চাল রপ্তানিতে শুল্ক বসিয়েছে ভারত: বাংলাদেশের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা
বাংলাদেশে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানি শুল্ক কমিয়ে দিয়েছে সরকার। একই সাথে সরকারি পর্যায়ে ভারতসহ পাঁচটি দেশ থেকে খাদ্য আমদানির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ।
ঠিক এরকম অবস্থার মধ্যে ভারত বাসমতি ছাড়া অন্য চাল রপ্তানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে। এছাড়া ভাঙ্গা চাল বা খুদ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। তবে সেদ্ধ চাল রপ্তানিতে এই শুল্ক দেওয়া হয়নি।
আজ (শুক্রবার) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের খবরে এ তথ্য জানা গেছে। চলমান খরিফ মৌসুমে (চৈত্র থেকে ভাদ্র মাস) ধানের আবাদি এলাকা কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বাড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ওই খবরে জানানো হয়েছে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রপ্তানির সুযোগ থাকছে। যদি নিষেধাজ্ঞার আদেশের আগে জাহাজে খুদ বোঝাই শুরু হয়ে থাকে, শিপিং বিল দাখিল করে যেসব জাহাজ ইতিমধ্যেই ভারতীয় বন্দরের জেটিতে ভিড়েছে, পৌঁছেছে কিংবা নোঙর করেছে এবং তাদের রোটেশন নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে- এমন ক্ষেত্রে ভারত থেকে চাল রপ্তানির সুযোগ থাকছে।
ভারতের কৃষি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণে কিছু রাজ্যে চলমান খরিফ মৌসুমে ধানের আবাদ ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ কমে প্রায় ৩৮৪ লাখ হেক্টরে নেমে এসেছে। এটি ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ও মূল্যবৃদ্ধি দুটিতেই প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারত থেকে চাল রপ্তানীতে নতুন করে শুল্ক আরোপ বাংলাদেশে চালের বাজারেও প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, বাংলাদেশের খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার গতকালই দাবি করেছেন, সরকারিভাবে খোলাবাজারে বিক্রি (ওএমএস) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু হওয়ায় ইতোমধ্যে বাজারে চালের দাম কেজিপ্রতি ৫-৬ টাকা কমেছে। তা আরও কমবে।
নওগাঁর পোরশা উপজেলার সারাইগাছি বাজারে বৃহস্পতিবার সকালে ওএমএস কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সাংবাদিকদের খাদ্যন মন্ত্রী বলেন, আমন ধানেও যেন কৃষক ন্যায্যমূল্য পায় সেটা নিয়েও কাজ হচ্ছে।
তিনি বলেন, পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশে ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শুরু হয়েছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র মানুষকে ১৫ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ওএমএস সপ্তাহে ৫ দিন চলছে। সারা দেশে ২ হাজার ৩৭০ জন ডিলারের মাধ্যমে ওএমএসের চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, আগে একজন ওএমএসের ডিলার এক টন চালের বরাদ্দ পেতেন। এখন তা দুই টন করা হয়েছে। ওএমএস কেন্দ্রে টিসিবি কার্ডধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ছাড়া সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা অগ্রাধিকার পাবেন। টিসিবি কার্ডধারীরা কার্ড দেখিয়ে এবং সাধারণ মানুষ জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে মাসে দুবার ৫ কেজি করে চাল কিনতে পারবেন। এক ব্যক্তি যাতে বারবার চাল কিনতে না পারেন সেটা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এ ছাড়া খাদ্যমন্ত্রী আগেই হুঁশিয়ারি করে দিয়েছেন, ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারদের কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। কোনো ডিলার ওএসএম কিংবা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পাচারকালে যদি ধরা পড়ে কিংবা কোনো অনিয়ম করে, তা হলে সে যে–ই হোক না কেন, ছাড় পাবে না। আগে জরিমানা করা হতো। এখন র্যাব ও পুলিশও মাঠে নামছে। অনিয়মের কারণে গ্রেফতার হলে তাকে ছাড়া হবেনা।’#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৯