ইইউ থেকে ব্রিটেনের সরে আসার সিদ্ধান্ত; অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের অভিমত
বেক্সিট খ্যাত গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বের হয়ে আসার সিদ্ধান্ত দিয়েছে ব্রিটেনের মানুষ। এ ঘটনায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটি প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। ইইউতে যুক্তরাজ্যের থাকা না-থাকা নিয়ে অনেক দিন ধরেই বিতর্ক চলছে। বিষয়টি যে যুক্তরাজ্যের জন্য অর্থনৈতিক যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়াবে, এ ব্যাপারে তিনি আগেই সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তার এই সতর্কতা উপেক্ষিত হওয়ায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন ক্যামেরন।
ব্রিটেনের জনগণের এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশেও। কারণ ইইউ এবং ব্রিটেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক প্রভাবও নেহায়েত কম নয়। তাই ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ইইউ’র পক্ষে কাজ করার আহবান জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তার মতে, ইউরোপ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ইতিবাচক হবে। এ অবস্থায় এ দেশে কি ধরনের প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষকদের।
ব্রিটেন আলাদা হয়ে যাওয়ায় ব্যবসা বাণিজ্যে খুব একটা প্রভাব পড়বে, এমনটা মনে করেন না-বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ। তার মতে, জিএসপিসহ যেসব সুবিধা ইইউ দিতো তা ব্রিটেনও অব্যাহত রাখবে। কারণ এই মুহূর্তে এসব সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দিলে তাদের দেশেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই বাংলাদেশের এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে, কিছু সময় পরে হলেও দেশটির অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তন আসবে, সেটাকে আগেই আমলে নিয়ে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে বলেই মনে করেন এ ব্যবসায়ী নেতা।
ব্রিটেন আলাদা হয়ে যাওয়ায় ইইউ এবং ব্রিটেনের অর্থনৈতিক কাঠামোতে একটা পরিবর্তন আসবে বলেই মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি। তার মতে, ব্রিটেনের জনগণ ভোট দিয়ে ইইউ থেকে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা বড় এক শক্তি হওয়ায় এখন ইউরোপের বর্তমান অবস্থা ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসাটাই স্বাভাবিক। তবে সেটা কি ধরনের হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। আর রাজনৈতিক ও অন্যান্য দিক দিয়ে পরিবর্তন আসলেও বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রিটেন বা ইউরোপিয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে খুব একটা পরিবর্তন হবে না বলেই মনে করেন এ অর্থনীতিবিদ।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, বিরোধী নেতা করবিন এবং প্রধান প্রধান দলের প্রথম সারির নেতারা জোটভুক্ত থাকতে চাইলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্রিটিশ জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। পুরো দেশের হিসেবে ৫২ শতাংশ মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিপক্ষে আর পক্ষে ৪৮ শতাংশ।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/রেজওয়ান হোসেন/২৪