গোলাপবাগে বিএনপির গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত
সরকারের পদত্যাগসহ বিএনপির ১০ দাবি : আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান
-
ঢাকার গোলাপবাগ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার গোলাপবাগ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে ১০ দফা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দল বিএনপি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ১০ দফা দাবি আদায়ে দলটি আগামী দিনে আন্দোলন করবে।
আজ (শনিবার) বিকেল ৪টার দিকে গণসমাবেশের প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই ১০ দফা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বিএনপির মিত্র রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট সব গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করে এ ১০ দফা ঠিক করা হয়েছে।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার এই গণসমাবেশে বাধা দেওয়ার জন্য নানান ষড়যন্ত্র করেছে। দলের সাড়ে চারশ'র বেশি নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। তবে সব বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করে আজকের ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ সফল হয়েছে বলে দাবি করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও গণসমাবেশের প্রধান অতিথি।

ঘোষিত ১০ দফার মধ্যে বর্তমান জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করে ক্ষমতাসীন সরকারের পদত্যাগ, দল নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার বা অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়।
একই সাথে নির্বাচনের অনিবার্য পূর্বশর্ত হিসেবে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে আরপিও সংশোধন, ইভিএম পদ্ধতি বাতিল ও পেপার ব্যালটের মাধ্যমে ভোটের ব্যবস্থা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার বাতিল করার কথাও রয়েছে ঐ ১০ দফায়।
খালেদা জিয়াসহ বিরোধীদলীয় সব নেতাকর্মী, সাংবাদিক এবং আলেমদের সাজা বাতিল করে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও রাজনৈতিক কারাবন্দিদের অনতিবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন দলের এ সিনিয়র নেতা।

দেশে সভা, সমাবেশ ও মতপ্রকাশে কোনো বাধা সৃষ্টি না করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও পানিসহ জনসেবা খাতের মূল্য বৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিও করা হয়েছে বিএনপির ঘোষিত ১০ দফায়।
অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। পুলিশের বুলেট দিয়ে ও বিএনপির অফিসে লুটপাট করে মানুষকে দমিয়ে রাখা যায় না। এই সরকার মিথ্যা মামলা, হামলা, গুম, হুমকি দিয়ে এই দেশের মানুষকে অবরুদ্ধ করতে চায়। ইতিহাসের শিক্ষা প্রমাণ করে, পৃথিবীর কোথায়ও কোনো স্বৈরাচারী সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকতে পারে না

এদিকে, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় জনসমাবেশে সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে লাখো জনতার সমাগম ঘটেছে গোলাপবাগ মাঠসহ আশেপাশের এলাকায়। জনতার ঢেউ গিয়ে আছড়ে পড়েছে রাজধানীর প্রবেশপথ সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, মানিকনগর, শাহজাহানপুর, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, গোপীবাগ, টিকাটুলি, মতিঝিলসহ প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে।
বিএনপির এ গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ছিল ঘটনাবহুল। শর্ত ও পাল্টা শর্তের পর শেষ পর্যন্ত শুক্রবার দুপুরে গোলাপবাগ মাঠে গণসমাবেশের অনুমতি দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অনুমতি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গতকাল শুক্রবার বিকেলে গোলাপবাগ মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
আজ শনিবার সকাল আটটার দিকে গোলাপবাগ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, তিল ধারণের ঠাঁই নেই মাঠে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ছড়িয়ে পড়তে থাকে আশেপাশের এলাকায়।
সমাবেশে যোগ দিতে ভোর থেকেই মিছিল নিয়ে ঢাকার আশেপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে আসতে থাকেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
তবে বিভিন্ন সড়কে পুলিশী হয়রানীর অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এদিকে রাজধানী ঢাকায় যানবাহন চলাচল ছিল খুবই সীমিত। অফিসগামী মানুষজনকে পড়তে হয়েছে ভোগান্তিতে। তবে বিভিন্ন গলি ও পাড়া মহল্লায় ছিল ছাত্রলীগ যুবলীগ ও আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থান। গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগ অফিসে ছিল দলটির নেতাকর্মীদের উপচেপড়া ভিড়, অনেকটা সমাবেশের আমেজে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তবে নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় অফিস ছিল তালাবদ্ধ।#
পার্সটুডে/নিলয় রহমান/আশরাফুর রহমান/১০