও আইনসম্মত ভূমিকা রাখবে।’
আগামী বছরের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের আশ্বাস
ওদিকে, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে সময় পার হয়েছে। তাই এ সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করা সম্ভব হয়নি। এখন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, প্রক্রিয়া চলছে। আমরা আশা করি, আগামী বছরের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করতে পারব।’
আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি কেন ক্ষমতায় থাকাকালীন নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করেনি জানতে চেয়ে হানিফ বলেন, তারা নানা রকম অভিযোগ করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে। আমরা প্রশ্ন রাখতে চাই, আপনারা যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন, তখন আপনারা কেন নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করেননি? এখন কেন আপনারা দাবি করছেন?’
আওয়ামী লীগের এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠনে যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি, যেটা সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি সেটা অনুসরণ করেই আমাদের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করছেন রাষ্ট্রপতি। তাদের মতামতে সার্চ কমিটি গঠন এবং তাদের দেওয়া নাম যাচাই-বাছাই করেই নির্বাচন কমিটি গঠন করা হবে। এটাই হলো গণতান্ত্রিক ও সবচেয়ে উত্তম পন্থা। সেটাকে নিয়েও বিএনপি আজকে সমালোচনা করছে।’
বিএনপিকে মিথ্যাচার বন্ধ করে নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সাড়া দেওয়ার অনুরাধ জানান মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, ‘আমরা অনুরোধ করবো, এ ধরনের মিথ্যাচার-বিভ্রান্তি বন্ধ করে আপনারা রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সাড়া দিন। আপনাদের মতামত সেখানে পেশ করুন। আপনাদের যদি ভালো পরামর্শ থাকে অবশ্যই সেটা রাষ্ট্রপতি বিবেচনা করতে পারেন। সে পরামর্শ আপনারা দিন।’#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।