বড়জোর ৫০ হাজার মানুষের সমাবেশ করেছে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী
রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টিতে বিএনপির গোলাপবাগের গণসমাবেশ
অবশেষে বিএনপির ঢাকার গণসমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অখ্যাত গোলাপবাগ মাঠে এ গণসমাবেশ হলেও বিপুলসংখ্যক মানুষ ভয়-ভীতি, শঙ্কা, আতঙ্ক ও নানা প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে গণসমাবেশে হাজির হয়েছে। অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট না হলে জনসমাগম যে আরো বেশি হতো বলে দাবি করছেন দলটির নেতারা।
তবে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ১০ লাখ মানুষের সমাবেশের কথা বলে তারা বড়জোর ৫০ হাজার মানুষের সমাবেশ করেছে তারা। তিনি বলেন, যে মাঠে তারা সমাবেশ করেছে সেটার আয়তন হলো ৫০ হাজার বর্গফুট। একজন মানুষ দাঁড়াতে তিন বর্গফুট যায়গা লাগে। ফলে সে মাঠে কত মানুষ ধরে সেটা সহজে অনুমেয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব রেডিও তেহরানকে বলেছেন, বিএনপির সমাবেশে প্রায় দশ লাখের মত মানুষের জমায়েত হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন বাধা পেরিয়ে এত লোকের সমাবেশকে দলটির জনপ্রিয়তার প্রকাশ বলেও মনে করেন আ স ম আব্দুর রব।
রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার রেডিও তেহরানকে বলেছেন, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশে জনসমাগম বেশি হওয়ার কারণ হলো, সরকারের সব ব্যর্থতা বিরোধী দলের তথা বিএনপি’র অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে। সরকারের করা পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেল প্রভৃতি উন্নয়ন জনগণের কাছে ম্লান হয়ে যায় যখন তারা বিভিন্নভাবে সরকার দ্বারা ভোগান্তির শিকার হন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম রেডিও তেহরানকে বলেন, দল হিসেবে বিএনপি আওয়ামী লীগ প্রায় একই নীতিতে রাষ্ট্রপরিচালনা করে। তাদের কারণে দেশের মানুষ নানা সংকটে আবর্তিত। তাদের নীতির বিষয়ে সিপিবির বিরোধিতা থাকলেও একটি দল যখন কোনো সমাবেশ করতে চায় সেখানে বাধা দেয়ার প্রক্রিয়া কোনোভাবেই শুভ লক্ষণ না বলে মন্তব্য করেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা দিলে জনগণ আরো প্রতিবাদী হয়ে ওঠে, যার প্রমাণ বিএনপির এই সমাবেশে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষের জমায়েত।#
পার্সটুডে/নিলয় রহমান/আশরাফুর রহমান/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।