মাইল্ড হার্ট অ্যাটাক
খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করাতে সরকারের প্রতি বিএনপির আহ্বান
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গতকাল “মাইল্ড হার্ট অ্যাটাক” নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়েছে। খালেদা জিয়ার হৃদ্যন্ত্রের মেইন আর্টারিতে ৯৯ শতাংশ ব্লক ধরা পড়েছে। বর্তমানে মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ অবস্থায় বেগম জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর জন্য সরকারের প্রতি আবারো দাবি জানিয়েছে বিএনপি। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চিকিৎসকদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন, ‘খালেদা জিয়ার মাইল্ড হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তাঁর শ্বাস কষ্ট শুরু হয়। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ডাক্তাররা জানায়, রক্তনালীতে ৯৯ ভাগ ব্লক হয়েছে। এজন্য তাকে রিং পরানো হয়। হার্টের সমস্যা সাময়িকভাবে রিলিফ হয়েছে।’ এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার বিষয়ে উদাসীন। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার কিছু হলে সরকারকেই দায় নিতে হবে।
তবে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারবেন।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁর (খালেদা জিয়া) দেশে থেকে দেশের মাটিতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা গ্রহণ করতে যেন অসুবিধা না হয়, সে ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবং তিনি (খালেদা জিয়া) সে হিসেবেই তাঁর চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছেন। তাঁকে যদি বিদেশে যেতে হয়, আবার তাঁকে আইনি প্রক্রিয়া এবং কোর্টের কাছে যেতে হবে। কোর্ট ছাড়া আমাদের এ রাস্তাটি খোলা নেই। সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনারাও জানেন। এখন কোর্ট স্বাধীন.. আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, কোর্ট তাঁর নিজস্ব মতামত দিয়েছেন। আরও নতুন কোনো মতামত (দিতে হলে) তাঁকে আবার কোর্টে যেতে হবে।’
গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিএনপির চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আজ শনিবার জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। তার চিকিৎসায় গঠিত ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে আবারও তাকে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ উন্নত দেশে নিয়ে চিকিৎসা করাতে সুপারিশ করেছে মেডিকেল বোর্ড।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের এপ্রিলে কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর এ নিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ দফায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলো। গত ৬ এপ্রিল নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে একই হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। এর আগে চিকিৎসকরা বেগম জিয়ার 'পরিপাকতন্ত্রে' রক্তক্ষরণ এবং লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান বেগম খালেদা জিয়া। করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে সাজা স্থগিত করে সাময়িকভাবে মুক্তি দেয়া হয় তাকে। এরপর থেকে গুলশানের বাসায় থাকছেন ৭৬ বয়সী বেগম খালেদা জিয়া।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।