বগুড়া-৪ আসনের উপনির্বাচন
আমার বিজয় ছিনতাই করা হয়েছে, রিট করব: হিরো আলম
-
উপনির্বাচনে ফল ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলন করেন হিরো আলম
বাংলাদেশের বগুড়া-৪ আসনের উপনির্বাচনে ৮৩৪ ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম বলেছেন, ‘আমার বিজয় ছিনতাই হয়েছে। এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। এই ফলাফল বয়কট করছি। এই ফল মানি না। ফলাফল বাতিল চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করব।’
বুধবার অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট প্রার্থী জাসদ নেতা রেজাউল করিম তানসেন বিজয়ী হয়েছেন। মশাল প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ২০ হাজার ৪০৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের একতারা প্রতীকে পড়েছে ১৯ হাজার ৫৭১ ভোট। মাত্র ৮৩৪ ভোটের ব্যবধানে হারেন তিনি।
নির্বাচনের ফলাফল বর্জনের পর গতকাল (বুধবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়ার এরুলিয়ায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে হিরো আলম বলেন, 'আমি পাস করলে শিক্ষিত সমাজের লোকদের আমাকে স্যার বলতে হবে। তাই আমাকে ষড়যন্ত্র করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ফলাফল আমি মানি না। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা আমাকে হারিয়ে দিয়েছে।'
নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আপনারা শিক্ষিত হতে পারেন, কিন্তু মানুষকে সম্মান দিতে পারেন না। এই ফলাফলের বিরুদ্ধে আমি রিট করব।'
এসময় তিনি অভিযোগ করেন, 'নন্দীগ্রাম-কাহালু (বগুড়া-৪) আসনের স্থানীয় ফলাফল দেওয়ার সময় ১ থেকে ৩৯ নম্বর কেন্দ্রের ফল ক্রমাগত দিয়েছে। এরপর আবার বন্ধ করে দিয়ে হঠাৎ করে ফলাফল ঘোষণা করে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রে আমার কোনো এজেন্টের হাতে ফলাফলের কাগজ দেওয়া হয়নি।'
হিরো আলম আরও বলেন, 'কাহালু-নন্দীগ্রামে জাসদের প্রার্থী রেজাউল করিম তানসেনের কোনো নামগন্ধ ছিল না। প্রত্যেকটা ভোটকেন্দ্র থেকে আমাকে জানিয়েছে যে আমি জিতেছি। এমনকি আওয়ামী লীগের অনেক সমর্থক আমাকে জানিয়েছেন, তারাও আমাকে ভোট দিয়েছেন।'
'ভোট গণনার আগেই আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ফেসবুকে জানিয়েছেন, বগুড়া-৪ এ মশাল মার্কা (জাসদের প্রার্থী) জয়ী। তিনি বিষয়টি কীভাবে জানলেন?, প্রশ্ন তোলেন হিরো আলম।
তিনি বলেন, 'এই ফলাফল যদি আমি মেনেও নিই, জনগণ যারা আমাকে ভোট দিয়েছে তারা কীভাবে মেনে নেবে? ফলাফল গণনার সময় গণ্ডগোল করেছে নির্বাচন কমিশন। বগুড়া-৬ আসনেও আমার এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। সেখানেও তারা জালিয়াতি করেছে।'
গত বছরের ১০ ডিসেম্বর দলীয় সিদ্ধান্তে বিএনপির সংসদ সদস্যরা পদত্যাগ করায় বগুড়ার দুটি আসন শূন্য হয়ে যায়। এই শূন্য আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পর থেকেই আলোচনায় ছিলেন আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।